ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলাকে ‘সম্পূর্ণ দায়িত্বহীন’ আখ্যা দিয়ে তা আরও উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবোলিশ নিউক্লিয়ার ওয়াপনস (আইক্যান)।
জেনেভা থেকে এএফপি জানায়, সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মেলিসা পার্কে শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই হামলাগুলো সম্পূর্ণ দায়িত্বহীন এবং এগুলো আরও উত্তেজনা উসকে দেওয়ার পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার ও ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়ায়।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে সামরিক পদক্ষেপ কোনো কার্যকর বা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। সব ধরনের সামরিক পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।’
সপ্তাহব্যাপী উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সামরিক সমাবেশের পর এ হামলা চালানো হয়। এর জবাবে তেহরান উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ ও ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
জেনেভাভিত্তিক আইক্যান ২০১৭ সালে পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার পায়। চুক্তিটি ২০২১ সালে কার্যকর হয়।
আইক্যান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে জেনেভায় পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার মাত্র দুই দিন পর এ হামলা আঞ্চলিক বৃহত্তর যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনায় ইরানের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশের পর শনিবারের হামলা ঘটে।
পার্কে বলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার ও ব্যবহারের ঝুঁকি বন্ধের একমাত্র সমাধান হলো—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রসহ সব দেশকে পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তিতে যোগ দেওয়া।’
আইক্যান আরও জানায়, টিপিএনডব্লিউ ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)-এর মতো আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো যাচাইযোগ্য নিরস্ত্রীকরণ ও অস্ত্রের উদ্দেশ্যে পারমাণবিক উপাদান অপব্যবহার ঠেকানোর বিধান রেখেছে।
পার্কে বলেন, ‘টিপিএনডব্লিউ-ই পারমাণবিক অস্ত্র কখনো ব্যবহার না হওয়ার নিশ্চয়তা দিতে এবং আরও দেশকে এ অস্ত্র তৈরিতে উৎসাহিত হওয়ার প্রণোদনা দূর করতে সবচেয়ে কার্যকর পথ।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি চীনের পক্ষ থেকে তোলা 'নতুন সামরিকবাদ' অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, চীন দ্রুত ও স্বচ্ছতা ছাড়া তাদের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে, যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ার শীর্ষ নিরাপত্তা সম্মেলন শাংরি-লা ডায়ালগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কোইজুমি বলেন, চীনের প্রতিরক্ষা ব্যয় ও সামরিক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জাপানসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ। তিনি আরও বলেন, 'যেখানে একটি দেশের কাছে বিশাল পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার ও কৌশলগত বোমার বহর রয়েছে, সেখানে জাপানের এমন কোনো অস্ত্র নেই। তবুও জাপানকে ‘নতুন সামরিকবাদী’ বলা হচ্ছে-এটা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।' চীন দীর্ঘদিন ধরে জাপানের প্রতিরক্ষা নীতির পরিবর্তনকে সমালোচনা করে আসছে। বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিপূর্ণ অবস্থান থেকে সরে এসে জাপানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোকে বেইজিং 'নব্য সামরিকবাদ' হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে, চীনের প্রতিনিধি মেজর জেনারেল মেং শিয়াংকিং জাপানের সমালোচনা করে বলেন, ইতিহাসে সামরিক আগ্রাসনের অভিজ্ঞতা থাকা একটি দেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা আলোচনায় বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে মূলত তাইওয়ান ইস্যুকে কেন্দ্র করে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি গত বছর মন্তব্য করেছিলেন, চীন যদি তাইওয়ানে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে জাপানও প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে-এর পর থেকেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে ওঠে। তবে উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কোইজুমি। তিনি বলেন, জাপান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চীনসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সংলাপে আগ্রহী। তিনি আরও জানান, জাপান এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সামরিক সক্ষমতা জোরদারে কাজ করছে, এবং 'চাপ বা বিভ্রান্তি নয়, বরং স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল অঞ্চল গড়ে তুলতে চায়'। এর আগে এপ্রিল মাসে জাপান তাদের প্রতিরক্ষা রপ্তানি নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে, যার ফলে যুদ্ধজাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম বিদেশে রপ্তানির পথ আরও সহজ হয়।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের চেহারা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একসময় যেখানে সামনের সারিতে সৈন্যদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছিল যুদ্ধের মূল দৃশ্য, এখন সেখানে ক্রমেই জায়গা করে নিচ্ছে ড্রোন ও রোবট এবং দূরনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধাস্ত্র। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে কোনো সৈন্য সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করা ছাড়াই ইউক্রেনের অনেক সামরিক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। বিস্ফোরক বহনকারী রোবট রুশ অবস্থানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, আকাশে থাকা নজরদারি ড্রোন পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, আর দূরে নিরাপদ নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে অপারেটররা পরিচালনা করছেন পুরো অভিযান। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, জনবলসংকট এবং পশ্চিমা মিত্রদের ভবিষ্যৎ সহায়তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে ইউক্রেন ক্রমশ প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের দিকে ঝুঁকেছে। ড্রোন, রোবটিক যান এবং স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রব্যবস্থার ব্যবহার বাড়িয়ে তুলেছে তারা।এমন অভিযানগুলো তুলনামূলক বড় রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা এনে দিচ্ছে। গত এপ্রিল মাসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেন, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শুধু রোবট ও ড্রোন ব্যবহার করে একটি রুশ অবস্থান দখল করতে সক্ষম হয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। তিনি আরো জানান, চলতি বছরের শুরু থেকে মানববিহীন ২২ হাজারেরও বেশি মিশন পরিচালনা করেছে ইউক্রেন। ‘নীরব মৃত্যু’ নাম দিয়েছে রুশ সেনারা ইউক্রেনীয় সেনাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্দি হওয়া অনেক রুশ সেনা বিস্ফোরকবাহী রোবটগুলোর নাম দিয়েছে ‘সাইলেন্ট ডেথ’ বা ‘নীরব মৃত্যু’।কারণ এসব যন্ত্র এতটাই নিঃশব্দে চলতে পারে যে অনেক সময় মাত্র ১০ মিটার দূরত্বে এসে পৌঁছানোর পর রুশ সেনারা এগুলোর অবস্থান শনাক্ত করতে পারেন। ততক্ষণে তাদের আর কিছুই করার থাকে না। পূর্ব ইউক্রেনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধক্ষেত্র দনবাসে একসময় সরাসরি লড়াই করা ইউক্রেনীয় কমান্ডারদের কাছেও এই পরিবর্তন অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। দনবাসের যুদ্ধেও অংশ নেওয়া একজন ডেপুটি-কমান্ডার বলেন, ‘তখন আমি এমন কিছু কল্পনাও করতে পারিনি। যদি এই প্রযুক্তি তখন থাকত, তাহলে হয়তো আমার অনেক সহযোদ্ধা আজও বেঁচে থাকতেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘আগে যুদ্ধ ছিল অনেক বেশি মানুষের দক্ষতা ও সাহসের ওপর নির্ভরশীল। কে কত ভালো প্রশিক্ষিত, কতটা শৃঙ্খলাবদ্ধ—এসব ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এখন প্রযুক্তিই সব কিছু নির্ধারণ করছে। আর এ পরিবর্তন থেকে ফিরে যাওয়ার কোনো পথ নেই।’ প্রতি মাসে ৩৫ হাজার রুশ সেনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার লক্ষ্য ইউক্রেনের নতুন কৌশলের অন্যতম লক্ষ্য হলো রাশিয়ার ওপর ধারাবাহিক চাপ তৈরি করা। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা প্রতি মাসে প্রায় ৩৫ হাজার রুশ সেনাকে হতাহত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন এবং চলতি বছরে সেই লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করছেন। তাদের মতে, এতে রাশিয়াকে আরো বেশি করে জনবল সংগ্রহ করতে বাধ্য হতে হবে, যা দেশটির শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলবে। এদিকে যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা জিসিএইচকিউ-এর সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়ার সামরিক মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৫ লাখে পৌঁছেছে। যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা যুদ্ধের শুরুতে ড্রোন ও রোবট ছিল নতুনত্বের বিষয়। কিন্তু চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে এগুলো এখন ইউক্রেনীয় বাহিনীর দৈনন্দিন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে আহত সৈন্যদের সরিয়ে নিতে, সামনের সারিতে রসদ পৌঁছে দিতে এবং সরাসরি হামলা চালাতেও। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ তাই শুধু ভূখণ্ডের লড়াই নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে, তারও এক বাস্তব পরীক্ষাগার হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সব শর্ত পূরণ করা হলে, তবেই তিনি ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করবেন। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন। ফলে চলমান যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। এর আগে, হোয়াইট হাউস ইঙ্গিত দিয়েছিল যে সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছেন। তবে তেহরান বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত অবসানের বিষয়ে এখনও কোনো ‘চূড়ান্ত সমঝোতা’ হয়নি। চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। দেশটির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘সত্য ও অসত্যের মিশ্রণ’ বলে উল্লেখ করেছে। মার্কিন সূত্রগুলো এএফপিকে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সৃষ্ট অস্থিরতা নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ধীরগতির আলোচনার পর একটি চুক্তির খসড়া প্রস্তুত হয়েছে। এখন সেটি ট্রাম্পের চূড়ান্ত সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছে। ইরান ইস্যুতে শুক্রবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে বৈঠক শেষে কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুধু এমন একটি চুক্তিই করবেন, যা আমেরিকার জন্য মঙ্গলজনক হবে ও তার নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।’ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ট্রাম্পের বক্তব্যের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ৪৭ বছর আগেই ‘অবশ্যই করতে হবে’Ñ এ ধরনের নির্দেশমূলক ভাষাকে বিদায় জানিয়েছে। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত থাকলেও এখনও কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। ট্রাম্প দাবি করেন, চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণ করবে এবং কোনো ধরনের টোল ছাড়াই নৌ চলাচল নিশ্চিত করবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নেবে। তিনি আরও বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ ও ধ্বংসের কাজেও দুই দেশ সমন্বয় করবে। তবে ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সের সূত্রগুলো বলছে, পরবর্তী ধাপে আলোচনায় যাওয়ার আগে তেহরান ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের জব্দকৃত ইরানি সম্পদ অবিলম্বে ছাড়ের দাবি জানিয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি টোলমুক্তভাবে খোলার বিষয়টি চুক্তির খসড়ায় নেই বলেও তারা দাবি করেছে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক উপকরণ ধ্বংসের বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছে ইরান।