চলতি বছর ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো অনিয়মিত অভিবাসীর সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে৷ ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে।
এতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৪০ হাজার ৬৫২ জন অভিবাসী ছোট নৌকায় ব্রিটিশ উপকূলে পৌঁছেছেন। এই সংখ্যা পুরো ২০২৪ সালের মোট আগমনের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
গত বছর ৩৬ হাজার ৮১৬ জন অভিবাসী যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছিলেন। তবে এখনো ২০২২ সালের রেকর্ড ভাঙেনি। ওই বছর শেষে মোট ৪৫ হাজার ৭৭৪ জনের আগমন রেকর্ড করা হয়েছিল।
সর্বশেষ ১৭ ডিসেম্বর ৪৯৭ জন অভিবাসী ডোভার বন্দরে পৌঁছান। এর মধ্য দিয়েই চলতি বছরে আগমনের সংখ্যা ৪০ হাজারের গণ্ডি ছাড়ায়। ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অনিয়মিতভাবে চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা ঠেকানো নিয়ে প্রবল চাপের মুখে রয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
ছোট নৌকায় করে আগমন নিরুৎসাহিত করতে গত মাসে তার সরকার একটি কঠোর অভিবাসনবিরোধী পরিকল্পনা ঘোষণা করে। এর আওতায় শরণার্থীদের রেসিডেন্স পারমিটের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে আড়াই বছর এবং স্থায়ী রেসিডেন্স পারমিট পাওয়ার শর্ত আরও কঠিন করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ঘোষণা দিয়েছেন, আশ্রয়প্রার্থীরা কেবল একবার আবেদন করার সুযোগ পাবেন এবং একবারই আপিল করতে পারবেন। সরকারের আশা, এতে করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত হবে।
তবে এসব কঠোর নীতির পরও উত্তর ফ্রান্সের কালেতে থাকা অভিবাসীরা তাদের পরিকল্পনা বদলাতে রাজি নন। অনেকেই নতুন সংস্কারের বিষয়টি জানেন না। আবার অনেকে এত দূর পথ পাড়ি দিয়ে ফিরে যেতে চান না।
১৮ বছর বয়সী সুদানিজ তরুণ খালিদ (ছদ্মনাম) বলেন, আমি আফ্রিকা থেকে এসেছি, মরুভূমি আর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়েছি। এতটা পথ আসার পর এখন আর থামতে পারি না বা কোনও চুক্তির ভয় পাই না। অনিয়মিত অভিবাসন কমাতে যুক্তরাজ্যকে সহায়তা করতে এ গ্রীষ্মে প্যারিস ও লন্ডনের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো কিছু অভিবাসীকে ফের ফ্রান্সে পাঠানো হচ্ছে।
এর বিনিময়ে যুক্তরাজ্য ফ্রান্সে অবস্থানরত সমসংখ্যক অভিবাসীকে বৈধভাবে গ্রহণ করছে। এটিকে ‘‘একজনের বদলে একজন’’ বা ‘‘ওয়ান ইন ওয়ান আউট’’ নীতি বলা হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত এই কর্মসূচির আওতায় ১৫৩ জনকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
রাজনৈতিক পরিসরের বাইরে গিয়েও অনিয়মিত অভিবাসন ইস্যুতে ব্রিটেনে ক্ষোভ বাড়ছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর লন্ডনে আয়োজিত এক বিক্ষোভে এক লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন। সেখানে অসংখ্য প্ল্যাকার্ডে ইংলিশ চ্যানেলে ‘ছোট নৌকা বন্ধের’ দাবি জানানো হয়।
এছাড়া সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ব্রিটিশ উগ্রডানপন্থি কয়েকটি গোষ্ঠী ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলের সৈকতেও তৎপরতা চালাচ্ছে। তারা নৌকা ভাঙচুর করে চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা ঠেকানোর চেষ্টা করছে।
এসব গোষ্ঠী নিজেদের ‘রেইজ দ্য কালারস’ নামে পরিচয় দেয় এবং ‘অপারেশন ওভারলোড’ নামে অভিযানের ভিডিও অনলাইনে প্রকাশ করছে। ডিসেম্বরের শুরুতে অভিবাসন সংস্থা ইতুপিয়া ৫৬-সহ ৯টি সংগঠন এক যৌথ বিবৃতিতে এসব কর্মকাণ্ডকে ‘ভয়ভীতি প্রদর্শনের কৌশল’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। ইনফোমাইগ্রেন্টস।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থার পথ সুগম করতে নিজেদের শাসন সংস্থা বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে বর্তমান গাজা সরকার। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সরকারের জরুরি কমিটির বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে এবং কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল খালেক আল-ফাররা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। মূলত ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ (এনসিএজি)-এর কাছে গাজার বেসামরিক শাসনভার ও প্রশাসনিক দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতি হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সোমবার (৬ জুলাই) সরকারি এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে যে গাজার পুরো সরকারি ব্যবস্থা নতুন প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী, গোত্র ও উপজাতিদের উচ্চপর্যায়ের কমিটি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি জাতীয় দলের কাছে এই প্রস্তুতির রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে জাতিসংঘের একজন পর্যবেক্ষকও উপস্থিত ছিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলমান ইসরাইলি আগ্রাসন ও অবরোধের কারণে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয় লাঘব করা এবং কায়রোতে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে হওয়া চুক্তি বাস্তবায়নের প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতি থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে যাতে কোনো শূন্যতা তৈরি না হয় এবং জনসেবা ব্যাহত না হয়, সেজন্য কেবল কারিগরি ও পেশাদার বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের নিজ নিজ পদে বহাল থাকবেন এবং তারা নতুন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের অধীনে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছেন। এদিকে ক্ষমতার এই রদবদলকে ‘প্রতারণা’ বলে আখ্যা দিয়েছে ইসরাইল। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’-এর প্রতিবেদনে এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরাইলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এই পদত্যাগের কোনো বাস্তব গুরুত্ব নেই, কারণ বর্তমান প্রশাসনের সদস্যরা এখনও তাদের অবস্থানেই রয়ে গেছেন। হামাস মূলত যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের দায় এড়াতে এবং সময় ক্ষেপণ করতেই এমন প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি জাতীয় ব্যক্তিত্বদের নিয়ে গঠিত অরাজনৈতিক সংস্থা এনসিএজি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও সুযোগ নিশ্চিত হওয়ামাত্রই তারা গাজার অভ্যন্তরে প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করতে প্রস্তুত। মধ্য-জানুয়ারি থেকে কায়রোতে অবস্থান করে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করলেও সংস্থাটি এখনও গাজার ভেতরে সরাসরি কাজ শুরু করতে পারেনি। গাজা সরকারের এই বড় ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এলো যখন গাজায় নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস ও মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে ইসরাইলের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে পৌঁছানোর আলোচনা চলছে। গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা যুদ্ধ বন্ধে ২০ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন, যার অধীনে জিম্মি মুক্তি, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং একটি টেকনোক্র্যাট সরকার গঠনের কথা বলা হয়। এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপ গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হলেও হামাসের দাবি, তারা শর্ত পূরণ করলেও ইসরাইল প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে দৈনিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ ইসরাইলি আগ্রাসনে এ পর্যন্ত গাজায় ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ভারতসহ আরও কয়েকটি দেশ ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে দূরত্বের গুঞ্জনও নাকচ করেছেন তিনি। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, আমাদের আরও কিছু বন্ধু আছে, যেমন ভারত নামের ছোট একটা দেশ। ১৪০ কোটির বেশি মানুষের সেই দেশ থেকে আমরা অসাধারণ সমর্থন পাই। লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া শান্তি চুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটন-তেল আবিবের মধ্যে মতপার্থক্যের প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে সব বিষয়ে একমত নন বলেও জানান নেতানিয়াহু। তবে তার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো বলে উল্লেখ করেন তিনি। ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের পাওয়া সবচেয়ে বড় বন্ধু হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে জেডি ভ্যান্স বলেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া শান্তি চুক্তির লক্ষ্য ছিল আঞ্চলিক সংঘাত কমানো, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর কূটনৈতিক সমঝোতার পথ তৈরি করা। ভ্যান্স স্মরণ করিয়ে দেন, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত অস্ত্রের বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইসরায়েলের সমস্যা ডোনাল্ড ট্রাম্প নন। বরং শান্তি প্রক্রিয়াকে সম্মান করা সবার দায়িত্ব। তিনি লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের অভিযান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংবেদনশীল আলোচনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনা উপস্থিতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে নেতানিয়াহু দাবি করেন, সীমান্তবর্তী কয়েকটি খ্রিস্টান অধ্যুষিত গ্রাম ইসরায়েলের সুরক্ষা চেয়েছে। তিনি বলেন, শান্তি চাইলে যারা আপনাকে ধ্বংস করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার সক্ষমতাও থাকতে হবে।
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে প্রাণঘাতী ছত্রাকজনিত সংক্রমণ বিশ্বের নতুন নতুন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই সংক্রমণ মোকাবিলায় বিশ্বের প্রস্তুতি এখনো খুবই সীমিত। খবর সিএনএনের। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ‘অ্যাসপারজিলাস’ নামের এক ধরনের ছত্রাক উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, চীন ও রাশিয়ার নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই ছত্রাক ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটিয়ে ‘অ্যাসপারজিলোসিস’ নামে প্রাণঘাতী রোগ সৃষ্টি করে। গবেষকদের মতে, সাধারণত এই ছত্রাকের স্পোর সুস্থ মানুষের শরীর ধ্বংস করে দিতে পারে। তবে হাঁপানি, সিওপিডি, ক্যানসার, অঙ্গ প্রতিস্থাপনকারী রোগী বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের জন্য এটি মারাত্মক হতে পারে। গবেষণার সহ-লেখক নর্মান ভ্যান রেইন বলেন, শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যর্থ হলে ছত্রাক শরীরের ভেতরে বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং কার্যত ‘ভেতর থেকে খেতে শুরু করে’। অ্যাসপারজিলোসিসে মৃত্যুহার ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়লে ‘অ্যাসপারজিলাস ফিউমিগেটাস’ ২১০০ সালের মধ্যে প্রায় ৭৭ শতাংশ বেশি এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে শুধু ইউরোপেই প্রায় ৯০ লাখ মানুষ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। অন্যদিকে অ্যাসপারজিলাস ফ্ল্যাভাস উত্তর আমেরিকা, উত্তর চীন ও রাশিয়ার নতুন অঞ্চলে বিস্তার লাভ করতে পারে। এই ছত্রাক শুধু মানুষের শরীরেই নয়, খাদ্যশস্যেও সংক্রমণ ঘটায় এবং অনেক অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ইতোমধ্যে অ্যাসপারজিলাস ফ্ল্যাভাসকে জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকিপূর্ণ ছত্রাক হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ কোটির বেশি রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৩-২৩ সালের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি অ্যাসপারজিলোসিস সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। গবেষণার প্রধান অধ্যাপক জাস্টিন রেমেইস জানান, প্রতি বছর এ রোগের সংক্রমণ গড়ে প্রায় ৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছত্রাকজনিত রোগ সম্পর্কে এখনো মানুষের সচেতনতা কম। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। তাই দ্রুত গবেষণা, নজরদারি এবং কার্যকর চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।