আন্তর্জাতিক

ইরানের দাবি: মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৫, ২০২৬
যুদ্ধবিমান। ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিমান। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা তাদের চলমান ‘সায়েকেহ’ অভিযানের অষ্টম ধাপ শুরু করেছে। এ পর্যায়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে নতুন করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়। এ দাবির ভিত্তিতে বুধবার আলজাজিরা খবর প্রকাশ করেছে।

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমান এবং বড় আকারের সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের দাবি, ওই ঘাঁটিতে এটি তাদের দ্বিতীয় হামলা।

 

তবে হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি তেহরান।

 

এদিকে, এ দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা জর্ডানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। স্বাধীন সূত্র থেকেও ইরানের এই দাবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। সেসব হামলার জন্য ইরানকেই দায়ী করা হচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধ থামাতে হিমশিম খাচ্ছেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বশেষ অবস্থান টিকেছিল মাত্র ২৪ ঘণ্টা। বিশ্লেষকদের মতে, এতে স্পষ্ট হচ্ছে, দীর্ঘায়িত এই সংঘাতের ইতি টানতে তিনি এখন ভিন্নধর্মী উপায় খুঁজছেন, তবে এখনো কার্যকর কোনো কৌশল খুঁজে পাননি।   সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানি নৌপরিবহণের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আবারও কার্যকর করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজ, এমনকি, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর জাহাজকেও ২০ শতাংশ ফি দিতে হবে। দাবি, বিশ্বের অন্যতম অস্থিতিশীল এই জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের যে ব্যয় হচ্ছে, সেই খরচ মেটাতেই এই অর্থ নেওয়া হবে।   তবে, মাত্র একদিনের ব্যবধানে সেই অবস্থান থেকে পুরোপুরি সরে আসেন ট্রাম্প। নতুন প্রস্তাবে তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি করা হবে। ইঙ্গিত দেন, এসব দেশের জন্য হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-যাতায়াত নিশ্চিত করার বিনিময়ে অর্থ আদায়ের বদলে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পথেই এগোতে চায় ওয়াশিংটন।   ট্রাম্পের এই আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তন এমন এক সময়ে এল, যখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত চার মাসের বেশি সময় ধরে চলছে। এক মাস আগে, দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেটির মাধ্যমে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার একটি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। তবে বাস্তবে সেই উদ্যোগ সংঘাত থামাতে ব্যর্থ হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করতে ট্রাম্প অনাগ্রহী হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধটি এখনো জনপ্রিয় নয়। যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং মার্কিন সেনা ও মিত্রদের ওপর আবারও ইরানের হামলার ঝুঁকিও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।   অন্যদিকে, কোনো নতুন সমঝোতা ছাড়াই যুদ্ধের ইতি টানাও ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে। কারণ তিনি এমন একটি চুক্তি করতে চান, যেটিকে ২০১৫ সালে বারাক ওবামা প্রশাসনের করা পারমাণবিক চুক্তির চেয়ে ভালো বলে দাবি করা যাবে।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ-এর মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক রোজমেরি কেলানিড বলেন, সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিণতি হলো: এই যুদ্ধের কোনো স্পষ্ট সমাপ্তি নাও হতে পারে। এটি এখন অমীমাংসিত যুদ্ধে পরিণত হয়েছে, আর এ ধরনের যুদ্ধ সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে।   মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৬ মিনিটে ট্রাম্পের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক ঘোষণার মাধ্যমে কার্যত সমঝোতা স্মারকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ওই পোস্টে তিনি ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ পুনরায় কার্যকর করার ঘোষণা দেন। একই সময়ে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন করে মার্কিন হামলাও শুরু হয়।   এর জবাবে, অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা আরও জোরদার করে ইরান। ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবারও প্রায় অচল হয়ে পড়ে।   প্রায় এক মাস ধরে, দুই দেশের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা চললেও মাঝেমধ্যেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা তথাকথিত যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সেই একই সংকটের মুখোমুখি, যা সংঘাতের শুরু থেকেই বিদ্যমান ছিল।   সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জাহাজ, যুদ্ধবিমান ও বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস এবং দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল করার মতো কিছু লক্ষ্য অর্জন করেছে। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান এখনো কাগজে-কলমে মেলেনি।   বিশ্লেষকদের মতে, সামরিকভাবে দুর্বল হলেও ইরান এখনো হরমুজ প্রণালিতে নৌ-যাতায়াত বাধাগ্রস্ত করার সক্ষমতা ধরে রেখেছে। আর যুক্তরাষ্ট্র যদি এ অঞ্চলে সামরিক অভিযান নাটকীয়ভাবে আরও বিস্তৃত না করে, তাহলে তেহরানকে সেই পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখা তাদের পক্ষে কঠিন হবে।   এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ শতাংশ ফি'কে কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কাছে সামরিক উপস্থিতির ব্যয়কে গ্রহণযোগ্য করে তোলার একটি রাজনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। যদিও এটি নতুন কোনো ধারণা নয়। যুদ্ধ চলাকালেও একাধিকবার তিনি একই ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।   তবে মাত্র এক মাস আগে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের সম্ভাব্য ফি আরোপের পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করেছিলেন।   রুবিও বলেছিলেন, ‘আন্তর্জাতিক জলপথে কোনো দেশ টোল বা ফি আরোপ করতে পারে না। আন্তর্জাতিক আইনে এ ধরনের কোনো সুযোগ নেই। বিশ্বের সব আন্তর্জাতিক জলপথেই এই নীতি প্রযোজ্য এবং এখানেও আমরা সেটাই প্রত্যাশা করি।’   বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান বদল আবারও প্রমাণ করছে যে, যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তার সামনে এখনো সুস্পষ্ট কোনো 'পথ নেই'।   এদিকে, সমঝোতা স্মারকটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে বহু বিষয় ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য খোলা রাখা হয়। সেখানে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল তদারকির ক্ষেত্রে ইরানের একটি ভূমিকার কথাও উল্লেখ ছিল। নথিতে বলা হয়, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সর্বোচ্চ চেষ্টা করে কোনো ধরনের ফি ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করবে।’   এই ভূমিকাকে দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে, সমঝোতা স্মারকে ইরানে কয়েকশ' কোটি ডলারের বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতিও ছিল।   ওয়াশিংটনের ধারণা ছিল, এসব অর্থনৈতিক প্রণোদনা এবং চুক্তি লঙ্ঘনের সম্ভাব্য পরিণতির সতর্কবার্তা মিলিয়ে ইরানকে হরমুজ প্রণালির ভৌগোলিক অবস্থানকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখা যাবে। তবে আপাতত সেই হিসাব সঠিক প্রমাণিত হচ্ছে না।   সূত্র: বিবিসি

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৫, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়া ও লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারে নেতানিয়াহুকে চাপ ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের তেল রপ্তানি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

যুদ্ধবিমান। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের দাবি: মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা

ছবি : সংগৃহীত
কুয়েত-বাহরাইনে ইরানের হামলা, বাজছে জরুরি সাইরেন

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির এ হামলার পর কুয়েত ও বাহরাইনে সাইরেন বাজানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উভয় দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাব দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দেশটি জনসাধারণকে কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাবিষয়ক নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।   এদিকে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জনগণকে শান্ত থাকতে এবং নিকটতম নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলেছে।   এর আগে, ইরানের হামলার কিছুক্ষণ আগে ইরানের কিশ ও কেশম দ্বীপ লক্ষ্য করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে আল জাজিরা এ তথ্য জানায়।   গত তিন দিনে দ্বীপ দুটিতে বারবার হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। এর মধ্যে আজ আবারও হামলা হয়েছে। তবে নতুন হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দেয়নি ইরান।   কেশম দ্বীপ ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের যতগুলো দ্বীপ রয়েছে, তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড়। এই দ্বীপ ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারে তেহরান। ধারণা করা হয়, সেখানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র বারবার সেখানে হামলা চালাচ্ছে।   এদিকে ইরান হামলা চালালে অতীতের যেকোনো সংঘাতের তুলনায় বহুগুণ শক্তিশালী ও কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তেহরানকে ইসরায়েলে হামলা না করার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে তিনি এ হুমকি দেন।   ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় নেগেভ মরুভূমির ডিমোনা শহরে আয়োজিত এক সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় নেতানিয়াহু বলেন, ‘সেই দিন শেষ হয়ে গেছে, যখন কেউ আমাদের আঘাত করত আর আমরা তার দ্বিগুণ শক্তিতে পাল্টা আঘাত হানতাম না।’   চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হলেও গত সপ্তাহে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। তবে এবারের উত্তেজনায় এখন পর্যন্ত ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সরাসরি কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।   যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে তেহরান। মার্কিন বাহিনীর নতুন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইরানের সামরিক বাহিনী।   সূত্র: আল জাজিরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজের বিকল্পে নতুন বন্দর গড়ার পরিকল্পনা আমিরাতের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যে শর্তে হরমুজ প্রণালিতে ২০ শতাংশ ফি প্রত্যাহার করলেন ট্রাম্প

ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আসন পেতে প্রচারণা শুরু করল ভারত

চীনের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে কড়া বার্তা দিল চীন

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে উভয় পক্ষকে আবারও যুদ্ধে না ফেরার আহ্বান জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে প্রণালির উপকূলীয় দেশগুলোর বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বেইজিং। খবর আনাদোলু এজেন্সির।   মঙ্গলবার বেইজিংয়ে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে আবারও সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ায় চীন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।   তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো আহ্বান বিবেচনায় নিয়ে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে হবে এবং নতুন করে সংঘাত এড়াতে হবে।   লিন জিয়ান আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচিত সংঘাত যেন আরও বিস্তৃত না হয় এবং নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ও দুর্ভোগ না বাড়ে, তা নিশ্চিত করা উচিত।   তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির উপকূলীয় দেশগুলোর বৈধ অধিকার ও স্বার্থের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং প্রণালিতে দ্রুত স্বাভাবিক ও নিরাপদ নৌ চলাচল পুনঃস্থাপনই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা।   চীনের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।   তবে সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়ে বেইজিং বলেছে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের উচিত একই লক্ষ্য নিয়ে সংকটের গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে কাজ করা।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

৬২ দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা বহাল রাখল জার্মানি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজে হামলায় ভারতীয় নিহত, ইরানি কূটনীতিককে তলব করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে দুই জাহাজের সংঘর্ষ, ২৩ নাবিককে উদ্ধার

0 Comments