ট্রাম্প দাবি করেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক এই জলপথে কোনো ধরনের টোল আরোপ গ্রহণযোগ্য নয়।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আমরা রয়েছি। আমাদের নৌ-অবরোধ শতভাগ কার্যকর। কেউ এই অবরোধ ভাঙতে পারেনি। এটি অনেকটা লোহার দেয়ালের মতো।”
ট্রাম্প আরও বলেন, “আমরা হরমুজকে উন্মুক্ত রাখতে চাই। এখানে কোনো টোল গ্রহণযোগ্য নয়। এটি আন্তর্জাতিক জলসীমা এবং আন্তর্জাতিক নৌপথ।”
এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্তত ২৪টি জাহাজ চলাচল করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এরপর থেকে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এ অঞ্চল ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলছে।
সূত্র: আলজাজিরা
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক এই জলপথে কোনো ধরনের টোল আরোপ গ্রহণযোগ্য নয়। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আমরা রয়েছি। আমাদের নৌ-অবরোধ শতভাগ কার্যকর। কেউ এই অবরোধ ভাঙতে পারেনি। এটি অনেকটা লোহার দেয়ালের মতো।” ট্রাম্প আরও বলেন, “আমরা হরমুজকে উন্মুক্ত রাখতে চাই। এখানে কোনো টোল গ্রহণযোগ্য নয়। এটি আন্তর্জাতিক জলসীমা এবং আন্তর্জাতিক নৌপথ।” এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্তত ২৪টি জাহাজ চলাচল করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এরপর থেকে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এ অঞ্চল ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলছে। সূত্র: আলজাজিরা
পশ্চিমবঙ্গের সব স্বীকৃত মাদ্রাসায় সকালের অ্যাসেম্বলিতে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে রাজ্য সরকার। এর আগে রাজ্যের সব স্কুলেও একই নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাদ্রাসা অধিদপ্তরের জারি করা এক আদেশে বলা হয়, এখন থেকে রাজ্যের সব মাদ্রাসায় ক্লাস শুরুর আগে সকালের সমাবেশে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে। সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত ও সহায়তাবিহীন—উভয় ধরনের স্বীকৃত মাদ্রাসার ক্ষেত্রেই এ নির্দেশ কার্যকর হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা ও সংখ্যালঘু বিষয়ক বিভাগের অধীন সব প্রতিষ্ঠানে এই নিয়ম মানতে হবে বলে জানানো হয়েছে। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার পশ্চিমবঙ্গের সব স্কুলে ‘বন্দে মাতরম’-এর ছয়টি স্তবক গাওয়া বাধ্যতামূলক করে। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়, ক্লাস শুরুর আগে স্কুল অ্যাসেম্বলিতে ভারতের এই ‘জাতীয় গান’ পরিবেশন করতে হবে। এক অনলাইন পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী লিখেছিলেন, “আগের সব নির্দেশনা বাতিল করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্কুল শিক্ষা বিভাগের অধীন সব স্কুলে সকালের প্রার্থনা বা অ্যাসেম্বলিতে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে।” বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দে মাতরম’ ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গানটি ঘিরে ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বছর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগেও বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পায়। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ‘বন্দে মাতরম’-কে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সমমর্যাদা দেওয়ার ঘোষণা দেয় এবং সরকারি অনুষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গানটির ছয় স্তবক গাওয়ার নির্দেশনা দেয়।
দীর্ঘ তিন দশক আগের এক ঐতিহাসিক ঘটনার জেরে কিউবার সাবেক কমিউনিস্ট নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিক হত্যার ষড়যন্ত্র ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৯৬ সালে কিউবা ও ফ্লোরিডার মধ্যবর্তী আকাশসীমায় কিউবান-আমেরিকানদের একটি সংগঠনের দুটি বেসামরিক বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় এই মামলা পুনরুজ্জীবিত করা হলো। ২০০৩ সালের পুরনো অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে বুধবার (২০ মে) দায়ের করা এই মামলায় রাউল কাস্ত্রোসহ মোট ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সেদিনের ওই বিমান হামলায় তিন মার্কিন নাগরিকসহ মোট চারজন নিহত হয়েছিলেন। বর্তমানে ৯৪ বছর বয়সি রাউল কাস্ত্রো সেই সময়ে কিউবার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ছিলেন এবং বিমান ভূপাতিত করার ওই ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার মুখে পড়েছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগ এবার তার বিরুদ্ধে বিমান ধ্বংসের পাশাপাশি আর্মান্ডো আলেজান্দ্রে জুনিয়র, কার্লোস আলবার্তো কস্টা, মারিও ম্যানুয়েল দে লা পেনা এবং পাবলো মোরালেস নামের চার নাগরিককে সরাসরি হত্যার অভিযোগ এনেছে। মিয়ামির ফ্রিডম টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এই ঘোষণা দিয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাদের নাগরিকদের ওপর হওয়া অন্যায় কখনোই ভুলে যান না। রাউল কাস্ত্রোকে মার্কিন আদালতে হাজির করা সম্ভব কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ব্ল্যাঞ্চ জানান, তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং তিনি নিজে থেকে হোক বা অন্য উপায়ে—আদালতে হাজির হবেন বলেই তারা আশা করছেন। কিউবার একদলীয় কমিউনিস্ট শাসনের ওপর ওয়াশিংটন যখন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে, ঠিক তখনই কিউবান বিপ্লবের এই প্রভাবশালী শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলো। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং একটি ‘রাজনৈতিক চালবাজি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন কিউবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল। তার দাবি, সে সময় কিউবা তাদের নিজস্ব জলসীমায় সম্পূর্ণ বৈধ আত্মরক্ষার স্বার্থেই ওই পদক্ষেপ নিয়েছিল। এই অভিযোগের আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর সামরিক আগ্রাসন চালানোর পায়তারা করছে বলেও তিনি পাল্টা অভিযোগ তোলেন। এই আইনি পদক্ষেপের সমসাময়িক সময়ে কিউবার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সে দেশের জনগণের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকার সঙ্গে একটি নতুন কিউবা বিনির্মাণের পথ তৈরি করছেন। দ্বীপাঞ্চলটিতে চলমান বিদ্যুৎ বিপর্যয় এবং খাদ্য সংকটের জন্য তিনি কিউবান সামরিক বাহিনী দ্বারা পরিচালিত বাণিজ্যিক কনগ্লোমারেট ‘গায়েসা’-কে দায়ী করেন। রুবিওর এই বার্তার জবাবে প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেল মার্কিন প্রশাসনকে মিথ্যাবাদী এবং কিউবান জনগণের ওপর সম্মিলিত শাস্তি চাপিয়ে দেওয়ার খলনায়ক হিসেবে অভিহিত করেন। এদিকে মিয়ামির যে কেন্দ্রে রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগ ঘোষণা করা হয়, সেখানে কিউবান নির্বাসিত ও বিরোধী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ১৯৯৬ সালের হামলায় নিহতদের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে আবেগাপ্লুত অনেক কিউবান-আমেরিকান এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান এবং ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যেভাবে মার্কিন বিচার বিভাগের পরোয়ানার ভিত্তিতে একটি সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আটক করার চেষ্টা করা হয়েছিল, রাউল কাস্ত্রোর ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসন একই ধরনের কোনো সামরিক অভিযানের অজুহাত খুঁজছে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে। কিউবার সরকারি গণমাধ্যমগুলোও এই অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ দাবি করে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে মার্কিন চাপের মুখে তারা কোনো অবস্থাতেই আত্মসমর্পণ বা আপস করবে না। সূত্র: বিবিসি।