কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঋণ খেলাপির অভিযোগে তার মনোনয়ন বাতিল করেছে ইসি।
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণাকে চ্যালেঞ্জ করে একই আসনের এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ ইসিতে যে আপিল করেছিলেন, আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সেটির শুনানি শেষে ইসি এই সিদ্ধান্ত দেন।
ঋণ খেলাপির অভিযোগ এনেই এর আগে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোয়নপত্র বাতিলে ইসিতে আপিল করেছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তার অভিযোগের পর মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীও হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে ইসিতে আপিল করেন।
কিন্তু এখানেও হতাশ হতে হয় ধানের শীষের প্রার্থীকে। তার আবেদন নামঞ্জুর করে ইসি।
এছাড়া, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর ঋণখেলাপির ইস্যুটি উচ্চ আদালতেও গড়ায়। ঋণ খেলাপির তালিকায় কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম স্থগিত করেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। পরে এ আদেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করে প্রিমিয়ার ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এই আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ৮ জানুয়ারি হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিত করেন চেম্বার আদালত। পরে এ আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী।
কিন্তু হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেয়া আগের আদেশ বহালই রাখেন চেম্বার আদালত।
১৪ জানুয়ারির এই আদেশে ঋণখেলাপির তালিকায় কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম স্থগিত করে হাইর্কোটের জারি করা রুল দুই সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেয়া হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশের তিন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা বর্তমানে ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছেন। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ বা ভারতের কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন তিন জন, তারা হলেন— লেফটেন্যান্ট জেনারেল (বরখাস্ত) মোহাম্মদ মজিবুর রহমান: তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) এবং এর আগে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আকবর হোসেন: তিনি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক। প্রতিবেদনে অতীতের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের কথা বলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে কি না বা এ বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। মেজর জেনারেল কবীর আহমেদ: তিনি সাবেক সামরিক সচিব এবং ডিজিএফআইয়ের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য বা আদালতের চূড়ান্ত রায়ের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। তিন কর্মকর্তা কলকাতার একটি সুরক্ষিত সামরিক এলাকায় অবস্থান করছেন। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। এ ছাড়া প্রতিবেদনে কয়েকজন নিরাপত্তা বিশ্লেষকের মতামত তুলে ধরা হয়েছে। তারা বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে এসব মতামত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের নিজস্ব মূল্যায়ন; এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো অবস্থান জানানো হয়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করে সংবাদটি হালনাগাদ করা হবে।
সামুদ্রিক তেল দূষণ, বাঙ্কার জ্বালানি ছড়িয়ে পড়া এবং জাহাজডুবির ঘটনায় দায় নির্ধারণ ও ক্ষতিপূরণের আন্তর্জাতিক কাঠামোয় যুক্ত হলো বাংলাদেশ। পরিবেশ সুরক্ষা, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা এবং টেকসই সামুদ্রিক বাণিজ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক দায়বদ্ধতা কনভেনশনে যোগ দিয়েছে দেশ। সোমবার (৬ জুলাই) লন্ডনে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) সদর দফতরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আইএমও মহাসচিব আরসেনিও ডোমিঙ্গেজের কাছে কনভেনশনগুলোতে বাংলাদেশের যোগদানের দলিল হস্তান্তর করা হয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী আরিফ বিল্লাহ এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, অনুষ্ঠানে সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বাংলাদেশের পক্ষে যোগদানের দলিল হস্তান্তর করেন। এসময় যুক্তরাজ্য ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ড. এম. নজরুল ইসলাম এবং নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারী উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ যে তিনটি কনভেনশনে যোগ দিয়েছে সেগুলো হলো— তেল দূষণজনিত ক্ষতির জন্য দেওয়ানি দায়বদ্ধতাবিষয়ক ১৯৯২ প্রটোকল বা সিএলসি প্রটোকল, বাঙ্কার তেল দূষণজনিত ক্ষতির জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশন-২০০১ এবং নাইরোবি আন্তর্জাতিক রেক অপসারণ কনভেনশন-২০০৭। কাজী আরিফ বিল্লাহ জানান, বাংলাদেশের জলসীমা দিয়ে প্রতিদিন শত শত জাহাজ চলাচল করে এবং দেশের বিভিন্ন বন্দরে নৌযান আসা-যাওয়া করে। ফলে তেল নিঃসরণ, জাহাজের বাঙ্কার জ্বালানি ছড়িয়ে পড়া কিংবা দুর্ঘটনায় জাহাজডুবির মতো ঝুঁকি থাকে। এসব ঘটনায় নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, উপকূলীয় পরিবেশ ও স্থানীয় মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নতুন কনভেনশনগুলোতে যুক্ত হওয়ার ফলে এই ধরনের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায় নির্ধারণ, বাধ্যতামূলক বীমা এবং ক্ষতিপূরণের আর্থিক কাঠামো নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছে সরকার। অর্থাৎ দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রকে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নির্ধারিত কাঠামোর আওতায় ক্ষতিপূরণ দাবি করার সুযোগ মিলবে। বিশেষ করে জাহাজডুবির পর নৌপথে বিপজ্জনক বা বাধাসৃষ্টিকারী রেক অপসারণের দায় নির্ধারণে নাইরোবি কনভেনশন ভূমিকা রাখবে। অপরদিকে জাহাজ থেকে তেল বা বাঙ্কার জ্বালানি ছড়িয়ে পড়লে ক্ষতিপূরণ এবং দায়বদ্ধতার প্রশ্নে সিএলসি প্রটোকল ও বাঙ্কার কনভেনশন কার্যকর আন্তর্জাতিক ভিত্তি দেবে। এসব কনভেনশনে যোগদানের অর্থনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে কনভেনশন-সংশ্লিষ্ট সনদ সংগ্রহে বিদেশি নৌ প্রশাসনের ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে এটি। এতে সময় ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চার্টারার, বীমা প্রতিষ্ঠান এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশের জাহাজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য বাড়লে বিদেশি বন্দরে অতিরিক্ত পরিদর্শন, বাণিজ্যিক বিলম্ব ও নথিপত্রসংক্রান্ত জটিলতা কমার সম্ভাবনাও রয়েছে। ক্রমবর্ধমান জাহাজ চলাচল, বন্দর কার্যক্রম এবং উপকূলকেন্দ্রিক উন্নয়নের বাস্তবতায় এই পদক্ষেপ বাংলাদেশকে আরও দায়িত্বশীল সামুদ্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করবে। আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ, সামুদ্রিক পরিবেশ এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-২ প্রকল্প থেকে এক দফা বাদ পড়ার পর আবারও রাজধানীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ শহরকে যুক্ত করার সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে সরকার। সংশোধিত পরিকল্পনায় আগে বাদ দেওয়া নারায়ণগঞ্জ অংশ পুনর্বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এবং প্রকল্পের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তা অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। অর্থ্যাৎ, ঢাকার গাবতলী থেকে প্রস্তাবিত এই মেট্রোরেল পথটিতে নারায়ণগঞ্জ অংশের চারটি স্টেশন- ভূঁইগড়, জালকুড়ি, শিবু মার্কেট ও নারায়ণগঞ্জ সদর আবারও যুক্ত করা হচ্ছে। এতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পথে যাতায়াতের সময় ও ব্যয় যেমন কমবে তেমনি এড়ানো যাবে যানজটও। গত ৩১ মে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড এ প্রকল্পের অগ্রগতির একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, এ প্রকল্পের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে নারায়ণগঞ্জ শহরকে অন্তর্ভূক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) প্রতিবেদনে দু’টি বিকল্প রুট যেমন: গাবতলী-ডেমরা এবং গাবতলী-ডেমরা-সাইনবোর্ড-ভূঁইগড়-জালকুড়ি-শিবুমার্কেট-নারায়ণগঞ্জ; বিবেচনা করার বিষয়ে মতামত প্রদান করা হয়েছে। “ভৌত অবকাঠামো বিভাগের মতামত এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সুপারিশ অনুযায়ী এমআরটি লাইন-২ এর রুট অ্যালাইনমেন্টে নারায়ণগঞ্জকে অন্তর্ভুক্ত করে পুনরায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে,” বলেও জানানো হয় ওই প্রতিবেদনে। ঢাকা মহানগর ও আশেপাশের এলাকার যানজট নিরসনে ও পরিবেশ উন্নয়নে অত্যাধুনিক গণপরিবহন হিসেবে ছয়টি মেট্রোরেল লাইনের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কর্মপরিকল্পনা করেছে ডিএমটিসিএল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ছয়টি মেট্রোরেল প্রকল্পের এমআরটি লাইন-২-এ ঢাকার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জকে সংযোগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ওই সময় সাইনবোর্ড হয়ে ভূঁইগড়, জালকুড়ি, শিবু মার্কেট ও নারায়ণগঞ্জ-এ চারটি স্টেশন করারও নকশা করা হয়। কিন্তু বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজধানীর পাশের নারায়ণগঞ্জের চারটি স্টেশন বাদ দিয়ে এ প্রকল্প এগোয়। ওই সময় ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. আব্দুল বাকী মিয়া বলেন, “এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পের পরিকল্পনা রিভাইজ (সংশোধন) করা হয়েছে। ঢাকার গাবতলী থেকে এ লাইনটি ডেমরা হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তারাব বিশ্বরোড গিয়ে শেষ হবে।” এ প্রকল্পে আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরের ভেতরে আরও তিনটি স্টেশন- ভূঁইগড়, জালকুড়ি ও নারায়ণগঞ্জ সেটশন- করার কথা থাকলেও সংশোধনী পরিকল্পনায় তা আর যুক্ত হচ্ছে না বলেও জানিয়েছিলেন আব্দুল বাকী মিয়া। তিনি আরও বলেন, “শুরুর দিকে এমআরটি লাইন-৭ এর মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ শহরকে যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল। পরে যদিও এটি এমআরটি লাইন-২ এর পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। তবে, এখন নারায়ণগঞ্জ শহর মেট্রোরেল পথের সঙ্গে যুক্ত হবে এমআরটি লাইন-৭ এর মাধ্যমেই। কেননা, এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।” গত বছরের সেপ্টেম্বরে ওই কর্মকর্তা এ কথা জানালেও গত মে মাসের ডিএমটিসিএল’র প্রতিবেদন বলছে, এই পরিকল্পনায় আবারও পরিবর্তন আনা হয়েছে। যুক্ত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের ভেতরে চারটি স্টেশন। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার খরচ বাঁচাতে এমআরটি-২ প্রকল্প থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরকে বাদ দিলেও গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকারে আসা বিএনপি রাজধানীর পাশের শিল্পাঞ্চলকে গুরুত্ব দিয়েছে। ডিএমটিসিএল তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ তাদের আপডেটিং অব দ্য রিভাইজড স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানের (ইউআরএসটিপি) চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ম্যাক্সিমাম ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট সিনারিও-তে এমআরটি লাইন-২-এর অ্যালাইমেন্ট গাবতলী থেকে ডেমরা হয়ে তারাব বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রস্তাব করেছিল। এ মেট্রোরেল পথের দৈর্ঘ্য হবে ২৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার। যা নারায়ণগঞ্জ শহরকে যুক্ত করলে হওয়ার কথা ছিল ৩৪ কিলোমিটার। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানায়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ অনুযায়ী এবং প্রস্তাবিত অ্যালাইমেন্টের উপর ভিত্তি করে এমআরটি লাইন-২-এর প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের (পিডিপিপি) নীতিগত অনুমোদনের জন্য গত বছরের ৮ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু গত ২৫ জানুয়ারি ভৌত অবকাঠামো বিভাগ এমআরটি-২ প্রকল্প আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেয়। একইসঙ্গে জানানো হয়, নতুন মেট্রোরেল প্রকল্প শুরু করার আগে ঢাকার সম্পূর্ণ মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক বাস্তবায়নের ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা বা সময়সূচি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মেট্রোরেল পথে নারায়ণগঞ্জ শহরকে যুক্ত করতে ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে ওই বছরের ২৪ নভেম্বর ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটি’র এক সভায় এমআরটি লাইন-২ ও লাইন-৪ এ নারায়ণগঞ্জকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের পর এমআরটি-২ মেইন লাইনটি গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জ সদর পর্যন্ত নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। ডিএমটিসিএলের প্রাথমিক হিসাবে, ৩৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এই লাইন নির্মাণে ৬০ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু বিগত সরকার সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার (আরএসটিপি) খসড়ায় রুটে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিলে নারায়ণগঞ্জ বাদ পড়ে। বিএমটিসিএল’র এমন পরিকল্পনার প্রতিবাদ জানায় নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক, নাগরিক ও ছাত্র সংগঠনগুলো। এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পেই নারায়ণগঞ্জকে যুক্ত করতে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়। পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনে মেট্রোরেলের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ শহরকে যুক্ত করার দাবি সংসদেও তুলেছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিনও। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নানা মহলের দাবির কারণে এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পের পরিকল্পনায় আবারো পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জকে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা গেলে রাজধানীর ওপর চাপ কমার পাশাপাশি যাতায়াত সময় ও ব্যয় কমবে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে পরিকল্পনার এই পরিবর্তন কত দ্রুত বাস্তবায়নে রূপ পাবে, তা নির্ভর করছে প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন ও অর্থায়ন প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর।