জাতীয়

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো কম্প্রোমাইজ করবে না বিএনপি: তারেক রহমান

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটে রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো কম্প্রোমাইজ করবে না বিএনপি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার গঠন করতে পারলে আমাদের সর্বপ্রথম কাজ হবে আইনশৃঙ্খলা কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণ করা। আমরা এমন একটি দেশ গড়তে চাই— যেখানে মা-বোনেরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন। মানুষ নিরাপত্তার সঙ্গে চাকরি ও ব্যবসা করবে এবং রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবে।’

আজ সোমবার রাজধানীর মতিঝিলের পীরজঙ্গি মাজার রোডে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাসের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘২০০১ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে দুর্নীতি থেকে দেশকে বের করে নিয়ে এসেছিলেন, ভবিষ্যতেও সেভাবেই দুর্নীতি দমনে কাজ করবে বিএনপি। এই ব্যাপারে আইন নিজের গতিতে চলবে, কারো সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।’

একটি দলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, দেশ পরিচালনা করতে হলে দেশের মানুষের জন্য তাদের পরিকল্পনা নেই, কিন্তু বড় বড় কথা আছে।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘মঞ্চে দাঁড়িয়ে অনেকেই বড় বড় কথা বলতে পারেন, হাততালি পাওয়ার জন্য অনেকেই সুন্দর কথা বলেন। কিন্তু দেশ চালানো এত সহজ কোনো কাজ নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশ চালাতে হলে দেশের মানুষের জন্য পরিকল্পনা দরকার, কোথায় তাদের পরিকল্পনা? শুধু বড় বড় কথা আছে। দেশ চালানোর জন্য দরকার কর্মসূচি, কোথায় তাদের কর্মসূচি? দেশ চালানোর জন্য অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। তাদেরই বন্ধু-বান্ধব গত এক দেড় বছর যাবৎ দেখেছি সরকারের অংশ ছিল, তাহলে আজকে এই দুর্গতি কেন?’

তারেক রহমান বলেন, ‘এটি আজ প্রমাণিত— যদি বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের কেউ পরিবর্তন করতে পারে, দেশে যদি দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হয়, তাহলে কে পারবে? পারবে ধানের শীষ।’

দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘নারীদের উন্নয়নযাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত না করলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ কারণে বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় সারাদেশের খেটে খাওয়া পরিবারের গৃহিণীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে এবং এর মাধ্যমে সরকার প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে, যাতে পরিবারগুলো ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে।’

কৃষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কৃষক ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে। অতীতে বিএনপি সরকারের সময় কৃষকদের জন্য সুদ মওকুফ ও কৃষি জমির খাজনা মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।’

দেশের তরুণ যুবক সমাজের সদস্য যারা— ছেলে হোক মেয়ে হোক, কীভাবে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব, আইসিটিসহ ভোকেশনাল বিভিন্ন টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউশন গঠনের মাধ্যমে করব। দল-মত নির্বিশেষে, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ যাতে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে, সেই পরিকল্পনা আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি।

তারেক রহমান বলেন, উন্নয়নের নামে যে লুটপাট হয়েছে, তা দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। জনগণের করের টাকা ব্যবহার করে বড় বড় প্রকল্প করা হলেও সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার মতো মৌলিক চাহিদা উপেক্ষিত থেকেছে। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে উন্নয়নের নামে লুটপাট নয়, জনগণের বাস্তব প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হবে।

ঢাকা-৮ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আপনাদের সঠিক মানুষ বেছে নিতে হবে। যে মানুষটি এই এলাকার, তাকেই বাছাই করতে হবে। কারণ, এলাকার সমস্যা সমাধানে বাইরের কেউ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না। মনে রাখবেন, বাইরের মানুষ কখনো ঘরের মানুষকে চিনতে পারে না।’

জনসভায় ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘যে মানুষটির বেড়ে ওঠা এই এলাকায়, তিনি হচ্ছেন মির্জা আব্বাস। আগামী ১২ তারিখ পর্যন্ত আপনারা তাকে দেখে রাখুন। তার পাশে থাকুন। এরপর থেকে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মির্জা আব্বাস বিপদে আপদে আপনাদের পাশে থাকবে।’

বক্তব্যের শেষে উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, আমি আমার পরিকল্পনার কথা আপনাদের বললাম, এবার আপমারা বলুন— ১২ তারিখে আপনাদের পরিকল্পনা কী? উত্তরে উপস্থিত জনতা একসঙ্গে উচ্চস্বরে বলে ওঠেন— ১২ তারিখ সারাদিন, ধানের শীষ ভোট দিন; ১২ তারিখ সারাদিন, ভোটকেন্দ্র পাহারা দিন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
লোডশেডিংয়ে ঝুঁকিতে জয়পুরহাটের হিমাগারের আলু, বাড়ছে জেনারেটর ব্যয়

বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন জয়পুরহাটের হিমাগার মালিক, কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় হিমাগারে সংরক্ষিত বীজ ও খাবার আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আলু রক্ষায় জেনারেটর চালাতে গিয়ে হিমাগার মালিকদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি জ্বালানি খরচ।   জেলা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ১৪টি, ক্ষেতলালে চারটি, পাঁচবিবিতে দুটি এবং আক্কেলপুরে দুটি—সব মিলিয়ে ২২টি হিমাগার রয়েছে। এসব হিমাগারে প্রায় দুই লাখ টন বীজ ও খাবার আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে।   লোডশেডিংয়ের সময় হিমাগারের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে জেনারেটর চালু করতে হচ্ছে। হিমাগার মালিকদের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে জ্বালানি খরচের চাপ আরও বাড়বে।   কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের লোকসান এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি অনেকে। চলতি মৌসুমেও আলুর বাজারদর তুলনামূলক কম থাকায় তারা উদ্বিগ্ন। এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সংরক্ষিত আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তাদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়েছে।   কৃষক চঞ্চল বাবু বলেন, তিনি হিমাগারে ১০০ বস্তা আলু রেখেছেন। বাজারে আলুর দাম কম থাকায় এমনিতেই চিন্তায় আছেন। এর মধ্যে লোডশেডিংয়ের কারণে আলু নষ্ট হলে বড় ধরনের লোকসানে পড়তে হবে।   কালাইয়ের পুনট কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক বিপ্লব কুমার ঘোষ বলেন, তাদের হিমাগারে বিভিন্ন কোম্পানির বীজ আলু সংরক্ষিত রয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে তাপমাত্রা ঠিক রাখতে জেনারেটর চালাতে হয়। এতে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার টাকা অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় হচ্ছে।   আক্কেলপুরের গোপীনাথপুর হিমাগার লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী ফরহাদ আহম্মেদ জানান, বর্তমানে তাদের হিমাগারে প্রায় ছয় হাজার টন বীজ ও খাবার আলু রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে আলু নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালু রাখতে হচ্ছে। এতে ব্যবসায় অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।   পাঁচবিবির চাঁনপাড়া এলাকার মেসার্স সাথী হিমাগার-৩-এর ব্যবস্থাপক রতন কুমার চৌধুরীও একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন।   ক্ষেতলালের হিমাদ্রী লিমিটেডের ব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম বলেন, তাদের হিমাগারে প্রায় এক লাখ ৫৬ হাজার বস্তা আলু রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬ হাজার বস্তা বীজ আলু এবং বাকি আলু খাবার হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিপুল পরিমাণ আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় জেনারেটর চালিয়ে হিমাগারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।   জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আবু উমাম মো. মাহবুবুল হক বলেন, প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা একই থাকে না। বিশেষ করে রাতে চাহিদা বাড়লে লোডশেডিং করতে হয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত গরমের সময় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লোডশেডিংয়ের মাত্রাও বাড়ে। তবে আগের কয়েক দিনের তুলনায় বর্তমানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।   হিমাগার মালিক ও কৃষকদের আশঙ্কা, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল না হলে একদিকে যেমন সংরক্ষিত আলু নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে, অন্যদিকে জেনারেটর চালানোর অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে তাদের আর্থিক ক্ষতিও আরও বাড়তে পারে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সঙ্গে ৩৪ দেশের ভিসা অব্যাহতি চুক্তি, সুবিধা পাবেন যেসব পাসপোর্টধারী

ছবি: সংগৃহীত

এক দশকেও থামেনি রোহিঙ্গা সংকট, প্রত্যাবাসন এখনো অনিশ্চিত

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সংসদে দায়িত্ব পালন করবেন ৩ মন্ত্রী

৫ কেজি কুশসহ শাহজালালে দুই ভারতীয় গ্রেফতার

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৫ কেজি ৪০ গ্রাম কুশ, ৩ লিটার বিদেশি মদ ও ২৪টি ভারতীয় শাড়িসহ দুই ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি)।   গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন সানোয়ার আলী (৩৬) ও ইমতিয়াজ আহমেদ (৩৬)। তাদের কাছ থেকে ভারতীয় পাসপোর্টও উদ্ধার করা হয়েছে।   সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিমানবন্দরের নিচতলায় আগমনী হলের গ্রিন চ্যানেল থেকে তাদের আটক করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   ডিএনসি সূত্র জানায়, গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (উত্তর) ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ড. মো. আবু সাঈদ মিয়ার নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেলে অবস্থান নেয়।   এ সময় ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে আসা দুই ভারতীয় নাগরিককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে উপস্থিত সাক্ষী ও বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সামনে তাদের ট্রাভেল ট্রলি তল্লাশি করা হয়।   তল্লাশিতে কাপড়ের নিচে লুকানো ৫ কেজি ৪০ গ্রাম কুশ, ৩ লিটার বিদেশি মদ ও ২৪টি ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করা হয়।   এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়েছে। ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (উত্তর) বিমানবন্দর সার্কেলের পরিদর্শক শাহরিয়া শারমিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।   ডিএনসি জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে সহযোগী হিসেবে থাকা কয়েকজন বাংলাদেশিকে ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৫, ২০২৬

রোহিঙ্গাদের ঢল নেমেছিল ৯ বছর আগে: প্রত্যাবাসন এখনও দুঃস্বপ্ন

সরকার ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ স্টার্টআপ তহবিল গঠন করেছে : মাহবুব আনাম

ওসমান হাদি হত্যা মামলা: অস্ত্র বিক্রেতা মাজেদুলকে জামিন দেননি হাইকোর্ট

ঈদ-ই মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি

পবিত্র ঈদ-ই মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সীরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।  মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।    দায়িত্বগ্রহণের পর বঙ্গভবনের বাইরে এটি তার প্রথম কর্মসূচি।     আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে রাষ্ট্রপতি সেখানে গিয়ে মাগরিবের নামাজ আদায় করবেন। তার আগমন ঘিরে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।    উল্লেখ্য, গত ২০ আগস্ট ক্ষমতাসীন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে হারিয়ে দেশের ১১তম রাষ্ট্রপতি হন মির্জা ফখরুল। পরদিন ২১ আগস্ট বঙ্গভবনে শপথ নেন তিনি।    ২৩ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৪, ২০২৬

রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব ইউনুস আলী

ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত ও কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা পাচ্ছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।

ফৌজদারি তদন্তে এপিবিএনের ক্ষমতা অনুমোদন মন্ত্রিসভার

ছবি: সংগৃহীত

চলতি অর্থবছরে ৩.৬৫ লাখ টন সার আমদানি করবে সরকার

0 Comments