স্বাস্থ্য

গলার কোন উপসর্গ ক্যানসারের সংকেত? জেনে নিন সতর্ক হওয়ার সময়

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৫, ২০২৬
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

আমাদের শরীরে কোথাও হঠাৎ ফোলা দেখা দিলে অনেকেই সেটিকে সাধারণ সমস্যা ভেবে গুরুত্ব দিই না। বিশেষ করে গলায় ছোট একটি ফোলা হলে অনেকেই মনে করেন— এটি সর্দি-কাশি কিংবা সংক্রমণের কারণে হয়েছে। আর দীর্ঘস্থায়ী গলাব্যথা, গলার স্বর পরিবর্তন, খাবার গিলতে সমস্যা এবং ঘাড়ে চাকা অনুভব করা গলার ক্যানসারের প্রধান লক্ষণ। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এ জাতীয় সমস্যা থাকলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।


এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, গলার ফোলা সবসময় সাধারণ সমস্যা নাও হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি থাইরয়েড ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে। তবে এ ক্যানসার যদি শুরুতেই ধরা পড়ে, তাহলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব হয়।

 

থাইরয়েড ক্যানসার এমন একটি রোগ, যা প্রথম দিকে শনাক্ত করা গেলে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কারণ বেশিরভাগ থাইরয়েড ক্যানসার ধীরে ধীরে বাড়ে। তাই সময়মতো পরীক্ষা করালে এবং চিকিৎসা শুরু করলে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।  


বিশেষ করে গলায় ফোলা থাকলে তা কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ যদি ফোলাটি ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এ ছাড়া আরও কয়েকটি লক্ষণের দিকে নজর রাখা দরকার। যেমন— হঠাৎ কণ্ঠস্বর বদলে যাওয়া কিংবা দীর্ঘদিন কর্কশ হয়ে থাকা। খাবার গিলতে অসুবিধা হওয়া কিংবা শ্বাস নিতে সমস্যা হওয়া বা গলায় চাপ অনুভব করা। এ ধরনের সমস্যা কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকলে অবশ্যই পরীক্ষা করানো উচিত।


আর লক্ষণগুলোর মানেই যে ক্যানসার, এমন নয়। অনেক সময় থাইরয়েডের সাধারণ সমস্যা, সংক্রমণ বা অন্য কোনো কারণেও এমনটি হতে পারে। তাই ভয় না পেয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে শ্রেয়।

 

থাইরয়েড ক্যানসার নির্ণয়ের জন্য সাধারণত শারীরিক পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড, রক্ত পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে বায়োপসি করা হয়। রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক ঠিক করেন কী ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন।

 

আবার রোগের ধরন ও পর্যায় অনুযায়ী চিকিৎসা ভিন্ন হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার করে থাইরয়েড গ্রন্থির আক্রান্ত অংশ বা পুরো গ্রন্থি বাদ দেওয়া হয়। প্রয়োজনে রেডিওঅ্যাকটিভ আয়োডিন থেরাপি, ওষুধ বা অন্যান্য চিকিৎসাও দেওয়া হয়। আধুনিক চিকিৎসার ফলে এখন থাইরয়েড ক্যানসারে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

স্বাস্থ্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
খাদ্যচক্রে মাইক্রোপ্লাস্টিক: মানবদেহে কতটা বিপজ্জনক

নদ-নদীর মাছ কিংবা টুথপেস্ট নানা মাধ্যমে খাদ্যচক্রে ঢুকে পড়া মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহের জন্য কতটা বিপজ্জনক, সেই জিজ্ঞাসা ক্রমে জোরালো হচ্ছে।   প্লাস্টিকের এ ক্ষুদ্র কণা শরীরে ঢুকলেই কি বিপদ ডেকে আনতে পারে; কিংবা কতটুকু প্রবেশ করলে ক্ষতি হয়, আর কতটুকুতে ক্ষতি হয় না— এমন নানা প্রশ্ন আছে মানুষের।   গবেষকরা বলছেন, খাদ্যচক্রের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে ঢুকে পড়লেই যে তা বিপদ ঘটাবে, সেটা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে শরীরে এর পরিমাণ বেড়ে গেলে যে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে, সেটা অনেকটা নিশ্চিত হওয়া গেছে।   সম্প্রতি বেসরকারি সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) দাবি করেছে, দেশে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে তারা ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পেয়েছে।   তিন বছরের গবেষণা শেষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের একদল গবেষক বলেছে, সাগর ও নদ-নদী মিলিয়ে তারা ১৩ ধরনের মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক পেয়েছে।   এসব গবেষণার মানে দাঁড়াচ্ছে, প্লাস্টিকের এসব ক্ষুদ্র কণা মানবদেহে প্রবেশ করছে। মানবদেহে এসব প্লাস্টিক কণা কী কী বিপদ ঘটাচ্ছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তর গবেষণা হয়নি।   তবে বাংলাদেশের একদল গবেষকের দাবি, মানবদেহে এর ক্ষতিকর প্রভাব বুঝতে তারা ইঁদুরের ওপর দুই বছর ধরে গবেষণা চালিয়েছেন। তাতে মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সাত ধরনের ঝুঁকি তৈরির প্রমাণ পেয়েছেন তারা।   এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, হয় প্লাস্টিকের ব্যবহার থেকে ক্রমে সরে আসতে হবে, নয়ত বৈজ্ঞানিক উপায়ে এর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।   ইঁদুরের ক্ষেত্রে কী প্রভাব মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো, ৫ মিলিমিটার বা তার চেয়ে ছোট আকারের ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা, যা সাধারণত খালি চোখে দেখা যায় না।   এই প্লাস্টিক কণার প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের তৈরি গবেষণা প্রতিবেদনটি সপ্তাহ দুয়েক আগে ছাপা হয় আন্তর্জাতিক ‘ইমার্জিং কনটামিনেন্টস’ সাময়িকীতে।   চারজন মিলে এ গবেষণা করেছেন, যাদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ফিরোজ জামানও আছেন।   তিনি বলেন, “মানবশরীরে কী প্রভাব পড়তে পারে, সেটা পরীক্ষা করার জন্য আমরা নমুনা প্রাণী হিসেবে স্তন্যপায়ী ইঁদুরকে নিয়েছি। এর মানে হলো, ইঁদুরের যেভাবে ক্ষতি হচ্ছে, মানবদেহেরও একই রকম ক্ষতি হবে।”   মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের ফলে স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে নানা প্রভাব পড়ার তথ্য তুলে ধরেন এ গবেষক।   ফিরোজ জামান বলেন, “অনেক রকমের ক্ষতি আছে। আয়ুষ্কাল কমিয়ে দেয়; কিডনির ক্ষতি করে, লিভারে ক্ষতি করে, কোষ ড্যামেজ করে। ছয় থেকে সাতটা প্রভাব আছে।”   তিনি বলেন, “আমরা দুই বছর কাজ করেছি। মাইক্রোপ্লাস্টিকের ফিড তৈরি করে ওদেরকে খাইয়েছি। তারপরে প্রভাব দেখেছি— কোষে কী প্রভাব পড়ে, কিডনিতে কী প্রভাব পড়ে, ব্লাড সেল ডেভলপমেন্টে কীভাবে প্রভাব পড়ে।”   এ গবেষণায় ইঁদুরের খাবারে বিভিন্ন মাত্রায় পিভিসি মাইক্রোপ্লাস্টিক মিশিয়ে এর প্রভাব পরীক্ষা করা হয়। প্রায় ১২৫ মাইক্রোমিটার আকারের এসব মাইক্রোপ্লাস্টিক খাবারের সঙ্গে ৫ শতাংশ, ১০ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ হারে মিশিয়ে ১৩ সপ্তাহ ধরে ইঁদুরকে খাওয়ানো হয়।   গবেষণায় দেখা যায়, উচ্চমাত্রার, অর্থাৎ ১০ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ মাইক্রোপ্লাস্টিক ইঁদুরের বৃদ্ধি, রক্তকণিকার গঠন এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের নির্দেশকের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। এতে যকৃৎ, অন্ত্র ও কিডনির টিস্যুতেও ক্ষতিকর পরিবর্তন দেখা যায়। তবে মাইক্রোপ্লাস্টিক জমতে দেখা গেছে শুধু অন্ত্রের টিস্যুতে।   উচ্চমাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক ইঁদুরের বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। আবার শরীরের ওজনের তুলনায় যকৃতের ওজন বেড়ে যায়।   মাইক্রোপ্লাস্টিক দেওয়া ইঁদুরগুলোর লোহিত রক্তকণিকার আকৃতি অস্বাভাবিক দেখা গেছে। তবে মোট রক্তকণিকার সংখ্যায় তেমন পার্থক্য পাওয়া যায়নি।   সাগর, নদ-নদী ও খাল-বিলের মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক মো. শাহজাহানসহ এক দল গবেষক ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ নিয়ে মাছের উপর গবেষণা চালিয়েছেন।   গবেষণা দলের প্রধান এ অধ্যাপক জানান, সাগরের দুটি মাছে (চট্টগ্রাম ও কুয়াকাটায়) লইট্টা ও ছুরি শুটকিতে; বহ্মপুত্র নদে দুটি, চলনবিলে তিনটি মাছে এবং আড়িয়াল বিলে পাঁচটি দেশি মাছে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা মিলেছে।   আড়িয়াল বিলের পাঁচ মাছ হলো, কই, বাটা, মেনি, গুলশা টেংরা ও পুঁটি।   এছাড়া চট্টগ্রাম ও কুয়াকাটা থেকে সংগৃহীত বোম্বে ডাক, রিবন ফিশ ও ফাইসা মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।   গবেষণা দেখা গেছে, মাছের অন্ত্র, ফুলকা ও মাংসে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কই মাছে গড়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে ১ থেকে ১ দশমিক ৯০টি।   অধিকাংশ মাইক্রোপ্লাস্টিক ছিল ফাইবার আকৃতির, যেগুলোর আকার ১০১ থেকে ৩০০ মাইক্রোমিটারের মধ্যে।   মাইক্রোপ্লাস্টিকের সহনীয় মাত্রার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অধ্যাপক মো. শাহজাহান বলেন, “নরমালি অন্য টক্সিডেন্টের ক্ষেত্রে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন বা ফুড অর্গানাইজেশন এর মাত্রা ডিটেক্ট করে। কিন্তু মাইক্রোপ্লাস্টিকের ক্ষেত্রে এরকম কোনো স্ট্যান্ডার্ড এখনো বৈশ্বিকভাবে তৈরি হয়নি।”   তিনি বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক এখনো কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে, এরকম প্রতিবেদন নেই। তবে মাইক্রোপ্লাস্টিক যখন ফ্রাগমেন্টেড হয়ে ন্যানোপ্লাস্টিক হয় এবং ন্যানোপ্লাস্টিক আবার ব্লাড স্ট্রিমে বা মাসেলে ডিপোজিট হয়, তখন সেটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ বাড়েছে বলে মনে করেন এই গবেষক।   তার মতে, “এভাবে চলতে থাকলে ২০৫০ সালে গিয়ে দেখা যাবে, সমুদ্রে যে পরিমাণ মাছ, ওই পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক।”   ২০২৫ সালে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক শাহজাহান বলেন, কর্ণফুলী টানেল তৈরির সময় দেখা যায়, তলদেশ প্রায় দুই-তিন ফুট স্তর হয়ে গেছে প্লাস্টিক মেটেরিয়ালস পলিথিন দিয়ে। এই পলিথিনই তো ভাঙতে ভাঙতে মাইক্রোপ্লাস্টিক হয়।   “ব্রাশ ব্যবহার করি, টুথপেস্ট ব্যবহার করি, প্রসাধনী ব্যবহার করি— এগুলোতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকে। এগুলোই তো পরিবেশে যাচ্ছে।”   মানবদেহে কী প্রভাব খাদ্যচক্রে মাইক্রোপ্লাস্টিক ঢুকে পড়ার তথ্য তুলে ধরে অধ্যাপক ফিরোজ জামান বলেন, “মাইক্রোপ্লাস্টিকগুলো ইকোসিস্টেমে ফুডের সঙ্গে কনটামিনেটেড হয়ে মাছের মাধ্যমে মানুষের দেহে চলে আসছে। মাছের মাধ্যমে অথবা শস্য যখন উৎপাদন হয়, ওই পানিটা যদি কেউ ব্যবহার করে, পানিটা শস্যের কোষের ধ্যে ঢুকে সেখান থেকে শাক-সবজি যা খাচ্ছি, সেগুলোর মাধ্যমেও চলে আসছে মানব শরীরে।   মানুষের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক এলেও তা কতটুকু ক্ষতিকর হবে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ গবেষক বলেন, “মানবদেহে ঢুকলেই যে ক্ষতি হবে, তা নয়। এটা পরিমাণমত আসতে হবে। এখন কোন পরিমাণে এলে ক্ষতি হবে, আর কোন পরিমাণে এলে ক্ষতি হবে না, তা আমাদের গবেষণায় তুলে ধরেছি।   “আমাদের শরীরে ক্রমাগত যদি ঢুকতেই থাকে, তাহলে একসময় মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। আর মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে তো শরীরের ক্ষতি হবেই।”   এক্ষেত্রে ফিরোজ জামানের পরামর্শ হলো, “মাইক্রোপ্লাস্টিকের ব্যবহারটা কমাতে হবে। আর যদি ব্যবহার কমাতে অসুবিধা হয়, তাহলে কোনো প্লাস্টিক যেন কেউ পরিবেশে ছুড়ে ফেলতে না পারে, সেটা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে হবে।”   তার মতে, “প্লাস্টিকের ব্যবহার হয় বন্ধ করতে হবে। আর ব্যবহার বন্ধ না করতে পারলে বৈজ্ঞানিক উপায়ে এর ব্যবস্থাপনা করতে হবে, যেমনটা অন্যান্য দেশ করছে।   “জাপানে দেখেছি, তাদের প্রত্যেকটা জায়গায় ওরা প্লাস্টিক ব্যবহার করে। কিন্তু ইন্টারেস্টিং হলো, কোথাও একটা প্লাস্টিকের টুকরাও পাওয়া যাবে না। ওরা এমনভাবে এগুলোর ব্যবস্থাপনা করে, রিসাইক্লিং করে…সেখানে প্লাস্টিকগুলো পরিষ্কার করে ডাস্টবিনের বিশেষ বিশেষ জায়গায় রাখতে হয়। না রাখলে জরিমান হয়।”   ‘বেশি বেশি গবেষণা দরকার’ জনস্বাস্থ্য ও রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, “আমাদের এখানে প্লাস্টিকের ব্যবহার একেবারেই অনিয়ন্ত্রিত। কাজেই আমাদের আশঙ্কা যে এখানে বিপজ্জনক মাত্রাতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক আছে।”   কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক রক্তের মধ্যে মিশে মস্তিষ্কে চলে যায়। আর দীর্ঘ মেয়াদে সেবা কর্মক্ষমতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।   মাইক্রোপ্লাস্টিকের দূষণ রোধে করণীয় নির্ধারণে আরও গবেষণায় জোর দেন মুশতাক হোসেন।   রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক এ প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার পরামর্শ হলো, “আমাদের গবেষণা করতে হবে এর উপরে, এটা কীভাবে কমানো যায়।   “এটা কীভাবে আলাদা করা যায়, সেগুলোর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বের করতে হবে। কীভাবে রিমুভ করা যায় খাদ্য শৃঙ্খল, পানীয় শৃঙ্খল, ওষুধপত্র থেকে, তা বের করতে হবে। বিদেশের গবেষণার দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না, আমাদের নিজেদেরও করতে হবে।”   তার মতে, “প্রথমেই তো প্লাস্টিকের বোতলে পানি খাওয়া বন্ধ করতে হবে। একবার ব্যবহারযোগ্য পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করা, এগুলো পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য অলরেডি বলা হয়েছে। সেগুলো মেনে চলার জন্য মানুষের মধ্যে একটা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। সেগুলোতে আবার নজরদারি চালানো উচিত।”   প্লাস্টিক দূষণ বাংলাদেশে প্রতিদিন আট লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়। এর মধ্যে শতকরা ৩৬ ভাগ পুনর্চক্রায়ণ, ৩৯ ভাগ ভূমি ভরাট এবং বাকি ২৫ ভাগ সরাসরি পরিবেশে দূষণ ঘটাচ্ছে।   খাবার পানির শতকরা ৮০ ভাগ পানি মাইক্রো ও ন্যানো প্লাস্টিকের কণা দ্বারা দূষিত।   গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ একেক ঋতুতে একেক রকম থাকে।   অধ্যাপক শাহজাহান বলেন, “বর্ষাকালে পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঘনত্ব সর্বাধিক ছিল। গবেষকদের মতে, বৃষ্টির পানির সঙ্গে আশপাশের প্লাস্টিক বর্জ্য বিলের পানিতে প্রবাহিত হয়ে দূষণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।”   তিনি জানান, এ সময় পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় কণাগুলো পানির স্তরে ভেসে থাকে এবং সরাসরি পানির গুণগত মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় মাইক্রোপ্লাস্টিক কণাগুলো ধীরে ধীরে তলদেশে জমা হয়।   সরকার কী ভাবছে? প্লাস্টিক হচ্ছে কৃত্রিমভাবে তৈরি পলিমার, যা মূলত জীবাস্ম জ্বালানি বা প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে রাসায়নিক উপায়ে তৈরি করা হয়।   অ্যাক্রাইলিক, পলিস্টাইরিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড, সিনথেটিক রাবার, পলিইথিলিন (পলিথিন) ইত্যাদি প্লাস্টিকের আবিষ্কারের ফলে জীবনের সব স্তরে প্রয়োজনীয় প্রায় সব দ্রব্য ও দ্রব্যাদির অংশবিশেষ প্লাস্টিক দ্বারা তৈরি হচ্ছে।   পরিবেশে অপচনশীল নানা রকম প্লাস্টিক বর্জ্যরে সঙ্গে অতিবেগুনি রশ্মি এবং পরিবেশের অন্যান্য উপাদানের মিথস্ক্রিয়ার ফলে মাইক্রো ও ন্যানো প্লাস্টিকের কণা এবং নানা রকম ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয়। এসব মাইক্রো ও ন্যানো কণা এবং নিঃসৃত ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মানুষ ও অন্যান্য জীবের হরমোনাল সিস্টেম নষ্ট করতে পারে।   প্লাস্টিক দূষণ আমাদের স্বাস্থ্য, প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, উন্নত জীবনযাপন এবং নিরাপদ খাদ্যের জন্য বিরাট হুমকি। সময়োপযোগী আইন তৈরি, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং প্লাস্টিকদূষণের ক্ষতিকর দিক ও করণীয় নিয়ে সমাজের সব স্তরে সচেতনতা বাড়ানোর দাবি সংশ্লিষ্টদের।   মাছ, প্রাণীসহ খাদ্য চক্রে মাইক্রোপ্লিাস্টিকের বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, “এটা এখন বৈশ্বিক সমস্যা; এটা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়। তাই বিষয়টি নিয়ে আরও জানার চেষ্টা করছি। বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে পুরো না জেনে কমেন্ট করতে চাই না।”   দূষণ রোধে ব্যক্তিগত জনসচেতনতার পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া দরকার বলে জানান তিনি।   তিনি বলেন, “এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতে হবে। প্লাস্টিক দূষণের বিষয়ে আরো গবেষণার পাশাপাশি সম্পৃক্ত অনেক মন্ত্রণালয় রয়েছে, বাস্তবায়নের বিষয় রয়েছে। যার যার জায়গা থেকে চিন্তা ও কাজের সমন্বয় করাই সঠিক হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

নিমকাঠি দিয়ে দাঁত মাজলে মিলতে পারে যেসব উপকার

প্রতীকী ছবি

বর্ষার ভ্যাপসা গরমে স্বস্তি দেবে যেসব উপকরণ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ফাইল ছবি

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৪ শিশুর মৃত্যু

সংগৃহীত ছবি
যে কারণে নিয়মিত পান করবেন আদা চা

ক্লান্তি দূর কিংবা অতিথি আপ্যায়নে চায়ের জুড়ি নেই। তবে চায়ের সাথে আদা ব্যবহার করতে পারেন। এতে রয়েছে দারুণ উপকারিতা।   হার্ট ভালো রাখে ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে নিয়মিত আদা চা পান করলে হার্ট ভালো থাকে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। রক্ত জমাট বাঁধা নিয়ন্ত্রণ করে, কোলেস্টরল কমিয়ে এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে।   রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে আদায় অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট আছে। এটি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে ও স্ট্রেস কমায়। আদা পানির বাষ্প নিলে বন্ধ নাক খুলে যায়।    মাথা ঘোরা কমে প্লেনে উঠলে বা পাহাড়ি রাস্তায় যদি মাথা ঘোরার সমস্যা থাকে, তা হলে আদা চা পান করলে সেটা কমে যায়।   ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে যাদের টাইপ ২ ডায়াবেটিস আছে, তাদের জন্য প্রতিদিন আদা চা পান করার সুফল অনেক। কারণ এই চা এইচবিএ১সি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। মস্তিষ্ক সচল রাখে এবং অ্যালঝাইমারের মতো রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ক্রনিক ইনফ্লেমেশন এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মানুষকে আরও বুড়ো করে তোলে। আর এটাই পরবর্তীকালে অ্যালঝাইমার নামক অসুখে রূপান্তরিত হয়। আদার মধ্যে উপস্থিত বায়ো-অ্যাকটিভ উপাদান এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট মস্তিষ্কের এই ইনফ্লেমেশন রোধ করে মস্তিষ্ক সচল ও সক্রিয় রাখে।   বদহজমের সমস্যা দূর করে পেটের উপরিভাগে ব্যথা বা অস্বস্তির কারণ হলো বদহজম। আদা চা এই সমস্যা দূর করে এবং তার সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে সেটাও কম করতে সাহায্য করে। ঋতুস্রাবের সময় পেট ব্যথা কম করে। অনেক মহিলাই ঋতুস্রাবের সময় তলপেটের ব্যথায় ভোগেন। আদা চা হলো এর কার্যকরী সমাধান। আদা চায়ের সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করলে আরাম পাওয়া যায়। তা ছাড়া গরম পানিতে আদা দিয়ে সেই পানি তোয়ালে ভিজিয়ে তলপেটে ধরলেও উপকার পাওয়া যায়।   স্ট্রেস কমায় আধুনিক যুগে আমরা কম-বেশি সকলেই স্ট্রেসের শিকার। আদার কড়া গন্ধ ও স্বাদ স্ট্রেস, টেনশন দুটোই দূর করে। ক্যানসার প্রতিরোধ করে। প্যানক্রিয়াস ও কোলোন ক্যানসারে দারুণ কাজ দেয় আদা চা। নিয়মিত আদা চা পানে এই জাতীয় ক্যানসারের কোষ সহজে ছড়িয়ে পড়ে না।    রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে আদা চায়ে আছে অ্যামাইনো অ্যাসিড, ভিটামিন ও মিনারেল। এগুলো রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং কার্ডিও ভাস্কুলার সমস্যা থাকলে সেটা দূর করে। ধমনীর চারপাশে মেদ জমতেও বাধা দেয় আদা চা। এটি একটি প্রাকৃতিক পেন কিলার। পেন কিলার না খেয়ে আদা চায়ের উপরে ব্যথা উপশমের জন্য ভরসা রাখা যেতে পারে। অস্টিয়ো আরথ্রাইট্রিস, মাথা ব্যথা, ঋতুস্রাবের ব্যথা, গলা ব্যথা এবং পেশীর ব্যথার মতো নানা ব্যথার দূর করে এই চা।    ওজন কমায় আদা চা পান করলে পেট অনেকক্ষণ ভর্তি থাকে, ফলে বাড়তি খাওয়া অনেক কম হয়। এতে ওজন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭২৩

ছবি: সংগৃহীত

কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ স্ট্যাটিন নিয়ে গবেষকদের সতর্কবার্তা

ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের লাইসেন্স নবায়নের মেয়াদ দ্বিগুণ করল সরকার

ছবি: সংগৃহীত
মন্ত্রীর নির্দেশে আসা ১২ চিকিৎসকের ৫ জন চলে গেলেন এক মাসের মধ্যেই

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসলেই দেখা যায় ‘ডাক্তার নেই, কখন আসবে কউ জানে না’, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের কাছে এ যেন নিত্যদিনের বাস্তবতা।    গত ৭ জুন স্বাস্থ্য অধিদফতরের জারি করা দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১২ জন চিকিৎসককে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে পদায়ন করা হয়েছিলো। দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকট কাটাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের নির্দেশে মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগে জেলার মানুষের মনে আশা জেগেছিলো—এবার হয়তো হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় কিছুটা হলেও গতি ফিরবে।   তবে সেই আশা টিকে ছিলো মাত্র এক মাস। যোগদানের অল্প সময়ের মধ্যেই সুপারিশের মাধ্যমে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন পাঁচজন চিকিৎসক। ফলে আবারও চিকিৎসক সংকটে পড়েছে ২৫০ শয্যার রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতাল। গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় প্রতিদিনই ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা, যার সরাসরি ভুক্তভোগী সাধারণ রোগীরা।   অধিদফতরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে যে ১২ জন চিকিৎসককে পদায়ন করা হয়েছিলো, তাদের মধ্যে ছিলেন মেডিকেল অফিসার, সহকারী সার্জন ও বিভিন্ন বিশেষায়িত বিভাগের চিকিৎসক।   তবে যোগদানের এক মাসের মধ্যেই বদলি হয়ে চলে গেছেন—ডা. মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন, ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন, ডা. মো. মেহেদী হাসান, ডা. মো. এনামুল হক এবং ডা. অতীশ দীপংকর। অর্থাৎ নতুন পদায়ন পাওয়া চিকিৎসকদের প্রায় ৪২ শতাংশই অল্প সময়ের মধ্যে হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন।   চিকিৎসক মহলের একাধিক সূত্রের দাবি, অল্প সময়ের মধ্যে যারা রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন, তাদের অনেকেই নানাভাবে ওপরের মহলে তদবির ও সুপারিশের মাধ্যমে নিজেদের সুবিধাজনক কর্মস্থলে বদলি বাগিয়ে নিয়েছেন।   চিকিৎসকের সংকট থাকায় সেবা পেতে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পরবর্তীতে আরও একজন মেডিসিন ও একজন কার্ডিওলজির জুনিয়র কনসালটেন্ট পদায়ন করা হয়। তবে কার্ডিওলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সফিকুল ইসলাম এখনও রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে যোগদান করেননি। ফলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগটি কার্যত শূন্যই থেকে গেছে।   হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, সার্জারি, মেডিসিন, শিশু, কার্ডিওলজি, গাইনি, চর্ম ও যৌনরোগ, ফরেনসিক মেডিসিন, অর্থোপেডিক সার্জারি, ইএনটি (নাক-কান-গলা) এবং অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া চক্ষু, কার্ডিওলজি ও প্যাথলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্টের পদগুলো খালি থাকায় চিকিৎসাসেবা ভেঙে পড়েছে।   সরেজমিনে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ সারি। চক্ষু বিভাগের চিকিৎসক ডা. অপূর্ব রায়ের কক্ষের সামনে অপেক্ষমাণ রোগীর ভিড় ক্রমেই বাড়ছিলো। তবে তিনি ইনডোরে ভর্তি রোগীদের রাউন্ডে থাকায় বহির্বিভাগে সময়মতো রোগী দেখা শুরু করতে পারেননি। ফলে সকাল থেকে অপেক্ষা করেও সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েন অনেকে।   সত্তরোর্ধ্ব মজিবর প্রামাণিক চোখের চিকিৎসার জন্য দূর থেকে হাসপাতালে এলেও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসা না নিয়েই ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। শুধু মজিবর প্রামাণিক নন, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের আশায় এসে ফিরে যাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে অনেকেই দরিদ্রতা সত্ত্বেও বেশি খরচে ফরিদপুর বা ঢাকায় চিকিৎসা নিতে ছুটছেন।   একাধিক চিকিৎসক বলেন, রোগীর তুলনায় আমাদের চিকিৎসকদের সংখ্যা খুবই কম। প্রচণ্ড চাপের মুখে একেকজন চিকিৎসককে একাধারে বহির্বিভাগ, ভর্তি রোগী ও জরুরি বিভাগের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। অতিরিক্ত ডিউটি করেও একজন রোগীকে দুই-তিন মিনিটের বেশি সময় দেওয়া সম্ভব হয় না।   সার্বিক বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, মন্ত্রীর নির্দেশে আমরা ১২ জন চিকিৎসক পেয়েছিলাম। কিন্তু যোগদানের কিছুদিনের মধ্যেই পাঁচজন বদলি হয়ে চলে যান। পরে অধিদফতর থেকে আরও দুজন চিকিৎসক পদায়ন করা হলেও এখন পর্যন্ত একজন যোগদান করেননি। বিষয়টি লিখিতভাবে স্বাস্থ্য অধিদফতরকে জানানো হয়েছে।   কর্মকর্তাদের বদলির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোন কারণে তারা হঠাৎ বদলি নিয়ে চলে গেছেন, তা আমার জানা নেই। নিশ্চয়ই তারা বদলির আবেদনে নিজ নিজ কারণ উল্লেখ করেছেন।’   স্বাস্থ্যাকর্মীদের মতে, শুধু কাগজে-কলমে চিকিৎসক পদায়ন করলেই রাজবাড়ীর মতো জেলাগুলোর সংকট মিটবে না। স্থায়ীভাবে চিকিৎসক ধরে রাখার কঠোর ও কার্যকর নীতিমালা না থাকলে এ চক্র থেকে মুক্তি মিলবে না, আর দিন শেষে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাও হারিয়ে যাবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ধূমপান ও বায়ুদূষণের কারণে রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা বাড়তে পারে : গবেষণা

হামে আক্রান্ত শিশু ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লোগো।

হাম-উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৪ শিশুর

ছবি: সংগৃহীত

‘স্বাস্থ্য ভালো’ দেখাতে ঋণ পুনঃতফসিলে ঝুঁকছে ব্যাংক

0 Comments