জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সব পক্ষকে সংযম দেখিয়ে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।
জেনেভা থেকে এএফপি জানায়, শনিবার এক বিবৃতিতে তুর্ক বলেন, ‘আজ সকালে ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা এবং পরবর্তী সময়ে ইরানের পাল্টা হামলায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। যেকোনো সশস্ত্র সংঘাতে শেষ পর্যন্ত বেসামরিক মানুষই সবচেয়ে বেশি মূল্য দেয়।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব হামলার ফলে কেবল ‘মৃত্যু, ধ্বংস ও মানবিক দুর্ভোগ’ বাড়বে।
মানবাধিকার প্রধান বলেন, ‘বেসামরিক মানুষের জন্য ভয়াবহ পরিণতি এড়াতে আমি সংযমের আহ্বান জানাই এবং সব পক্ষকে যুক্তিবোধে ফিরে আসার, উত্তেজনা প্রশমিত করার এবং মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যেখানে সমাধানের চেষ্টা চলছিল সেই আলোচনার টেবিলে ফেরার অনুরোধ করছি।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে স্থল অভিযান আরও জোরদার করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্রুসেডার আমলের ঐতিহাসিক বেউফোর্ট দুর্গ দখল করে নিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। রবিবার (৩১ মে) ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এ খবর জানিয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, দক্ষিণ লেবাননে তাদের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উত্তর ইসরায়েলের মেতুলা ও গ্যালিলি প্যানহ্যান্ডেল অঞ্চলের ওপর থেকে সরাসরি হুমকি দূর করার পাশাপাশি ‘সম্মুখ প্রতিরক্ষা রেখা’ আরও প্রসারিত করার অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ধ্বংস ও যোদ্ধাদের নির্মূল করতে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বেউফোর্ট রিজ এবং ওয়াদি সালুকি নদী এলাকায় এই স্থল অভিযান শুরু করে তারা। অভিযান চলাকালীন ইসরায়েলি সেনারা সীমান্ত এলাকা মেতুলার ঠিক বিপরীতে লিতানি নদীর ৯০-ডিগ্রি বাঁক পার হয়ে দুর্গের দিকে অগ্রসর হয়। ঐতিহাসিক এই দুর্গটি থেকে একদিকে উত্তর ইসরায়েলের গ্যালিলি প্যানহ্যান্ডেল এবং অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ অঞ্চল সরাসরি নজরদারিতে রাখা যায়। আইডিএফ জানিয়েছে, তারা লিতানি নদীর উত্তরের এলাকাগুলোতেও তাদের হামলা জোরদার করেছে এবং বর্তমানে এই অভিযান আরও নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, বেউফোর্ট এবং ওয়াদি সালুকি এলাকায় ইরানের সহায়তায় গড়ে ওঠা হিজবুল্লাহর ‘গুরুত্বপূর্ণ’ অবকাঠামো রয়েছে। সেখান থেকেই হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা যুদ্ধ পরিচালনা করতো এবং অসংখ্য হামলা চালিয়েছে। এছাড়া এই অঞ্চল থেকে ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ড এবং দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন থাকা ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে শত শত রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। সামরিক বাহিনী আরও বলেছে, আইডিএফ দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অন্যতম শক্তিশালী ঘাঁটি নাবাতিহর কাছাকাছি এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এই আক্রমণ আরও বাড়াতে প্রস্তুত রয়েছে।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির দক্ষিণে একটি পাঁচতলা বাণিজ্যিক ভবন ধসে পড়েছে। শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় সাকেত মেট্রো স্টেশনের কাছে সাইদুলাজাব এলাকার ওয়েস্টার্ন মার্গে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এ ঘটনায় পর পুরো এলাকা মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। লোহার রড, ভাঙা পিলার ও কংক্রিটের চাঁই চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনীসহ একাধিক সংস্থা যৌথ অভিযান চালাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, ধসে পড়া ভবনটিতে একটি মেডিক্যাল কোচিং ইনস্টিটিউট, কয়েকটি ক্যাফে ও করপোরেট অফিস ছিল। ভবনটির তৃতীয় তলায় বেশ কিছুদিন ধরে নির্মাণকাজ চলছিল। শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে হঠাৎ পুরো ভবনটি ধসে পাশের একটি অস্থায়ী টিনের ছাউনি দেওয়া ক্যান্টিনের ওপর পড়ে। গণমাধ্যমের তথ্য মতে, দুর্ঘটনার সময় ওই ক্যান্টিনে বহু শিক্ষার্থী রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা রবীন্দ্র সিং জানান, ভবনটি মাত্র চার-পাঁচ বছর আগে তৈরি করা হয়েছিল। এখানে কোচিং সেন্টার ও অফিস থাকায় সব সময় তরুণ-তরুণীদের ভিড় থাকত। ঘটনার সময় ক্যান্টিনে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০০ থেকে ১৫০ জন মানুষ আটকে থাকতে পারেন, যাদের বড় একটি অংশই মেডিক্যাল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, হঠাৎ বিকট শব্দে চারিদিক ধুলার মেঘে ঢেকে যায়। ধুলো সরলে আমরা দেখি ভবনটি পুরোপুরি ধসে গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কেবল বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার আর কান্নার আওয়াজ আসছিল। ধসে পড়া ভবনের পাশে ‘অ্যারাইজ মেডিক্যাল একাডেমি’তে পিজি প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সদ্য বিদেশ থেকে এমবিবিএস পাস করা শিক্ষার্থী নীলম (২৫)। তার বাবা বলবন্ত যাদব জানান, নীলম দুর্ঘটনার সময় পাশের ক্যান্টিনেই ছিলেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার পা ভেঙে গেছে এবং বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এদিকে দুর্ঘটনাস্থলে আলো জ্বালিয়ে (ফ্লাডলাইট) উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। নিখোঁজদের খোঁজে স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় করেছেন। নিখোঁজদের সঠিক তথ্য না পেয়ে অনেকে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসসহ বিভিন্ন হাসপাতালে হন্যে হয়ে ছুটছেন। দিল্লি ফায়ার সার্ভিস (ডিএফএস) জানিয়েছে, খবর পেয়ে প্রথমে তিনটি দমকল ইঞ্জিন পাঠানো হলেও পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় আরো বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন ও জরুরি গাড়ি মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন। ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করা হচ্ছে। স্টিলের গার্ডার ও কংক্রিট কাটার জন্য হাইড্রোলিক কাটার এবং জ্যাক ব্যবহার করছেন উদ্ধারকারীরা। ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজদের অবস্থান শনাক্ত করতে ভিকটিম-লোকেশন ক্যামেরা, আর্থ-অগার ড্রিলিং মেশিন এবং বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত স্নাইপার ডগ (সন্ধানী কুকুর) ব্যবহার করা হচ্ছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের কর্মকর্তা ধর্মবীর সিং জানান, উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আটকে পড়াদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দক্ষিণ দিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিপিসি) অনন্ত মিত্তাল জানান, সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে পুলিশ ভবন ধসের খবর পায় এবং তিন মিনিটের মধ্যে মেহরাউলি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হচ্ছে। ভবনটির মালিকানা কার ছিল, ভবন নির্মাণের জন্য যথাযথ অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না এবং নির্মাণকাজে কোনো গাফিলতি ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বায়োকেমিস্ট খাইম ভাইৎসম্যান জন্মগ্রহণ করেছিলেন তৎকালীন রুশ সাম্রাজ্যে। তার অ্যাসিটোন নামক রাসায়নিক পদার্থ উৎপাদন সংক্রান্ত আবিষ্কার ১৯১০-এর দশকে কৌশলগত সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আসিটোন, কর্ডাইট নামক এক জাতীয় বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহার করা হতো, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্য ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছিল। তবে কিছু সময়ের জন্য ব্রিটিশ নাগরিকত্বের অধিকারী এই বিজ্ঞানীর রাজনৈতিক জীবন ছিল আরো উল্লেখযোগ্য। তিনি জায়নবাদের অন্যতম মহান নেতা ছিলেন। জায়োনিস্ট বা জায়নবাদ হলো ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে উদ্ভূত এক জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, এর অন্যতম লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিনে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। হলোকস্টের ভয়াবহতার পর ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ একটা রেজোলিউশনের মাধ্যমে তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনাধীন প্যালেস্টাইনকে দু'টো রাষ্ট্রে বিভক্ত করার অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে একটা ইহুদিদের জন্য এবং অন্যটা আরবদের। ইসরায়েল ১৯৪৮ সালে নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে ঘোষণা করে। তবে ফিলিস্তিনিদের এখনো কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র নেই, যদিও ১৪০টারও বেশি দেশ তাদের স্বীকৃতি দিয়েছে। জায়নবাদের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মি. ভাইৎসম্যানকে ১৯৪৯ সালে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও বেছে নেওয়া হয়। তবে এই পদ মূলত আনুষ্ঠানিক ছিল, প্রশাসনিক না। কারণ ইসরায়েল একটা সংসদীয় প্রজাতন্ত্র এবং সেখানে সরকারের প্রধান হলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। ৭৭ বছর বয়সে ১৯৫২ সালে মি. ভাইৎসম্যানের মৃত্যু হয়। ফলে ইসরায়েলের একজন নতুন প্রেসিডেন্টের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সেই সময় প্রেসিডেন্ট হিসেবে এমন বিশিষ্ট ইহুদি ব্যক্তিত্বদের নাম প্রস্তাব করা হয় যারা এই ভূমিকা পালন করতে এবং নবগঠিত দেশে অভিবাসনকে উৎসাহিত করতে পারেন। তাই, প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিয়নের সরকার এই পদের জন্য আবারও একজন বিজ্ঞানীকেই আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন বিশ্বের অন্যতম খ্যাতনামা বিজ্ঞানী- আলবার্ট আইনস্টাইন। আমন্ত্রণ ও প্রত্যাখ্যান সেই সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের দূত ছিলেন আব্বা ইবন। এই বিষয়ে আইনস্টাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী আইনস্টাইন ১৯৩৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতেন। সে বছর অ্যাডলফ হিটলার ক্ষমতায় আসেন এবং জার্মানিতে ইহুদিদের ওপর নিপীড়ন শুরু হয়। ডেভিড বেন-গুরিয়নের পক্ষ থেকে আইনস্টাইনকে একটা চিঠি লিখেছিলেন মি. ইবন। ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, "ভৌগোলিকভাবে ইসরায়েল একটা ছোট দেশ হলেও তা মহত্ত্ব অর্জন করতে পারে। কারণ এই দেশ ইহুদি জনগণের প্রাচীন ও আধুনিক- দু'দিক থেকেই সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক এবং বুদ্ধিগত ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করে।" যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত তৎকালীন ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ব্যাখ্যা করেন যে, এর জন্য আইনস্টাইনকে তার বৈজ্ঞানিক কর্মজীবন ত্যাগ করতে হবে না। তবে তাকে নিউ জার্সি ছেড়ে ইসরায়েলে চলে যেতে হবে। সেই সময় প্রিন্সটনের 'ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ'-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আইনস্টাইন এবং তিনি নিউ জার্সিতেই থাকতেন। বছর ৭৩-এর আইনস্টাইন এই আমন্ত্রণে রাজি হননি। বিনয়ের সঙ্গে ওই চিঠির জবাব দেন এবং আমন্ত্রণ পেয়ে তিনি যে আপ্লুত সে কথাও উল্লেখ করেন। যদিও এই ধরনের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন না আইনস্টাইন। জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের 'আইনস্টাইন আর্কাইভ'-এর কিউরেটর এবং এই বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানীর ব্যক্তিগত চিঠিপত্র ও ছবি সংকলনকারী বই- 'আইনস্টাইনের নোটবুকস'-এর লেখক জিভ রোজেনক্র্যান্টজের মতে, আলবার্ট আইনস্টাইন যুক্তি দিয়েছিলেন ওই পদের জন্য যে দক্ষতার প্রয়োজন, তার সেসবের অভাব রয়েছে। আইনস্টাইন চিঠির জবাবে লিখেছিলেন, "ইসরায়েলের সরকারের এই প্রস্তাবে আমি গভীরভাবে অভিভূত এবং একইসঙ্গে তা গ্রহণ করতে না পারায় দুঃখ ও লজ্জাবোধ করছি।" তিনি আরো লেখেন, "আমি সারা জীবন বস্তুনিষ্ঠ সমস্যা নিয়ে কাজ করেছি, তাই মানুষের সঙ্গে যথাযথভাবে আচরণ করার কিংবা দপ্তরের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় এবং সহজাত দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা আমার নেই। শুধু এই কারণেই, আমি এত উচ্চ পদের দায়িত্ব গ্রহণের যোগ্য নই।" "এই পরিস্থিতি আমাকে আরো বেশি পীড়া দেয়, কারণ বিশ্বে নিজের নড়বড়ে অবস্থান নিয়ে যে সময় থেকে পুরোপুরি উপলব্ধি করা শুরু করি, তখন থেকে ইহুদিদের সঙ্গে সম্পর্কই আমার সবচেয়ে শক্তিশালী মানবিক বন্ধন হয়ে উঠেছে।" আইনস্টাইনকে নিয়ে বেশ কয়েকটা বই লিখেছেন অ্যালিস ক্যালাপ্রিস। এই লেখিকার মতে ডেভিড বেন-গুরিয়ন এই প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন। এই প্রসঙ্গে তিনি তার বই 'আইনস্টাইন এনসাইক্লোপিডিয়া'-তে লিখেছেন, "বেন-গুরিয়ন উদ্বিগ্ন ছিলেন যে রাজনৈতিক বিষয়ে আইনস্টাইনের দুঃসাহস তাকে (ডেভিড বেন-গুরিয়নকে) নিজের নীতির বিরুদ্ধে কাজ করতে বাধ্য করতে পারে।" প্রধানমন্ত্রী তার চিফ অফ স্টাফ আইজ্যাক নাফোনকে (যিনি পরে ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন) বলেছিলেন, "উনি (আইনস্টাইন) যদি রাজি হন, তাহলে আমার কী করা উচিত, সে বিষয়ে আমাকে পরামর্শ দিন।" "এই পদের বিষয়ে তাকে প্রস্তাব দিতেই হতো, কারণ আমি না বলতে পারিনি। কিন্তু উনি যদি এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন, তাহলে আমরা সমস্যায় পড়ব।" ইসরায়েল ও আইনস্টাইন তবে এর অর্থ এই নয় যে ইসরায়েলের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির প্রতি উদাসীন ছিলেন আইনস্টাইন। রিও ডি জেনিরোর ফেডারেল ইউনিভার্সিটির ইতিহাসবিদ ও অধ্যাপক এম গেরম্যানের কথায়, "আইনস্টাইন জায়নবাদী আন্দোলনের একজন সমর্থক ছিলেন। তিনি ১৯২১ সাল থেকে ভাইৎসম্যানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং জায়নবাদের এমন এক বামপন্থি শাখার প্রতিনিধিত্ব করতেন যা ফিলিস্তিনে আরব ও ইহুদিদের জাতীয় অধিকারসহ দ্বি-জাতীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সমর্থন করত।" জায়নবাদ এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছেন এই অধ্যাপক গেরম্যান। আইনস্টাইনের লেখা চিঠিপত্র এই বিষয়টি বুঝতে সহায়তা করতে পারে। ১৯৪৭ সালে, ভারতের স্বাধীনতার পর তিনি দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুকে একটা চিঠি লিখেছিলেন। তাকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি আইনস্টাইন তার বিশ্বাস সম্পর্কে লেখেন, "আমি জায়নবাদী আদর্শকে গ্রহণ করেছি, কারণ আমি এর মধ্যে দিয়ে একটা সুস্পষ্ট ভুলকে সংশোধন করার পথ দেখতে পেয়েছিলাম।" পরের বছর ইসরায়েল স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় তাদের কয়েক দশকের সংগ্রাম ফলপ্রসূ হয়। এই নিয়ে সন্তুষ্টও ছিলেন তারা। তবে ইসরায়েলের চরমপন্থি গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করেছিলেন। ১৯৪৮ সালের শেষের দিকে তিনি এবং আরো কয়েকজন ইহুদি বুদ্ধিজীবী ইসরায়েলি রাজনীতিবিদ মেনাখেম বেগিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সমালোচনা করে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে একটা খোলা চিঠি লেখেন। মেনাখেম বেগিন ছিলেন ইরগুনের নেতা। ইরগুন হলো এক জায়নবাদী আধাসামরিক সংগঠন যা ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার আগে ফিলিস্তিনি ও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে 'সন্ত্রাসী হামলা' চালাত। ওই বছরই ইরগুন জেরুজালেমের কাছে দেইর ইয়াসিন গ্রামে গণহত্যা চালায়। সেখানে পুরুষ, নারী ও শিশুসহ শতাধিক ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করা হয়। এর কিছু সময় পর, মেনাখেম বেগিন ওই সংগঠন থেকেই হারুত (হিব্রু ভাষায় যার অর্থ 'স্বাধীনতা') নামে একটা নতুন দল গঠন করেন। নিউইয়র্ক টাইমসকে লেখা ওই চিঠিতে বলা হয়, "এই দলের নেতা মেনাখেম বেগিনের এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের স্পষ্ট উদ্দেশ্য হলো এই ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া যে, তিনি আসন্ন ইসরায়েলি নির্বাচনে মার্কিন সমর্থন পেতে চলেছেন।" ওই চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা একেবারে প্রথম অনুচ্ছেদেই হারুত সম্পর্কে নিজেদের মতামত স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। তারা উল্লেখ করেছিলেন, "সংগঠন, পদ্ধতি, রাজনৈতিক দর্শন এবং সামাজিক প্রভাবের দিক থেকে এই দলের সঙ্গে নাৎসি ও ফ্যাসিবাদী দলগুলোর বেশ সাদৃশ্য রয়েছে।" এই চিঠি ২০২৪ সালে আবার আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। সেই সময় ব্রাজিলিয়ান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে হলোকাস্টের সাথে তুলনা করেন। তারপর ব্রাজিলিয়ান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু বামপন্থি এই চিঠি নিয়ে আবার আলোচনা শুরু করেন। তবে চিঠির বক্তব্য যে প্রসঙ্গ করা হয়েছিল, তার উল্লেখ না করেই উপস্থাপন করা হলে মনে হতেই পারে যে আইনস্টাইন ইসরায়েল-বিরোধী ছিলেন। ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ রিচার্ড ক্রোকেট তার বই 'আইনস্টাইন অ্যান্ড টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি পলিটিক্স: অ্যা স্যালিউটারি ইনফ্লুয়েন্স'- এর উপসংহারে বলেছেন, "আইনস্টাইনকে কখনো ইহুদিবাদ এবং ইসরায়েলের সমালোচক হিসেবে দেখানো হয়েছে, আবার কখনো এর সমর্থক হিসেবে। যে যখন যেমন পেরেছেন, তেমনভাবে নিজেদের অবস্থানের কথা ভেবে বিষয়টাকে ব্যবহার করেছেন।" মি. ক্রোকেটের মতে, "রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের কেমন হওয়া উচিত" সে সম্পর্কে আইনস্টাইনের দৃষ্টিভঙ্গির মূল কারণ ছিল বৃহত্তর মূল্যবোধের কাঠামোর প্রতি তার প্রতিশ্রুতি। তিনি ব্যাখ্যা করেন, "সব কিছুর ঊর্ধ্বে, জাতীয়তাবাদের প্রতি তার বিতৃষ্ণা এবং আন্তর্জাতিকতাবাদের প্রতি তার প্রতিশ্রুতির মতো কারণ ইহুদিবাদ এবং ইসরায়েল সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গিকে সংজ্ঞায়িত করে এসেছে।" এই আইনস্টাইনকেই ১৯৫২ সালে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অধ্যাপক গেরম্যান বলেন, "সম্ভবত এর উদ্দেশ্য ছিল কয়েক বছর আগে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ফলে অস্তিত্ব লাভ করা এক রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক বৈধতা দেওয়া।" তিনি ১৯৪৮-১৯৪৯ সালের যুদ্ধের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যেখানে ইসরায়েল আরব লীগকে পরাজিত করে এবং ভবিষ্যতের ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের জন্য নির্ধারিত অর্ধেক অঞ্চল দখল করে। অধ্যাপক গেরম্যান মনে করিয়ে দিয়েছেন যে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের পদ মূলত প্রতীকী হলেও তা ব্যাপকভাবে রাজনৈতিকও। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, "আইনস্টাইনকে শুধু ইহুদি হওয়ার জন্যই (প্রেসিডেন্ট পদ গ্রহণের জন্য) আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, এর নেপথ্যে ইহুদিবাদী আন্দোলনের সঙ্গে তার রাজনৈতিক সংযোগ এবং ইসরাইল প্রতিষ্ঠার প্রতি সমর্থনও ছিল।" তিনি আরও বলেন, "দেশের ভাবমূর্তি উন্নত করার লক্ষ্যে ওই প্রতীকী পদে ইসরায়েলের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য অন্যান্য বিশিষ্ট ইহুদি ব্যক্তিত্বদেরও বারবার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।" যেমন ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সাইমন পেরেজ সুপরিচিত লেখক আমোস ওজকে রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। 'বেথ শোলোম' নামে ইহুদিবাদে বিশ্বাসী বুদ্ধিজীবীদের একটা আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। আইনস্টাইনও এর অংশ ছিলেন। দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে সংখ্যালঘু বলে বিবেচিত হলেও তা জায়নবাদের অন্যান্য ধারা থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন ছিল না। এর সদস্যদের মধ্যে ছিলেন দার্শনিক ও ইতিহাসবিদ হান্না আরেন্ড, অস্ট্রিয়ান-ইসরায়েলি দার্শনিক মার্টিন বুবার এবং ইসরায়েলি দার্শনিক- ইতিহাসবিদ গেরশম শোলোমের মতো বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী। জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে কয়েকজনও বেথ শোলমের সদস্য ছিলেন। কিন্তু অধ্যাপক গেরম্যানের মতে, বর্তমান ইসরায়েলি সরকার এই গোষ্ঠীর সদস্যদের 'বিশ্বাসঘাতক' হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। কারণ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের কাছে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের সমর্থক এবং ভিন্ন চিন্তাধারার জন্য কোনো স্থান নেই। তিনি প্রশ্ন করেছেন, "আমাদের সময়ের আইনস্টাইন কে ছিলেন? কল্পনা করুন কেউ এই পদ গ্রহণ করছেন। রসায়নে নোবেল বিজয়ী এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের দখলদারিত্ব ও গাজার বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচক আদা ইয়োনাত কি এই পদ গ্রহণ করবেন? আমি তা মনে করি না।" আইনস্টাইন সে বছর প্রেসিডেন্ট পদ গ্রহণ করেননি। সে বছর ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট পদ গ্রহণ করেছিলেন ইতিহাসবিদ আইজ্যাক বেন-জেভি। যে মেনাখেম বেগিনকে আইনস্টাইন এবং অন্যান্যরা সমালোচনা করেছিলেন সেই ব্যক্তিই ক্রমে ইসরায়েলে আরো প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেন। তার দল একটা প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়েছিল। পরবর্তী দশকগুলোতে হারুত রক্ষণশীলদের প্রধান দল হয়ে ওঠে। মি. বেগিন ১৯৭৭ সালে প্রধানমন্ত্রী হন এবং তিনি ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত ওই পদে ছিলেন। পাঁচ বছর পরে, হারুত আরেকটা ডানপন্থি দল 'লিকুদ'-এর সঙ্গে মিশে যায়। ২০০৬ সাল থেকে দলটির নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যিনি ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী।