সিএনএনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে অন্তত ১৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ঘাঁটি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেগুলো আর ব্যবহারযোগ্য নেই।
স্যাটেলাইট ছবি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির বড় অংশই ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
কিছু সূত্রের মতে, ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন পাওয়া গেছে। কয়েকটি ঘাঁটি এতটাই ধ্বংস হয়েছে যে সেগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনায় আছে, তবে কিছু স্থাপনা কৌশলগত কারণে মেরামতের পরিকল্পনাও চলছে।
স্যাটেলাইট চিত্রে আরও দেখা যায়, ইরানের হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল উন্নত রাডার ব্যবস্থা, যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং যুদ্ধবিমান। এসব সরঞ্জাম অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং দ্রুত প্রতিস্থাপন করা কঠিন।
একটি সূত্র দাবি করেছে, ইরান এমন জায়গাগুলোতেই বেশি আঘাত করেছে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতি হতে পারে, বিশেষ করে রাডার ব্যবস্থা যা এই অঞ্চলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সীমিত সম্পদ।
এদিকে মার্কিন পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। তবে অন্য একটি সূত্রের মতে, প্রকৃত খরচ ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে।
বর্তমানে সাময়িক যুদ্ধবিরতি থাকলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে অগ্রগতি হচ্ছে না বলে তিনি হতাশ।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইরানের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই দ্রুত বাড়তে থাকা পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে তিন বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বাড়ানো হয়েছে। ভবিষ্যতে তা আরও বাড়ানো হতে পারে। দেশটির ফেডারেল রিজার্ভ জানিয়েছে, তারা সুদের হার এক-চতুর্থাংশ শতাংশ পয়েন্ট (২৫ বেসিস পয়েন্ট) বাড়াবে।জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতিতে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেড’ বুধবার ঘোষণা করেছে, তারা সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩.৭৫ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশের সীমার মধ্যে নিয়ে আসবে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক কয়েক সপ্তাহ আগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এক বিবৃতিতে ফেড জানিয়েছে, অর্থনৈতিক কার্যক্রম জোরালো গতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও অভ্যন্তরীণ ব্যয় বা ভোগ বেশ স্থিতিশীল রয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মুদ্রাস্ফীতি এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। আজকের নীতিগত পদক্ষেপ মুদ্রাস্ফীতিকে কমিটির নির্ধারিত ২ শতাংশের লক্ষ্যে দ্রুত ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে। কমিটি মূল্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। বুধবার হার বাড়ানোর পর ফেডের ত্রৈমাসিক পূর্বাভাস অনুযায়ী কর্মকর্তারা চলিতি বছর আরও একবার সুদের হার বাড়ানোর আশা করছেন। একই সঙ্গে আগামী বছরজুড়ে এই হার অপরিবর্তিত থাকবে বলে ধারণা করছেন। মুদ্রানীতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘সিএমই ফেডওয়াচ’ পূর্বাভাস দিয়েছিল, ফেডের সুদের হার বাড়িয়ে ৩.৭৫ থেকে ৪ শতাংশ করার সম্ভাবনা ৯২.৩ শতাংশ। অথচ এক সপ্তাহ আগেও এক-চতুর্থাংশ শতাংশ হার বৃদ্ধির সম্ভাবনার পূর্বাভাস ছিল ৪০ শতাংশ। অর্থনীতির ওপর চাপ ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত শুরুর পর থেকে পাইকারি বাজারে তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যার প্রভাবে জ্বালানির দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর ফলে অনেক পণ্য ও সেবার দামও বেড়ে গেছে। ওয়ার্শ বলেন, যদিও ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) কোনো নির্দিষ্ট পণ্যের দাম, যেমন তেলের দাম বা মুদি দোকানের খাদ্যপণ্যের দাম সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে না। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এমন পদক্ষেপ নিতে পারে যাতে মূল্যবৃদ্ধি পুরো অর্থনীতিতে ছড়িয়ে না পড়ে। তিনি আরও বলেন, শ্রমবাজার ও সামগ্রিক অর্থনীতির শক্তিশালী অবস্থানের কারণে ফেড মূল্য স্থিতিশীল রাখার ওপর মনোযোগ দিচ্ছে। আর মুদ্রাস্ফীতি কমলে সমাজের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষরাই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। আগস্ট মাসে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম শূন্য দশকি ৪ শতাংশ বেড়েছে, যা গত চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের প্রসারে বিপুল বিনিয়োগও পণ্যের দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। বার্ষিক হিসেবে দাম তিন দশমিকক ৪ শতাংশ বেড়েছে—যা জুলাইয়ের বৃদ্ধির হারের সমান—এবং একই সময়ে শ্রমবাজারও বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এরপর থেকে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বা বেঞ্চমার্কের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। মঙ্গলবার অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছিল। দৈনিক পেট্রোলের দামের ওপর নজর রাখা সংস্থা ‘আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন’-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম এখন ৪ দশমিক ৩৬ (প্রতি লিটার ১.১৫ ডলার)। গত এক সপ্তাহে এর দাম ১৪ সেন্ট বেড়েছে এবং গত মাসে এই দাম ছিল ৪ দশমিক শুন্য ছয় ডলার (প্রতি লিটার ১.০৭ ডলার)। অন্যদিকে, ডিজেলের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ছয় দশমিক ৩১ ডিলার (প্রতি লিটার ১.৬৭ ডলার), যা এযাবৎকালের সর্বোচ্চ এবং এক বছর আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এর ফলে পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, কারণ ফল-সবজি থেকে শুরু করে ইস্পাত ও সিমেন্ট সবকিছু পরিবহনেই ট্রাকের জ্বালানি হিসেবে ডিজেল ব্যবহৃত হয়। একই সময়ে ১০ বছর মেয়াদী ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড বা আয়ের হার মঙ্গলবার মনস্তাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ৫ শতাংশের সীমা অতিক্রম করে ৫ দশমিক শূন্য দুই শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গাড়ি ও বাড়ির ঋণের মতো বিভিন্ন ঋণের সুদের হারের ক্ষেত্রে এই ইল্ড একটি মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে এবং এটি মুদ্রাস্ফীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। টাফটস ইউনিভার্সিটির ফ্লেচার স্কুলের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিষয়ক অধ্যাপক এবং নিরপেক্ষ অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতি বিষয়ক প্রকাশনা ‘ইকোনোফ্যাক্ট’-এর নির্বাহী সম্পাদক মাইকেল ক্লেইন বলেন, অর্থনীতি এখন এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে বেকারত্বের হার সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে, অন্যদিকে উচ্চমূল্য পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকায় মুদ্রাস্ফীতি ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) নির্ধারিত ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ক্লেইন আরও বলেন, মুদ্রাস্ফীতির হার বেশি হওয়ায় সুদের হার বাড়ানোর জন্য চেয়ারম্যান ওয়ার্শের ওপর ব্যাপক চাপ রয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ট্রাম্পের চাপ, কারণ প্রেসিডেন্ট ক্রমাগত সুদের হার কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন। সুদের হার বৃদ্ধি সাধারণত অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেয়। তবে বাজার যদি আগে থেকেই সুদের হার বাড়ার বিষয়টি আঁচ করতে পারে, তবে সেই প্রত্যাশা আগেই মূল্যের ওপর প্রভাব ফেলে। ফলে তখন আর এটি নতুন কোনো খবর হিসেবে গণ্য হয় না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর ফলে বন্ডের ইল্ড বা আয়ের হার স্থিতিশীল থাকতে সহায়তা করবে। সুদের হার বৃদ্ধির বিষয়ে মন্তব্যের জন্য আল জাজিরার অনুরোধে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি। সুদের হার বিষয়ক সিদ্ধান্তের প্রায় তিন ঘণ্টা পর ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার ১ শতাংশ বা তার কম হওয়া উচিত, কারণ ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার বিচারে আমরাই বিশ্বের সেরা এবং তা-ও অনেক বড় ব্যবধানে। নতুন বিনিয়োগের ফলে আমাদের দেশের অর্থনীতি এখন দারুণভাবে চাঙ্গা হয়ে উঠছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার কমানো হোক এবং তা দ্রুত করতে হবে। তবে তিনি সরাসরি ওয়ার্শের নাম উল্লেখ করেননি। সুদের হার না কমানোর কারণে ট্রাম্প এর আগে বারবার ওয়ার্শের পূর্বসূরি জেরোম পাওয়েলের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। এমনকি সরকার পাওয়েলের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি তদন্তও শুরু করেছিল। ওই সময় পাওয়েল বলেছিলেন, ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যেই এসব ‘অজুহাত’ খাড়া করা হয়েছিল। সূত্র: আলজাজিরা, বিসিসি।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে হুথিরা জানিয়েছে, লোহিত সাগরে চলাচলকারী মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজে হামলার পরিকল্পনা তাদের নেই। তবে সৌদি আরবের মালিকানাধীন কিংবা সৌদি পণ্য পরিবহনকারী জাহাজ এ অবস্থানের আওতামুক্ত থাকবে বলে তারা জানিয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্রের বরাতে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকটি গত রোববার অনুষ্ঠিত হয়। মাস্কাটে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে মধ্যস্থতা করে ওমান। বৈঠকটি আগে থেকে প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি। বৈঠকে হুথি প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রকে জানায়, লোহিত সাগরে মার্কিন কোনো জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা নেই তাদের। একইভাবে ইসরায়েলি জাহাজের বিরুদ্ধেও হামলা চালানোর ইচ্ছা নেই বলে জানানো হয়। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে তারা ভিন্নভাবে বিবেচনা করবে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। ইয়েমেনের একটি সূত্রের বরাতে এএফপি জানিয়েছে, হুথিরা যুক্তরাষ্ট্রকে আরও জানিয়েছে যে ইসরায়েলি মালিকানাধীনসহ অন্যান্য জাহাজের বিরুদ্ধেও তাদের হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই। তাদের বর্তমান অবস্থান মূলত সৌদি সংশ্লিষ্ট জাহাজকে ঘিরে। এর আগে ২০২৫ সালে হুথিদের লক্ষ্য করে প্রায় দুই মাস বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। একই বছরের মে মাসে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। বৈঠকে হুথিরা ওই যুদ্ধবিরতির প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে হুথিদের চলমান বিরোধে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়ানো না হয়—এমন অনুরোধ জানিয়ে হুথিরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এরপর গত সোমবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স জানান, হুথিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যোগাযোগ করছে। তবে সে সময় আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি। মাস্কাটে অনুষ্ঠিত বৈঠকের তথ্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে হুথি ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হলো। সূত্র: এএফপি
ওমানের উপকূলে পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ এলগাইয়ায় হামলা হয়েছে। এতে দুই নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন। হামলার পর জাহাজটিকে ওমানের একটি বন্দরে নিয়ে যাচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি জানায়, মুসান্দাম প্রদেশের উত্তর-পূর্বে প্রায় ১ দশমিক ৩ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটিতে হামলা হয়। হামলার পর ওমানের রয়্যাল নেভির একটি জাহাজ ২৩ জন নাবিককে উদ্ধার করে। নিখোঁজ দুই নাবিকের সন্ধানে অভিযান চলছে। এদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস বা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, সোমবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ৮টা ৪০ মিনিটে হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে অজ্ঞাতনামা ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলা আঘাত হানে। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটেনি। ইউকেএমটিও আঘাত পাওয়া জাহাজটির নাম জানায়নি। ফলে এটি এলগাইয়া নাকি অন্য কোনো জাহাজ, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সূত্র: শাফাক নিউজ