স্বাস্থ্য

'হামে শিশুমৃত্যুর দায়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ছয় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় একটি হাসপাতাল বন্ধ করা হলে, হামে ৬০০ এর বেশি শিশুর মৃত্যুর দায়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির ও দলটির মনোনীত মেয়র প্রার্থী সেলিম উদ্দিন।

 

শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর ভাটারায় ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় তিনি স্বাস্থ্য খাতের নানা অনিয়ম ও সংকট নিয়েও সমালোচনা করেন।

 

সেলিম উদ্দিন বলেন, দেশে হামে শিশু মৃত্যুর মিছিল শুরু হয়েছে। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাব ও অদক্ষতার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে শুধু কথার রাজনীতি করছে। অথচ সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

 

 

তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে রোগীরা ওষুধ পান না, অথচ সেই ওষুধ বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত বরাদ্দ নিয়ে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি কিনে হাসপাতালে ফেলে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

এ সময় জরুরি টিকার পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা, হাসপাতালে শয্যা ও আইসিইউর সংখ্যা বাড়ানো, স্বাস্থ্যসেবায় স্বচ্ছতা ও নজরদারি জোরদার, জাতীয় সংকটে বেসরকারি ক্লিনিকগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো, স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাসেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও অসহায়ত্ব কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান সেলিম উদ্দিন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

স্বাস্থ্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
টেস্টোস্টেরন: শরীরের নীরব শক্তি ও প্রাণশক্তির অদৃশ্য চালিকাশক্তি

আমরা যখন “টেস্টোস্টেরন” শব্দটি শুনি, তখন অধিকাংশ মানুষের মনেই ভেসে ওঠে পুরুষত্ব, শক্তি কিংবা দেহের পেশীবহুল গঠন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, টেস্টোস্টেরন কেবল একটি “পুরুষ হরমোন” নয়; এটি মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক বার্তাবাহক, যা নীরবে আমাদের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে শরীর ও মনের সুস্থতা রক্ষা করে চলে।   কল্পনা করুন, আপনার শরীরটি একটি বিশাল ও ব্যস্ত নগরী। এই নগরীর প্রতিটি রাস্তা, কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সচল রাখতে প্রয়োজন দক্ষ প্রশাসনের। টেস্টোস্টেরন ঠিক সেই দক্ষ প্রশাসকের মতো, যে দৃশ্যের আড়ালে থেকে শরীরের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সমন্বয় করে। শৈশব থেকে কৈশোর, কৈশোর থেকে যৌবন, আর যৌবন থেকে বার্ধক্য—জীবনের প্রতিটি ধাপে এর প্রভাব সুস্পষ্ট।   বয়ঃসন্ধিকালে একজন কিশোরের জীবনে যে নাটকীয় পরিবর্তনগুলো দেখা যায়, তার পেছনের অন্যতম প্রধান শক্তি হলো টেস্টোস্টেরন। কণ্ঠস্বর গভীর হওয়া, মুখে ও শরীরে লোম গজানো, পেশী বৃদ্ধি, হাড়ের দৃঢ়তা অর্জন এবং প্রজনন অঙ্গের পরিপূর্ণ বিকাশ—সবকিছুর সঙ্গেই এই হরমোনের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এটি যেন প্রকৃতির এক নিখুঁত নির্মাতা, যা একজন কিশোরকে ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ প্রাপ্তবয়স্কে রূপান্তরিত করে।   তবে টেস্টোস্টেরনের গুরুত্ব শুধুমাত্র কৈশোরেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে এটি আমাদের শক্তি, কর্মক্ষমতা এবং জীবনমানের অন্যতম ভিত্তি। যৌন আকাঙ্ক্ষা, উত্থান ক্ষমতা ও শুক্রাণু উৎপাদনের মাধ্যমে এটি প্রজনন স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। একই সঙ্গে এটি পেশীর শক্তি ও গঠন বজায় রাখে, ফলে মানুষ দৈনন্দিন কাজ, খেলাধুলা কিংবা কর্মজীবনে সক্রিয় থাকতে পারে। হাড়ের ঘনত্ব রক্ষা করে এটি অস্টিওপোরোসিস ও হাড় ভাঙার ঝুঁকি কমায়। আবার লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন বাড়িয়ে শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দিতে সাহায্য করে, যা আমাদের শক্তি ও সহনশীলতার অন্যতম উৎস।   টেস্টোস্টেরনের আরেকটি বিস্ময়কর দিক হলো এর মানসিক প্রভাব। অনেকেই জানেন না যে, এই হরমোন আমাদের আত্মবিশ্বাস, উদ্যম, প্রেরণা এবং মানসিক কর্মক্ষমতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। পর্যাপ্ত টেস্টোস্টেরন একজন মানুষকে প্রাণবন্ত, কর্মঠ ও ইতিবাচক অনুভব করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে এর ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, মনমরা ভাব, অনুপ্রেরণার অভাব, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং কর্মক্ষমতা হ্রাসের কারণ হতে পারে।   সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা টেস্টোস্টেরন সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে আরও বিস্তৃত করেছে। এক সময় একে কেবল যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট হরমোন হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু বর্তমানে বিজ্ঞানীরা এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ Metabolic Hormone হিসেবেও বিবেচনা করেন। শরীরের চর্বি নিয়ন্ত্রণ, ইনসুলিনের কার্যকারিতা, গ্লুকোজ বিপাক এবং সামগ্রিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে শুধু যৌন স্বাস্থ্য নয়, ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং বিভিন্ন বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে।   চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে আজ টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি নির্ণয় ও চিকিৎসা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও উন্নত ও নির্ভরযোগ্য হয়েছে। আধুনিক ল্যাবরেটরি প্রযুক্তির মাধ্যমে হরমোনের মাত্রা নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির বিভিন্ন আধুনিক পদ্ধতি—ইনজেকশন, জেল, ওরাল এবং ন্যাসাল ফর্মুলেশন—রোগীদের জন্য আরও কার্যকর ও সুবিধাজনক সমাধান নিয়ে এসেছে। যথাযথ রোগী নির্বাচন ও নিয়মিত চিকিৎসক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই চিকিৎসা জীবনযাত্রার মান, শারীরিক সক্ষমতা, হাড়ের স্বাস্থ্য এবং বিপাকীয় কার্যক্রম উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   আজকের দ্রুতগতির জীবনে আমরা প্রায়ই ক্লান্তি, কর্মক্ষমতা হ্রাস, ওজন বৃদ্ধি, মানসিক অবসাদ বা যৌন স্বাস্থ্যের পরিবর্তনকে স্বাভাবিক বার্ধক্যের অংশ বলে মনে করি। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই এসব লক্ষণের পেছনে টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তাই সচেতনতা, সময়মতো মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   এ কারণেই একটি মানসম্পন্ন ও আধুনিক ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরিতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার (Health Check-up) অংশ হিসেবে টেস্টোস্টেরন মূল্যায়নকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত, বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে। একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষাই ব্যক্তির হরমোনগত অবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে, সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে এবং চিকিৎসককে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা জীবনধারাগত পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে।   টেস্টোস্টেরন তাই শুধু একটি হরমোন নয়; এটি আমাদের শক্তি, আত্মবিশ্বাস, সুস্থতা ও কর্মক্ষমতার নীরব রক্ষক। মানবদেহের এই অদৃশ্য শক্তিকে বোঝা এবং প্রয়োজনে মূল্যায়ন করা আধুনিক প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত। কারণ সুস্থ জীবনের ভিত্তি গড়ে ওঠে তখনই, যখন আমরা শরীরের নীরব সংকেতগুলোকেও গুরুত্ব দিতে শিখি।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হলুদ খাওয়ার উপকারিতা নিয়ে প্রচলিত ধারণাগুলো কতটা সত্য

ছবি: সংগৃহীত

দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত চিকিৎসক আসাদকে দেখতে হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

শিশুদের কান পাকা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় করণীয় সম্পর্কে জানুন

ছবি: সংগৃহীত
চুল সুন্দর রাখতে ঘরোয়া যত্নের সহজ টোটকা

নারীর সৌন্দর্যের অন্যতম অংশ চুল। সেই চুলকে ঘন ও কালো দেখাতে প্রয়োজন নিয়মিত পরিচর্যা। আর চুলের পরিচর্যা বাঙালি নারীর জীবনচর্চার এক অনুষঙ্গ। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার ব্যক্তিত্ব ও সৌন্দর্য, জড়িয়ে আছে রুচি আর আভিজাত্য। আর চুলের পরিচর্যা নিয়ে নারীদের মনে রয়েছে একটি নিজস্ব জগৎ, যা বাইরের দুনিয়া থেকে আলাদা।   চুলের পরিচর্যায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ঘরোয়া টোটকা। এসব টোটকায় রয়েছে মেহেদিপাতা, ডিম, অ্যালোভেরা, নিমপাতা, লেবুর রস, মধু, অলিভ অয়েল, কলা, ক্যাস্টার অয়েল, টক দই, আমলকী, জবা ফুল, বিভিন্ন মসলা, ফল, সবজি, রসুন-পিঁয়াজ ইত্যাদি। এগুলোর আবার একেকটির একেক রকম কাজ। কোনোটি চুল কালো ও উজ্জ্বল করে, কোনোটি চুল করে মসৃণ, কোনোটি আবার চুল গজায় তো কোনোটি চুল পড়া রোধ করে।   একবিংশ শতকে চুলের যত্নে ভেষজ দ্রব্যের ব্যবহার যেমন হয়ে থাকে, তেমনি হয়ে থাকে রাসায়নিক দ্রব্যে তৈরি পণ্যেরও। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, হেয়ার কালার, হেয়ার কাট। তবে চুলের যত্নে রাসায়নিক দ্রব্যের চেয়ে মানুষ সম্ভবত ভেষজ দ্রব্যের প্রতিই বেশি আস্থাশীল। যা-ই ব্যবহার করা হোক- ঘন কালো চুলের আকাঙ্ক্ষা সব নারীরই আছে। নিয়ম মেনে চললে মিলবে কাঙ্ক্ষিত ফল।   স্যাঁতসেঁতে আর্দ্র আবহাওয়ায় একদিন অন্তর তেল দেওয়া ঠিক নয়। চুল যদি শুষ্ক প্রকৃতির হয় তাহলে সপ্তাহে একবার তেল ম্যাসাজ করাই যথেষ্ট। স্বাভাবিক কিংবা তৈলাক্ত চুলের ক্ষেত্রে দুই সপ্তাহে একবার চুলে তেল দিন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার চুল ধুয়ে নিন। শ্যাম্পু করলে খুব অল্প পরিমাণে শ্যাম্পু নিয়ে চুল এবং স্ক্যাল্প পরিষ্কার করুন। শেষবার চুল ধোয়ার সময় অ্যাপল সাইডার ভিনিগার ব্যবহার করতে পারেন। এতে চুলে জেল্লা আসবে।   দুই থেকে তিন মাস অন্তর একবার চুল ট্রিম করাতে পারেন। শুধু চুলের আগার খানিকটা অংশ কাটুন। এতে দৈর্ঘ্য বিশেষ কমবে না, আগা ফাটা সমস্যা থাকলে কমে যাবে। এ ছাড়া প্রতিদিন রাতে নন-অয়েলি হারবাল হেয়ার টনিক লাগাতে পারেন স্ক্যাল্পে। সারা রাত রেখে দিন। নিয়ম করে খাওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা ঘুমও খুব জরুরি। মনে রাখবেন, শরীর সুস্থ থাকলে তবেই ত্বক এবং চুল ভালো থাকবে।   অন্যদিকে, চুল লালচে বা বাদামি হওয়ার কারণ অনেকের ডায়েটে প্রোটিনের পর্যাপ্ত অভাব। অতিরিক্ত রোদ থেকেও অনেকের ক্ষেত্রে এমন সমস্যা হতে পারে। সব সময় চেষ্টা করুন পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন খেতে। নিয়মিত শাকসবজি, ডিম, মাছ, চিকেন, ডাল, টক দই, পনির ইত্যাদি খেতে পারেন। আর রোদে বের হলে চুলে স্কার্ফ বা টুপি দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা করুন, যাতে সরাসরি রোদ না লাগে। এক চা চামচ ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে এক টেবিল চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে গরম পানির ওপর পাত্রটি রেখে হালকা গরম করে নিন। সপ্তাহে অন্তত একবার এই তেলের মিশ্রণ চুলে লাগান। পরদিন সকালে ভালো করে ধুয়ে নিন।   ঘরোয়া টোটকা চুলের গোড়া শক্ত করে ক্যাস্টর অয়েল। ফলে চুল হয় ঘন। ১ টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল নিয়ে চুলের গোড়া এবং মাথার ত্বকে লাগিয়ে নিন। ঘণ্টাখানেক রেখে ধুয়ে ফেলুন।   মেথি চুল ঘন ও কালো করে। সে জন্য আগের রাতে পরিষ্কার পানিতে মেথি ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন সকালে মেথির দানা পিষে নিন। মেথির পেস্টটি চুলে লাগিয়ে অপেক্ষা করুন আধা ঘণ্টার মতো। এরপর শ্যাম্পু করে নিন।   মেথি এবং রসুন। এই দুটি জিনিস ব্যবহার করতে হবে সরষের তেলের সঙ্গে। রাতে কয়েকটি মেথির বীজ ভিজিয়ে রাখুন। সকালে তার সঙ্গে রসুনের একটি বা দুটি কোয়া মিশিয়ে নিয়ে থেঁতো করে নিন। তার পরে এতে হালকা গরম সরষের তেল মেশান। এই পেস্ট মাথায় লাগান। আধ ঘণ্টা রেখে হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১৮, ২০২৬
ড্রাগন ফল | ছবি: সংগৃহীত

ড্রাগন ফল কারা খেতে পারবেন না? জানালেন পুষ্টিবিদ

রান্নাঘরের দৈনন্দিন কাজে আমরা সাধারণত ট্যাপের পানিই বেশি ব্যবহার করে থাকি | ছবি: সংগৃহীত

রান্নায় ট্যাপের পানি ব্যবহার করছেন? জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

ছবি: সংগৃহীত

খাদ্যচক্রে মাইক্রোপ্লাস্টিক: মানবদেহে কতটা বিপজ্জনক

ছবি : সংগৃহীত
নিমকাঠি দিয়ে দাঁত মাজলে মিলতে পারে যেসব উপকার

এক সময় তো অনেকেই নিমকাঠি দিয়েই দাঁত মাজতেন। তাতে দাঁত ভালোও থাকত। কেন জানেন? কী উপকার হয় নিমকাঠি দিয়ে দাঁত মাজলে? পুষ্টি-বিশেষজ্ঞদের মতে, নিমকাঠিতে এমন এক ধরনের তৈলাক্ত পদার্থ আছে যা ক্ষতিকর ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে দিতে পারে।   দাঁতের যত্ন নেওয়া সুস্থ শরীর রক্ষা করার জন্য একান্ত প্রয়োজন। সেই কারণেই দাঁতের সমস্যার গোড়া থেকে সমাধান জরুরি। কিন্তু খুব সহজেই প্রাকৃতিক উপায়ের মাধ্যমে দাঁতের যত্ন রাখা সম্ভব।    সেই সমাধানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, নিমের ডাল দিয়ে দাঁত মাজা। মাউথফ্রেশনারসহ বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম উপায়ে সাময়িক কিছু উপকার হলেও,তা কখনোই দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হতে পারে না। দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য নিম ডাল খুবই উপযোগী।   দেখে নেওয়া যাক নিম ডাল কীভাবে দাঁতের উপকার করে-   দাঁতের যেকোনো অংশ ফুলে ওঠা রোধ করে। মাড়ি শক্ত করে। মুখের দুর্গন্ধ দূর করে দাঁতের সাদা রং অপরিবর্তিত রাখে।   কিন্তু নিম ডাল ব্যবহারে কিছু সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজন: নিমডাল ব্যবহারের আগে খুব ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। গাছের ডালকে অবশ্যই ভালো করে ভেঙে ব্যবহার করতে হবে।   উল্লেখ্য, নিমডালে দাঁত মাজার আগে সরিষার তেল ও লবণ দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা বাঞ্ছনীয়।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১৫, ২০২৬
প্রতীকী ছবি

বর্ষার ভ্যাপসা গরমে স্বস্তি দেবে যেসব উপকরণ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ফাইল ছবি

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৪ শিশুর মৃত্যু

সংগৃহীত ছবি

যে কারণে নিয়মিত পান করবেন আদা চা

0 Comments