জাতীয়

গোর-এ শহীদ ময়দানে ঈদুল আজহার বৃহৎ জামাত, অংশ নিলেন লক্ষাধিক মুসল্লি

আক্তারুজ্জামান মে ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ঈদগাহ দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত এ জামাতে লক্ষাধিক মুসল্লি অংশ নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

 

নিরাপত্তার কড়াকড়ি ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের জামাত সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন মুসল্লিরা। দিনাজপুর ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এ জামাতে অংশ নিতে আসেন।

 

তবে কয়েকদিনের টানা ঝড়-বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকার মাঠ ও মসজিদে স্থানীয়ভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ায় আগের বছরের তুলনায় এবার মুসল্লির সংখ্যা কিছুটা কম ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

 

২১ দশমিক ৯৯ একর আয়তনের গোর-এ শহীদ ঈদগাহে ১৯৪৭ সাল থেকে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত বিশাল ঈদগাহ মিনার ও সম্প্রসারণের পর ২০১৭ সাল থেকে এখানে বৃহৎ পরিসরে জামাত আয়োজন করা হচ্ছে।

 

ভোর থেকেই মুসল্লিরা ঈদগাহ ময়দানে জড়ো হতে শুরু করেন। নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৮টায় জামাত শুরু হয়। এতে ইমামতি করেন জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি আলহাজ মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী।

 

নামাজ শেষে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ, ফিলিস্তিন ও ইরানের শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের জন্যও দোয়া করা হয়।

 

ঈদের এ বৃহৎ জামাতে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সরকার অস্বস্তিতে পড়বে: বিরোধী দলীয় উপনেতা

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সরকার অস্বস্তিতে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।   বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে ঈদুল আজহার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।   তিনি বলেন, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে এবং দ্রুত এ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সরকারের জন্য তা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।   ঈদের ফিরতি যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকারকে এখনই কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।   এদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঈদের নামাজ শেষে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কোলাকুলি করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।   এছাড়া ধানমন্ডি ঈদগাহে জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে তিনি ঈদযাত্রা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন এবং আগাম প্রস্তুতির আহ্বান জানান।   অন্যদিকে সালামবাগ জামে মসজিদে ঈদের নামাজ শেষে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জীবনযাত্রা সহনীয় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সরকারকে সংস্কারমুখী হওয়ার আহ্বানও জানান।   সব মিলিয়ে রাজধানীতে ঈদের দিন রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যে উঠে আসে আইনশৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক চাপ এবং ঈদযাত্রা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা মন্তব্য ও প্রত্যাশা।

আক্তারুজ্জামান মে ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর গলাচিপায় ইজিবাইকের সঙ্গে সংঘর্ষে ২ জন নিহত

ছবি: সংগৃহীত

সাধারণ মানুষের কল্যাণে সরকার কাজ করবে: স্পিকার হাফিজ

ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঈদুল আজহা: দশ বছরের নির্বাসনে ‘ঘরে ফেরার’ আকুতি

ছবি: সংগৃহীত
বরিশাল কেন্দ্রীয় ঈদগাহে প্রধান জামাতে ঈদুল আজহা উদযাপন

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে বরিশালে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় নগরীর ঐতিহ্যবাহী হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় বিভাগের প্রধান ঈদ জামাত।   বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত এ জামাতে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। ভোর থেকেই ঈদগাহ ময়দান মুসল্লিদের আগমনে মুখর হয়ে ওঠে এবং নির্ধারিত সময়ে মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।   প্রধান জামাতে ইমামতি করেন এরশাদুল উলুম জামে মসজিদের খতিব আলহাজ মুফতি মোহাম্মদ আবদুর রব। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।   ঈদের জামাতে বরিশাল সদর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন, বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমনসহ প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।   নারী মুসল্লিদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়, যেখানে বিপুলসংখ্যক নারী অংশগ্রহণ করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের জামাত সম্পন্ন হয়।   নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।   বরিশাল সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ঈদ উপলক্ষে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয় বলে জানানো হয়।   এ ছাড়া নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ ও স্থানে একাধিক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জেলার শতাধিক মসজিদে সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে পর্যায়ক্রমে ঈদের নামাজ আদায় করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।   সব মিলিয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে বরিশালে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান মে ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরে মাংস বণ্টন নিয়ে দ্বন্দ্ব, ঈদের নামাজ বাদ দিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য

ছবি: সংগৃহীত

গোর-এ শহীদ ময়দানে ঈদুল আজহার বৃহৎ জামাত, অংশ নিলেন লক্ষাধিক মুসল্লি

ছবি: সংগৃহীত
ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে ঢাকা সেনানিবাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সেনা সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঢাকা সেনানিবাসে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   বৃহস্পতিবার (২৮ মে) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদের এই বিশেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাতে এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের উদ্দেশ্যে ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থান করছেন।   এর আগে সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় মোনাজাতে শরিক হন।   প্রধানমন্ত্রীর সেনানিবাস সফরকে ঘিরে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আক্তারুজ্জামান মে ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বৃষ্টি উপেক্ষা করে শোলাকিয়ায় ঈদুল আজহার জামাত, ভিজেই নামাজে লাখো মুসল্লি

বিসিবিতে যোগদান নয় প্রতিমন্ত্রী পুত্রের সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত

'ডোনাল্ড ট্রাম্প' নামে ভাইরাল মহিষটি কিনে নিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সংরক্ষণ করা হতে পারে চিড়িয়াখানায়

0 Comments