খেলাধুলা

রোনালদোর জোড়া আঘাতে শিরোপা জিতল আল নাসর

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর, আচমকাই পেনাল্টিতে গোল হজম করে আল নাস্‌র। তবে দারুণ এক ফ্রি কিকে দলকে দুর্ভাবনায় পড়তে দেননি ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। দামাককে হারিয়ে ছয় মৌসুম পর লিগ চ্যাম্পিয়ন হলো আল নাস্‌র।

 

আল-আওয়াল পার্কে বৃহস্পতিবার সৌদি প্রো লিগের শেষ রাউন্ডে ৪-১ গোলে জিতেছে স্বাগতিকরা। সাদিও মানের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর, ব্যবধান বাড়ান কিংসলে কোমান। দামাক ব্যবধান কমানোর পর, দলের পরের দুটি গোল করেন রোনালদো।

ইউরোপীয় ফুটবলের পাঠ চুকিয়ে ২০২২ সালের ৩০ ডিসেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি জমানোর পর, সেখানে এই প্রথম মেজর কোনো শিরোপার স্বাদ পেলেন রোনালদো।

৩৪ ম্যাচে ২৮ জয় ও দুই ড্রয়ে চ্যাম্পিয়নদের পয়েন্ট ৮৬।

আল নাস্‌রের এটা একাদশ শিরোপা। এর আগে সবশেষ তারা জিতেছিল ২০১৮-১৯ মৌসুমে।

 

আরেক ম্যাচে আল ফায়হাকে ১-০ গোলে হারানো আল হিলাল ৮৪ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ।

আরও ১২টি দলের সঙ্গে একই সঙ্গে মাঠে নামে দুই শিরোপাপ্রত্যাশী।

রোনালদোরা যেখানে পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতেই ভুগছিল, সেখানে আরেক মাঠে তৃতীয় মিনিটেই সুলতান মানদাশের গোলে এগিয়ে যায় আল হিলাল। তাতে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুইয়েও ওলট-পালট হয়।

যদিও তা অল্প সময়ের জন্যই। নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে টানা আক্রমণ শুরু করে নাস্র এবং ৩৪তম মিনিটে এগিয়ে যায় তারা; কের্নারে হেডে গোলটি করেন মানে।

দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে নাস্র। ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান ফরাসি উইঙ্গার কোমান।

ছয় মিনিট পর পেনাল্টি পেয়ে সফল স্পট কিকে ব্যবধান কমান মোরলায়ে। যদিও তাদের সেই একটু স্বস্তিও বেশিক্ষণ থাকেনি। ৬৩তম মিনিটে ডি-বক্সের বাঁদিক থেকে সরাসরি ফ্রি কিকে দূরের পোস্ট ঘেঁষে বল জালে পাঠান রোনালদো।

আর ৮১তম মিনিটে প্রতিপক্ষের দুর্বলতায় ছয় গজ বক্সের ডান দিকে বল পেয়েই বুলেট গতির শটে জয়টা একরকম নিশ্চিত করে ফেলেন পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার।

এবারের লিগে পর্তুগিজ তারকার গোল হলো ২৮টি।

হাজার গোলের পানে ছুটে চলা রোনালদোর ক্যারিয়ার গোল হলো ৯৭৩টি।

শেষ দিকে একসঙ্গে রোনালদো ও মানেকে তুলে নেন কোচ। তবে এতে খেলায় কোনো প্রভাব পড়েনি। এক মুহূর্তের জন্যও যেন তাদের মুখে হাসি থামেনি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের বিপক্ষে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন স্মিথ

অস্ট্রেলিয়ার তারকা ব্যাটার স্টিভ স্মিথ টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ নেওয়ার রেকর্ডে ইংল্যান্ডের জো রুটকে ছুঁয়ে ফেলেছেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইনে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে স্মিথ তিনটি ক্যাচ নেন। এই নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে তার মোট ক্যাচের সংখ্যা দাঁড়াল ২১৮টি। এতে তিনি রুটের সমান জায়গায় চলে এলেন।   স্মিথ এই মাইলফলকে পৌঁছালেন তার ১২৪তম টেস্ট ম্যাচে। অন্যদিকে রুট ২১৮ ক্যাচের মাইলফলকে পৌঁছেছিলেন ১৬৬ টেস্টে। অর্থাৎ, ক্যাচের সংখ্যা সমান হলেও স্মিথ অনেক কম ম্যাচ খেলে এই জায়গায় পৌঁছেছেন।   যদিও এই রেকর্ডটা আজই একান্ত নিজের করে নিতে পারতেন স্মিথ। তাসকিন আহমেদ বল তুলে দিয়েছিলেন আকাশে। সে লোপ্পা ক্যাচটা নিতে পারেননি তিনি। তার হাত ফসকে বেরিয়ে যায় বলটা। তাই রেকর্ড ছুঁয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে স্মিথকে।   এদিকে এই তালিকায় তিন নম্বরে আছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড়। তার ক্যাচের সংখ্যা ২১০টি। চার নম্বরে আছেন শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনে। তিনি ১৪৯ টেস্টে ২০৫টি ক্যাচ নিয়েছেন। পাঁচ নম্বরে আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিস। তিনি ১৬৬ টেস্টে নিয়েছেন ২০০টি ক্যাচ।   সবচেয়ে বেশি ক্যাচের রেকর্ড নিয়ে স্মিথ ও রুটের লড়াই এখনো চলবে। বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে দুই টেস্টের সিরিজের প্রথমটি এখন ডারউইনে চলছে। ওদিকে হেডিংলিতে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ড খেলবে পাকিস্তানের বিপক্ষে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার ‘বুড়ো’ দল নিয়ে পন্টিংয়ের কড়া সমালোচনা, পুনর্গঠনের ডাক

ছবি: সংগৃহীত

ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট, তবুও জয়সওয়ালের বিরল কীর্তি

ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

আইন ভেঙে স্টার্কের ‘নো বল’, বড় লিডের পথে বাংলাদেশ

সংগৃহীত ছবি
আজ শুরু লা লিগার নতুন মৌসুম

ক্লাব ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় আসর ‘লা লিগা’ মাঠে গড়াচ্ছে আজ। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় দেপোর্টিভো আলভেস-গেতাফে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে দীর্ঘ এ লড়াই। তবে প্রথম সপ্তাহে লা লিগার দুই জায়ান্টের কোনো ম্যাচ নেই। ২৪ আগস্ট রাত দেড়টায় এলচের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপা মিশন শুরু করবে বার্সেলোনা। তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ লিগ শুরু করবে ২৩ আগস্ট রাত দেড়টায় এস্পানিওলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। তৃতীয় শক্তি হিসেবে খ্যাত অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ নামবে ২০ আগস্ট রাত ১টায় মালাগার বিপক্ষে। রিয়াল-বার্সার ম্যাচ এত দেরিতে শুরু হওয়ার কারণ, এ দুই দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় বিশ্বকাপ খেলে ক্লান্ত। তাদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতেই সপ্তাহখানেক দেরিতে ফেলা হয়েছে দুই জায়ান্টের ম্যাচ। এর মধ্যে বার্সার জার্মান কোচ হ্যান্সি ফ্লিক অন্য রকম একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামছেন। একবিংশ শতাব্দীতে বার্সেলোনার চারজন কোচ তাদের প্রথম দুই মৌসুমেই টানা লা লিগে জিতেছেন। তাদের মধ্যে কেবল পেপ গার্দিওলাই লা লিগার হ্যাটট্রিক শিরোপা জিততে পেরেছিলেন। হ্যান্সি ফ্লিক কি পারবেন তাঁকে স্পর্শ করতে? তাঁর জন্য কাজটা ভীষণ কঠিন হতে চলেছে। কারণ সেন্টার ফরোয়ার্ড ছাড়াই লিগ শুরু করতে হচ্ছে বার্সাকে।  আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার জুলিয়ান আলভারেজের সঙ্গে অনেক আগে থেকেই কথা পাকা করে রেখেছিল বার্সা। কিন্তু অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ বেঁকে বসায় আলভারেজের বার্সায় আসা হচ্ছে না। এরই মধ্যে বর্ষীয়ান ফরোয়ার্ড রবাট লেভানডস্কিকে ছেড়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা ফেরান তোরেসও পিএসজিতে চলে গেছেন। তাদের অভাব পূরণে বার্সা এখন কোনো সেন্টার ফরোয়ার্ড পাচ্ছে না। হ্যান্সি ফ্লিক ও স্পোর্টিং ডিরেক্টর ডেকো এখন হন্যে হয়ে সেন্টার ফরোয়ার্ড খুঁজছেন। শেষ পর্যন্ত তারা স্পোর্টিং লিসবন থেকে কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজকে আনার চেষ্টা করছেন। বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল জেতা রদ্রির ট্রান্সফার নিয়েও ম্যানসিটির সঙ্গে দর কষাকষি চলেছে। এর পরও লামিনে ইয়ামাল, রাফিনহা, পেদ্রি, গাভি, দানি ওলমো, কুবার্সিরা রয়েছেন। বরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে তরুণ জার্মান ফরোয়ার্ড করিম আদিয়েমিকে টেনেছে তারা। বার্সার এই হ্যাটট্রিক শিরোপা ছিনিয়ে নিতে ১৩ বছর পর আবার হোসে মরিনহোকে কোচের দায়িত্ব দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। দলবদলের বাজারেও ভীষণ সক্রিয় তারা। মরিনহোর চাওয়া মতো এরই মধ্যে চেলসি থেকে বিশ্বকাপজয়ী লেফট-ব্যাক মার্ক কুকুরেয়া, লিভারপুল থেকে ফরাসি সেন্টার ব্যাক ইব্রাহিম কোনাতে, ম্যানসিটি থেকে পর্তুগিজ মিডফিল্ডার বার্নার্দো সিলভা, ইন্টার মিলান থেকে রাইট-ব্যাক ডেনজেল ডামফ্রিসকে দলে ভিড়িয়েছে তারা। লাইপজিগ থেকে রেকর্ড ১৪০ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফি দলে টেনেছে তরুণ আইভরিয়ান প্রতিভা ইয়ান দিয়ামান্দেকে।  আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো কিলিয়ান এমবাপ্পে-ভিনিসিয়ুস জুনিয়র জুটি ভাঙতে দেননি মরিনহো। ভিনির নতুন চুক্তি নিয়ে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা দূর করায় নতুন উদ্যমে মাঠে নামবেন তারা। টানা দুই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতা এমবাপ্পে যে রিয়ালের তারকাপুঞ্জে সবচেয়ে বড় তারা, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ভিনিও কম যান না, নতুন চুক্তিই প্রমাণ করে রিয়ালের কাছে ব্রাজিলিয়ান এ তারকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ডের জার্সিতে গত বিশ্বকাপে ৭ গোল করা জুড বেলিংহামও কম যান না। এই ত্রয়ীর ওপরই নির্ভর করছে রিয়ালের শিরোপা উদ্ধার মিশন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট ঘিরে আজ টিভিতে যত খেলা

ছবি : সংগৃহীত

বিয়ের তিন দিন পরই মাঠে ফিরতে প্রস্তুত রোনালদো

ছবি : সংগৃহীত

বাবাকে হারানোর শোক নিয়েই অনুশীলনে মেসি, পাশে থাকার বার্তা কোচের

ছবি : সংগৃহীত
সমালোচনা না করে উৎসাহ দিন: নেইমার

সুদামেরিকানার শেষ ষোলোর প্রথম লেগের ম্যাচে সান্তোসের হয়ে ইকুয়েডরের ক্লাব মাকারার বিপক্ষে গোল পাননি নেইমার। তবে ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের। তার করা দুই অ্যাসিস্টেই দুটি গোল পেয়েছে সান্তোস। তাতেই পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোল ব্যবধানে জিতেছে তারা।   দুই গোলে অবদান রাখলেও বেশ সমালোচিত হয়েছেন নেইমার। ম্যাচের প্রথমার্ধে একটি ভুল পাস দেন নেইমার। এরপর গ্যালারি থেকে দুয়োও শুনেছেন। এমতাবস্থায় দলকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   ম্যাচ শেষে ইএসপিএন ব্রাজিলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন নেইমার। তিনি বলেন, ‘সেসময় আমরা এক গোলে পিছিয়ে ছিলাম। সমর্থকদের কষ্টের বিষয়টি আমি জানি। কিন্তু নেতিবাচক মানসিকতা নিয়ে স্টেডিয়ামে না এসে বাড়িতে বসে থাকা ভালো।   তিনি বলেন, তখন আমি সেই সমর্থককে বলেছিলাম সমালোচনা নয়, আমাদের সমর্থন করুন। কেননা খেলা শেষ হতে তখনও ৬০ মিনিট বাকি ছিল। দলকে উৎসাহ দিন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নতুন মৌসুমে বদলে যাচ্ছে ফুটবলের একাধিক নিয়ম

ছবি : ক্রিকইনফো

১৫৩ রানের লিডে ডারউইন টেস্টে চালকের আসনে বাংলাদেশ

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ সফরের সিদ্ধান্ত ভারত সরকারের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল: বিসিসিআই

0 Comments