বিশ্বের অন্যতম শিক্ষাবিষয়ক দাতব্য সংস্থা দেয়ারওয়ার্ল্ড’র গ্লোবাল ইয়ুথ অ্যাম্বাসেডর হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মো. রফিকুল ইসলাম। এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থাটির ইয়ুথ টিম।
দেয়ারওয়ার্ল্ড’র গ্লোবাল ইয়ুথ অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রামটি তরুণ শিক্ষা-অধিকারকর্মীদের একটি বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক। এতে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা প্রশিক্ষণ মডিউল, কর্মশালা ও বিভিন্ন রিসোর্সের মাধ্যমে সদস্যরা নেতৃত্ব, অ্যাডভোকেসি ও ক্যাম্পেইনিং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পান।
বর্তমানে বিশ্বের ১৩০টিরও বেশি দেশের তরুণরা এই প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজ নিজ সম্প্রদায় ও দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করছেন। পাশাপাশি শিক্ষার গুরুত্ব ও অধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতেও তারা ভূমিকা রাখছেন।
যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের স্ত্রী সারা ব্রাউনের উদ্যোগে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দেয়ারওয়ার্ল্ড। সংস্থাটি বিশ্বব্যাপী শিক্ষা সংকট নিরসন, শিশুদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতকরণ ও ভবিষ্যৎ দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে সারা ব্রাউন সংস্থাটির চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রফিকুল ইসলাম মালয়েশিয়া সিটি ইউনিভার্সিটির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি ‘বেস্ট স্টুডেন্ট স্টাফ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ অর্জন করেছেন এবং প্রযুক্তি ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রফিকুল ইসলাম এশিয়া প্যাসিফিক রোবট অ্যালায়েন্সের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি জেসিআই মালয়েশিয়ার স্বেচ্ছাসেবক এবং বাংলাদেশি ইয়ুথ অ্যালায়েন্স মালয়েশিয়ার (বিয়াম) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে আছেন।
একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে তিনি বাংলাদেশে অনলাইন ও অফলাইন শিক্ষাদানের মাধ্যমে চার হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর ওপর ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করেছেন। এছাড়াও যুব নেতৃত্ব বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, সামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন।
রফিকুল ইসলামের এই আন্তর্জাতিক অর্জন প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
২০২১ সালে বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জে সংঘটিত এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে। নিজের আপন চাচাকে গুলি করে হত্যার অপরাধে গনেট রোজারিও নামে ৫৪ বছর বয়সি ভাতিজাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে নিউইয়র্কের একটি আদালত। বৃহস্পতিবার (৭ মে) নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত গনেট নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি ও নিহত মাইকেল রোজারিও—উভয়েই জন্মসূত্রে বাংলাদেশি কিন্তু মার্কিন নাগরিক। আদালতের নথিপত্র ও প্রসিকিউশনের বিবরণ থেকে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জে পৈতৃক সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে এই দুই আত্মীয়ের মধ্যে দীর্ঘ বছর ধরে বিরোধ চলছিল। ২০২১ সালের জুনে উভয়েই বাংলাদেশে এসে তাদের ওই পৈতৃক বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ১১ জুন সন্ধ্যায় বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে ধূমপান করার সময় গনেট শুনতে পান, তার চাচা মাইকেল রোজারিও ঘরের ভেতর থেকে তাকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গনেট ঘর থেকে একটি শটগান নিয়ে আসেন এবং আগামীকালের সূর্য তুমি আর দেখবে না বলে চিৎকার করে জানালার ওপার থেকে তার চাচাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মাইকেলের মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের পর ২০২৩ সালের জুলাই মাসে গনেট রোজারিও যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের এপ্রিলে তার বিরুদ্ধে বিদেশে মার্কিন নাগরিক হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিস সরাসরি কাজ করেছে। এছাড়া ঢাকাস্থ এফবিআইয়ের লিগ্যাল অ্যাটাশে এবং মার্কিন বিচার বিভাগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক শাখা এই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অভিযুক্ত গনেট আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ার পর তাকে এই দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড দেওয়া হলো। মার্কিন বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে এই মামলাটি সফলভাবে পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতার প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ টাইসেন ডুভা এবং ইউএস অ্যাটর্নি জে ক্লেটন এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, বিদেশের মাটিতে মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে সংঘটিত যেকোনো অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই রায় এটিই প্রমাণ করে যে অপরাধ যেখানেই হোক না কেন, বিচার থেকে রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই।
মালয়েশিয়ার কেদাহ অঙ্গরাজ্যের সিক জেলার বেলান্তিকে অবৈধ অভিবাসী আদালতে বিভিন্ন অভিবাসন আইনে ১২৬ জন অবৈধ অভিবাসীকে হাজির করা হয়েছে। বুধবার (৭ মে) অনুষ্ঠিত শুনানিতে তাদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং অভিবাসন বিধিমালা ১৯৬৩ অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়। বিচারক ইয়েএ তুয়ান মাজদি বিন আবদুল হামিদের আদালতে মামলাগুলো পরিচালনা করেন টিপিপিআই প্রসিকিউটর ফারাহাফিদা বিনতি জাকারিয়া। আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ধারা ১৫(১)(সি) অনুযায়ী অতিরিক্ত সময় ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থানের অভিযোগে ৫৯ জন বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে চীন, ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নাগরিক রয়েছেন। আদালত তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত জরিমানা অনাদায়ে কারাদণ্ডের আদেশ দেন। এদিকে, বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়া মালয়েশিয়ায় প্রবেশ ও অবস্থানের অভিযোগে অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ধারা ৬(১)(সি) অনুযায়ী চীন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পাঁচ নাগরিককে আট মাসের কারাদণ্ড এবং এক বেত্রাঘাতের দণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পৃথক আরেকটি শুনানিতে ৬২ জন বিদেশিকে ভিজিট পাসের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে অভিবাসন বিধিমালা ১৯৬৩-এর রুল ৩৯(বি) অনুযায়ী অভিযুক্ত করা হয়। আদালত প্রত্যেককে ৬০০ রিঙ্গিত জরিমানা, অনাদায়ে দুই মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। কিছু মামলার শুনানি দোভাষী সেবার জন্য পরবর্তী তারিখে মুলতবি করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। কেদাহ রাজ্য মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অভিবাসন আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং বিদেশি নাগরিকদের দেশের আইন ও বিধিনিষেধ মেনে চলা নিশ্চিত করতে তাদের এ ধরনের অভিযান ও বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নিবার্চনে লন্ডনের নিউহ্যাম বারা কাউন্সিলের প্রথম বাঙালি নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন লেবার পার্টির ফরহাদ হোসেন। বৃহস্পতিবার লন্ডনের ৩২টি বারা কাউন্সিলে নির্বাচন হয়। এর মধ্যে পাঁচটি কাউন্সিলে সরাসরি ভোটে নির্বাহী মেয়র ও কাউন্সিল নির্বাচন করা হয়। যুক্তরাজ্যে প্রথম বাঙালি নির্বাহী মেয়র ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটসের লুতফুর রহমান। তিনি ছিলেন স্বতন্ত্র। এবারের নির্বাচনেও তিনি টাওয়ার হ্যামলেটসে মেয়র পদ ধরে রাখার জন্য লড়ছেন। সেখানে এখনো ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন লেবার পার্টির সিরাজুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী জামি আলী, ও লিবডেম পার্টির আব্দুল হান্নান। নিউহ্যাম কাউন্সিলে লেবার পার্টির প্রার্থী ফরহাদ হোসেন পেয়েছেন ২৫,৫৩৮ ভোট; আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহমুদ মিজার্ পেয়েছেন ২০,২৩৪ ভোট। নির্বাচনে জয়ের পর ফরহাদ হোসেন বলেন, নিউহ্যাম বারার জন্য এটি একটি নতুন অধ্যায়। আমরা সবাই মিলে নিউহ্যাম গড়ব, যার প্রত্যেকটি বাসিন্দা নিজেদের বাসস্থান এখানে বলতে গর্ববোধ করবেন। নিউহ্যামের মেয়র নির্বাচিত হওয়া আমার জন্য বড় সম্মান। নিউহ্যাম লন্ডনের এমন একটি বারা, যেখানে ব্রিটেনের সংখ্যালঘু নানা কমিউনিটির লোকজন বসবাস করে। ১৯৬৪ সালে নিউহ্যাম কাউন্সিল গঠনের পর বেশিরভাগ নির্বাচনে জয়ী হয়ে এ কাউন্সিল পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন লেবার পার্টির প্রার্থীরা। বর্তমানে মোট ৬৬ জন কাউন্সিলর রয়েছেন নিউহ্যাম বারায়, তাদের মধ্যে কয়েকজন বাঙালিও আছেন। প্রায় ১৫ হাজার ব্রিটিশ বাংলাদেশি ভোটার রয়েছেন নিউহ্যামে। এছাড়া, পাকিস্তানি, ভারতীয়, শ্রীলঙ্কান, সোমালী কমিউনিটির বিপুল সংখ্যক ভোটার রয়েছেন। নিউহ্যামের বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন প্রায় আট বছর কাউন্সিলর হিসাবে এবং কেবিনেট মেম্বার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি স্থানীয় একটি স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং নিউভিক কলেজে ‘এ লেভেল’ করার পরে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে অ্যারোনোটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি নেন। এনএইচএস, এডুকেশন, লোকাল অথরিটি ও বিভিন্ন চ্যারিটিতে কাজ করেছেন তিনি। বর্তমানে লন্ডনের বৃহৎ টানেল প্রকল্প লোয়ার টেমস ক্রসিংয়ে প্রিন্সিপাল কনসালট্যান্ট হিসাবে কাজ করছেন ফরহাদ হোসেন। অবসর সময়ে তিনি ইসিবি লেভেল টু কোচ হিসাবে তৃণমূল ক্রিকেট প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।