মালয়েশিয়ার কেদাহ রাজ্যের পাদাং মেইহা শিল্প এলাকায় অভিযান চালিয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। রোববার রাতে পরিচালিত ‘অপস সাপু’ অভিযানে অবৈধভাবে অবস্থান ও কাজ করার অভিযোগে ১৬ জন শ্রমিককে আটক করা হয়েছে।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, শিল্প এলাকার নিকটবর্তী একটি দুই তলা বিশিষ্ট ব্লকের বাড়িতে এসব শ্রমিক বসবাস করছিলেন। বাড়ির সামনের অংশে একটি মুদি দোকানও পরিচালিত হচ্ছিল, যেখানে রান্নার তেলসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করা হতো, যা ওই এলাকার বিদেশি শ্রমিকদের চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হতো।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অভিযান) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, রাত ১টা ২০ মিনিটে শুরু হওয়া এ অভিযানে কেদাহ অভিবাসন বিভাগের ৩০ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা অংশ নেন। জনসাধারণের অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তিনি জানান, অভিযানের সময় মোট ৩৩ জন বিদেশিকে যাচাই-বাছাই করা হয়। এদের মধ্যে চীন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের নাগরিকরা ছিলেন। যাচাই শেষে ১০ জন চীনা, ৫ জন বাংলাদেশি এবং একজন মিয়ানমারের নাগরিকসহ মোট ১৬ জনকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে আটক করা হয়।
অভিযানের সময় কয়েকজন শ্রমিক পালানোর চেষ্টা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তাদের দ্রুত আটক করা সম্ভব হয়। তিনি আরও জানান, আটকদের সবাই ওই বাসায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন না; অনেকেই আশপাশের শিল্প এলাকায় কাজ করার সুবাদে অস্থায়ীভাবে সেখানে অবস্থান করছিলেন।
লোকমান এফেন্দি বলেন, এটি ওই এলাকায় অভিবাসন বিভাগের প্রথম অভিযান হওয়ায় আরও বিস্তারিত তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আটকদের সিক জেলার বেলান্তিক আটক কেন্দ্রে পাঠানো হবে।
তিনি আরও জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত কেদাহে মোট ২২৭টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ২,৭৫৬ জন বিদেশিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬৫৮ জনকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে, নিয়োগকর্তাদের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, বৈধ কাজের অনুমতি ছাড়া বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে সামাজিক ভিসায় এসে কাজ করা বা নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করে অবস্থান করা ব্যক্তিদের কাজে লাগানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
তিনি জানান, দোষী প্রমাণিত হলে নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইনের ৫৬(১)(ডি) ধারায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্পেনে অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধ করার নতুন উদ্যোগে একদিকে যেমন আশার আলো জেগেছে, অন্যদিকে নানা জটিলতা ও বাধাও সামনে আসছে। দেশটির বামপন্থি সরকারের বিশেষ নিয়মিতকরণ প্রকল্পের আওতায় হাজার হাজার নথিহীন অভিবাসী এখন বৈধতার সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে অনেকেই পড়ছেন বিপাকে। মাদ্রিদের বিভিন্ন কনস্যুলেট ও সরকারি দপ্তরের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে অভিবাসীদের। অনেকের অভিযোগ, প্রক্রিয়াটি কাগজে সহজ হলেও বাস্তবে বেশ জটিল। একজন অভিবাসী জানান, সবকিছুই বিনামূল্যে বলা হলেও বাস্তবে আইনজীবীর সাহায্য ছাড়া অনেক কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে সবার অভিজ্ঞতা এক নয়; কেউ কেউ সহজেই প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করতে পারছেন। যাতায়াতের কার্ড, হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা রেমিট্যান্সের রসিদকে অনেক ক্ষেত্রেই অবস্থানের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় আবেদন করতে হলে নির্দিষ্ট সময়ের আগে স্পেনে প্রবেশ, অন্তত কয়েক মাস বসবাসের প্রমাণ এবং কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকা বাধ্যতামূলক। এসব শর্ত পূরণ করতে পারলে অস্থায়ী আবাসন অনুমতি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখের বেশি অভিবাসী বৈধ হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন, যাদের বড় অংশ লাতিন আমেরিকার নাগরিক। এত বিপুল আবেদন সামাল দিতে সরকার অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ ও অফিস সময় বাড়িয়েছে। তবে অভিবাসী বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নথি যাচাই ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া। সব মিলিয়ে এই উদ্যোগ অনেক অভিবাসীর জীবনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় অনেকেই এখনও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে উদযাপিত হলো বর্ণিল বৈশাখী উৎসব। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশীয় গান, নাচ ও পিঠা-পুলির আসরে তৈরি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ। শনিবার (১৬ এপ্রিল) কোপেনহেগেনের নরেব্রোহ্যালেন মিলনায়তনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ডেনমার্কের উদ্যোগে এ বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। শত শত প্রবাসী বাংলাদেশি এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ‘মেলায় যাইরে’, ‘পাগলা হাওয়ার তরে’, ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’সহ জনপ্রিয় লোকসংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। পাশাপাশি হরেক রকম দেশীয় পিঠা-পুলি, মিষ্টান্ন এবং ফুচকা-চটপটির স্টল মেলায় বাড়তি আকর্ষণ যোগ করে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জিয়া হাসান বলেন, প্রবাসে থেকেও দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখার উদ্দেশ্যেই প্রতি বছর এ ধরনের বৈশাখী আয়োজন করা হয়। এতে প্রবাসীরা একসঙ্গে মিলিত হয়ে উৎসব উপভোগ করার সুযোগ পান। অনুষ্ঠানকে ঘিরে শিশু-কিশোরদের জন্য খেলাধুলার ব্যবস্থাও ছিল, যা মেলাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। উপস্থিত দর্শনার্থীরা জানান, ইউরোপের মাটিতে এমন দেশীয় আয়োজন তাদেরকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে। দর্শনার্থী সোনিয়া সারোয়ার বলেন, এমন উৎসবমুখর আয়োজন প্রবাস জীবনে দেশকে নতুনভাবে অনুভব করার সুযোগ করে দিয়েছে।
মালয়েশিয়ায় ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে এক বাংলাদেশি প্রবাসী ব্যবসায়ী ও তাঁর বান্ধবীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করার পর মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। নিহতরা হলেন ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম এবং তাঁর বান্ধবী কোহিনুর বেগম। গত ১৪ এপ্রিল রাতে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের খবর সম্প্রতি দেশে পৌঁছালে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গোবরডাঙ্গা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। নজরুল ইসলাম ওই গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে। পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, ২০১৮ সালে জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় যান নজরুল ইসলাম। সেখানে তিনি কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগির একটি বড় খামার গড়ে তোলেন। তবে ব্যবসায়িক সাফল্যই শেষ পর্যন্ত তার জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় এক ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরেই দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে নজরুল ইসলাম ও তাঁর বান্ধবীকে কুপিয়ে হত্যা করে এবং পরে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলে। নিহতের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জানান, ব্যবসায়িক বিরোধের কারণে এর আগেও নজরুলকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় তিনি শিগগিরই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলেও জানান তিনি। পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনারও অনুরোধ জানিয়েছেন স্বজনরা। এদিকে কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য আসেনি। তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।