অন্যান্য

একটি ভালো কাজ অন্য ভালো কাজের সহায়ক

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

নেক কাজ নেক কাজের সহায়ক, গুনাহ গুনাহের সহায়ক। তাই কোনো একটি ভালো কাজ করলে তা অন্য একটি ভালো কাজের সহায়ক হয়। একটি গুনাহ করলে তা ৫০টি গুনাহ টেনে আনে। একটি মানুষকে হত্যা করতে চাইলে আরও বহু গুনাহ করতে হবে। চিন্তা করতে হবে হত্যা করার জন্য কী অস্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে, তা কোথায় পাওয়া যাবে, কত টাকা দিয়ে আনতে হবে ইত্যাদি চিন্তাভাবনা করতে হয়। নেক কর্ম তেমনই। একটি নেক কাজ বহু নেক কাজের কারণ হয়।

 

যেমন ধরুন, আপনি নিয়ত করেছেন এই মজলিশে আসবেন। এখন আপনার এখানে আসার জন্য দুটি কাজ করতে হচ্ছে-১. রাস্তা দিয়ে আসা, ২. অতঃপর মাহফিলে এসে বসা। সবকিছুর চাহিদা ছেড়ে আপনি এসেছেন। দীনি আলোচনা শোনার পর মনের মধ্যে হয়তো পরিবর্তন আসবে যে বাসাতে গিয়ে আমল করব, অন্যকে আমলের কথা বলব।

 

এবার তাহলে দেখুন, একটি নেক আমল কতগুলো নেক আমলের কারণ হলো। পথে হেঁটে আসা একটি নেক আমল, মজলিশে বসা ভিন্ন একটি নেক আমল, এরপর ধৈর্য সহকারে শ্রবণ করা আরেকটি নেক আমল। এরকম বহু নেক আমল যুক্ত হয়েছে আপনার এই দীনি আলোচনা শুনতে আসার সঙ্গে। যে কথাটি বলছিলাম তা হলো, প্রত্যেকটি বান্দার বিশেষ একটি নেক আমলের সঙ্গে অন্য নেক আমল অপেক্ষা বেশি অন্তরঙ্গতা সৃষ্টি হয়। তাই সব ধরনের নেক আমলকারী বান্দাকে যখন জান্নাতের একাধিক গেট দিয়ে ঢাকা হবে তখন দুনিয়াতে তার মন যে আমলের প্রতি বেশি আগ্রহী ছিল, সেই আমলকারীদের জন্য নির্দিষ্ট গেট দিয়ে সে প্রবেশ করবে।

 

আল্লাহ কাফেরদের তথা পাপীদের জোড়ায় জোড়ায় সমবেত করতে ফেরেশতাদের নির্দেশ দেবেন। পাপিষ্ঠদের সঙ্গে তাদের উপাস্যদেরও উপস্থিত করতে বলবেন। যারা সূর্যের, গাভির, তুলসী গাছের, ভূতের, চন্দ্রের উপাসনা করে, দুনিয়ার মানুষের আনুগত্য করে, আল্লাহ ও তাঁর রসুলের অনুসরণ বাদ দিয়ে তা নেতাদের পেছনে ঘোরে আল্লাহ তাদের সবাইকে উপস্থিত করাবেন।

 

কোরআনে কারিমে উল্লেখ করা হয়েছে যে তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাদের কী হলো; একে অপরকে সাহায্য করছ না যে? বস্তুত সেদিন তাদের কোনো বন্ধু ও সাহায্যকারী থাকবে না।  অনেক সময় মানুষের চিন্তায় আসে যে এটা কি সম্ভব? ছেলে-মেয়ে এত আদরের ছিল, কিন্তু আমাদের বিপদের সময় কি তারা একটু সাহায্য করতেও আসবে না?

 

হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.)-এর সামনে এক দিন আল্লাহর রসুল (সা.) বলছিলেন যে হাশরের ময়দানে সব নারী-পুরুষ উলঙ্গ অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকবে। এ কথা শুনে হজরত আয়েশা (রা.) লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেললেন। এরপর প্রশ্ন করলেন, ইয়া রসুলুল্লাহ! এটা কেমন কথা যে একজন অপরজনের প্রতি চেয়েও দেখবে না?

 

আল্লাহর নবী উত্তর দিলেন, পৃথিবীর মানুষের বহু কষ্টের সময় আছে। তার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য কষ্টের সময় হলো মহিলাদের প্রসবের সময়। হাদিসে এসেছে, কোনো মহিলা সন্তান প্রসবের সময় যদি মৃত্যুবরণ করে তাহলে সে শহীদের মর্যাদা পাবে। মহিলাদের প্রসবব্যথা মারাত্মক। অনেক সময় মহিলা মারা যায়।

 

কিন্তু হাশরের ময়দানের কষ্ট ও ব্যথা এত বেশি হবে যে দুনিয়ার প্রসবব্যথাও অনুভূত হবে না হাশরের মাঠের যন্ত্রণার কারণে। মানুষ যদি ভয় পায় তাহলে ছোট বিপদের কথা ভুলে যায়। সেদিন এমন এক অবস্থা হবে যে কেউ কারও প্রতি চেয়ে দেখবে না। সবাই নিজের অবস্থা নিয়ে চিন্তিত থাকবে। হাশরের ময়দানে একজন অপরজনকে সাহায্য করবে না, সবাই নতশির অবস্থায় আল্লাহর সামনে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।

 

এরপর একজন অপরজনের সঙ্গে ঝগড়া করবে এবং বলবে, তুমি আমাকে ধ্বংস করেছ, তুমি আমাকে গোমরাহ করেছ, আমাকে আল্লাহর নাফরমানি করতে শিখিয়েছিলে। ছেলে, মা-বাপকে বলবে, তোমরা দুজন আমার দ্বারা স্বার্থ উদ্ধার করেছ। আমাকে ধ্বংস করেছ। ছাত্র ওস্তাদকে বলবে যে আপনার ভুল দিকনির্দেশনার কারণে আমার জীবন ধ্বংস হয়েছে। মুরিদ বলবে পীর সাহেবকে, আপনি আমার পকেটের প্রতি চেয়ে থাকতেন। কিন্তু আজ আমি বিপদগ্রস্ত, আপনি আমার দিকে চোখ ফিরেও তাকাচ্ছেন না। এভাবে একে অপরকে ধরবে। কিন্তু কোনো লাভ হবে না। অনেক লোক পীরের মুরিদ, কিন্তু গুনাহ একটাও ছাড়ে না। জিজ্ঞেস করলে উত্তর দেয়, গুনাহ করেও হুজুরের সঙ্গে আছি। হুজুর যদি জাহান্নামে যায় তাহলে আমিও জাহান্নামে যাব। এরা টুপি মাথায় দেওয়া বিভিন্ন মাজারের গোমরাহ ও ফাসেক-ফুজজারদের হুজুর মনে করে। তাদের হাদিয়া দেয় আর মনে করে এই হুজুরের পিছে পিছেই জান্নাতে চলে যাবে। হায়রে বোকার দল! জান্নাতে যাওয়া কি এত সহজ?

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ভিডিও কলে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ের চিকিৎসাসেবার বাস্তব চিত্র দেখতে আকস্মিকভাবে সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে সিরাজগঞ্জ থেকে এক ভিডিও কলের মাধ্যমে তিনি হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।   এ সময় তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে ইনডোর পর্যন্ত বিভিন্ন ইউনিটের চিকিৎসা সেবা দেখেন এবং দায়িত্বরত চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালে উপস্থিত চিকিৎসকদের খোঁজ নেন এবং সেখানে দায়িত্বে থাকা চারজন চিকিৎসকের মধ্যে একজনকে অনুপস্থিত পান। এ বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলা যেন না হয় সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। ঈদের ছুটির মধ্যেও দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, ‘আপনারা এই দুর্গম এলাকায় মানুষের ভরসা। আপনাদের ত্যাগ ও নিষ্ঠার বিষয়ে সরকার অবগত রয়েছে।’ ভিডিও কলের মাধ্যমে তিনি জরুরি বিভাগের নার্স এবং চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের সঙ্গেও কথা বলেন। রোগীদের কাছ থেকে সরাসরি সেবার মান সম্পর্কে মতামত নেন এবং সেবা পেতে কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে কিনা তা জানতে চান। তৃণমূলের মানুষ যাতে সময়মতো ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঈদের ছুটির মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না।   এ সময় তিনি সরকারের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যখাত উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত করতে সরকার একটি যুগান্তকারী রোডম্যাপ চূড়ান্ত করেছে। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘হেলথ কার্ড’ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও সুরক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

রোববার খুলছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ছবি: সংগৃহীত

একটি ভালো কাজ অন্য ভালো কাজের সহায়ক

অ্যাবিগেইল বয়েড। ছবি : সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে তারেক রহমানকে ‌অভিনন্দন জানিয়ে প্রস্তাব

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি

সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে। আস্তে আস্তে কথা বলতে পারছেন তিনি। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে। আজ সোমবার সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মির্জা আব্বাসের শরীরের বিভিন্ন প্যারামিটারগুলো পজিটিভ সাইন দিচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে।  তিনি আরও বলেন, তবে ব্রেইনের বিষয় তো, পুরোপুরি সুস্থ হতে একটু সময় নেবে। তার জন্য সবার কাছে দোয়া চাই। সিঙ্গাপুরে অবস্থানকারী মির্জা আব্বাসের একান্ত সহকারী সচিব মিজানুর রহমান সোহেল বলেন, আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে তাকে বেড থেকে চেয়ারে বসিয়েছেন চিকিৎসকরা। এটা পজিটিভ সাইন। তিনি আস্তে আস্তে কথা বলতে পারেন। ডাক্তারদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে। তিনি বলেন, দোয়া করবেন তার জন্য। দেশবাসীর কাছে তার পরিবারও দোয়া চেয়েছেন। এর আগে, গত ১১ মার্চ ইফতারির সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে মির্জা আব্বাসকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে গত ১৩ মার্চ তার মস্তিস্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। পৌর ৪ ঘণ্টার অস্ত্রোপচার শেষে আইসিইউতে ছিলেন দুই দিন। পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ১৫ মার্চ সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। হাসপাতালে মির্জা আব্বাসের সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাস এবং ছেলে ইয়াসীর আব্বাস সার্বক্ষণিক পাশে থাকছেন।

মারিয়া রহমান মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যরাতে ইনকিলাব মঞ্চের ৬ দফা, ১৫ দিনের আল্টিমেটাম

ছবি : সংগৃহীত

'এইটা রাজনীতিতে গুড সাইন'

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ছবি : সংগৃহীত

সবাইকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসার আহ্বান আসিফ মাহমুদের

ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা উত্তর সিটির সাবেক কাউন্সিলর আবুল হাসেম কারাগারে

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবুল হাসেম ওরফে হাসুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। চব্বিশের জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর আদাবর থানা এলাকায় মাহফুজুল হক নামে এক ব্যাক্তিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। শুক্রবার (২০ মার্চ) দুই তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ায় পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদাবর থানার এসআই ইয়ামিন সরকার। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) অভিযান চালিয়ে রাজধানীর আদাবর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ । মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর আদাবর থানা এলাকায় আদাবর থানা এলাকায় ছাত্র-জনতার মিছিল চলছিল। তখন মিছিলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগের নেতারা গুলি করেন। এসময় আসামিদের ছোঁড়া গুলিতে মাহফুজুল হক (২৮) আহত হন। এ ঘটনায় মাফুজুল হক বাদি হয়ে আদাবর থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ২০, ২০২৬ 0
শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদের। ছবি : সংগৃহীত

শেখ হাসিনা-কাদেরসহ ১২৪ জনকে অব্যাহতি

ছবি : সংগৃহীত

জুলাই হত্যা মামলায় আদাবর থেকে কাউন্সিলর গ্রেপ্তার

ফিতরা। প্রতীকী ছবি

ফিতরা দেওয়ার আগে জেনে নিন জরুরি ৭ মাসায়েল

0 Comments