রাশিয়ার প্রযুক্তি কপি অর্থাৎ অনুসরণ করে নতুন ধরনের মোবাইল রাডার তৈরির কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ক্ষয়ক্ষতির পর এটি নিয়ে ভাবা শুরু করেছে দেশটি। সামরিকবিষয়ক ম্যাগাজিন মিলিটারি ওয়াচের এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন প্রজন্মের থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডারে মোবাইল সেন্সর প্ল্যাটফর্ম যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে পেন্টাগন। রাশিয়ার এস-৩০০ ও এস-৪০০ ব্যবস্থায় শুরু থেকেই এ ধরনের মোবাইল সেন্সর ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মিলিটারি ওয়াচের দাবি, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্রের ৩০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের বিমান প্রতিরক্ষা রাডার ধ্বংস করেছে।
ধ্বংস হওয়া সরঞ্জামের মধ্যে ছিল আনুমানিক ৭ কোটি ডলার মূল্যের এএন/টিপিএস-৫৯ রাডার। এছাড়া থাড ব্যবস্থার দুটি এএন/টিপিওয়াই-২ এক্স-ব্যান্ড মোবাইল রাডারও ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিটির মূল্য ১০০ কোটি ডলারের বেশি।
আরও একটি এএন/এফপিএস-১৩২ রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
রাডারগুলো ধ্বংস হওয়ায় যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনী ও তাদের মিত্রদের শত্রুপক্ষের গতিবিধি শনাক্ত করার সক্ষমতা বড় ধাক্কা খেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় প্রচলিত পশ্চিমা ধারণা থেকে কিছুটা সরে আসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বর্তমানে একটি বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটে রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ও অন্যান্য সরঞ্জাম একসঙ্গে কাজ করে।
নতুন ধারণায় রাডারকে আলাদা মোবাইল সেন্সর হিসেবে ব্যবহার করা হবে। একটি মোবাইল রাডার দূর থেকে শত্রুর লক্ষ্য শনাক্ত করবে এবং সেই তথ্য অন্য স্থানে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থায় পাঠাবে।
এ ধরনের নেটওয়ার্কভিত্তিক বিমান প্রতিরক্ষা কাঠামো রাশিয়ার এস-৩০০ ও এস-৪০০ ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে মিলিটারি ওয়াচ। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব আইবিসিএস ব্যবস্থাতেও বিভিন্ন সেন্সর ও অস্ত্রকে একটি নেটওয়ার্কে যুক্ত করার ধারণা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাডার ধ্বংস হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে জাহাজে থাকা সেন্সর এবং তুরস্কে মোতায়েন করা একটি এএন/টিপিওয়াই-২ রাডারের ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়েছে।
এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছিল, ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জামের ক্ষতির পরিমাণ ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর ইরান ২ হাজারের বেশি বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় আটটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত অন্তত ২০টি সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়া ইরানের হামলায় ৪২টির বেশি মার্কিন সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি বিমান ঘাঁটিতে অবস্থানরত অবস্থায় হামলার শিকার হয়।
সূত্র: আরটি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
গাজায় আগ্রাসন চালানোর পাশাপাশি এবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারেও হামলা চালানোর কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরাইলি একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি কাতারকে সরাসরি একটি ‘শত্রু রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যা দেন। নেতানিয়াহু অহংকার করে বলেন, যুদ্ধের সময় তারা কাতারের মাটিতে আক্রমণ ও বোমা হামলা চালিয়েছেন। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ভোটে উগ্র সমর্থকদের টানতেই নির্বাচনের মুখে এমন বিতর্কিত ও উসকানিমূলক কথা বলছেন নেতানিয়াহু। মূলত গত বছরের সেপ্টেম্বরে কাতারের রাজধানী দোহায় এক বিমান হামলা চালায় ইসরাইল, যেখানে হামাসের পাঁচ প্রতিনিধি এবং কাতারের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা প্রাণ হারান। একটি শান্তি আলোচনার বৈঠক চলাকালে এই হামলা চালানো হয়েছিল, যা নিয়ে সারা বিশ্বে চরম সমালোচনা শুরু হয়। জাতিসংঘসহ বিশ্বের একাধিক দেশ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে হোয়াইট হাউস থেকে ফোন করে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছিলেন নেতানিয়াহু। একই সাক্ষাৎকারে নিজের দেশের বিরোধীদের সমালোচনার জবাবও দিয়েছেন নেতানিয়াহু। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল—নেতানিয়াহুর মদদে কাতার থেকে যে অর্থ গাজায় এসেছে, তা দিয়েই ২০২৩ সালে বড় হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল হামাস। জবাবে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থাই গাজায় ত্রাণের টাকা পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছিল এবং সেই টাকা গাজায় আসা মোট সহায়তার মাত্র দুই শতাংশ। কাতারও এই অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের সব সাহায্য অত্যন্ত স্বচ্ছ উপায়ে শুধুই সাধারণ মানুষের জন্য পাঠানো হয়েছিল। সূত্র: আল-জাজিরা।
কাতারে বোমা হামলা চালানোর বিষয়টি নিয়ে দম্ভ করেছেন দখলদার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে গাজায় কাতারের পাঠানো অর্থ শুধু মানবিক সহায়তার জন্যই ব্যবহার হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু কাতারকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গাজা যুদ্ধের সময় কাতার ইসরাইলের নীতিতে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। নেতানিয়াহু বলেন, আমি কাতারে হামলা চালিয়েছি, সেখানে বোমা মেরেছি এবং যুদ্ধের সময় তাদের ওপর হামলা করেছি। ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় হামাসের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ইসরাইলি হামলার প্রায় এক বছর পর এই মন্তব্য করলেন তিনি। ওই হামলায় পাঁচ হামাস সদস্য ও কাতারের এক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। হামলার সময় হামাসের নেতারা গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় ছিলেন। দোহা ওই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে কাতারের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছিল। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফোন করে হামলার জন্য ক্ষমাও চান নেতানিয়াহু। সাক্ষাৎকারে গাজায় কাতারের পাঠানো কোটি কোটি ডলারের অর্থ নিয়েও কথা বলেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। তার দাবি, এসব অর্থ মানবিক সহায়তার জন্য ছিল এবং মোসাদ ও শিন বেতের সুপারিশের ভিত্তিতেই অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছিল। তবে নেতানিয়াহুর সমালোচকদের অভিযোগ, এসব অর্থ হামাসকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামলার প্রস্তুতিতে সহায়তা করেছিল। কাতার অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটির দাবি, তাদের দেওয়া সহায়তা গাজার মানুষের কাছে পৌঁছেছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল স্বচ্ছ ও নজরদারির মধ্যে। এদিকে আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে নেতানিয়াহুর ওপর অভ্যন্তরীণ চাপও বাড়ছে। গাজা যুদ্ধ, অর্থনীতি এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাত—সবকিছুই এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ দুই দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার মস্কোয় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত বৈঠকের ভিডিও প্রকাশ করেছে রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয়। সেখানে পুতিনকে বলতে শোনা যায়, বর্তমান পরিস্থিতি ‘সহজ নয়’। খবর বিবিসির বৈঠকের শুরুতে উইটকফ ইউক্রেনের সঙ্গে কিয়েভ ও মস্কোতে একে অপরের ওপর হামলা তিন দিনের জন্য বন্ধ রাখার বিষয়ে সম্মত হওয়ায় পুতিনকে ধন্যবাদ জানান। আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) আরও আলোচনার জন্য কিয়েভে যাওয়ার কথা রয়েছে উইটকফ ও কুশনারের। ইউক্রেনের রাজধানীতে এটি তাদের প্রথম সফর। এর আগে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তার দূতেরা ‘যুদ্ধ বন্ধের একটি প্রস্তাব’ নিয়ে যাচ্ছেন। তবে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উদ্যোগে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে শান্তিচুক্তি করানোর চেষ্টা সফল হয়নি। ক্রেমলিনে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্টের বৈঠক চলে। এ সময় পুতিন বলেন, এ ধরনের যোগাযোগ সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী। তিনি ট্রাম্পের শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন। পুতিন আরও বলেন, উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে কাজ করতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন এবং আলোচনায় দুই পক্ষের মধ্যে যথেষ্ট আস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। বৈঠক শেষে পুতিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ আলোচনাকে ‘গঠনমূলক’ ও ‘অত্যন্ত খোলামেলা’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, শুধু ইউক্রেন যুদ্ধ নয়, অর্থনৈতিক বিষয় এবং রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বড় যৌথ প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। উশাকভ আরও বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সেনাদের অগ্রগতির বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে সংঘাতের মূল কারণগুলো সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।