ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা ৯ দিনের ছুটি ঘোষণা করে তুরস্ক সরকার। দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেব এরদোয়ান সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জানান, ঈদুল আজহার সরকারি ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত প্রশাসনিক ছুটি যুক্ত করায় সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘ বিরতির সুযোগ পাবেন। তুরস্কে এবার ঈদুল আজহা পালিত হবে ২৭ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের ছুটি শুরু হবে ২৬ মে মঙ্গলবার দুপুর থেকে।
সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, সোমবার (২৫ মে) পূর্ণ দিবস এবং মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল পর্যন্ত প্রশাসনিক ছুটি দেওয়া হবে। এরপর শুরু হবে ঈদের মূল সরকারি ছুটি। এর সঙ্গে আগে ও পরে থাকা সাপ্তাহিক ছুটি (শনিবার-রবিবার) যোগ হওয়ায় পুরো ছুটি মিলিয়ে টানা ৯ দিনের অবকাশ তৈরি হয়েছে।
সরকার মনে করছে, দীর্ঘ এই ছুটির ফলে মানুষ সহজে নিজ নিজ শহর ও গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ভ্রমণও বাড়বে। এতে অভ্যন্তরীণ পর্যটন খাত ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তুরস্কে ঈদুল আজহা, স্থানীয়ভাবে ‘কুরবান বায়রাম’ নামে পরিচিত, মুসলিমদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। এ সময় দেশজুড়ে ব্যাপক ভ্রমণ, পারিবারিক আয়োজন ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সূত্র : আরব নিউজ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার কাছাকাছি একটি নির্মাণাধীন ভবন ধসে অন্তত ১৯ জন আটকা পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে রাজধানী থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তরে অ্যাঞ্জেলেস সিটিতে নয়তলা একটি কংক্রিট ভবন হঠাৎ ধসে পড়ে। খবর এএফপির। কর্তৃপক্ষ বলছে, ভবনের দেয়াল ও নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত মাচা ভেঙে পড়ার কারণে শ্রমিকরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন। ওই সময় সেখানে মোট ১৯ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ২৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি পাশের একটি আবাসিক হোটেল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখান থেকেও আরও ২ জনকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া সবাই সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে। তবে এখনো নিখোঁজ ১৯ জনের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যেও থাকতে পারেন। উদ্ধার অভিযান চলছে এবং ধ্বংসস্তূপ সরাতে ভারী যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু জেলার মিরিয়ান তহসিলের বারাকজাই আখুন্দখেল এলাকায় পুলিশ, শান্তি কমিটি ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পুলিশ সদস্যসহ ২৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন বেসামরিক নাগরিকও ছিলেন। খবর দ্য ডনের। জেলা পুলিশ কর্মকর্তা ইয়াসির আফ্রিদি জানান, অভিযানে ২৫ জনের বেশি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। সূত্র জানায়, শনিবার (২৩ মে) বিপুল সংখ্যক সন্ত্রাসীর উপস্থিতির খবর পেয়ে ওই এলাকায় পুলিশ ও শান্তি কমিটি দ্রুত অভিযান শুরু করে। পরে লাক্কি মারওয়াতের শান্তি কমিটিও বান্নু পুলিশকে সহায়তা করতে সেখানে পৌঁছে। সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড তৈরি করেছিল। তবে পুলিশ সেগুলো সরিয়ে সামনে এগিয়ে যায়। পুলিশ সূত্রের দাবি, তীব্র গুলিবর্ষণের মধ্যেও পুলিশ সদস্যরা নিরাপদে থানায় পৌঁছাতে সক্ষম হন এবং অতিরিক্ত বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, অভিযানে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী কমান্ডার জমারি নূর ও আবদুল্লাহও নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, বারাকজাই এলাকায় এখনও বিপুলসংখ্যক সন্ত্রাসী অবস্থান করছে। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে গুলিবর্ষণ চলছে এবং উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহত পুলিশ সদস্যরা হলেন ওয়াহিদ খান ও নূরুল্লাহ। আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ওয়াহিদুল্লাহ, শাহ বখতিয়ার, সাজ্জাদুল্লাহ, এসএইচও নওরাং আসমতুল্লাহ নিয়াজি, জোহাইব খান, আতিফ ও নোমান কোরেশি। নিহত দুই বেসামরিক ব্যক্তি হলেন অবসরপ্রাপ্ত এফসি কর্মকর্তা রাইব খান এবং নাসির খান। আহত বেসামরিক ব্যক্তিরা হলেন মহসিন, বখত আলী ও সাফিউল্লাহ। এদিকে, বান্নু-মিরানশাহ সড়কের মামা শ খেলে গুল জামান মসজিদের কাছে পুঁতে রাখা ১০ কেজি ওজনের রিমোট নিয়ন্ত্রিত বোমা নিষ্ক্রিয় করে বড় ধরনের নাশকতার চেষ্টা নস্যাৎ করেছে বান্নু পুলিশ। বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল দ্রুত অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরকটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ভবন হোয়াইট হাউসের একেবারে সন্নিকটে সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে এক বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় অন্তত দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যার দিকে হোয়াইট হাউস কমপ্লেক্সের ঠিক বাইরে পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ এবং সেভেনটিনথ স্ট্রিট নর্থ-ওয়েস্টের সংযোগস্থলে এই ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই গোলাগুলির জেরে তাৎক্ষণিকভাবে পুরো হোয়াইট হাউসে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনতিবিলম্বে পুরো এলাকা লকডাউন করে দেওয়া হয়। ঘটনার সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ভেতরে তার সরকারি বাসভবনেই অবস্থান করছিলেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেভেনটিনথ স্ট্রিট ও পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউতে এক ব্যক্তি অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি চালাচ্ছেন— এমন একটি জরুরি খবর পেয়ে সিক্রেট সার্ভিসের ইউনিফর্মড ডিভিশনের কর্মকর্তারা দ্রুত সেখানে ছুটে যান। এরপরই সন্দেহভাজনদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। সেখানে উপস্থিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, তারা দফায় দফায় কয়েক ডজন গুলির শব্দ শুনতে পান, যার পরপরই সিক্রেট সার্ভিসের সশস্ত্র এজেন্টরা ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুরো নর্থ লন এলাকা ঘিরে ফেলেন। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানান, ব্যুরোর বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিক্রেট সার্ভিসকে সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। গোলাগুলি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হোয়াইট হাউসের নর্থ লনে দায়িত্বরত গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা ‘নিচে ঝুঁকে পড়ুন’ এবং ‘গুলি চলছে’ বলে চিৎকার করতে করতে সাংবাদিকদের দ্রুত হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিং রুমে নিয়ে যান এবং সেখানে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। এবিসি নিউজের প্রধান হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সেলিনা ওয়াইং এক্স-এ একটি ভিডিও পোস্ট করে জানান, তিনি যখন নর্থ লনে নিজের আইফোনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য একটি ভিডিও ধারণ করছিলেন, ঠিক তখনই বিকট শব্দে একের পর এক গুলি চলতে শুরু করে। প্রাণভয়ে তিনিসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য প্রেস ব্রিফিং রুমের দিকে দৌড় দেন। দীর্ঘক্ষণ থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করার পর অবশেষে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে হোয়াইট হাউসের লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়। উল্লেখ্য, এই ঘটনার মাত্র এক মাস আগেও হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারের অনুষ্ঠান চলাকালীন কোল টমাস অ্যালেন নামের এক বন্দুকধারী শটগান হাতে সিকিউরিটি চেকপয়েন্ট ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েছিল এবং ট্রাম্পকে হত্যার উদ্দেশ্যে সিক্রেট সার্ভিসের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও হোয়াইট হাউসের দোরগোড়ায় এমন ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা মার্কিন প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে কী কারণ ছিল বা গুলিবিদ্ধদের পরিচয় কী, তা জানতে ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রোপলিটন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় তদন্ত শুরু করেছে সিক্রেট সার্ভিস। সূত্র: সিএনএন