অর্থনীতি

এডিপিতে পাঁচ খাতে অগ্রাধিকার, বাস্তবায়ন নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

দুই দশক ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে প্রথম বাজেট দিতে যাচ্ছে, যেখানে পাঁচটি খাতকে অগ্রাধিকারে রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

 

তবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের অর্থমন্ত্রীর যেমন প্রশ্ন আছে, তেমনি অর্থনীতির গবেষকও সংশয় প্রকাশ করেছেন।

 

গেল ১৮ মে তারেক রহমানের সরকার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করেছে, যা বাস্তবায়নের সক্ষমতা বিবেচনায় ‘উচ্চাভিলাষী’ মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির ৫০ শতাংশ বরাদ্দ বাড়িয়ে যে উন্নয়ন ছক আঁকা হয়েছে, সরকার সেখানে পরিবহন ও যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি এবং গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিষেক হওয়া তারেক রহমানের সরকার বাজেট দিতে যাচ্ছে আগামী ১১ জুন, যার আকার ৯ লাখ কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলে আলোচনা আছে।

 

এবার বাজেট প্রণয়ন ও পরিকল্পনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, তার ওপরই সংসদে বাজেট উপস্থাপনের ভার পড়েছে। তিনি এক সময় বিএনপি সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সামলেছেন।

 

খোদ অর্থমন্ত্রী উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমলাতন্ত্রের ভূমিকা নিয়ে খেদ প্রকাশ করে বলেছেন, ব্যুরোক্রেসির’ যে অবস্থা, আমাদের মানুষের যে মন মানসিকতা, দুঃখের বিষয় বলতে হয়। কেমনে বাস্তবায়ন করব (উন্নয়ন প্রকল্প)?

 

অবকাঠামো ঘিরে আওয়ামী লীগ আমলে যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছিল তা থেকে বেরিয়ে মানবসম্পদ তৈরির দিকে ঝোঁকার বার্তা দিচ্ছে বিএনপি সরকার।

 

তবে এক অর্থবছরের ব্যবধানে ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে যে উন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে অর্থায়ন হবে কীভাবে? অর্থের অপচয় রোধ সম্ভব হবে কিনা, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে পারবে কিনা, এসব প্রশ্ন সামনে আছে।

 

চলতি অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে উন্নয়ন কর্মসূচিতে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, এর মধ্যে ৩২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা এসেছে ঋণ থেকে। সরকারি তহবিল থেকে খরচ হয়েছে ৪৮ হাজার ৯০১ কোটি টাকা আর সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৫ হাজার ৩৫ কোটি টাকা।

 

এডিপির বরাদ্দ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সংশোধিত এডিপি বরাদ্দের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বরাদ্দ পরিকল্পনা করা হয় ঋণ থেকে।

 

ফলে নতুন করে ঋণের বোঝা বাড়িয়ে অর্থনীতিকে আরো চাপে ফেলার পরিস্থিতি তৈরি হবে কিনা, সেই আলোচনাও আছে।

 

বরাদ্দ বাড়িয়ে কেবল প্রতিশ্রুতির বাজেট দিলেও তা বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করা গেলে অপচয় ও দুর্নীতি বাড়বে বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

 

তিনি বলেন, একটা জবাবদিহিতার সিস্টেম যদি না করা যায়, তাহলে ওই বরাদ্দ দিয়ে খুব একটা লাভ হবে না। তখন বেশি বরাদ্দ হয়তো হবে, কিন্তু সেখানে শুধুমাত্র অপচয় হবে, দুর্নীতি হবে।

 

অপরদিকে উন্নয়ন বাজেট ঘিরে যে পরিকল্পনা সাজাচ্ছে সরকার, তা বাস্তবায়নে অর্থ মিলবে কিনা সেই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্ব ব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন।

 

তিনি বলেন, প্রশ্নটা হল যে এত বড় আকারের বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য হবে কিনা? এইটার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন, সেই অর্থটা পাওয়া যাবে কিনা? আর সেইটা যদি না করতে পারেন, তাহলে প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন বাজেটে থাকলেও বাস্তবে কিন্তু সেইটা দেখা যাবে না।

 

ইশতেহারের পাঁচ স্তম্ভের ছকে এডিপি

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশের হাল ধরে।

 

তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, ঠিকাদার ও প্রকল্প পরিচালকদের অনুপস্থিতি এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ‘ধীরে চলা’ নীতির কারণে গেল দুই অর্থবছর দেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা বিরাজ করছিল।

 

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতা পেয়ে সরকার গঠনের পর এখন তাদেরকেই সামলাতে হবে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার এই কঠিন ‘চ্যালেঞ্জ’।

 

বিএনপি তার নির্বাচনি ইশতেহারে যে পাঁচ স্তম্ভের কথা বলেছিল, তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনার ছক আঁকছে তারেক রহমানের সরকার।

 

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, রাষ্ট্র সংস্কার, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং সাংস্কৃতিক-সামাজিক সংহতিকে ‘সমন্বিতভাবে’ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

 

এরজন্য বিচার ও আইনগত সেবা সম্প্রসারণ, আদালত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রযুক্তিনির্ভর করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়ার কথা বলছেন তারা।

 

এছাড়াও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে ‘অগ্রাধিকারমূলক’ বরাদ্দ পরিকল্পনা করা হয়েছে।

 

বরাদ্দ বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জোর দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি হাতে নিয়েছে সরকার।

 

বৃহৎ অবকাঠামোর চেয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে সাজানো এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া পাঁচ খাতের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সর্বাধিক বরাদ্দ পাচ্ছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত। এই খাতে ৫০ হাজার ৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

 

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে শিক্ষা খাত বরাদ্দ পেয়েছে ১৫.৮৬ শতাংশ বা ৪৭ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা।

 

তৃতীয় সর্বোচ্চ ১১.৮৪ শতাংশ বা ৩৫ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে আলোচিত স্বাস্থ্য খাতে। চলতি অর্থবছরের ১৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকার তুলনায় স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

 

বরাবরের মতো জ্বালানি ও বিদ্যুতে ভর্তুকি বাড়তে থাকায়, বিশ্ব বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা ও সংকট থাকায় এ খাতে চতুর্থ সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৩২ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা।

 

গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধা বাড়াতে এ খাতে রাখা হয়েছে ২০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা, যা এডিপির পঞ্চম সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

 

সরকার বৃহৎ (মেগা) প্রকল্পের দিকে হাত না বাড়ালেও অবকাঠামোতে বরাদ্দ কম রাখা হয়নি। মোট বরাদ্দের ১৬.৭০ শতাংশ যে পরিবহন ও যোগাযোগ এবং ১০.৯০ শতাংশ জ্বালানি খাতে, তার বড় অংশের অর্থ যাবে অবকাঠামো উন্নয়নে।

 

পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জাতীয় ও আঞ্চলিক অবকাঠামো উন্নয়ন, রেল ও নৌ যোগাযোগ সম্প্রসারণ, বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, গ্যাস অনুসন্ধান এবং শিল্পপার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

এ প্রেক্ষিতেই পরিবহন ও যোগাযোগ খাত এবং জ্বালানি খাতে মোট বরাদ্দের সাড়ে ২৭ শতাংশের মতো বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

 

অর্থাৎ সাড়ে ৮২ হাজার কোটি টাকার মতো অর্থ খরচা হবে অবকাঠামোর সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রকল্পে।

 

এছাড়া বিশেষ প্রয়োজনে সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা বাবদ থোক ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, ‘কৃষক কার্ড’ বাস্তবায়নে ১ হাজার ৪০০ কোটি এবং মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ের কর্মরতদের সম্মানীতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

 

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বরাদ্দ না দেওয়া, অর্থ খচরের সক্ষমতার ঘাটতি ও দুর্নীতি নিয়ে বরাবরই সমালোচনা হয়ে আসছে।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ-এনইসির সভায় নতুন অর্থবছরের জন্য এডিপি অনুমোদনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

অর্থনীতির নানামুখী সংকটের মধ্যেও এডিপির আকার বাড়ানো ‘উচ্চাভিলাষী’ সিদ্ধান্ত কিনা, সেই প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, “অবশ্যই। এইখানে আমরা কিন্তু সব কথাগুলো স্পষ্টভাবে বলেছি। স্বাস্থ্য, শিক্ষাক্ষাত, ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ (তরুণ জনসংখ্যার আধিক্যের সুবিধা) এবং এই যুব সমাজের উন্নয়ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, এগুলো কিন্তু সবকিছু এক জায়গায়।

\

এবং এই জায়গায় বাজেট না দিলে আমরা ‘ইউনিভার্সেল হেলথ কেয়ারের’ যে কথাটা বলছি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, এটার সাথে আরও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা, এগুলো বাস্তবায়ন করতে গেলেতো আপনাকে বাজেট দিতে হবে, তাই না?

 

তিনি বলেন, শিক্ষার বেলাতেও তাই। শিক্ষার কিন্তু আমরা বিস্তৃতিটা বাড়াচ্ছি, এখানে কিন্তু প্রচুর ‘স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ হবে, আপনার দক্ষতা বাড়ানো। এখানে প্রচুর ইনস্টিটিউশন হবে।

 

‘উন্নয়নহীন’ দুই অর্থবছর

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উন্নয়ন প্রকল্পের গতি প্রায় থমকে যায়। বহু প্রকল্পের ঠিকাদার ও প্রকল্প পরিচালকদের খুঁজে না পাওয়ায় মাঠপর্যায়ের কাজ স্থবির হয়ে পড়ে।

 

সে সংকটময় পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিগত অর্থবছরের বাজেট সংস্কার ও প্রকল্প কাটছাঁটের নীতি বেছে নেয়, ফলে উন্নয়ন খাতে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়।

 

প্রকল্প বাস্তবায়নের মন্থর গতি ও রাজস্ব আদায়ে লক্ষাধিক কোটি টাকার ঘাটতির শঙ্কায় অর্থবছরের মাঝপথে এসে অন্তর্বর্তী সরকার আরও প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আঁটসাঁট নীতি গ্রহণ করে।

 

এতে করে চলতি অর্থবছরের ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার এডিপিতে কোপ পড়ে। জানুয়ারিতে এসে কাটছাঁটের পর সংশোধিত এডিপির আকার দাঁড়ায় ২ লাখ কোটি টাকা।

 

সবচেয়ে বড় কোপ পড়ে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের বরাদ্দে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে বরাদ্দ কমেছে ৭৩ শতাংশ; আর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায় কমেছে ৫৫ শতাংশ।

 

বিএনপি সরকার বাজেট ঘোষণার আগে চলতি অর্থবছরের প্রায় চার মাস পেলেও তাতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পালে হাওয়া লাগাতে পারেনি। এর মধ্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অনেক প্রকল্প বাদ দেওয়ারও পরিকল্পনার কথা বলছে সরকার।

 

গেল ২ জুন বাজেট বিষয়ক এক সেমিনারে অর্থমন্ত্রী এদিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “বিগত দিনের ১ হাজার ৩০০ প্রজেক্ট নিয়ে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি, এর মধ্যে অনেক প্রজেক্ট এই মানদণ্ড মিট করছে না।

 

এরমধ্যে আমরা অনেক বাতিল করে দেব। আর যেগুলো অনেক খরচ করে ফেলেছে, ওইগুলো আমরা ‘রিপারপাসিং’ করে আরও ‘বেস্ট রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট’ করা যায়, আমরা চেষ্টা করছি।

 

প্রকল্প বাছাইয়ের মানদণ্ড বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা প্রজেক্টের চারটা মানদণ্ড দিয়েছি। প্রত্যেকটা প্রজেক্টের চারটা মানদণ্ড। একটা হচ্ছে ‘ভ্যালু ফর মানি’- আমি যে টাকাটা খরচ করলাম, এটার মূল্যমান থাকতে হবে। আরেকটা হচ্ছে ‘রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট’- যে ‘প্রজেক্টটা’ করছি এটার ‘রিটার্নটা’ আমার কী হবে-এটার হিসাব করতে হবে।

 

তৃতীয় হচ্ছে ‘জব ক্রিয়েশন’ হচ্ছে কিনা। চতুর্থ হচ্ছে আমাদের ‘এনভাইরনমেন্টাল কনসিডারশনটা’ ঠিক হচ্ছে কিনা। আমরা ছোট দেশ, এতগুলো লোক আমরা বাস করি, পরিবেশ ধ্বংস করে দিয়ে আমরা অর্থনীতি গঠন করলে আমাদের জন্য ক্ষতিকর হবে। আমাদের প্রত্যেকটা প্রকল্প বাছাইয়ে এই চারটা মানদণ্ড যেটা পূরণ করবে না, ওই সমস্ত প্রকল্প আমরা বাতিল করে দিচ্ছি।

 

আওয়ামী লীগ সরকারের অনেক প্রকল্প কাটছাঁটের দিকে গেলেও এডিপিতে মেট্রোরেলের তিন প্রকল্পেই বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৩ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা।

 

এর মধ্যে এমআরটি-৫ লাইনের জন্য রাখা হয়েছে ৭ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা, এমআরটি-১ এর জন্য ৩ হাজার ৯০৯ কোটি এবং চালু থাকা এমআরটি-৬ এর জন্য ১ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

 

এডিপির সবশেষ হালচাল

জুলাই অভ্যুত্থানের পর এডিপি বাস্তবায়নে যে ধাক্কা লেগেছিল, তা অব্যাহত আছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৪১ দশমিক ৪১ শতাংশ।

 

তাতে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত ৮৬ হাজার ৫১৬ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতেও অর্থবছরের বাকি দুই মাসে (মে ও জুন) ১ লাখ ২২ হাজার ৪২০ কোটি টাকা খরচ করতে হবে।

 

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ৯৩ হাজার ৪২৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। বাস্তবায়নের হার ছিল ৪১ দশমিক ৩১ শতাংশ।

 

সে হিসাবে গত অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ের চেয়ে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে ৬ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা কম ব্যয় হয়েছে।

 

আইএমইডির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং প্রশাসনে রদবদলের ধাক্কায় এডিপি বাস্তবায়নে যে ধীরগতি দেখা দিয়েছিল, তা এখনও চলছে।

 

চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া ১৫ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের গড় বাস্তবায়নের হার ৫০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এই অর্থবছরের ২ লাখ ৮ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা এডিপির ৭০.৯৭ শতাংশই বরাদ্দ ছিল এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে।

 

‘সরকারে সক্ষমতা বাড়ার ইঙ্গিত’

এডিপির এই বিশাল আকারকে ‘উচ্চাভিলাষী’ বলা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে একে সক্ষমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

গেল ১৮ মে নতুন অর্থবছরের এডিপি অনুমোদনের পর অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু বলেন, “চলমান অর্থবছরের তুলনায় এটি বড় আকারের উন্নয়ন কর্মসূচি, যা সরকারের বিনিয়োগ ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত। বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনার যে প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছে, এটিতে আমরা ধরে নিয়েছি একটি নির্বাচিত সরকারের সক্ষমতা অনেক বেশি।

 

এফিসিয়েন্সি অনেক বেশি থাকবে এবং এটার বাস্তবায়ন ক্ষমতাও বেশি হবে।

 

বাস্তবায়ন নিয়ে মন্ত্রী বলেছিলেন, এখন বাস্তবায়ন হবে কি না, এটা তো অপেক্ষা করতে হবে। বাস্তবায়ন তো করতেই হবে, না হলে আমরা আমাদের প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, রপ্তানি আর শিল্পের উৎপাদন কীভাবে অর্জন করব? এগুলো সব একটার সাথে একটা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

 

গেল ২ জুন বাজেট বিষয়ক সেমিনারেও বাস্তবায়নে বাধাগুলো কী কী তা তুলে ধরেন আমির খসরু। এরমধ্যে আমলাতন্ত্রের প্রসঙ্গও টানেন।

 

তিনি বলেন, বড় বাজেট বাস্তবায়িত হয় না। একদম সঠিক কথা। বাস্তবায়িত হয় না, বাস্তবায়িত করতে পারে না। কার কারণে পারে না, কেন পারে না, কোথায় পারে না, কোথায় বাধাগ্রস্ত, আমরা তো ‘আইডেন্টিফাই’ করতেছি।

 

জবাবদিহিতা ও সক্ষমতায় জোর

বরাদ্দ বাড়ালেই যে ফল মিলবে, তা মনে করেন না অর্থনীতির গবেষকরা। তারা ব্যবস্থাপনার দিকেও নজর দিতে বলেছেন।

 

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, এখানে দুটো বিষয়—একটা হচ্ছে যে অর্থ খরচ, দ্বিতীয় হচ্ছে গুণগত মান বজায় রেখে খরচ করা, যাতে প্রকল্প থেকে লক্ষণীয় ফল আসে।

 

সরকারের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতে বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা বাজেটে বরাদ্দ নিয়ে অনেক সময় বলি যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক খাতগুলোতে বরাদ্দ এত কম। তুলনীয় দেশগুলোর চাইতে কম। এটা একটা আমাদের আক্ষেপ কিংবা ‘কমপ্লেইন’ বলতে পারেন। কিন্তু অন্যদিকে এটাও মাথায় রাখা যে বরাদ্দ বাড়ালেই কী সবাই শিক্ষিত হয়ে যাবে বা শিক্ষার গুণগত মান বেড়ে যাবে? এটা হয়ে যাবে, তা তো না।

 

আবার স্বাস্থ্যসেবা খুব মান বেড়ে যাবে, এটাও না। পৃথিবীর বহু দেশেই, এটা আমাদের দেশেও বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে দুটো বিষয় এক না।

 

এই গবেষকের মতে, বরাদ্দ বাড়িয়ে সরকার দেখাতে চায় যে তার একটা দায়বদ্ধতা আছে, এই খাতটাকে সে গুরুত্ব দিচ্ছে। শুধুমাত্র রাস্তাঘাট ও ভৌত অবকাঠামো না, সামাজিক অবকাঠামোতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পরবর্তী যে কাজ, সেটা কিন্তু আর করা হয় না।

 

প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার গুরুত্ব তুলে ধরে ফাহমিদা খাতুন বলেন, ওই রকম একটা জবাবদিহিতার সিস্টেম যদি না করা যায়, তাহলে ওই বরাদ্দ দিয়ে খুব একটা লাভ হবে না। তখন বেশি বরাদ্দ হয়তো শুধুমাত্র অপচয় হবে, দুর্নীতি হবে।

 

বড় বাজেট ও এডিপি হাতে নেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচনি ‘প্রতিশ্রুতি’ পূরণের পথে হাঁটা শুরু করেছে সরকার, সেরকম একটা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন।

 

তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যবস্থাপনার দিকেও নজর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।

 

দরিদ্র, দুঃস্থ ও সচ্ছলদের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতায় শতাধিক কর্মসূচি থাকার কথা তুলে ধরে জাহিদ হোসেন বলেন,

এগুলোর ‘পারফরম্যান্স’ দেখি, যাদের জন্য কর্মসূচিগুলো দেওয়া হয়েছিল, তাদের কাছে পৌঁছাতে পারে না।

 

এর কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ব্যবস্থাপনার সমস্যা আছে, যার কারণে ১ টাকা দিতে গিয়ে আপনার দেড় টাকা খরচ হয়। এই সমস্যাগুলো, এই যে নতুন কর্মসূচিতে এগুলো থাকবে না, সেটা তো আমরা ধরে নিতে পারি না।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
সুতা আমদানিতে জটিলতা, বিপাকে পোশাক কারখানার মালিকেরা

বন্ড সুবিধায় আমদানি করা সুতা চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ছাড় করতে জটিলতায় পড়ছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা। এ কারণে সময়মতো কারখানায় সুতা পৌঁছাচ্ছে না; আর তাতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন।   তৈরি পোশাকশিল্পের একাধিক মালিক জানান, সাধারণ নিয়মে নতুন কোনো আদেশ জারি হওয়ার আগে করা ঋণপত্রের বিপরীতে সুতা আমদানি হলে সে ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হয় না; কিন্তু এবার সেটি মানা হচ্ছে না। আগের ঋণপত্রের বিপরীতে আসা সুতা আটকে দিচ্ছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।   এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর দেশের বস্ত্রকলকে সুরক্ষা দিতে বন্ড সুবিধায় ১০-৩০ কাউন্টের কটন (তুলা) সুতা আমদানির সুবিধা বাতিলের পর এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আদেশটি স্থগিতের অনুরোধ করলেও এখনো তা বলবৎ রেখেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।   জানতে চাইলে বিজিএমইএর পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা বলেন, নতুন আদেশ জারির আগে করা ঋণপত্রের বিপরীতে সুতা আমদানি করা হলেও কাস্টমস কর্মকর্তারা পণ্যের বিল অব ল্যাডিংয়ের (বিএল) সময়কে আমলে নিচ্ছেন। তাঁরা (কাস্টমস কর্মকর্তারা) আমদানি হওয়া এসব সুতা ছাড় করাতে ব্যাংক গ্যারান্টি দাবি করছেন। ফলে কিছু তৈরি পোশাক কারখানার আমদানি করা সুতা বন্দরে আটকে রয়েছে।   বন্ড সুবিধা বাতিল যেভাবে বন্ড সুবিধায় ১০-৩০ কাউন্টের কটন (তুলা) সুতা আমদানির সুবিধা বাতিলসংক্রান্ত এনবিআরের আদেশে বলা হয়, তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকেরা ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে সুতা আমদানি করতে পারবেন। সেই সুতা দিয়ে প্রস্তুত করা তৈরি পোশাক রপ্তানি হওয়ার পর ওই ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্ত হবে।   আদেশে আরও বলা হয়েছিল, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বস্ত্র খাতের সমস্যা পর্যালোচনা ও সমাধানের জন্য গঠিত আন্তমন্ত্রণালয় কমিটির ২০ আগস্টের সভায় ১০-৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানির বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার এবং ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।   তবে এনবিআরের আদেশ জারির পর বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম যৌথভাবে বাণিজ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেন—আন্তমন্ত্রণালয় কমিটির সভায় ১০-৩০ কাউন্টের সুতা আমদানি বন্ধের বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান তাঁরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর এনবিআরকে চিঠি দিয়ে আদেশটি স্থগিতের অনুরোধ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।   জানতে চাইলে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরও প্রজ্ঞাপনটি বাতিল না করার কারণ হিসেবে এনবিআর আমাদের জানিয়েছে, অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন তাঁরা। আমরা আশা করি, পণ্য রপ্তানির স্বার্থে সমস্যাটির দ্রুত সমাধান হবে।’   মোহাম্মদ হাতেম জানান, এনবিআরের আদেশটির কারণে তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য আমদানি করা সুতা ছাড় করতে সমস্যা হচ্ছে। তাতে রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হতে শুরু করেছে।   দেশীয় সুতা বিক্রি বেড়েছে বন্ড সুবিধায় সুতা আমদানি বন্ধ হওয়ার পর কোনো কোনো স্পিনিং মিল বা সুতাকল বাড়তি ক্রয়াদেশ পেতে শুরু করেছে বলে খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান। যদিও এনবিআরের আদেশের পর সুতাকল মালিকেরা সুতার দাম কেজিপ্রতি ২০-৩০ সেন্ট বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকেরা।   জানা গেছে, গত মাসে প্রতি কেজি ৩০ কাউন্ট কটন সুতার দাম ছিল ৩ ডলার ১৫ সেন্ট থেকে ৩ ডলার ২০ সেন্ট। বর্তমানে এই সুতার দাম বেড়ে ৩ ডলার ৩০ সেন্ট থেকে ৩ ডলার ৪০ সেন্ট হয়েছে। অবশ্য মাঝে দাম সাড়ে তিন ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।   বন্ড সুবিধায় সুতা আমদানি স্থগিত হওয়ার পর ব্যবসা বেড়েছে বলে জানান মোশাররফ কম্পোজিট টেক্সটাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোশাররফ হোসেন। তিনি গত মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের সুতা বিক্রি ৫ শতাংশের মতো বেড়েছে। স্থগিতাদেশ অব্যাহত থাকলে বিক্রি আরও বাড়বে।’   অবশ্য বস্ত্রকলের মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সাবেক পরিচালক রাজীব হায়দার প্রথম আলোকে বলেন, সুতার ক্রয়াদেশ এখনো উল্লেখযোগ্য হারে বাড়েনি। তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনুসন্ধান বেড়েছে। যেসব বিদেশি ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান এত দিন দেশীয় সুতা ব্যবহার করেনি, তারাও ক্রয়াদেশ দিতে যোগাযোগ করছে।   বিটিএমএর তথ্যানুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৮ শতাধিক টেক্সটাইল মিল বা বস্ত্রকল রয়েছে। এর মধ্যে স্পিনিং মিল বা সুতার কল ৫২৭টি। খাতটিতে মোট বিনিয়োগ প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। নিট পোশাকশিল্পের ৮০ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের প্রায় ৪০ শতাংশ সুতা সরবরাহ করে স্থানীয় বস্ত্রকল।   গড়িমসির অভিযোগ বিজিএমইএর জানতে চাইলে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান প্রথম আলোকে বলেন, এনবিআরের আদেশের আগে খোলা ঋণপত্রের বিপরীতে আমদানি হওয়া সুতা খালাসে হয়রানির মুখে পড়ছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা। মূলত এনবিআরের আদেশের অপব্যাখ্যা করে এমনটা করছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।   অপর প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা স্থগিত করেছিল। তারপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এটির কার্যকারিতা স্থগিত করতে অনুরোধ করলেও এনবিআর গড়িমসি করছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এলপিজির দাম নিয়ে বিইআরসির কঠোর নির্দেশ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি। ছবি: সংগৃহীত

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নতুন ইউরেনিয়াম দেশে আসছে আজ

পাঁচ বছরে ৩২ দফায় বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে এলপিজির দাম

সরবরাহ পর্যাপ্ত, এলপিজির কৃত্রিম সংকটে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে খুচরা বাজারে অস্থিরতার মধ্যে সরকার নির্ধারিত দামেই সিলিন্ডার বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি কিংবা নিয়মবহির্ভূতভাবে এলপিজি মজুত করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি)।     বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এলওএবির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকের স্বাক্ষর করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বার্তা দেওয়া হয়।       বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে এলপিজির সরবরাহ সন্তোষজনক। গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ১ দশমিক ৫৬ লাখ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। এর আগে আগস্টে আমদানি করা হয়েছিল ১ দশমিক ৫৮ লাখ মেট্রিক টন। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো সুযোগ নেই।     এলওএবি জানায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয় ও এলওএবির নেতাদের মধ্যে এলপিজির সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেশের এলপিজি সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।     বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কোনো এলপিজি অপারেটর, পরিবেশক, ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করলে এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে মজুত করলে তা প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।     গত ৩০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি মন্ত্রী এক অনলাইন সভায় জেলা প্রশাসকদের এলপিজির বাজার পরিস্থিতি কঠোরভাবে মনিটর করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এলওএবির পক্ষ থেকে সব সদস্য কোম্পানি, পরিবেশক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাকে অবিলম্বে বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।       সাধারণ ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষা ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে এলওএবি।       এদিকে, প্রতি মাসে সরকার এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দিলেও খুচরা পর্যায়ে সেই দামে সিলিন্ডার বিক্রি না করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিক্রেতাদের দাবি, ডিলারদের কাছ থেকেই বেশি দামে এলপিজি কিনতে হয়, ফলে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হয় না।     সর্বশেষ ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা সরকার নির্ধারণ করে দিলেও সংকটের কথা বলে খুচরা পর্যায়ে তা ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ, সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের।     এমন পরিস্থিতিতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই ও আগস্টের ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়াল এনবিআর

বিপিসিকে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে সরকার

গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স। ফাইল ছবি

গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্সে দক্ষিণ এশিয়ায় সবার নিচে বাংলাদেশ

সংগৃহীত ছবি
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন মুদ্রানীতি বাংলাদেশ ব্যাংকের

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য সামনে রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের জন্য এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে আজ।     বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে।        এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান কর্মকর্তা, গবেষণা বিভাগের নির্বাহী পরিচালক, মুখপাত্রসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন।      নতুন মুদ্রানীতিতে সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে মূল্যস্ফীতি ও বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের দিকে।     কারণ দেশে মূল্যস্ফীতি এখনো ৮ শতাংশের ওপরে থাকলেও বেসরকারি খাতে ব্যাংকঋণের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে। ফলে একদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো, অন্যদিকে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরানো—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

আজই শেষ হচ্ছে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়ে করছাড় পাওয়ার সময়

ছবি : সংগৃহীত

১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রকল্পের অর্থ থেকে নিয়ে জ্বালানি আমদানি চালিয়েছে বিপিসি

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশসহ ২০ দেশ ও অঞ্চলের বিশেষায়িত ওষুধে শুল্ক ছাড় দেবে যুক্তরাষ্ট্র

0 Comments