জর্ডান দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। দেশের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জর্ডানের আকাশে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশ করে। সেগুলো আঘাত হানার আগেই ভূপাতিত করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, কে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছুঁড়েছে তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, রিয়াদের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্ফোরণের কারণ, ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি। পরিস্থিতি নিয়ে আরও তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।
এদিকে ইসরায়েলে পাল্টার হামলার পর এবার বাহরাইন, কুয়েত ও আবুধাবিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এজেন্সি ফ্রান্সের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জবাব দিতে পাল্টা মিসাইল হামলা শুরু করেছে ইরান। এরইমধ্যে বাহরাইন, কুয়েত ও আবুধাবিতেও ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে।
বাহরাইন নিশ্চিত করেছে, দেশটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম নৌবহরের সদর দফতরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অফিস টার্গেট করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের সূত্রে জানা গেছে, খামেনি ইতোমধ্যেই তেহরান ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছেন। তার বর্তমান অবস্থান সরকারিভাবে গোপন রাখা হয়েছে।
স্থানীয়রা বিস্ফোরণ শুনেছেন এবং আশপাশের এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গেছে। হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণও নিশ্চিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত রাখতে নতুন একটি বিমানবাহী রণতরি মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নৌবাহিনীর ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন-কে ওই অঞ্চলে পাঠিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এর স্থলাভিষিক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রকাশিত দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন গত বছরের নভেম্বর থেকে মোতায়েন রয়েছে এবং ইতোমধ্যে ২৫০ দিনেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০ দিন কোনো বন্দরে না থেমেই সমুদ্রে অবস্থান করেছে রণতরিটি, যা মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য একটি দীর্ঘ ও ব্যতিক্রমী মোতায়েন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘ মোতায়েনে নাবিকদের ওপর বাড়ছে চাপ দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থানের কারণে রণতরিটিতে কর্মরত নাবিকদের জীবনযাত্রার মান, কর্মপরিবেশ এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। তারা এ বিষয়ে পেন্টাগনের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও তথ্যও চেয়েছেন। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের আগে আব্রাহাম লিংকনকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হয়। যুদ্ধ চলাকালে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে রণতরি ও এর যুদ্ধবিমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরবর্তী সময়ে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকর রাখার কার্যক্রমেও রণতরিটি অংশ নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পেন্টাগনের কাছে উদ্বেগের চিঠি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী প্রধান হুং কাও-এর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল রণতরির নাবিকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, জাহাজে মৌলিক প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি, পানি দূষণ, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার ত্রুটি, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি, ডেকে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা এবং ডাক ব্যবস্থায় বিঘ্নের মতো নানা সংকট তৈরি হয়েছে। ব্লুমেনথাল আরও বলেন, নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা পাঠানো অনেক পার্সেল ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পথে হারিয়ে গেছে। কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও এসব সামগ্রীর অনেকগুলোর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। ‘দায়িত্ব পালনকারীদের যথাযথ যত্ন নিশ্চিত করতে হবে’ মার্কিন প্রতিনিধি মার্লিন স্টুটজম্যান-ও আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার সিএনএনকে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি পেন্টাগন ও মার্কিন প্রশাসনের কাছে নতুন করে তথ্য চাইবেন। স্টুটজম্যান বলেন, “যারা দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের অন্তত এই নিশ্চয়তা পাওয়া উচিত যে দায়িত্ব পালনের সময় তাদের যথাযথ যত্ন নেওয়া হচ্ছে।” কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিস্থাপন? বিশ্লেষকদের মতে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে পাঠানোর পরিকল্পনা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। তাই এটিকে শুধু নিয়মিত রণতরি প্রতিস্থাপন হিসেবে নয়, বরং ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও কৌশলগত উপস্থিতি বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন ঠিক কবে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন কখন আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব থেকে সরে যাবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই নেপালে ফিরেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও নেপালি কংগ্রেসের নেতা শের বাহাদুর দেউবা। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দেশে ফেরেন ৮০ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিক। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের। কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর সড়কের পাশে জড়ো হওয়া শত শত সমর্থককে হাত নেড়ে ও হাসিমুখে অভিবাদন জানান দেউবা। তার নিরাপত্তায় বিমানবন্দর ও সমর্থকদের সঙ্গে আয়োজিত সমাবেশে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় দেউবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। তার বিরুদ্ধে করা মামলাটি মানি লন্ডারিং তদন্ত বিভাগ পরিচালনা করছে। এপ্রিল মাসে অর্থপাচারের অভিযোগে দেউবার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে নেপাল পুলিশ। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। তার স্ত্রী ও দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবার বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে চিকিৎসার জন্য নেপাল ছাড়েন দেউবা। এরপর থেকেই তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ক্ষমতায় আসার পর দেশটির প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে। গত মার্চে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে সেপ্টেম্বরের প্রাণঘাতী বিক্ষোভ দমনে ভূমিকার অভিযোগে স্বল্প সময়ের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালে শুরু হওয়া তরুণদের নেতৃত্বাধীন জেন-জি আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে স্বল্পমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হলেও পরে তা দুর্নীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভে রূপ নেয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি ও রাজনৈতিক স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেন। এর জেরে তৎকালীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। বিক্ষোভের সময় দেউবার বাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বিক্ষোভকারীদের দেউবা ও তার স্ত্রীকে আক্রমণ করতে দেখা যায়। এ ছাড়া দেউবার বাড়িতে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ পাওয়া গেছে বলেও অভিযোগ ওঠে। তবে বিক্ষোভ তদন্তে গঠিত কমিশনের কাছে দেওয়া বক্তব্যে এসব ভিডিওকে সম্ভাব্য ভুয়া বলে দাবি করেন দেউবা। তিনি বলেন, এটি একটি ষড়যন্ত্র, যদিও এর পেছনে কারা রয়েছে তা আমি জানি না। তবে তদন্ত কমিশন দেউবার বাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তিতে পাওয়া বিপুল নগদ অর্থের অভিযোগ নিয়ে আরও তদন্তের সুপারিশ করেছে। এদিকে নেপালি কংগ্রেসের নেতৃত্বও দেউবার হাতছাড়া হয়েছে। তরুণ নেতাদের নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবির মুখে জানুয়ারিতে দলটির সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে একাধিকবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন দেউবা। সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড
বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখতে যখন স্পেনের লাখো মানুষ আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে আকাশে দুঃসাহসিক স্টান্ট দেখিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন স্প্যানিশ অলিম্পিক স্কেটবোর্ডার ড্যানি লিওন। চাঁদ সূর্যের সামনে এসে আলো ঢেকে দেওয়ার ঠিক মুহূর্তে বিশাল এক লাফ দেন তিনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই দৃশ্য শেয়ার করে এটিকে জীবনের সেরা স্টান্ট বলে বর্ণনা করেন তিনি। খবর আল জাজিরার। স্প্যানিশ পেশাদার স্কেটবোর্ডার ড্যানি লিওন এই খেলায় বেশ পরিচিত মুখ। স্পেনের হয়ে টোকিও ২০২০ ও প্যারিস ২০২৪ দুই অলিম্পিকেই পুরুষদের পার্ক স্কেটবোর্ডিং ইভেন্টে অংশ নিয়েছেন তিনি। বুধবার স্পেনজুড়ে লাখো মানুষ বিরল এই পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য জড়ো হন। আকাশ পরিষ্কার থাকা বিভিন্ন শহর ও জনপদে মানুষ আগে থেকেই জায়গা করে নেয় সূর্যগ্রহণের সেরা দৃশ্য দেখার আশায়। গ্রহণ শুরু হওয়ার পর ধীরে ধীরে আকাশ অন্ধকার হতে থাকে। পরে চাঁদ পুরোপুরি সূর্যের আলো ঢেকে ফেললে দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে করতালি দিয়ে ওঠেন, কেউ কেউ আনন্দে চিৎকার করেন। স্পেনে এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর এটি ছিল প্রথম পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। উত্তর ও মধ্য স্পেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এবং পর্তুগালের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রহণের অসাধারণ দৃশ্য দেখা যায়। গ্রহণের ছায়া গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের কিছু অংশের ওপর দিয়েও অতিক্রম করে। যে সময় চাঁদ পুরোপুরি সূর্যকে ঢেকে দেয়, সেই ‘সম্পূর্ণতা’ পর্যায়টি আড়াই মিনিটেরও কম স্থায়ী হওয়ার কথা ছিল। আইসল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলের কাছে এর সর্বোচ্চ স্থায়িত্ব দেখা যায়। পর্তুগালের একটি ছোট অংশ এবং স্পেনে পৌঁছানোর সময়, সূর্যাস্তের ঠিক আগে, পূর্ণ গ্রহণের স্থায়িত্ব কমে প্রায় এক মিনিটে নেমে আসে। এরপর ভূমধ্যসাগরের ওপর দিয়ে পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পর্যায় শেষ হয়। এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনা দেখতে স্পেনে অন্তত আরও ৫ লাখ পর্যটক আসতে পারেন বলে জানিয়েছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ। গ্রহণের গতিপথের মধ্যে থাকা উত্তরাঞ্চলের এ কোরুনিয়া, বিলবাও ও সান্তিয়াগো দে কম্পোস্তেলার মতো শহরগুলোতে হোটেল কক্ষের চাহিদাও ব্যাপক বেড়ে যায়। তীব্র গরম ও দাবানলের আশঙ্কার মধ্যেই সূর্যগ্রহণকে ঘিরে বড় ধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেয় স্পেন সরকার। বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম সামাল দিতে চালু করা হয় বিশেষ জননিরাপত্তা প্রচারাভিযান। তবে এসব আয়োজনের মধ্যেও ড্যানি লিওনের সময় মেপে করা সেই দুঃসাহসিক স্কেটবোর্ডিং স্টান্টই সূর্যগ্রহণের স্মরণীয় দৃশ্যগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। সূত্র : আল জাজিরা ও এনডিটিভি