পাবনা জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে একটি কূপ থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকা চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ) হাসপাতালের ভেতরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলাকালে শ্রমিকরা ম্যানহোলের ভেতরে সন্দেহজনক কিছু দেখতে পেয়ে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানায়। পরে খবর পেয়ে বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ম্যানহোল খুলে ভেতর থেকে একটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করে। তাৎক্ষণিকভাবে কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাসপাতালের নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাজের অংশ হিসেবে গণপূর্ত বিভাগের পরিচ্ছন্নকর্মীরা কাজ করছিলো। ঝোপঝাড় কেটে ড্রেনগুলো পরিষ্কার করতে গিয়ে হাসপাতালের উত্তর দিকে রান্নাঘরের পাশে অবস্থিত সেফটি ট্যাংকের পাশের একটি পরিত্যক্ত কূপে নজর পড়তেই সেখানে পঁচা মানবদেহ সহ কঙ্কাল দেখতে পান। পরে সেটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা পুলিশে খবর দেন।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ওই কূপটি পরিত্যক্ত হওয়ায় সাধারণত ওটি খোলা হয় না বা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নের কাজ হয় না বলেই আমরা জানি। ওটির কাছে সেভাবে কেউ যায়ও না। ফলে এই কঙ্কালের বিষয়ে হাসপাতালের কোনো ধারণা নেই। পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে।
পাবনা সদর থানার ওসি (অপারেশন) সঞ্জয় কুমার সাহা জানান, কঙ্কালটি উদ্ধার করে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। এবিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হচ্ছে।
তিনি বলেন, কঙ্কালটি অনেক আগের বলে মনে হয়েছে। এবিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পুলিশের কাছে নেই। এটি চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্র্যাকটিসের অব্যবহৃত কঙ্কাল হতে পারে। আবার কেউ কখনো ম্যানহলটিতে পড়ে গিয়েও থাকতে পারে। যেটি হয়তো পরে কঙ্কালে রুপ নিয়েছে।
ওসি বলেন, এটি পুরুষ নাকি নারী, বয়স কত বা কতদিন আগে মৃত্যু হয়েছে এসব কোনোকিছুই এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কঙ্কালের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিআইডির কাছে দেয়া হবে। এছাড়া ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এর আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছুই জানানো সম্ভব হচ্ছে না।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
দেশব্যাপী সংক্রামক রোগ হামের প্রাদুর্ভাব চলছে। সময়মতো জরুরি চিকিৎসা কিংবা আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) সাপোর্ট না পাওয়ার কারণে অনেক শিশু মারা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। কারণ চাহিদার তুলনায় সারা দেশে জরুরি আইসিইউ চিকিৎসাসেবা খুবই সীমিত। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের মঙ্গলবারের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে ৩৮ জন এবং হামের উপসর্গে আরও ১৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৮০৫ জন, আর হামের উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ হাজার ৯৩৫ জন। এ পর্যন্ত ১৭ হাজার ৮৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং ১৪ হাজার ১০৬ জন ছাড়পত্র পেয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, সময়মতো আইসিইউ না পাওয়াই শিশুমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। তাদের মতে, টিকাদানে ঘাটতি এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্বলতাও পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলছে। স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, বিগত সরকারের আমলে জেলা সদর ও উপজেলা হাসপাতালে সীমিত আইসিইউ শয্যা ও কর্নার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সিংহভাগ ক্ষেত্রেই তা চালু হয়নি বা পরে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে হামের প্রাদুর্ভাব সামাল দিতে গিয়ে হাসপাতালগুলো চরম চাপের মুখে পড়েছে। ঢাকার সরকারি হাসপাতালগুলোতেও আইসিইউ সংকট প্রকট। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ডিএনসিসি হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ও ঢাকা শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে রোগীর চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশু হাসপাতালে মাত্র ১৪টি আইসিইউ শয্যা থাকায় চাহিদার তুলনায় সেবা খুবই সীমিত। একজন সরকারি হাসপাতাল পরিচালক নাম প্রকাশ না করে বলেন, চোখের সামনে আইসিইউ না পেয়ে শিশু মারা যাচ্ছে এটা মেনে নেওয়া কঠিন। ঢাকার বাইরে জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান, যন্ত্রপাতি এবং আইসিইউ সুবিধার তীব্র ঘাটতি রয়েছে। বহু হাসপাতালে অ্যানেসথেসিওলজিস্ট বা সার্জনের অভাবে অস্ত্রোপচারও বন্ধ রয়েছে। এতে রোগীদের ঢাকামুখী চাপ আরও বাড়ছে। অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউ সেবার ব্যয় অত্যন্ত বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়ছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত কুমার বিশ্বাস বলেন, সংক্রমণ বেশি এমন জেলাগুলোতে আইসিইউ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামীতে পর্যায়ক্রমে সব জেলায় ব্যবস্থা করা হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জরুরি আইসিইউ সম্প্রসারণ, জনবল নিয়োগ ও টিকাদান কর্মসূচি জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
টিকা, সিরিঞ্জ, পরীক্ষাগার, জনসচেতনতা ও সরকারি প্রস্তুতি—সব ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এসব ঘাটতির কারণেই দেশে হামের প্রকোপ এখন মহামারী পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে। সরকার অবশ্য এই ঘাটতির কথা স্বীকার করলেও এর দায় আগের দুই সরকারের ওপর চাপাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে অন্তত ২২৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ২৫ হাজার শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অধিদপ্তরের বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। কিন্তু দেশে নমুনা পরীক্ষার সুবিধা রয়েছে কেবল মহাখালীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের একটি ল্যাবে। আইসিডিডিআর’বি ও চট্টগ্রামের আরেকটি ল্যাব থাকলেও নানা জটিলতায় সেগুলোতে পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। ফলে চাপ পড়ছে একমাত্র চালু ল্যাবটিতে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করে বলেন, আসলে দেশের সব নমুনা এক জায়গায় আসে। সেখানে দিনে ১২০টির বেশি নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা নেই। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা জানান, হামের পরীক্ষার কিট সরবরাহ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। একটি কিটে ৯০টি নমুনা পরীক্ষা করা যায়। রোববার পর্যন্ত ইনস্টিটিউটে মাত্র তিনটি কিট ছিল। ইনস্টিটিউটের পরিচালক মোমিনুর রহমান বলেন, ফেব্রুয়ারিতে আমরা ৬০টি কিট চেয়েছিলাম। রোববার চালান এসেছে। আরও ১০০টি আসবে। তিনি জানান, আগের বছরগুলোতে সীমিত পরীক্ষার কারণে কম কিট থাকলেও এবার রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। হামের বিস্তারে টিকাদানের ঘাটতিকেই প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বলেন, যেসব শিশুর টিকা পাওয়ার কথা ছিল, তারা অনেকে পায়নি। ফলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা ও সরকারি দুর্বল ব্যবস্থাপনাও পরিস্থিতি খারাপ করেছে। তার দাবি, জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা এবং ‘স্ট্যান্ডিং অর্ডার অন পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি’ চালু করা প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে অধ্যাপক এ কে আজাদ খান টিকা উৎপাদনে স্বনির্ভর হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বড় জনগোষ্ঠীর দেশ হিসেবে টিকার জন্য বাইরের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। সরকার বর্তমানে সারাদেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। তিন সপ্তাহের এই কর্মসূচিতে ১ কোটি ৭০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। তবে টিকা থাকলেও পর্যাপ্ত সিরিঞ্জ সংকট রয়েছে। ইপিআই কর্মকর্তারা জানান, ২ কোটি ডোজ টিকার জন্য প্রয়োজন প্রায় ২০ লাখ ‘মিক্সিং সিরিঞ্জ’, কিন্তু হাতে রয়েছে মাত্র ৪৫ হাজারের মতো। ইপিআইয়ের একজন সাবেক কর্মকর্তা বলেন, টিকা আছে, কিন্তু সিরিঞ্জ নেই। কয়েক মাসের মধ্যে নতুন সিরিঞ্জ আসবে। অন্যদিকে ইপিআইয়ের সহকারী পরিচালক হাসানুল মাহমুদ বলেন, আমাদের হাতে থাকা সিরিঞ্জ দিয়েই ক্যাম্পেইন চলছে এবং দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আগের দুই সরকারের অব্যবস্থাপনাই বর্তমান সংকটের মূল কারণ। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বেনজির আহমেদ বলেন, জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম না নেওয়ায় সরকারের আন্তরিকতার ঘাটতি ছিল। তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মসূচি দুর্বল হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
শিক্ষক সংকট ও পদোন্নতি কার্যক্রম সমাধানের আশ্বাস না পাওয়ায় বুধবার থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিনব্যাপী কর্মবিরতি কর্মসূচি শেষে এ ঘোষণা দেন তারা। শিক্ষকরা জানান, দাবি আদায়ে তারা কমপ্লিট শাটডাউনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। কিন্তু দাবি মানা তো দূরের কথা আমাদের সঙ্গে কেউ কোনো প্রকার কথা বলতে আসেনি। তাই বুধবার সকাল থেকে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চলবে। এদিকে, মঙ্গলবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসে কর্মবিরতি পালন করায় বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের ক্লাস, পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষকরা ক্লাস, পরীক্ষা গ্রহণ না করায় ফিরে যায় শিক্ষার্থীরা। এর আগে, একই দাবি আদায়ে রোববার সন্ধ্যা ৭টা থেকে আমরণ অনশনে বসেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দিন। সোমবার রাতে ওই শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের শিক্ষকরা সংহতি জানান। শিক্ষকরা সংবিধি প্রণয়নের পূর্বে বিদ্যমান নীতিমালার আলোকে পদোন্নতি, নিয়োগ, পরীক্ষা ডিগ্রি চলমান রাখার দাবি জানিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। দাবি না মানলে বুধবার থেকে কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা দেন। আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করা প্রক্টর রাহাত হোসেন ফয়সাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছেনা। ফলে তারা দাবি আদায়ে এধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। আমাদের দাবি, সংবিধি প্রণয়নের পূর্বে বিদ্যমাণ নীতিমালার আলোকে পদোন্নতি, নিয়োগ, পরীক্ষা ডিগ্রি চলমান রাখাতে হবে। শিক্ষক ড. হাফিজ আশরাফুল হক ও মুসতাকিম মিয়া বলেন, একটি বিভাগে ১৫-২০ জন শিক্ষক প্রয়োজন, সেখানে আছেন মাত্র চারজন। এক একজন শিক্ষকের ওপর ১৪-১৫টি কোর্সের লোড পড়ছে। তাই এই যোক্তিক দাবি বাস্তবায়নে সবাই একমত। তারা বলেন, আমরা কমপ্লিট শাটডাউনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের দাবি মানা তো দূরের কথা, রাত ৯টা পর্যন্ত কেউ আমাদের সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগ করেনি। তাই বুধবার থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চলবে।