বিশ্ব

ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ৩০, ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের পর দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ একাধিক ইরানি কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে।


 
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনি। মার্কিন ট্রেজারি দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, তিনি ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী (এলইএফ)-এর তত্ত্বাবধান করেন, যা হাজার হাজার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর জন্য দায়ী একটি প্রধান সংস্থা’।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আসামে ভারতীয় বিমান বাহিনীর বিমান বিধ্বস্তে নিহতের সংখ্যা ৫

  ভারতের আসাম রাজ্যের জোরহাটে ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) একটি এএন-৩২ পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচ সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন।   শনিবার (১৩ জুন) নিয়মিত প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় জোরহাট বিমানঘাঁটিতে অবতরণের প্রক্রিয়ায় বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী ও অগ্নিনির্বাপণ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরিস্থিতি মূল্যায়ন শুরু করে।   নিহতদের মধ্যে রয়েছেন— স্কোয়াড্রন লিডার প্রশান্ত সিং, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শুভম কুমার, সার্জেন্ট জিতেন্দ্র শর্মা, অগ্নিবীরবায়ু খেমারাম কুমাওয়াত এবং অগ্নিবীরবায়ু দানিশ আলম।   বিমান বাহিনী নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে।   দেশটির বিমানবাহিনী জানায়, রাশিয়ায় নির্মিত অ্যান্তোনভ এএন-৩২ বিমানটি আসাম রাজ্যের জোড়হাট শহরে অবতরণের সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়।   বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।   সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি দুর্ঘটনাস্থলের যে ছবি প্রকাশ করেছে, তাতে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে এবং বিমানটি কয়েকটি টুকরো হয়ে গেছে বলে মনে হয়েছে।   দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট টার্বোপ্রপ বিমান এএন-৩২ বিশেষভাবে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল এবং চরম আবহাওয়ায় ভালোভাবে পরিচালনার জন্য নকশা করা হয়েছে।   ভারতীয় বিমানবাহিনী দেশের সবচেয়ে দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে সামরিক সরঞ্জাম ও বেসামরিক সহায়তা পৌঁছে দেয়ার কাজে এ ধরনের প্রায় ১০০টি বিমান ব্যবহার করে।   এই মডেলের বিমান সবশেষ ২০১৯ সালে চীনের সীমান্তের কাছে অরুণাচল প্রদেশ রাজ্যে বিধ্বস্ত হয়েছিল। ওই দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছিলেন।   উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চে আসামের কারবি আংলং জেলায় ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি সুখোই সু-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হলে দুই পাইলট নিহত হন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৩, ২০২৬

৬ দেশের অংশগ্রহণে বুলগেরিয়ায় বহুজাতিক সামরিক মহড়া

ভারতের সেনাপ্রধান হচ্ছেন ধীরাজ শেঠ

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান ট্রাম্পের

ছবি : সংগৃহীত
জীবন দিয়ে সন্তানের লোভের মূল্য চুকালেন বৃদ্ধ পিতা

সব পিতাই তার সন্তানকে সফল দেখতে চান, সন্তানের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে প্রাণান্তকর চেষ্টা করেন। কিন্তু সম্পদের লোভ অনেক সময় মানুষকে পশুতে বদলে দেয়।   এমনই এক সন্তানের লোভের বলি হয়েছেন ৮২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। ঘটনাটি ভারতের মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের। ৮২ বছর বয়সী জাফর কমরুদ্দিন সৈয়দ প্যাটেল কাজ করতেন পানিসম্পদ বিভাগে। ভেবেছিলেন অবসর জীবনটা সন্তানের সাথে আয়েশেই কাটাবেন।   কিন্তু তার ছেলেই তার অবসর জীবনকে নরক বানিয়ে তোলে। লোভী এবং উগ্র মেজাজের আব্দুল রেহমান আব্দুল জাফর পরিবারের সদস্যদের সাথে দুর্ব্যবহার করতেন, এমনকি গায়েও হাত তুলতেন। অতিষ্ঠ হয়ে সৈয়দ প্যাটেল পুনেতে তার মেয়ের বাসায় চলে যান। তবে সেখানে গিয়ে তিনি চুপচাপ বসে থাকেননি।   নিজের পরিশ্রমে গড়া বাড়ি থেকে ছেলেকে উচ্ছেদ করতে মামলা ঠুকে দেন আদালতে।  দুই বছরের আইনি লড়াই শেষে ছেলের বিরুদ্ধে জয় পান বাবা। উচ্ছেদের রায় নিয়ে ফিরছিলেন বাড়ি। হয়তো ভেবেছিলেন বাকি জীবনটা নিজের হাতে গড়া বাড়িতেই কাটাবেন। মেয়েকে নিয়ে অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন সৈয়দ প্যাটেল।   কিন্তু তার ছেলের মনে ছিল অন্য ভাবনা। আদালতের পরাজয়টা মেনে নিতে পারেননি মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে কাজ করা আব্দুল জাফর। রাস্তার মাঝখানে অটোরিকশা থামিয়ে বাবাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন তিনি। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে ভাইয়ের আঘাতে আহত হন বোনও। বেচারা সৈয়দ প্যাটেলের আর বাড়ি ফেরা হলো না। পুলিশ আব্দুল জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে।   সৈয়দ প্যাটেল হয়তো সন্তানের কথা ভেবেই সম্পদ গড়েছিলেন। সম্পদ গড়তে গিয়ে সন্তানকে নৈতিক শিক্ষা দেওয়া, মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তোলার সময় হয়তো পাননি। সৈয়দ প্যাটেল সম্পদে বিনিয়োগ না করে যদি সন্তানের পেছনে বিনিয়োগ করতেন তাহলে হয়তো নিজেকে এভাবে বেঘোরে প্রাণ দিতে হতো না, ছেলেকে জেলে যেতে হতো না, মেয়েকে আহত হতে হতো না; পুরো পরিবারটি এভাবে ধ্বংস হতো না।

মারিয়া রহমান জুন ১৩, ২০২৬
ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি। ছবি: সংগৃহীত

‘বিশ্ব শিগগিরই ইরানের বিজয়ের প্রতিধ্বনি শুনবে’

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের ক্যানসার ওষুধের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ল

ছবি: সংগৃহীত

ভিসা প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে যে সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ইউরেনিয়াম জব্দের পরিকল্পনা আটকে দেন ট্রাম্প

ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল মার্কিন সেনাবাহিনী।  তবে সেই পরিকল্পনা স্থগিত করে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।    মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।    প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসের শেষ দিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান কেইন গোপনে ও জরুরি ভিত্তিতে ফ্লোরিডায় অবস্থিত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সদর দপ্তরে যান। সেখানে তিনি ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত দখলের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের পরিকল্পনা সম্পর্কে সরাসরি ব্রিফিং নেন।   বিষয়টি এতটাই সংবেদনশীল ও জরুরি ছিল যে, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান কেইন ব্রাসেলসে ন্যাটোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক মাঝপথে ছেড়ে ১৯ মে টম্পায় ফিরে আসেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সিএনএন বলছে, এসব উচ্চপর্যায়ের আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, ট্রাম্প প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এই সামরিক অভিযান অনুমোদনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। পরে জেনারেল কেইন সম্ভাব্য সামরিক বিকল্পগুলো ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরেন।   তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প পরিকল্পনাটি স্থগিত করেন। কারণ, তাকে সতর্ক করা হয়েছিল, এ ধরনের পদক্ষেপ ইরানের কঠোর পালটা প্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারে, সংঘাত দীর্ঘায়িত করতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।    এ ছাড়া এতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মার্কিন সেনা হতাহতের আশঙ্কাও ছিল।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছিল এমন সময়েও ট্রাম্প বারবার বলছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শেষ করার বিষয়ে একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

মারিয়া রহমান জুন ১৩, ২০২৬

ইরানসহ চার দেশের নাগরিকদের আফ্রিকায় পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহর দুবাই

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে সাইবার হামলায় শীর্ষে উত্তর কোরিয়া

0 Comments