স্বাস্থ্য

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে যে ১০ কারণে

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বে মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর তালিকায় এখন অসংক্রামক রোগের আধিপত্য আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ হিসাবে, ২০২৩ সালে বিশ্বের মোট ৬ কোটি ১০ লাখ মৃত্যুর মধ্যে ৩ কোটি ৩০ লাখ, অর্থাৎ প্রায় ৫৪ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিল শীর্ষ ১০টি কারণ।

 

২ অক্টোবর প্রকাশিত ডব্লিউএইচওর ‘দ্য টপ ১০ কজেস অব ডেথ’ প্রতিবেদনে ২০২৩ সালের বৈশ্বিক মৃত্যুর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, শীর্ষ ১০ মৃত্যুর কারণের আটটিই অসংক্রামক রোগ।

 

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজে। ২০২৩ সালে এ রোগে প্রায় ৯৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়, যা বিশ্বের মোট মৃত্যুর ১৬ শতাংশ। ২০০০ সালের তুলনায় এ রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে ৩০ লাখ।

 

মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ স্ট্রোক। ২০২৩ সালে এতে প্রায় ৬৮ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ১১ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি)। এ রোগে মারা গেছে প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ।

 

চতুর্থ প্রধান কারণ নিম্ন শ্বাসনালীর সংক্রমণ। ২০২৩ সালে এ রোগে ২৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব কমে আসায় রোগটি আবার বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগে পরিণত হয়েছে। এ রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ২০১৯ সালের মহামারিপূর্ব পর্যায়েও ফিরে গেছে।

পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে আলঝেইমার রোগ ও অন্যান্য ডিমেনশিয়া। ২০২৩ সালে এসব রোগে ২১ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নারীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। বিশ্বব্যাপী আলঝেইমার ও অন্যান্য ডিমেনশিয়ায় মৃত্যুর ৬৬ শতাংশই নারী।

 

ষষ্ঠ প্রধান মৃত্যুর কারণ ডায়াবেটিস। ২০২৩ সালে এ রোগে প্রায় ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ২০০০ সালের তুলনায় ডায়াবেটিসে মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।

 

সপ্তম অবস্থানে রয়েছে শ্বাসনালি, ব্রঙ্কাস ও ফুসফুসের ক্যানসার। ২০০০ সালে এ রোগে ১১ লাখ মানুষের মৃত্যু হলেও ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখে।

 

অষ্টম প্রধান কারণ উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদরোগ। এরপর নবম অবস্থানে রয়েছে কিডনি রোগ। ২০০০ সালে বিশ্বে মৃত্যুর কারণ হিসেবে কিডনি রোগের অবস্থান ছিল ১৭তম। ২০২৩ সালে তা উঠে এসেছে নবম অবস্থানে। এ সময়ে কিডনি রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে ৮৬ শতাংশ।

 

দশম অবস্থানে রয়েছে ডায়রিয়াজনিত রোগ।

 

বদলে গেছে মৃত্যুর ধরন

ডব্লিউএইচওর তথ্য বলছে, গত দুই দশকে বিশ্বে মৃত্যুর ধরনে বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০০০ সালে শীর্ষ ১০ মৃত্যুর কারণের তালিকায় থাকা এইচআইভি/এইডস এখন আর সেই তালিকায় নেই। ২০০০ সালে বিশ্বের মৃত্যুর সপ্তম প্রধান কারণ ছিল এইচআইভি/এইডস। ২০২৩ সালে তা নেমে এসেছে ২২তম অবস্থানে। এ সময়ে এ রোগে মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে ৬২ শতাংশ।

 

অন্যদিকে কিডনি রোগের মতো কিছু অসংক্রামক রোগের প্রভাব বেড়েছে। একই সময়ে ফুসফুসের ক্যানসার ও ডায়াবেটিসেও মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

 

কোভিড-১৯ও ২০২৩ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০ মৃত্যুর কারণের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। মহামারির তীব্র সময়ে ২০২০ সালে কোভিড-১৯ সরাসরি প্রায় ৫৩ লাখ এবং ২০২১ সালে ৯৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিল। ২০২৩ সালে সরাসরি কোভিড-১৯-এ মৃত্যুর সংখ্যা কমে প্রায় ৯ লাখে দাঁড়ায়। ফলে বিশ্বে মৃত্যুর কারণ হিসেবে এর অবস্থান নেমে আসে ১৪তম স্থানে।

 

আয়ের সঙ্গে বদলায় মৃত্যুর কারণ

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার সঙ্গেও মৃত্যুর কারণের ধরনে বড় পার্থক্য রয়েছে। স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে এখনো সংক্রামক রোগই বড় মৃত্যুঝুঁকি। ২০২৩ সালে এসব দেশের শীর্ষ ১০ মৃত্যুর কারণের সাতটিই ছিল সংক্রামক রোগ।

 

স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে নিম্ন শ্বাসনালীর সংক্রমণ দীর্ঘদিন ধরেই মৃত্যুর প্রধান কারণ। এ ছাড়া ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা, এইচআইভি/এইডস ও ডায়রিয়াজনিত রোগও বড় কারণ হিসেবে রয়েছে।

 

নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে চিত্রটি তুলনামূলকভাবে মিশ্র। ২০২৩ সালের শীর্ষ ১০ মৃত্যুর কারণের মধ্যে পাঁচটি ছিল অসংক্রামক রোগ, চারটি ছিল সংক্রামক, মাতৃ, নবজাতক ও পুষ্টিসংক্রান্ত রোগ এবং একটি ছিল আঘাতজনিত কারণ, সড়ক দুর্ঘটনা।

 

এই শ্রেণির দেশগুলোতে ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজ, স্ট্রোক ও সিওপিডিতে মৃত্যুর সংখ্যা ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সময়ে ডায়াবেটিসও দ্রুত বেড়েছে। ২০০০ সালে মৃত্যুর কারণের তালিকায় ১৫তম অবস্থানে থাকা ডায়াবেটিস ২০২৩ সালে উঠে এসেছে পঞ্চম স্থানে।

 

উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে অসংক্রামক রোগের আধিপত্য আরও বেশি। ২০২৩ সালের শীর্ষ ১০ মৃত্যুর কারণের আটটিই ছিল অসংক্রামক রোগ। ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজ, স্ট্রোক ও ফুসফুসের ক্যানসারে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই শ্রেণির দেশগুলোতেই কোভিড-১৯ এখনো শীর্ষ ১০ মৃত্যুর কারণের মধ্যে রয়েছে, তবে ২০২১ সালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় এ রোগে মৃত্যু ৮৫ শতাংশ কমেছে।

 

উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে শীর্ষ ১০ মৃত্যুর কারণের নয়টিই ছিল অসংক্রামক রোগ। এসব দেশে জনসংখ্যার বার্ধক্যের কারণে অধিকাংশ প্রধান রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। আলঝেইমার ও অন্যান্য ডিমেনশিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা ২০০০ সালের তুলনায় প্রায় চার গুণ হয়েছে। ২০২৩ সালে এসব রোগ উচ্চ আয়ের দেশগুলোর মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে।

 

কেন মৃত্যুর কারণ জানা জরুরি

ডব্লিউএইচও বলছে, মানুষ কেন মারা যায়, তা জানা শুধু মৃত্যুর হিসাব রাখার জন্য নয়। কোন রোগ বা ঝুঁকি প্রতিরোধ করা সম্ভব, কোথায় স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন বেশি এবং কোন পদক্ষেপ কার্যকর হচ্ছে, তা নির্ধারণেও এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

 

মৃত্যুর কারণের নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি পরিবহন, খাদ্য ও কৃষি এবং পরিবেশ সুরক্ষার মতো ক্ষেত্রেও নীতি নির্ধারণ করা যায়। বয়স, লিঙ্গ ও ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী এসব তথ্য বিশ্লেষণ করলে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকির বৈষম্যও চিহ্নিত করা সম্ভব।

 

ডব্লিউএইচওর ২০২৬ সালের গ্লোবাল হেলথ এস্টিমেটস ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৬০টির বেশি রোগ ও আঘাতের কারণে মৃত্যু এবং রোগের প্রবণতার তথ্য তুলে ধরেছে।

 

সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

স্বাস্থ্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে যে ১০ কারণে

বিশ্বে মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর তালিকায় এখন অসংক্রামক রোগের আধিপত্য আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ হিসাবে, ২০২৩ সালে বিশ্বের মোট ৬ কোটি ১০ লাখ মৃত্যুর মধ্যে ৩ কোটি ৩০ লাখ, অর্থাৎ প্রায় ৫৪ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিল শীর্ষ ১০টি কারণ।   ২ অক্টোবর প্রকাশিত ডব্লিউএইচওর ‘দ্য টপ ১০ কজেস অব ডেথ’ প্রতিবেদনে ২০২৩ সালের বৈশ্বিক মৃত্যুর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, শীর্ষ ১০ মৃত্যুর কারণের আটটিই অসংক্রামক রোগ।   বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজে। ২০২৩ সালে এ রোগে প্রায় ৯৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়, যা বিশ্বের মোট মৃত্যুর ১৬ শতাংশ। ২০০০ সালের তুলনায় এ রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে ৩০ লাখ।   মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ স্ট্রোক। ২০২৩ সালে এতে প্রায় ৬৮ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ১১ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি)। এ রোগে মারা গেছে প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ।   চতুর্থ প্রধান কারণ নিম্ন শ্বাসনালীর সংক্রমণ। ২০২৩ সালে এ রোগে ২৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব কমে আসায় রোগটি আবার বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগে পরিণত হয়েছে। এ রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ২০১৯ সালের মহামারিপূর্ব পর্যায়েও ফিরে গেছে। পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে আলঝেইমার রোগ ও অন্যান্য ডিমেনশিয়া। ২০২৩ সালে এসব রোগে ২১ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নারীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। বিশ্বব্যাপী আলঝেইমার ও অন্যান্য ডিমেনশিয়ায় মৃত্যুর ৬৬ শতাংশই নারী।   ষষ্ঠ প্রধান মৃত্যুর কারণ ডায়াবেটিস। ২০২৩ সালে এ রোগে প্রায় ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ২০০০ সালের তুলনায় ডায়াবেটিসে মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।   সপ্তম অবস্থানে রয়েছে শ্বাসনালি, ব্রঙ্কাস ও ফুসফুসের ক্যানসার। ২০০০ সালে এ রোগে ১১ লাখ মানুষের মৃত্যু হলেও ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখে।   অষ্টম প্রধান কারণ উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদরোগ। এরপর নবম অবস্থানে রয়েছে কিডনি রোগ। ২০০০ সালে বিশ্বে মৃত্যুর কারণ হিসেবে কিডনি রোগের অবস্থান ছিল ১৭তম। ২০২৩ সালে তা উঠে এসেছে নবম অবস্থানে। এ সময়ে কিডনি রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে ৮৬ শতাংশ।   দশম অবস্থানে রয়েছে ডায়রিয়াজনিত রোগ।   বদলে গেছে মৃত্যুর ধরন ডব্লিউএইচওর তথ্য বলছে, গত দুই দশকে বিশ্বে মৃত্যুর ধরনে বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০০০ সালে শীর্ষ ১০ মৃত্যুর কারণের তালিকায় থাকা এইচআইভি/এইডস এখন আর সেই তালিকায় নেই। ২০০০ সালে বিশ্বের মৃত্যুর সপ্তম প্রধান কারণ ছিল এইচআইভি/এইডস। ২০২৩ সালে তা নেমে এসেছে ২২তম অবস্থানে। এ সময়ে এ রোগে মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে ৬২ শতাংশ।   অন্যদিকে কিডনি রোগের মতো কিছু অসংক্রামক রোগের প্রভাব বেড়েছে। একই সময়ে ফুসফুসের ক্যানসার ও ডায়াবেটিসেও মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   কোভিড-১৯ও ২০২৩ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০ মৃত্যুর কারণের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। মহামারির তীব্র সময়ে ২০২০ সালে কোভিড-১৯ সরাসরি প্রায় ৫৩ লাখ এবং ২০২১ সালে ৯৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিল। ২০২৩ সালে সরাসরি কোভিড-১৯-এ মৃত্যুর সংখ্যা কমে প্রায় ৯ লাখে দাঁড়ায়। ফলে বিশ্বে মৃত্যুর কারণ হিসেবে এর অবস্থান নেমে আসে ১৪তম স্থানে।   আয়ের সঙ্গে বদলায় মৃত্যুর কারণ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার সঙ্গেও মৃত্যুর কারণের ধরনে বড় পার্থক্য রয়েছে। স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে এখনো সংক্রামক রোগই বড় মৃত্যুঝুঁকি। ২০২৩ সালে এসব দেশের শীর্ষ ১০ মৃত্যুর কারণের সাতটিই ছিল সংক্রামক রোগ।   স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে নিম্ন শ্বাসনালীর সংক্রমণ দীর্ঘদিন ধরেই মৃত্যুর প্রধান কারণ। এ ছাড়া ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা, এইচআইভি/এইডস ও ডায়রিয়াজনিত রোগও বড় কারণ হিসেবে রয়েছে।   নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে চিত্রটি তুলনামূলকভাবে মিশ্র। ২০২৩ সালের শীর্ষ ১০ মৃত্যুর কারণের মধ্যে পাঁচটি ছিল অসংক্রামক রোগ, চারটি ছিল সংক্রামক, মাতৃ, নবজাতক ও পুষ্টিসংক্রান্ত রোগ এবং একটি ছিল আঘাতজনিত কারণ, সড়ক দুর্ঘটনা।   এই শ্রেণির দেশগুলোতে ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজ, স্ট্রোক ও সিওপিডিতে মৃত্যুর সংখ্যা ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সময়ে ডায়াবেটিসও দ্রুত বেড়েছে। ২০০০ সালে মৃত্যুর কারণের তালিকায় ১৫তম অবস্থানে থাকা ডায়াবেটিস ২০২৩ সালে উঠে এসেছে পঞ্চম স্থানে।   উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে অসংক্রামক রোগের আধিপত্য আরও বেশি। ২০২৩ সালের শীর্ষ ১০ মৃত্যুর কারণের আটটিই ছিল অসংক্রামক রোগ। ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজ, স্ট্রোক ও ফুসফুসের ক্যানসারে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই শ্রেণির দেশগুলোতেই কোভিড-১৯ এখনো শীর্ষ ১০ মৃত্যুর কারণের মধ্যে রয়েছে, তবে ২০২১ সালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় এ রোগে মৃত্যু ৮৫ শতাংশ কমেছে।   উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে শীর্ষ ১০ মৃত্যুর কারণের নয়টিই ছিল অসংক্রামক রোগ। এসব দেশে জনসংখ্যার বার্ধক্যের কারণে অধিকাংশ প্রধান রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। আলঝেইমার ও অন্যান্য ডিমেনশিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা ২০০০ সালের তুলনায় প্রায় চার গুণ হয়েছে। ২০২৩ সালে এসব রোগ উচ্চ আয়ের দেশগুলোর মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে।   কেন মৃত্যুর কারণ জানা জরুরি ডব্লিউএইচও বলছে, মানুষ কেন মারা যায়, তা জানা শুধু মৃত্যুর হিসাব রাখার জন্য নয়। কোন রোগ বা ঝুঁকি প্রতিরোধ করা সম্ভব, কোথায় স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন বেশি এবং কোন পদক্ষেপ কার্যকর হচ্ছে, তা নির্ধারণেও এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।   মৃত্যুর কারণের নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি পরিবহন, খাদ্য ও কৃষি এবং পরিবেশ সুরক্ষার মতো ক্ষেত্রেও নীতি নির্ধারণ করা যায়। বয়স, লিঙ্গ ও ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী এসব তথ্য বিশ্লেষণ করলে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকির বৈষম্যও চিহ্নিত করা সম্ভব।   ডব্লিউএইচওর ২০২৬ সালের গ্লোবাল হেলথ এস্টিমেটস ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৬০টির বেশি রোগ ও আঘাতের কারণে মৃত্যু এবং রোগের প্রবণতার তথ্য তুলে ধরেছে।   সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

কফি পানের ৫ সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতা

ফাইল ছবি

মানসিক চাপ কমাতে ‘ডার্ক শাওয়ারিং’: কতটুকু বাস্তবসম্মত পদ্ধতি?

ছবি: সংগৃহীত

দুর্গাপূজায় টানা ৯ দিন বন্ধ থাকবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, ভর্তি ১,১৬৩ জন

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১৬৩ জন।     শুক্রবার (২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।       স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২৫০ জন। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরেই প্রাণ হারিয়েছেন ১৪৮ জন।       এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৮২ হাজার ৭৬১ জন।       তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায়। দেশে বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০২, ২০২৬

ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৭৮

ছবি: সংগৃহীত

তরুণ বয়সেই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় যে কারণ

সংগৃহীত ছবি

ঘুম তাড়ানোর পাশাপাশি কফির আরও যত উপকার

সংগৃহীত ছবি
ত্বকে ঘি মাখার আগে জানুন উপকারিতা ও ঝুঁকি

রান্নাঘরের পরিচিত উপকরণ ঘি এখন জায়গা করে নিচ্ছে রূপচর্চাতেও। শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখা কিংবা ত্বককে সাময়িকভাবে নরম অনুভব করাতে অনেকে মুখে ঘি ব্যবহার করেন। ঘরোয়া ফেসপ্যাকেও অল্প পরিমাণ ঘি মেশানোর চল রয়েছে।   ঘিতে কিছু চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন ও অন্যান্য উপাদান থাকে। এগুলো ত্বকে মসৃণতা ও আর্দ্রতার অনুভূতি দিতে পারে। তবে মুখে ঘি লাগালেই দাগ দূর হবে, বলিরেখা কমবে বা সব ধরনের ত্বকের সমস্যা চলে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই ত্বকের ধরন বুঝে ঘি ব্যবহার করা জরুরি।   মুলতানি মাটি ও ঘি শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে এক চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে সামান্য ঘি ও প্রয়োজনমতো পানি মিশিয়ে প্যাক তৈরি করা যায়। মুখে পাতলা করে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। তবে মুলতানি মাটি অনেকের ত্বক আরও শুষ্ক করে দিতে পারে। তাই অতিরিক্ত শুষ্ক বা সংবেদনশীল ত্বকে এটি ব্যবহারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।   বেসন, হলুদ ও ঘি এক চামচ বেসনের সঙ্গে সামান্য হলুদ ও অল্প ঘি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করা যায়। প্রয়োজন হলে এতে সামান্য পানি যোগ করা যেতে পারে। মুখে লাগিয়ে প্রায় ১০ মিনিট পর আলতোভাবে ধুয়ে ফেলুন।   এ ধরনের প্যাকে লেবুর রস মেশানোর বিষয়ে সতর্ক থাকা ভালো। লেবু বা অন্যান্য ফলের রস ত্বকে জ্বালা ও প্রদাহ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে রোদে যাওয়ার পর ত্বকে প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।   ঘি ও জাফরান এক চিমটি জাফরানের সঙ্গে অল্প ঘি মিশিয়ে হালকা পেস্ট তৈরি করা যায়। মুখ ও গলায় খুব আলতোভাবে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন। ঘি খুব বেশি ব্যবহার করলে মুখ অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে জোরে ঘষাঘষি বা দীর্ঘ সময় ম্যাসাজ না করাই ভালো। অতিরিক্ত ঘর্ষণে সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালা বা অস্বস্তি বাড়তে পারে।   দুধ, বেসন ও ঘি শুষ্ক ত্বকের জন্য বেসন, সামান্য দুধ ও অল্প ঘি মিশিয়ে প্যাক তৈরি করা যায়। পরিষ্কার মুখে লাগিয়ে প্রায় ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এরপর ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।   তবে সপ্তাহে একবার এ ধরনের প্যাক ব্যবহার করলেই ত্বকের দাগ দূর হবে বা ত্বকের রং বদলে যাবে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই। ঘরোয়া ফেসপ্যাক মূলত সাময়িকভাবে ত্বককে নরম ও মসৃণ অনুভব করাতে পারে।   সবার ত্বকে কি ঘি মানাবে? ঘি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সতর্কতা প্রয়োজন তৈলাক্ত ও ব্রণপ্রবণ ত্বকে। মুখে ভারী বা তেলতেলে উপাদান ব্যবহার করলে কারও কারও অস্বস্তি হতে পারে। ব্রণপ্রবণ ত্বকের ক্ষেত্রে ত্বক বিশেষজ্ঞরা সাধারণত ‘নন-কমেডোজেনিক’, অর্থাৎ ত্বকের রন্ধ্র বন্ধ করার ঝুঁকি কম এমন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দেন।   নতুন কোনো ঘরোয়া উপাদান মুখে ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। লালচে ভাব, চুলকানি, ফোলাভাব বা জ্বালাপোড়া দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।   তাই ত্বকের যত্নে ঘি ব্যবহার করতে চাইলে অল্প পরিমাণে এবং নিজের ত্বকের ধরন বুঝে ব্যবহার করাই ভালো। সুস্থ ত্বকের জন্য নিয়মিত মৃদু ক্লিনজিং, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং দিনের বেলায় সানস্ক্রিন ব্যবহারের মতো প্রমাণভিত্তিক যত্ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৪৮

ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৪২

সংগৃহীত ছবি

লিভারের সমস্যা বুঝতে পায়ের যেসব লক্ষণে নজর রাখবেন

0 Comments