জাতীয়

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জিতলে দেশ পাল্টে যাবে, আর অপশাসন ফিরবে না: প্রধান উপদেষ্টা

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে দেশ পাল্টে যাবে এবং দেশে আর অপশাসন ফিরে আসবে না। সামনে যে নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তা দেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

আজ সোমবার সকালে সচিবদের সঙ্গে গেট টুগেদার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে তার বক্তব্য তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

প্রেস সচিব জানান, গেট টুগেদার অনুষ্ঠানে সিনিয়র সচিব ও সচিবসহ প্রায় ৭০ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রধান উপদেষ্টা সীমিত পরিসরে বক্তব্য রাখেন এবং পরে সচিবদের সঙ্গে ছবি তোলেন।

শফিকুল আলম জানান, আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, অতীতে যেসব নির্বাচন হয়েছে, সেগুলো প্রকৃত অর্থে নির্বাচন ছিল না; সেগুলো ছিল এক ধরনের ভুয়া নির্বাচন। তবে এবারের নির্বাচন হবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ। নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি এবং দেশ প্রায় লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন, এই নির্বাচন ও গণভোট দেশের রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে একটি অভূতপূর্ব পরিবর্তন নিয়ে আসবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা সরাসরি দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। অতীতে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণঅভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক আন্দোলনে প্রবাসীদের যে ভূমিকা ছিল, এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে সেই ভূমিকা আরো মর্যাদাপূর্ণ ও সুসংহত হয়েছে। এখন থেকে তারা দেশের বিভিন্ন বিষয়ে আরো বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারবেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ভোটদান প্রক্রিয়াকে সবার জন্য আরো সহজ করেছে। ভোটাররা কীভাবে ভোট দেবেন, সে বিষয়ে একটি অ্যাপ চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, সে জন্যও আলাদা নির্বাচনভিত্তিক অ্যাপ ব্যবহৃত হচ্ছে।

তিনি জানান, ‘নির্বাচন বন্ধু হটলাইন-৩৩৩’ চালু করা হয়েছে। প্রায় ২৫ হাজার ৭০০টি বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের ফলে এবারের নির্বাচন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নানা দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসছেন। এটি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে এটি প্রতিফলন করে যে, তারা বাংলাদেশের এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সময়ে অনুষ্ঠিত আগের তিনটি নির্বাচনের কোনো বৈধতা ছিল না এবং সে সময় উল্লেখযোগ্য কোনো আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকও আসেননি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এ পর্যন্ত নির্বাচনকে ঘিরে তেমন কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি হয়নি। নির্বাচনী প্রচারণা খুবই শান্তিপূর্ণভাবে হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। নেতারা যেখানে যাচ্ছেন, সেখানে মানুষের উপস্থিতি বেশি হলেও প্রচারণা শান্তিপূর্ণ থাকছে।

অধ্যাপক ইউনূস সচিবদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, গত ১৮ মাসে তারা যে কাজ করেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। প্রায় ১৩০টি অধ্যাদেশ জারি ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সচিবরা সহযোগিতামূলক ভূমিকা রেখেছেন এবং এসব কাজ দ্রুত সম্পন্ন করেছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সামনে উত্তরোত্তর উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে এসে কারখানা স্থাপন করবেন। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী একটি বিশাল সম্পদ, যা ভবিষ্যতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে অন্যান্য দেশে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়া যাবে। এই বাস্তবতার কারণে অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনে আগ্রহী হবেন।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সুন্দরভাবে নির্মিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি-সংগৃহীত
এনআইডি সংশোধনের ভোগান্তি কমাতে ইসির নতুন উদ্যোগ

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই পরিপ্রেক্ষিতে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সংস্থাটি।  গতকাল রোববার ইসির এনআইডি অনুবিভাগের সহকারী পরিচালক হাবিবা আখতারের সই করা এ সংক্রান্ত এক চিঠি থেকে বিষয়টি জানা গেছে।  চিঠিতে বলা হয়, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি কার্যক্রম সহজ করার লক্ষ্যে আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত ও দাখিল করা প্রমাণক নিরীক্ষা করার জন্য চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হলো।  কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক (নিবন্ধন ও প্রবাসী)। এছাড়া সদস্য হিসাবে রয়েছেন উপপরিচালক (নিবন্ধন ও প্রবাসী), সহকারী পরিচালক (মুদ্রণ ও বিতরণ ইউনিট), সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন সহকারী পরিচালক (সংশোধন ও প্রতিস্থাপন)। চিঠিতে কমিটির কার্যক্রম পরিধি তুলে ধরা হচ্ছে। এগুলোতে রয়েছে- চাহিত পরিবর্তনের ধরন কেমন হয়, তার শ্রেণিকরণ এবং নিষ্পত্তির জন্য প্রমাণক হিসেবে কী কী দলিল প্রয়োজন, তার তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। ‘ঘ’ ক্যাটাগরি হতে প্রমাণক অপর্যাপ্ত থাকায় বাতিল করে নিষ্পত্তিকৃত এবং পুনঃদাখিলকৃত আবেদনে পর্যাপ্ত প্রমাণক দাখিল করা হলে, সেসব আবেদন নিষ্পত্তির জন্য করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ করা। কমিটির কার্যক্রম পরিধিতে আরও আছে-  দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য করণীয় বিষয়ে সুপারিশ দেওয়া;  আবেদন ইলেকট্রনিকলি অ্যাকশন নেওয়ার সময় উদ্ভূত জটিলতা নিরসনে সিএমএস পোর্টালে কোনও ধরনের মডিফিকেশন প্রয়োজন, সে বিষয়ে মতামত প্রদান এবং এনআইডি লক-আনলক এবং রোলব্যাকের জাস্টিফিকেশন বিষয়ে সুপারিশ প্রদান। ইসির সর্বশেষ ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

নিরাপদ অভিবাসন ও দক্ষ কর্মী পাঠাতে আইওএমের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। ফাইল ছবি

সৌদি জোটে যোগ দেওয়ার কারণ জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

২০০ দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত, চাকরি হারালেন পাসপোর্ট কর্মকর্তা

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বমানের পর্যটন খাত গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার: বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী

দেশের পর্যটন খাতকে টেকসই, আধুনিক ও বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।  রোববার (২ আগস্ট) গুলশান ক্লাবে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টিওএবি) নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, পর্যটন শিল্পকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। মন্ত্রী নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নতুন নেতৃত্ব দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি জানান, সরকারের উদ্যোগে দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ট্যুরিজম মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। এই মহাপরিকল্পনা দেশের পর্যটন উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে। আফরোজা খানম বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারকে একটি আঞ্চলিক পর্যটন হাবে পরিণত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। পাশাপাশি নবনির্মিত কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ এবং পর্যটন খাতের সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।  প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেল ও মোটেলগুলোতে তাদের জন্য বিশেষ মূল্যছাড় চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, পর্যটন খাত থেকে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৬ থেকে ৭ শতাংশ অবদান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পর্যটন খাতে তথ্যের ঘাটতি দূর করতে দেশব্যাপী ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট (টিএসএ) বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কাজে টিওএবিসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। অনুষ্ঠানে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব ও নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউছার চৌধুরী, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামীমুজ্জামান, বাংলাদেশে ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কাইংলেট, শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ধর্মপালা ওয়েরাক্কোডি, ব্রুনাই দারুসসালামের হাইকমিশনার হাজী হারিস বিন হাজী ওসমান, নেপাল ও পাকিস্তান দূতাবাসের প্রতিনিধিসহ টিওএবি নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী এবং পর্যটন খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কেন দেশে ফেরানো গেল না বেনজীরকে

ছবি: সংগৃহীত

আগস্টে দুই লঘুচাপের সম্ভাবনা, হতে পারে স্বল্পমেয়াদি বন্যা

ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব বাংলাদেশের

ছবি: সংগৃহীত
জুলাইয়ে সহিংসতায় আক্রান্ত ২৯৯ নারী ও মেয়ে শিশু

একটি মাস। মাত্র ৩১ দিন। কিন্তু এই সময়েই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত ২৯৯ জন নারী ও মেয়ে শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কোথাও ধর্ষণ, কোথাও হত্যাকাণ্ড, কোথাও পারিবারিক সহিংসতা, আবার কোথাও আত্মহত্যা কিংবা রহস্যজনক মৃত্যু। প্রতিটি ঘটনাই আলাদা, কিন্তু সবকটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নারীর প্রতি সহিংসতার একই নির্মম বাস্তবতা। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদের সংরক্ষিত ১৫টি জাতীয় দৈনিক ও দুটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি মাসিক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে এই চিত্র। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোট ২৯৯ জন নারী। তাদের মধ্যে ১৩৮ জন শিশু। পরিসংখ্যান বলছে, জুলাই মাসে সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ধর্ষণের ঘটনা। এ সময়ে ৪৫ জন মেয়েশিশু ও ৩০ জন নারীসহ মোট ৭৫ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১০ জন সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার, যাদের মধ্যে চারজন শিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ছয়জনকে, যার মধ্যে দুজন কন্যা। ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করেছে একজন মেয়ে। এছাড়া ৩৫ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৭ জনই মেয়েশিশু। যৌন সহিংসতার ঘটনাও উদ্বেগজনক। জুলাই মাসে ২৪ জন নারী ও মেয়েশিশু যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১৪ জন যৌন নিপীড়নের শিকার, যাদের ১৩ জন শিশু। উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছেন ২ জন। উত্ত্যক্তের কারণে আত্মহত্যা করেছেন ২ জন, যার মধ্যে ১ শিশু রয়েছে। পাশাপাশি সাইবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৬ জন, যাদের মধ্যে ৪ জন মেয়ে শিশু। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন কারণে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ৫০ জন নারী ও মেয়ে শিশু। নিহতদের মধ্যে ১১ জন শিশু এবং ৩৯ জন নারী। এছাড়া দুজনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সময়ে ৩০ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে পাঁচজন শিশু ও ২৫ জন নারী। আত্মহত্যার ঘটনাও কম নয়। জুলাই মাসে আত্মহত্যা করেছেন ২২ জন, এর মধ্যে ৬ জন শিশু। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ রয়েছে ৬টি ঘটনায়, যার মধ্যে ১ জন মেয়ে শিশু রয়েছেন। এছাড়া অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন ১ জন।   যৌতুক-সংক্রান্ত সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৯ জন। তাদের মধ্যে ৩ জনকে যৌতুকের কারণে হত্যা করা হয়েছে। পারিবারিক সহিংসতায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৪ জন এবং গৃহকর্মী হত্যার শিকার হয়েছেন ১ জন। এ সময় অপহরণের শিকার হয়েছেন ১০ জন, যাদের মধ্যে ৬ জন মেয়ে শিশু। অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে আরও ৫ জনের ক্ষেত্রে, যার মধ্যে ২ জন মেয়ে শিশু। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৭ জন, যাদের মধ্যে ৩ জন মেয়ে শিশু। এছাড়া জুলাই মাসে ১টি বাল্যবিবাহ এবং ৫টি বাল্যবিবাহের চেষ্টার ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের অন্যান্য নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আরও ৮ জন, যাদের মধ্যে ৫ জন মেয়ে শিশু। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের মতে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব ঘটনা দেশের নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে। সংগঠনটি নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রয়োগ, দ্রুত বিচার এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

তরুণদের উদ্ভাবনেই দেশের সম্ভাবনা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দুবাইয়ের কারাগার থেকে বেনজীরের মুক্তিতে নতুন উদ্যোগের কথা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

এলপি গ্যাসের নতুন মূল্য ঘোষণা, কার্যকর সন্ধ্যা থেকে

0 Comments