আন্তর্জাতিক

এ বছর জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১ আয়োজন করবে তুরস্ক

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে তুরস্ক। দেশটির মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ৬২ শতাংশ এখন নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

শুক্রবার ‘জেমরে ফান্ড’-এর অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে মোট স্থাপিত সক্ষমতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ৬২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।

এরদোয়ান আরও জানান, বনায়নের ক্ষেত্রে তুরস্ক বিশ্বে শীর্ষ দেশগুলোর একটি। ইউরোপে বনভূমির পরিমাণ বৃদ্ধিতে দ্রুত অগ্রসরমান দেশগুলোর মধ্যেও তুরস্ক অন্যতম।

তিনি বলেন, পরিবেশ ও জলবায়ু ইস্যুতে আজ পুরো বিশ্ব কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে। পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকি না কেন, জলবায়ু ও পরিবেশ সংকট উপেক্ষা করা আর সম্ভব বা সঠিক নয়।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান পরিবেশ সচেতনতাকে মাতৃভূমির চেতনা এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের চেতনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য আরও বাসযোগ্য, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন তুরস্ক গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি জানান, তুরস্ক এ বছর আনতালিয়ায় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১ আয়োজন করবে, যেখানে প্রায় ২০০টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

এরদোয়ান বলেন, এখন আর শুধু কথার সময় নয়, কাজের সময়।

তিনি আরও জানান, পরিবেশ প্রকল্পে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বৈষম্য করা হয় না; প্রকৃতি রক্ষায় সহায়ক প্রতিটি পদক্ষেপকেই সরকার সমর্থন করে। তথ্যসূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসান চায় ইরান

ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, চলমান যুদ্ধের স্থায়ী অবসান চায় বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। পরে বুধবার (১৯ আগস্ট) এ বরাতে খবর প্রকাশ করে আলজাজিরা।   আরাঘচি বলেন, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর পররাষ্ট্রনীতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করাই এ নীতির অন্যতম লক্ষ্য।   তিনি বলেন, প্রতিটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিদ্যমান উত্তেজনা দূর করতে হবে। পাশাপাশি বৃহত্তর আঞ্চলিক সম্পৃক্ততার অংশ হিসেবে ‘প্রাদেশিক কূটনীতি’ বা প্রতিবেশীভিত্তিক কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   সাম্প্রতিক অস্থিরতার সময় প্রতিবেশী দেশগুলোর সহযোগিতারও প্রশংসা করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষ্য, কিছু দেশ ইরানে পণ্য ও ওষুধ সরবরাহ করেছে, বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া ইরানিদের নিজ দেশে ফেরার সুযোগ দিয়েছে এবং ইরানি বিমানকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।   যুদ্ধবিরতির প্রসঙ্গে আরাঘচি বলেন, যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরানকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হলেও তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করেছিল। তার ভাষায়, ‘আমরা যুদ্ধবিরতি চাই না; আমরা যুদ্ধের অবসান চাই।’   তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন কোনো পরিস্থিতি ইরান চায় না যেখানে একটি সংঘাত যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে থেমে গিয়ে কয়েক মাস পর আবার শুরু হয় এবং সেটিই ভবিষ্যতে একটি নিয়মিত ধরনে পরিণত হয়।   সূত্র: আলজাজিরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে আবাসিক হোটেল অগ্নিকাণ্ডে ৯ মৃত্যু, বন্ধ করা হলো ১৫ হোটেল

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো নিরাপত্তা চুক্তি হয়নি, দাবি সিরিয়ার

ছবি: সংগৃহীত

আমিরাতে ফের ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ছবি: সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় টানা চতুর্থ দিন বাড়ল তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসায় এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম টানা চতুর্থ দিনের মতো বেড়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।   বুধবার (১৯ আগস্ট) এশিয়ার প্রাথমিক বাণিজ্যে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্স ২৬ সেন্ট বা ০.২৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯১.২৮ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৩৭ সেন্ট বেড়ে ৮৫.৩১ ডলারে ওঠে।   এর আগে মঙ্গলবারও ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয়ই ২৪ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ দামে লেনদেন শেষ করে। বাজারে মূলত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা কমে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দাম বাড়াচ্ছে।   বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রণালিটি খোলা রয়েছে বলে দাবি করলেও ইরান জানিয়েছে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এটি বন্ধ থাকবে। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ওই জলপথে জাহাজ চলাচলও ব্যাপকভাবে কমে গেছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফলে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির প্রিমিয়াম হিসেবে তেলের দামে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।   সূত্র: আল-জাজিরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি বন্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধাক্কা

ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের প্রস্তাবে ‘সাড়া দিয়েছেন’ কিম

ছবি: সংগৃহীত

নাইজেরিয়ার হামলায় নিহত অন্তত ২৫, নিহতদের বেশিরভাগ নারী-শিশু

ছবি: সংগৃহীত
২০২৭ সালের ২ আগস্ট ‘শতাব্দীর সূর্যগ্রহণ’ দেখা যাবে

২০২৭ সালের ২ আগস্ট আকাশে দেখা যাবে বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। এটিকে ইতোমধ্যে ‘শতাব্দীর সূর্যগ্রহণ’ বলা হচ্ছে। সহজে যাওয়া যায় এমন স্থলভাগ থেকে দেখা সূর্যগ্রহণগুলোর মধ্যে এটি ২১১৪ সাল পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘ হবে বলে জানিয়েছে ইউরোনিউজ।   গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে মিসরে পূর্ণগ্রাস প্রায় ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড স্থায়ী হবে। তুলনায় ২০২৬ সালের সূর্যগ্রহণের সর্বোচ্চ স্থায়িত্ব ছিল ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড।   তবে এই বিরল দৃশ্য দেখতে মিসর পর্যন্ত যাওয়ার প্রয়োজন নেই। পূর্ণগ্রাসের পথ ইউরোপের জিব্রাল্টার প্রণালি পেরিয়ে উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে যাবে।   স্পেনে মারবেলায় পূর্ণগ্রাস থাকবে ৩ মিনিট ২১ সেকেন্ড এবং কাডিজে ২ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড। উত্তর আফ্রিকার উপকূলে স্পেনের অধীন সেউতা ও মেলিয়ায় পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে যথাক্রমে ৪ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড ও ৪ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড।   ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি জিব্রাল্টারে পূর্ণগ্রাস স্থায়ী হবে ৪ মিনিট ২৮ সেকেন্ড। ইতালির লামপেদুসায় দেখা যাবে ২ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডের পূর্ণগ্রাস।   উত্তর আফ্রিকার মরক্কোর টাঙ্গিয়ারে পূর্ণগ্রাস থাকবে ৪ মিনিট ৫১ সেকেন্ড। তিউনিসিয়ার কয়েকটি শহরও থাকবে পূর্ণগ্রাসের পথে। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরনগরী সাফাক্সে গ্রহণের স্থায়িত্ব হবে ২ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড।   তবে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য সূর্যগ্রহণ দেখতে চাইলে গন্তব্য হতে পারে মিসর। সিওয়া মরূদ্যানে পূর্ণগ্রাস থাকবে ৫ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড, আসিউটে ৬ মিনিট ৭ সেকেন্ড এবং লুক্সরে ৬ মিনিট ২২ সেকেন্ড।   সৌদি আরবের জেদ্দায় পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে ৫ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড এবং মক্কায় ৫ মিনিট ১০ সেকেন্ড।   এত বড় সময়ের পূর্ণগ্রাস দেখতে ইতোমধ্যেই পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে। ফলে এসব এলাকার অনেক হোটেল আগেভাগেই বুক হয়ে যাচ্ছে এবং অবশিষ্ট থাকার জায়গাগুলোর দামও বেড়ে গেছে।   তীব্র গরম নিয়ে যারা চিন্তিত, তাদের জন্যও কিছুটা স্বস্তির খবর রয়েছে। নাসার গ্রহণবিষয়ক বিজ্ঞানী কেলি কোরেকের মতে, পূর্ণগ্রাসের সময় কোনো কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে।   ২০২৭ সালের পরও সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ থাকছে। ২০২৮ সালের ২৬ জানুয়ারি একটি বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। আর ২২ জুলাই ২০২৮ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ভোটের নিয়ম আরও কঠোর করার আহ্বান ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

হামাস অস্ত্র সমর্পণ না করলে গাজার পুনর্গঠন নয় : কুশনার

ছবি: সংগৃহীত

সৌদির পাঠ্যবইয়ে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে মহানবী (সা.) ও ইহুদিদের সম্পর্ক

0 Comments