কলকাতা বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে অবস্থিত একটি পুরনো মসজিদে নামাজ পড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মসজিদটি সরানো হবে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক বক্তব্য ছিল, ওই মসজিদে যাওয়ার রাস্তা খারাপ হওয়ার জন্য সেটি সারানো প্রয়োজন। সেই সারাইয়ের জন্যই বন্ধ করা হয়েছে রাস্তা।
প্রথমে সোমবার ১৩ই জুলাই পর্যন্ত বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিমানবন্দরের ভিতরে এই মসজিদে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এই মসজিদের উপস্থিতি নিয়ে ব্যুরো অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন বা বিসিএএস-এর আপত্তি রয়েছে বলে সম্প্রতি জানা গিয়েছিল।
সরকারি সংস্থাটির এক সিনিয়র অফিসার জানিয়েছেন, "সারাই সম্পূর্ণ হলেও সুরক্ষাজনিত কারণে এই মসজিদটি বন্ধই রাখা হচ্ছে।"
বিমানবন্দরের ভিতরে এই মসজিদের অবস্থান নিয়ে আগে একাধিক বার সরব হয়েছিলেন বিজেপি নেতা মন্ত্রীরা।
তাদের দাবি ছিল, এই মসজিদটি এখানে থাকার কারণে বিমান ওঠা নামায় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের দাবি, প্রতিদিন এখানে ৫০ থেকে ৬০ জন নামাজ পড়তে আসেন ফলে বিমান বন্দরের মতো উচ্চ সুরক্ষা বলয়ে থাকা এলাকার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মেচেদায় একটি সভা করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা কাউকেই ধর্ম পালনে বাঁধা দিচ্ছি না। কিন্তু কলকাতা বিমানবন্দরের অবস্থান আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাই এভাবে মসজিদ খুলে রাখা যায়না।"
তবে বিতর্ক দানা বেঁধেছে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের কথায়। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, "সরকারি জমিতে কোনও মসজিদ হবেনা।"
এই মন্তব্যের পরে অনেকেই উল্লেখ করেছেন যে এই মসজিদটির ইতিহাস সম্প্রসারিত কলকাতা বিমানবন্দরের থেকেও পুরোনো।
কলকাতা বিমানবন্দরের ভিতরে যে মসজিদটি অবস্থিত সেটির নাম বাঁকরা মসজিদ।
কেউ কেউ এটিকে গৌরীপুর জামা মসজিদ নামেও ডাকেন। সাধরণত প্রতি দিন পাঁচ বার নামাজ পড়া হয় এখানে। নিরাপত্তারক্ষীদের আধার কার্ড দেখিয়ে ঢোকেন নামাজ পড়তে আসা মানুষরা।
সাধরণত প্রতি নামাজে ৫০ থেকে ৬০ জনের জমায়েত হয় বলে জানা যায়।
১৯৫০ সালে কলকাতা এয়ারপোর্টের সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই সময়ে এই মসজিদের আশেপাশে যে গ্রামাঞ্চল ছিল, সেখানকার বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে মসজিদটি সরানো হয় নি।
জানা যায়, এই মসজিদটি ১৩৬ বছরের পুরোনো।
এলাকার এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, "আমি জন্ম থেকেই এই মসজিদে আসছি এবং নামাজ পড়ছি। বাপ-দাদাদের থেকে শুনেছি যে এই মসজিদে ১৮৭০ সাল থেকেই নামাজ পড়া হতো। গত শনিবার আমাদের নামাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।"
তিনি জানালেন, মাঝেমধ্যে আবহাওয়া জনিত কারণে মসজিদ বন্ধ থাকলেও সেটা এক ঘণ্টা বা আধ ঘণ্টার মধ্যে খুলে যেত।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই মসজিদে যাওয়ার জন্য আলাদা বাসের ব্যবস্থা ছিল। নামাজ পড়তে আসা মানুষরা সেই বাসেই বিমানবন্দরের ট্যাক্সিওয়ে ধরে যেতেন। নামাজ পড়া হয়ে গেলে তারা এই বাসেই ফিরে আসতেন। কারা ঢুকছেন ও বের হচ্ছেন নজর রাখতেন নিরাপত্তারক্ষীরা।
তবে এই মসজিদটি সরানোর দাবি নতুন নয়। বিমানবন্দরের এক প্রাক্তন অধিকর্তা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, ৯০-এর দশক থেকেই মসজিদটি সরানো নিয়ে কথা চলছে।
তিনি জানান, মসজিদটির জন্য বিমানবন্দরে ইন্স্ট্রুমেন্টাল ল্যান্ডিং সিস্টেম বসাতে সমস্যা হচ্ছিল।
২০২৫ সালে ডিসেম্বর মাসে ভারতের সংসদের উচ্চ কক্ষ রাজ্যসভায় সংসদ সদস্য শমীক ভট্টাচার্য এই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। বিমান চলাচল মন্ত্রীকে তিনি প্রশ্ন করেন যে এই মসজিদটি সরানোর বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করা হচ্ছে কিনা। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে মসজিদটি থাকার কারণে রানওয়েটি পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
সেই প্রশ্নের উত্তরে বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী বলেন, কলকাতা বিমানবন্দরে একটি প্রাইমারি ও একটি সেকেন্ডারি রানওয়ে আছে। প্রাইমারি রানওয়েটিই মূলত ব্যবহৃত হয়, কিন্তু কোনও কারণে সেটি বন্ধ থাকলে সেকেন্ডারি রানওয়েটি ব্যবহার করা হয়। এই মুহূর্তে মসজিদটি রানওয়ে থেকে ৮৮ মিটার দূরে আছে।
এই উত্তরে অবশ্য শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন তিনি সন্তুষ্ট নন এবং সরানোর উদ্যোগ নিয়ে কোনও জবাব দেননি মন্ত্রী।
তবে সম্প্রতি ভারতের ব্যুরো অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়াকে এই মসজিদটির উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে জানা গিয়েছে।
এর পরেই মসজিদটি সরাতে উদ্যোগী হয়েছে এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া।
এই মসজিদটি অন্যত্র সরানোর বিরোধিতা করেছিলেন সাবেক তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের গ্রন্থাগার বিষয়ক মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।
সম্প্রতি তিনি মিডিয়াকে জানিয়েছেন, "এমন কোনও উদাহরণ নেই যেখানে শৃঙ্খলা ভেঙে এয়ারপোর্টের ভিতর কোনও কাজ করেছেন নামাজ পড়তে আসা মানুষ। এয়ারপোর্টের ডিরেক্টরকে ও এয়ারপোর্ট থানার ওসিকে আমি তিন বার ফোন করলেও তারা আমার ফোন ধরেননি।"
"এটা গায়ের জোরে হচ্ছে, এটা ঠিক নয়," বলেন তিনি।
তিনি বলেন, "আপনি ইসলামিক সংগঠনগুলিকে জানান যে কী সমস্যা হচ্ছে। নিদেনপক্ষে আমাকে জানান। কিন্তু সেসব কিছুই বলা হয়নি।"
এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের সিনিয়র বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেন, "বিরোধীদের কাজই বিরোধ করা। মসজিদটি সরানো হবে এবং স্থানীয় মুসলমানদেরও এটা বুঝতে হবে যে এই কাজ উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।"
বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষের মন্তব্য, "কোনও ধর্মের বিরোধ আমরা করছি না। যাত্রী সুরক্ষা হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান সব যাত্রীরই। মসজিদের জায়গায় অন্য কোনও ধর্মস্থান হলেও সরানো হতো।"
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী এমপি ও রাজ্যসভার সদস্য বাবুল সুপ্রিয় বলেন, "এয়ারপোর্টের ভিতরে মন্দির, মসজিদ, চার্চ যাই অসুবিধা সৃষ্টি করুক না কেন, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে একমাত্র এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া।"
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইউরোপে জেট জ্বালানির সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বছরের শেষ তিন মাসে ইউরোপে জেট জ্বালানির ঘাটতি হতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন। ঘাটতি পূরণে ইউরোপ এখন দূরের বিভিন্ন দেশ থেকে জেট জ্বালানি আমদানি করছে। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া বড় সরবরাহকারী হিসেবে উঠে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ইউরোপে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ব্যারেল জেট জ্বালানি যাচ্ছে। ২০২২ সালের অক্টোবরের পর এটি সর্বোচ্চ। এর আগে নাইজেরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকেও ইউরোপে জেট জ্বালানির আমদানি বেড়েছে। ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপের জেট জ্বালানি আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমে গেছে। জ্বালানি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান এনার্জি অ্যাসপেক্টস জানিয়েছে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ইউরোপে প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল জেট জ্বালানির ঘাটতি হতে পারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন ১৮ হাজার ব্যারেল এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ৪ লাখ ১৯ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত সরবরাহ থাকতে পারে। ইউরোপে জেট জ্বালানির মজুতও কমে গেছে। আমস্টারডাম-রটারডাম-অ্যান্টওয়ার্প অঞ্চলের তেল সংরক্ষণ ও পরিশোধন কেন্দ্রগুলোতে ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে মজুত সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইউরোপে জেট জ্বালানির ঘাটতি থাকায় আমদানি অব্যাহত থাকবে। এশিয়া থেকে ইউরোপে জ্বালানি পাঠানো ব্যবসায়ীদের জন্য এখন বেশি লাভজনক হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ কোরিয়ায়ও জেট জ্বালানি উৎপাদন বেড়েছে। জুলাই মাসে দেশটির জেট জ্বালানি উৎপাদন প্রায় ১ কোটি ৩৮৯ লাখ ব্যারেলে পৌঁছায়। এটি সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। জুলাইয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ২৭ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করা হয়েছে। জুনের তুলনায় এই পরিমাণ ১৬ শতাংশ বেশি। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় উৎপাদন বাড়ায় ইউরোপের জ্বালানি সংকট সামাল দিতে কিছুটা সহায়তা মিলতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ইউরোপে জেট জ্বালানির সরবরাহে নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের নতুন কিছু সক্ষমতা চীনের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে মানুষের নজরদারি ছাড়াই কাজ করতে পারে এমন এআই ব্যবস্থাকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্রে এআইয়ের ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা বেশি হচ্ছে। সেখানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া অত্যন্ত শক্তিশালী এআই মানবজাতির জন্য হুমকি হতে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন অনেক গবেষক। চীন এত দিন এআইয়ের তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি ঝুঁকি নিয়ে বেশি চিন্তিত ছিল। এর মধ্যে ছিল ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি, শিশুদের নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা। তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা চীনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাচ্ছে। শক্তিশালী এআই মডেলগুলো সাইবার হামলা চালাতে পারে—এমন প্রমাণ সামনে আসার পর বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একদল প্রোগ্রামার এআই ব্যবহার করে একটি সাইবার হামলার ‘ওয়ার্ম’ তৈরি করার কথা জানায়। এটি ছড়িয়ে দেওয়া হলে চীনের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইচ্যাটের লাখ লাখ অ্যাকাউন্টে হামলা চালানো সম্ভব হতে পারে বলে তারা দাবি করে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইন্টারকানেক্টেড ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা কেভিন শু বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে এআই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে পার্থক্যের চেয়ে মিলই বেশি। তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এসব বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে ব্যাপক আলোচনা হয়। চীনে সাধারণত এমন আলোচনা জনসমক্ষে ততটা দেখা যায় না। এআই দিয়ে মানুষের নজরদারি ছাড়াই কাজ করা সাইবার হামলাকারী এজেন্ট তৈরি হলে সেটি চীনা সরকারের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়গুলোর একটি হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কৌশলবিষয়ক কেন্দ্রের গবেষক সুন চেংহাও বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র এখন এআইয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে আরও বাস্তব ধারণা তৈরি করছে। এতে দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। তবে এআই নিয়ে দুই দেশের তীব্র প্রতিযোগিতা সহযোগিতার পথে বাধা হতে পারে। বিশেষ করে এআই মডেলের নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং বড় ধরনের সংকট দেখা দিলে সতর্কবার্তা দেওয়ার মতো ব্যবস্থায় দুই দেশের সমন্বয় কঠিন হতে পারে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআই উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এআইয়ে চীনের চেয়ে এগিয়ে আছে এবং তিনি এই অবস্থান ধরে রাখতে চান। চীনের বিশেষজ্ঞ সুন চেংহাও বলেন, চীন আশঙ্কা করছে ‘নিরাপত্তা’র কথা বলে এআই ও অন্যান্য প্রযুক্তির উন্নয়ন সীমিত করার চেষ্টা করা হতে পারে। চীন ইতিমধ্যে এআই ব্যবহারের ওপর কিছু নিয়ম করেছে। যেমন, কারও অনুমতি ছাড়া তার চেহারা বা পরিচয় ব্যবহার করে এআই দিয়ে ছবি তৈরি করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বেইজিংভিত্তিক এআই নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান কনকর্ডিয়া এআইয়ের প্রধান ব্রায়ান সে বলেন, চীনের এআই নীতিতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বর্তমান ক্ষতির বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পায়। তার মতে, চীন এআইকে এমন একটি প্রযুক্তি হিসেবে দেখে, যা বিদ্যুৎ বা গাড়ির মতো সমাজ ও শিল্পের জন্য বড় সুবিধা তৈরি করতে পারে। তবে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করে বেইজিং। সাম্প্রতিক সময়ে এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে বেশ কিছু ঘটনা এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি সামনে এনেছে। এ কারণে চীনের নীতিনির্ধারকদের কাছে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের পাশাপাশি সাংহাইয়ের সাধারণ মানুষের মধ্যেও এআই নিয়ে উদ্বেগ ও বাস্তববাদী মনোভাব দেখা যাচ্ছে। অনেকে মনে করেন, নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে কিছু সমস্যা থাকবেই। তবে সমস্যা শনাক্ত করে সমাধান করা গেলে প্রযুক্তির নিরাপত্তা আরও বাড়বে। সাংহাইয়ের এক বাসিন্দা বলেন, উইচ্যাটে এআই দিয়ে সাইবার হামলার সম্ভাবনা সামনে আসা খারাপ বিষয় নয়। বরং এতে দুর্বলতা শনাক্ত করে তা ঠিক করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এআইয়ের ওপর কঠোর নিয়মের পক্ষেও অনেকে মত দিয়েছেন। তাদের যুক্তি, শুধু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিরাপত্তার দায়িত্ব ছেড়ে দিলে তারা নিজেরাই যথেষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ নাও করতে পারে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইনস্পায়ার্ড এআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা জিয়া জিজিয়ান বলেন, তার বড় উদ্বেগ হলো শক্তিশালী এআই মডেল দিয়ে জটিল পাসওয়ার্ড ও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কোড ভেঙে ফেলা। তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশই ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একটি দেশের এআই সক্ষমতা খুব শক্তিশালী হলে অন্য দেশ নিজেকে নিরাপত্তার দিক থেকে দুর্বল মনে করতে পারে। তথ্যসূত্র: এএফপি/গালফ নিউজ
হুথিদের চলমান হামলার কারণে সৌদি আরবের সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদির এসব চাহিদা পূরণে তুরস্ক প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি। এনটিভির বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। শনিবার তুরস্কের সম্প্রচারমাধ্যম এনটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, সৌদি আরবের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুতর হামলা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় তিন দেশের মধ্যে জোটগত সহযোগিতার বিষয় রয়েছে। সামরিক ও বিশেষ করে প্রযুক্তিগত কিছু প্রয়োজন হলে তা পূরণে তুরস্কের কোনও আপত্তি নেই। সাম্প্রতি তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নামে এই চুক্তি সই করে। এতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনও একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফিদান বলেন, সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য করা মেনে নেওয়া যায় না। সৌদি আরবও এই সংঘাতে যোগ দিতে চায় না। যুদ্ধ বন্ধে বিভিন্ন পক্ষের কাছে নতুন কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এদিকে পাকিস্তান জানিয়েছে, হুথিদের হামলার জবাবে মক্কা চুক্তির আওতায় সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ইসলামাবাদে কোনও আলোচনা হয়নি। তবে সময় এলে পাকিস্তান পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে দেশটি। হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়ে তুরস্ক তা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।