২০২৫ সাল ভালোবাসা, প্রতিশ্রুতি আর নতুন শুরুর আবেশে মোড়া ছিল বাংলাদেশের তারকাদের। দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে পরিণয়ের বন্ধনে বাঁধা, আবার কেউ কেউ নতুন মানুষের হাত ধরে শুরু করেছেন জীবনের নতুন অধ্যায়। ক্যারিয়ারের ব্যস্ততা আর আলো–ছায়ার আড়াল ভেদ করে ব্যক্তিগত জীবনের এই পরিবর্তনগুলো বছরজুড়ে সরগরম রেখেছে দেশীয় তারকা অঙ্গন । এখন ২০২৫ বিদায় নিতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি, এই সময় ফিরে তাকালে দেখা যায়, সাফল্যের পাশাপাশি প্রেম ও পরিণয়ের গল্পেও সমৃদ্ধ ছিল এই এক বছর। সেই আলোচিত প্রেম–পরিণয়ের গল্পগুলোই এবার তুলে ধরা হয়েছে আজকের প্রতিবেদনে।
তাহসান খান - রোজা আহমেদ
২০২৫ সাল অর্থাৎ নতুন বছরের উচ্ছ্বাস পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠার আগেই বিনোদন অঙ্গনে নেমে আসে এক চমক—হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান। কোনো পূর্বঘোষণা নয়, কোনো আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনও নয়, গত ৪ জানুয়ারি একান্ত ঘরোয়া পরিবেশে মেকআপ আর্টিস্ট রোজা আহমেদের সঙ্গে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেন তিনি।
নীরব এই বিয়ের খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, শুরু হয় জল্পনা-কল্পনা, আলোচনা আর নানা প্রতিক্রিয়া। ব্যক্তিজীবনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই। এটি তাহসানের দ্বিতীয় বিয়ে। এর আগে অভিনেত্রী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলার সঙ্গে তার দাম্পত্য জীবন একসময় ছিল শোবিজ অঙ্গনের আলোচিত অধ্যায়।
২০২৫ সালের শুরুতেই তাহসানের এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত যেন বিনোদন জগতে এক নাটকীয় মোড় এনে দিইয়েছিল, যার রেশ এখনো কাটেনি।
মেহজাবীন চৌধুরী - আদনান আল রাজীব
দীর্ঘ ১৩ বছরের নীরব লুকোচুরি, আড়াল আর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভালোবাসা পেল পরিণয়ের নাম।২০২৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের দিনে—নির্মাতা আদনান আল রাজীবের হাত ধরে জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন। তবে সেই আবেগঘন মুহূর্তের খবর তারা প্রকাশ্যে আনেন আরও কিছুদিন পর, ২৪ ফেব্রুয়ারি।
দুই পরিবারের সম্মতিতে একান্ত ঘরোয়া আয়োজনে সম্পন্ন হয় তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। বিনোদন অঙ্গনের সবচেয়ে আলোচিত ও আবেগঘন বিয়ের মধ্যে ছিল এটি একটি।
শবনম ফারিয়া - তানজিম তৈয়ব
প্রথম সংসারের ইতি টানার প্রায় পাঁচ বছর পর চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয়বারের মতো বিয়ের পিঁড়িতে বসেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। ফারিয়ার দ্বিতীয় স্বামী তানজিম তৈয়ব রাজশাহীর বাসিন্দা। দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত।
উল্লেখ্য,এর আগে ২০১৮ সালে ভালোবেসে হারুনুর রশীদ অপুকে বিয়ে করেছিলেন শবনম ফারিয়া।
শামীম হাসান সরকার - আফসানা প্রীতি
চলতি বছরের এপ্রিলে বিয়ে করেন ছোট পর্দার অভিনেতা শামীম হাসান সরকার। ফরিদপুরের মেয়ে আফসানা প্রীতিকে বিয়ে করেন অভিনেতা। শামীম বিয়ে নিয়ে হারহামেশাই মজা করতেন বলে তার সত্যিকারের বিয়ের খবর নিয়ে ভক্তরা বেশ ধোঁয়াশায় ছিলেন। পরে সব স্পষ্ট করে দেন অভিনেতা।
জামিল হোসেন - মুনমুন আহমেদ
বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা জামিল হোসেন বিয়ে করেছেন চলতি বছরের গত ৬ এপ্রিল। তার স্ত্রীর নাম মুনমুন আহমেদ। তিনিও অভিনয়ে সঙ্গে যুক্ত। স্ত্রী মুনমুনের সঙ্গে একসঙ্গে জুটি বেঁধে বেশ কিছু নাটকে কাজ করেছেন জামিল। সেখান থেকেই দুজনের পরিচয়। আর সেই পরিচয় একটা সময় গড়ায় ভালোলাগায়, এরপরই ঘটে পরিণয়।
রাফায়েল আহসান ও মায়মুনা মম
এদিকে বছরের শেষের দিকে অর্থাৎ ২১ নভেম্বর বিয়ে করেন দেশের জনপ্রিয় নির্মাতা রাফায়েল আহসান ও অভিনেত্রী মায়মুনা মম। খুব অল্প সময়ের প্রেম তারপর পারিবারিক আয়োজনে বিয়ে করেন এই তারকা দম্পতি।
সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, ২০২৫ সাল শুধু বিনোদন নয়—ভালোবাসা আর নতুন শুরুর বছর হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে দেশের শোবিজ অঙ্গনে। আলো–ক্যামেরার বাইরের এই বাস্তব গল্পগুলো তারকাদের আরও মানবিক করে তুলেছে দর্শকের চোখে। জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখা এসব তারকাদম্পতির পথচলা হোক বিশ্বাস, সম্মান আর ভালোবাসায় ভরপুর—এই কামনাই থাকবে ভক্তদের।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ব্যবসাসফল সিনেমা ‘লাকি ভাস্কর’-এর সিক্যুয়েল আসছে। সিনেমাটির পরিচালক ভেঙ্কি আটলুরি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন, ‘লাকি ভাস্কর ২’ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সেটির জন্য দর্শকদের আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে। নিজের নতুন ছবি ‘বিশ্বনাথ অ্যান্ড সন্স’-এর প্রচারণার সময় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভেঙ্কি আটলুরি বলেন, ‘লাকি ভাস্কর ২’ অবশ্যই হবে। তবে হাতে থাকা অন্যান্য কাজ শেষ করেই তিনি এ প্রকল্পে হাত দেবেন। তার ভাষায়, ছবিটি শুরু করতে অন্তত আরও দুই বছর সময় লাগতে পারে। পরিচালক আরও বলেন, প্রথম ছবিটি দর্শকের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় সিক্যুয়েল নির্মাণের দায়িত্বও অনেক বড়। তাই তাড়াহুড়ো না করে শক্তিশালী গল্প নিয়েই তিনি ফিরতে চান। ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘লাকি ভাস্কর’-এ কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন দুলকার সালমান। অপরাধ ও আর্থিক প্রতারণার পটভূমিতে নির্মিত ছবিটি বক্স অফিসে সাফল্যের পাশাপাশি সমালোচকদেরও প্রশংসা কুড়িয়েছিল। এরপর থেকেই ছবিটির দ্বিতীয় কিস্তি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে জোর আলোচনা চলছিল। যদিও সিক্যুয়েলের কাহিনি, অভিনয়শিল্পী কিংবা মুক্তির সম্ভাব্য সময় নিয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু জানাননি ভেঙ্কি আটলুরি। তবে তার ঘোষণায় দুলকার সালমানের ভক্তদের অপেক্ষা আরও বেড়ে গেল।
বেশ কিছু দিন ধরেই পাকিস্তানি বিনোদন ভুবনে ভাসছিল অভিনেতা আহাদ রাজা মীরের সঙ্গে অভিনেত্রী-ইনফ্লুয়েন্সার দানানির মোবিনের প্রেমের গুঞ্জন। তবে পাকিস্তানি এই তারকাজুটি মুখে কুলুপ এঁটে গোপনীয়তা বজায় রাখেন। এবার রেডিট ও ইনস্টাগ্রামের ক্ষুরধার ‘গোয়েন্দা’রা এমন এক গোপন খবর নেটদুনিয়ায় ফাঁস করেছেন, যা নিয়ে শোরগোল পুরো পাকিস্তানি শোবিজ অঙ্গনে। ‘মীম সে মোহাব্বত’ সিরিজে অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন দানানির মোবিন। সেখানে তাকে পর্দায় রোমান্স করতে দেখা গেছে আহাদের সঙ্গে। সেই থেকেই তাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক বলেই ধারণা নেটিজেনদের। অন্যদিকে অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীতেও সফল আহাদ রাজা মীর। তার অভিনীত ‘আনজান’ এখনো দর্শকহৃদয়ে দাগ কেটে আছে। দানানির মোবিনের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা কিছু নজরকাড়া ছবি থেকেই সূত্রপাত নতুন গুঞ্জনের। ছবিগুলো দেখে সাধারণ মনে হলেও, তীক্ষ্ণ নজরধারী কিছু ভক্ত থার্ড-পার্টি টুলস ব্যবহার করে এক গোপন রহস্য উন্মোচন করেন। ছবিগুলোতে গোপনে বিশেষ এক প্রাইভেট ট্যাগ করা ছিল, যা সাধারণ নেটিজেনদের চোখে পড়ার কথা নয়। আর সেই গোপন হিডেন ট্যাগটি সোজা গিয়ে ঠেকেছে হ্যান্ডসাম অভিনেতা আহাদ রাজা মীরের প্রোফাইলে! এ ছাড়াও ভক্তদের তীক্ষ্ণ চোখ এড়ায়নি ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডও। দানানিরের সাম্প্রতিক জন্মদিনের একটি ছবির পেছনের কাচের দরজার সঙ্গে আহাদের নিজের বাড়ির দরজার হুবহু মিল খুঁজে পেয়েছেন অনেকেই। শুধু তাই নয়, এর আগেও আহাদের ফ্যাশন শোতে দানানিরের বোনের উপস্থিতি কিংবা থার্টি ফার্স্ট নাইটে দুই পরিবারের একসঙ্গে উদযাপনের ছবি নতুন করে উসকে দিয়েছিল এই প্রেমের গুঞ্জন। পাকিস্তানি গণমাধ্যম ‘পাকমনজিল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী দেখা যায়, নেট দুনিয়ায় এই তারকাদের নিয়ে ফুসফাস চললেও তাদের ভক্তদের মধ্যে রয়েছে দ্বিমত। একদল ভক্তের মতে, থার্ড পার্টি অ্যাপ দিয়ে কারও হিডেন ট্যাগ বের করাটা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার স্পষ্ট লঙ্ঘন। আরেক পক্ষ মনে করছে, তারা দুজনই জনপ্রিয় পাবলিক ফিগার, তাই ভক্তদের কৌতূহল থাকাটা স্বাভাবিক। সব মিলিয়ে দানানির আর আহাদ গোপনে চুটিয়ে প্রেম করছেন নাকি তারা কেবলই ঘনিষ্ঠ বন্ধু—তার আসল সত্য এখনো অজানা। তবে এই হিডেন ট্যাগের রহস্য যে বর্তমানে পুরো বিনোদন পাড়াকে দারুণভাবে মাতিয়ে রেখেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না!
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে এবার দেখা যেতে পারে নতুন সিনেমা ‘গুলশানের চামেলি’-তে। রাজনীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অভিজাত সমাজের অন্ধকার বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে নির্মাণাধীন এই সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয়ের বিষয়ে তার সঙ্গে নির্মাতাদের আলোচনা চলছে। গণমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাঁধন নিজেই। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, সিনেমাটি নিয়ে আমার সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। আগস্টের ১ তারিখ সম্ভবত সিনেমাটির ঘোষণা আসবে। এখানে আমি একজন মানবাধিকারকর্মী, অর্থাৎ আইনজীবীর চরিত্র করছি।’ জানা গেছে, সিনেমাটির গল্প আবর্তিত হয়েছে এক যৌনকর্মীর জীবনকে ঘিরে। কোনো অপরাধ না করেও ক্ষমতার নির্মম খেলায় বারবার নিপীড়নের শিকার হন তিনি। তার জীবনের নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে সমাজ, রাজনীতি এবং অভিজাত শ্রেণির অন্ধকার বাস্তবতা তুলে ধরা হবে। এর আগে সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলকাতার অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার। নারীপ্রধান এই সিনেমায় তিনিই মূল চরিত্রে অভিনয় করবেন। প্রচলিত বাণিজ্যিক ধারার বাইরে গিয়ে সিনেমাটিতে কোনো প্রচলিত নায়ক থাকছে না; বরং একজন নারীর সংগ্রাম ও জীবনকাহিনিকেই কেন্দ্র করে এগোবে পুরো গল্প। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী নভেম্বর কিংবা ডিসেম্বরে বাংলাদেশে শুরু হবে ‘গুলশানের চামেলি’-র শুটিং। আগামী ১ আগস্ট সিনেমাটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে জানা গেছে।