সারাদেশ

গাজীপুর ডিসির উপহারে বাবার স্মৃতি মনে করে আবেগী প্রধানমন্ত্রী

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বিকেলের নরম আলো তখন সাতাশ মৌজার মাঠজুড়ে। আর এই মাঠে মঞ্চে দেশের প্রথম ‘জাতীয় দুর্যোগ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা চলছে। চারদিকে উৎসবের আমেজ, স্লোগান আর করতালির শব্দ। কিন্তু ঠিক তার পরের মুহূর্তেই যেন পুরো আয়োজনটির আবহ বদলে গেল। একটি সাধারণ উপহার কীভাবে একটি আস্ত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানকে এক মুহুর্তেই আবেগ আর ইতিহাসের মহাকাব্যে রূপ দিতে পারে, আজ বুধার গাজীপুরবাসী দেখল তারই এক পরম দৃশ্যপট।

 

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিলেন একটি বিশেষ স্মারক। মখমলের আবরণে ঢাকা সেই উপহারটি যখন উন্মোচন করা হলো, তখন মঞ্চে বসা খোদ সরকারপ্রধানও হয়তো ভাবেননি তার জন্য কী বিস্ময় অপেক্ষা করছে। সেটি ছিল ১৯৭৮ সালের এক খণ্ড জীবন্ত দলিল— তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এক ঐতিহাসিক স্মারক চিহ্ন।

ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, ১৯৭৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান গাজীপুরকে মহকুমা ঘোষণা করে এই অঞ্চলের আধুনিকায়নের সূচনা করেছিলেন। সেই সময়ের একটি স্মারক যখন তারই পুত্র বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে পৌঁছাল, তখন চারপাশের প্রটোকলের দেয়াল যেন নিমেষেই ভেঙে গেল।

প্রধানমন্ত্রী স্মারকটি হাতে নিয়ে আলতো করে আঙুল বুলালেন। রাষ্ট্রনায়কের চাদর গলে তখন বেরিয়ে এলেন এক আকুল পুত্র। পরম মমতায় তিনি পিতার স্মৃতিচিহ্নটি ছুঁয়ে দেখলেন, যেন ওই জড় বস্তুর ভেতরেই তিনি খুঁজে ফিরছিলেন তার বীর পিতার অস্তিত্ব, তার কর্মময় জীবনের সেই চিরচেনা অনুভূতি। উপস্থিত হাজারো মানুষ দেখল, কিছুক্ষণের জন্য প্রধানমন্ত্রী স্তব্ধ হয়ে রইলেন, তার চোখ জুড়ে নেমে এলো স্মৃতিকাতরতার এক অবাধ্য আবেগ।

রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সাধারণত দামী বা প্রথাগত ক্রেস্ট দেওয়ার যে চল, তার বাইরে গিয়ে জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগটি ছিল অনন্য। উপহারদাতার এই গভীর সংবেদনশীলতা ও দূরদর্শিতার কারণে প্রধানমন্ত্রী নিজে মঞ্চেই তার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করেন।

 

গাজীপুরের সাতাশ মৌজা থেকে যখন প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিল, তখন তার সাথে ছিল এক নতুন ইনস্টিটিউটের স্বপ্ন, আর হৃদয়ের খুব কাছে যত্ন করে রাখা পিতার এক টুকরো অমলিন স্মৃতি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
কুষ্টিয়ায় সেতুর টোল বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কে কুমারখালীর সৈয়দ মাছ-উদ-রুমী সেতুতে টোল বন্ধের দাবিতে মানবন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। এ সময় কর্মসূচিতে ঠিকাদারের লোকদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা।   বুধবার (২০ শে) বিকালে সাড়ে ৪টার দিকে সেতুর টোলপ্লাজা এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর বিকাল ৫টা ২০ মিনিট থেকে কুমারখালী বাসস্টান্ড সংলগ্ন গোলচত্বর এলাকায় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা।ফলে সড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়েন কোরবানী বোঝাই ট্রাকসহ শতশত যানবহন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে সন্ধ্যায় কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন বিক্ষোভকারীরা। নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন মাইক্রো চালক বলেন, ঘণ্টাব্যাপী যানজটে আটকে আছি। দুইদিকে শতশত গাড়ির মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। আমরাও চাই টোল বন্ধ হোক। তবে এভাবে ভোগান্তি করে নয়। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়াই নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। গত বছরের ৫ আগস্ট টোল আদায় বন্ধের দাবিতে টোল্লাজায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এর কয়েকদিন পর সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ টোল আদায় করতে গেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতা বাধা দেয়। এরপর থেকে সেতুতে টোল আদায় বন্ধ ছিল। এতে সেতু থেকে গত ২১ মাসে অন্তত ১৮ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারিয়েছে সরকার। আবার টোল চালু করতে গত ১০ মার্চ নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে সড়ক বিভাগ। এতে ২৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় সেতুতে টোল আদায়ের ঠিকাদারি পেয়েছে কুষ্টিয়ার প্রতিষ্ঠান থ্রি স্টার এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এরপর গত সোমবার রাত থেকে দুই-তিন চাকার যানবহন বাদ দিয়ে টোল আদায় শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। তবে টোল আদায় বন্ধের দাবিতে সাধারণ নাগরিক সমাজের ব্যানারে মানববন্ধনে নামেন স্থানীয়রা। কুষ্টিয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সমন্বয়কারী কে এম আর শাহীন বলেন, অবৈধ টোল বন্ধের দাবিতে আমাদের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন চলছিল। কিন্তু ঠিকাদরের লোকজন হামলা চালিয়ে মাইক ও ব্যানার ছিনিয়ে নিয়েছেন। আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।  তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আশরাফ হোসেন বলেন, জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে দুই-তিন চাকার যানবাহন বাদ দিয়ে বৈধভাবে টোল তোলা হচ্ছে। কিছু লোকজন এসে মানবন্ধন করেছে। আমরা তাদের সহযোগিতা করেছি। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।  জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব মো. আসাদুজ্জামান আলী বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর টোল বন্ধ ছিল। টোল বন্ধ আপামার জনগণের দাবি। তবে কিছু প্রশাসনের আমলা, রাজনৈতিক নেতারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে আবার টোল চালু করেছে। কিন্তু আমরা সাধারণ জনগণের পক্ষে আবার আন্দোলনে নেমেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক নয়ন আহমেদ বলেন, মাছউদ রুমীতে সেতুতে টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি শুরু হয়েছিল। তারই প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করা হয়েছিল। পরে প্রশাসন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টোল বন্ধের আশ্বাস দিলে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। তবে দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে টোল আদায় চলছে। সকল ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইউএনওকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বিদিশার ২ বছরের কারাদণ্ড

ছবি : সংগৃহীত

গাজীপুর ডিসির উপহারে বাবার স্মৃতি মনে করে আবেগী প্রধানমন্ত্রী

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

উৎপাদনে ফিরেছে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিট

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে স্মারক তুলে দিচ্ছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া
প্রধানমন্ত্রীর হাতে ৪৭ বছর আগের স্মারক তুলে দিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক

গাজীপুরের সাতাশ মৌজায় দেশের প্রথম ‘জাতীয় দুর্যোগ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া একটি বিশেষ উপহার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর হাতে, যেটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি। ১৯৭৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর গাজীপুরে গিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এটিকে মহকুমা হিসেবে ঘোষণা করে আধুনিক জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেন। প্রায় ৪৭ বছর আগের সেই সময়ের একটি স্মারক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন জেলা প্রশাসক।  স্মারকটি হাতে নেওয়ার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। বাবার স্মৃতি স্মারক দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী।  স্মৃতি স্মারকে লেখা রয়েছে, ‘গাজীপুর মহকুমা সদর দপ্তর উদ্বোধন করলেন- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, বীর উত্তম।’ 

মারিয়া রহমান মে ২০, ২০২৬
মাগুরায় শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

মাগুরার সেই আছিয়াকে ভুলে গেছে সবাই, মামলা ঝুলছে আপিলে

চা শ্রমিকদের মুল্লুক চলো আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলী।

২০ মে ‘চা শ্রমিক দিবস’ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে সমাবেশ

ছবি : সংগৃহীত

দেশের ৪৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে যুক্ত হলো ‌‘সরকারি’

ছবি : সংগৃহীত
লোহালিয়া নদীর সেতু পরিদর্শনে সেতুমন্ত্রীর গাড়ি অবরুদ্ধ, বিএনপি–জামায়াতের উত্তেজনা

পটুয়াখালীর বাউফলে লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতুর সম্ভাব্যতা পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ সময় তিনি প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকেন। পরে তিনি বাউফল প্রান্তের জনসভায় না গিয়ে দুমকি উপজেলার একটি সভায় বক্তব্য দেন।   আজ মঙ্গলবার দুমকি ও বাউফলের মধ্যবর্তী লোহালিয়া নদীর বগা ফেরিঘাট এলাকায় সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। এ উপলক্ষে পটুয়াখালী-২ আসনের এমপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বাউফল প্রান্তে জনসভার আয়োজন করেন। একই সময়ে নদীর অপর প্রান্ত দুমকি উপজেলায় আরেকটি জনসভার আয়োজন করেন পটুয়াখালী-১ আসনের এমপি ও বিএনপি নেতা আলতাফ হোসেন চৌধুরী।   এলাকাবাসী জানায়, দুপুরের দিকে সেতুমন্ত্রী বাউফল প্রান্তে পৌঁছালে এবং তার গাড়িবহর জনসভার মঞ্চের দিকে যেতে চাইলে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করে পথ আটকে দেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সেখানে সভার ব্যানারে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি রাখা হয়নি। এ সময় জামায়াত নেতাকর্মীরা মন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে পাল্টা স্লোগান দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।   ঘটনাস্থলে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বাউফলের সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তছলিম তালুকদার ও সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ উপস্থিত ছিলেন। পরে সেতুমন্ত্রী ফেরিতে করে দুমকি প্রান্তে ফিরে যান এবং সেখানে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেন। এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তছলিম তালুকদার ও সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ দাবি করেন, “সভাস্থলের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি না থাকায় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন।   অন্যদিকে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. খালিদুল ইসলাম বলেন, "বগা সেতু একটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প হওয়ায় বিষয়টি দলীয়ভাবে উপস্থাপন করতে চায়নি জামায়াত। তাই ব্যানারে স্থানীয় এমপি ও সেতুমন্ত্রীর ছবি রাখা হলেও অন্য কোনো রাজনৈতিক নেতার ছবি ব্যবহার করা হয়নি।" এটিকে অজুহাত বানিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা মন্ত্রীকে বাধা দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।   ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।   উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লোহালিয়া নদীর ওপর প্রায় এক হাজার মিটার দীর্ঘ নবম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে সেই কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এখন নতুন করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপি সরকার গোপালগঞ্জে চালু করছে ২টি নতুন ট্রেন

ছবি : সংগৃহীত

সাবেক এমপি-বিমান কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অযোগ্যরাও পাইলট!

সংগৃহীত ছবি

সোনারগাঁয়ের সাবেক ইউএনও এবার ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক

0 Comments