জাতীয়

ড্রোনের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে মাদক ঢুকছে: আইনমন্ত্রী

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ড্রোনের মাধ্যমে মাদক ঢুকছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

আইনমন্ত্রী বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পরিকল্পিতভাবে মাদক চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বর্ডারের ওপারে বসে ইয়াবা চোরাকারবারিরা পরিকল্পনা করছে। ড্রোনের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় মাদক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। মাদক এখন আর শুধু খুলনার সমস্যা নয়। সে কারণে সারা দেশে ডোপ টেস্টের ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, মাদক থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে শিক্ষা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতির দিকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

 

সন্ত্রাস দমন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস দমনে ক্রসফায়ারে যাবে না সরকার। মানবাধিকার রক্ষা করে প্রয়োজনে প্রচলিত আইনকে আরও শক্তিশালী করে সন্ত্রাস দমন করা হবে।

 

তিনি বলেন, সরকারের বয়স ছয় মাস। এ সরকারকে আবর্জনা পরিষ্কার করার জন্য সময় দিতে হবে। তবে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে পচন ধরেছে, সে পচনকে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ছয় মাসে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাকে উন্নত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

খুলনার জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, আজিজুল বারী হেলাল এমপি, আমির এজাজ খান এমপি, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী, বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ই-পার্লামেন্টে অনলাইনে যুক্ত হবে সংসদের বিল, এমপিদের উপস্থিতি ও ভোটের রেকর্ড

ই-পার্লামেন্টের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের প্রতিটি অধিবেশন, বিল বা আইন পাস, সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি এবং ভোট দেওয়া রেকর্ড সরাসরি অনলাইনে সম্পৃক্ত হবে বলে জানিয়েছেন ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য ও হুইপ এ.বি.এম. আশরাফ উদ্দিন (নিজান)।    তিনি বলেন, ই-পার্লামেন্ট চালু হলে সাধারণ নাগরিকরা সহজেই জানতে পারবেন, তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধি সংসদে কী ভূমিকা রাখছেন এবং কোন বিষয়ে কীভাবে ভোট দিচ্ছেন।   তিনি বলেন, নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে একটি অনলাইন পোর্টাল বা অ্যাপ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে কোনো খসড়া আইন পাসের আগে নাগরিকরা তাঁদের মতামত ও পরামর্শ দিতে পারবেন। পাশাপাশি ই-পিটিশন দাখিল এবং গ্রাম থেকে বসেও যেকোনো অভিযোগ সরাসরি সংসদের কমিটির কাছে পাঠানোর সুযোগ থাকবে বলে হুইপ নিজান আরো বলেন, সংসদকে কাগজবিহীন বা পেপারলেস করতে হবে। কারণ সংসদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রতিদিন কয়েক টন কাগজ ব্যবহার হয়, যা পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। অথচ ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে কাগজের কোন প্রয়োজন নেই।    আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম সভা শেষে জাতীয় সংসদ ভবনের ট্যানেলে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।      কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় কমিটির সদস্য হুইপ এ.বি.এম. আশরাফ উদ্দিন (নিজান), সংসদ সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমেদ, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আখতার হোসেন, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ এবং আন্না মিন্জ অংশগ্রহণ করেন।   আশরাফ উদ্দিন (নিজান) বলেন, এই পার্লামেন্টকে যুগোপযোগী এবং ই-পার্লামেন্ট করা আমাদের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল। বাংলাদেশের নাগরিক যেন আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে।    তিনি বলেন, পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংসদে কাগজের ব্যবহার বন্ধ করে পেপারলেস পার্লামেন্ট গড়ে তুলতে ই-পার্লামেন্ট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে আজ প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।     তিনি আরো বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক সংসদ গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।   সভায় শুরুতে সভাপতি উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানান। পরে তাঁর নির্দেশনায় ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ প্রকল্পের ওপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। সভায় সংসদীয় কার্যক্রমকে অধিকতর আধুনিক, গতিশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় প্রকল্পের কার্যক্রমের যথাযথ বাস্তবায়ন, বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং প্রকল্পের আওতাভুক্ত কাজের পুনরাবৃত্তি পরিহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।   সভায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচিতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পের নাম ‘ই-পার্লামেন্ট’ পরিবর্তন করে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।   এ ছাড়া, প্রকল্পের আওতায় সাউন্ড সিস্টেমসহ অন্যান্য কার্যক্রমের মধ্যে যাতে কোনো ধরনের পুনরাবৃত্তি বা কাজের দ্বৈততা (ওভারল্যাপিং) না থাকে, তা নিশ্চিত করতে বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে একটি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্য সাঈদ আল নোমান, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ও আন্না মিন্জকে নিয়ে এ উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপ-কমিটিকে প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিস্তারিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন মূল কমিটির কাছে উপস্থাপনের দায়িত্ব দেওয়া হয়।   সভায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

পুলিশের ক্যাডেট এএসআই নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, সুপারিশপ্রাপ্ত ২০০০

ছবি: সংগৃহীত

ফতুল্লায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ৯ পুলিশসহ আহত ১১

ছবি: সংগৃহীত

সংবিধান সংশোধন কমিটির সভা প্রত্যাখ্যান করলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম

ছবি: সংগৃহীত
শিল্পাঞ্চলের অস্থিরতার জন্য সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত দায়ী: হান্নান মাসউদ

দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে চলমান অস্থিরতার জন্য সরকারের অপরিকল্পিত ও অপরিপক্ব সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। তিনি বলেছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকটের সমাধান করতে হবে।   মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) চলমান মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন, শিল্প রক্ষা এবং মালিক-শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাতীয় শ্রমিক শক্তি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।   হান্নান মাসউদ বলেন, তারা কোনো পক্ষের হয়ে নয়, বরং দেশের মানুষ ও বাংলাদেশের স্বার্থে কথা বলতে এসেছেন। তার অভিযোগ, সরকার নিষ্ক্রিয় অবস্থান নিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।   সরকারের গত নয় মাসের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ সময়ে দেশ পরিচালনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। বরং ব্যাংক থেকে অর্থ পাচার, দুর্নীতি, লুটপাট, টেন্ডারবাজি এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। পাশাপাশি বিরোধী মত দমন ও সমালোচকদের কারাগারে পাঠানোরও সমালোচনা করেন তিনি।   শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় অস্থিরতার পেছনে সরকারের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত রয়েছে। তার মতে, সরকারের উপদেষ্টা ও সহকারীদের ভুল পরামর্শও বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী।   তিনি আরও বলেন, পোশাকশিল্প, সার ও চাল উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বারবার গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এর ফলে উৎপাদন ও অর্ডার কমার পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি প্রসঙ্গে হান্নান মাসউদ বলেন, ২০২৩ সালে শ্রমিকরা সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা মজুরির দাবি জানিয়েছিলেন। সে সময় বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও দাবিটিকে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছিলেন। অথচ বর্তমানে শ্রমিকদের আন্দোলনকে অযৌক্তিক বলা হচ্ছে। তার ভাষ্য, ২০২৩ সালের তুলনায় এখন মূল্যস্ফীতি কয়েক গুণ বেড়েছে। তাই শ্রমিকদের সব দাবি পূরণ না করলেও অন্তত ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে হবে।   তিনি বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার, অকটেন, চাল, ডাল, তেল, ডিম ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি যাতায়াত খরচও বেড়েছে। জীবনযাত্রার এসব ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের বেতন বাড়ানো প্রয়োজন।   শ্রমিকদের আয় না বাড়লেও দলীয় নেতাকর্মীদের আয় বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন—এমন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের আয়-রোজগারে ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি।   শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে হান্নান মাসউদ বলেন, আন্দোলনে নিষিদ্ধ সংগঠনের কেউ থাকতে পারে—এ সম্ভাবনা তারা অস্বীকার করছেন না। তবে গোয়েন্দা সংস্থা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা কীভাবে অবস্থান করছে, তা সরকারকে খুঁজে বের করতে হবে।   তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তার না করে আন্দোলনে তাদের উপস্থিতির দায় শ্রমিকদের ওপর চাপানো হচ্ছে।   সরকার শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেন।   গার্মেন্টসের অর্ডার অন্য দেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের অর্ডার ভিয়েতনাম, ভারত ও মালয়েশিয়ায় চলে যাচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। অথচ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তুলনায় বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিকদের মজুরি কম। মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও ভারতের শ্রমিকরা বাংলাদেশের শ্রমিকদের তুলনায় দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ বেশি বেতন পান বলে দাবি করেন তিনি।   শ্রমিকদের বেতন বাড়ালে শিল্পমালিকদের লোকসান হবে—এমন যুক্তিও গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন হান্নান মাসউদ। তার মতে, বন্দরে ঘুষ বাণিজ্য, পরিবহনে চাঁদাবাজি ও পথে পথে হয়রানি বন্ধ করা গেলে উৎপাদন ব্যয় কমবে। এতে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।   সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, লুটপাট বন্ধ না হলে দেশের বিভিন্ন খাতের মানুষ ন্যায্য দাবিতে রাজপথে নামবে। শ্রমিকদের দাবি উপেক্ষা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।   এ ছাড়া শ্রমিক আন্দোলনের সময় মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখা, পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ এবং যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাদের লাঠিসোঁটা ও অস্ত্রসহ রাস্তায় নামার বিষয়েও সরকারের কাছে জবাব চান তিনি। মজুরি কমিশনে শ্রমিকদের প্রকৃত প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।   সবশেষে শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ ও গুলি না চালিয়ে তাদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, শ্রমিক, রিকশাচালক ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের বিরুদ্ধে সরকার অবস্থান নিলে এনসিপি তাদের পাশে থাকবে। শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘাতের পরিবর্তে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার পক্ষেও মত দেন তিনি।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

এসআরবির নতুন মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ

সংগৃহীত ছবি

সরানো হলো এসআরবি প্রধানকে

ছবি: সংগৃহীত

ডিসেম্বরের পরিস্থিতির দায় সরকারকেই নিতে হবে: নাহিদ ইসলাম

ছবি : সংগৃহীত
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের বিনা খরচে ইতালি যাওয়ার সুযোগ: মাহ্দী আমিন

ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের বিনা খরচে ইতালি যাওয়ার একটি বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। শিগগিরই স্বল্পপরিসরে এই প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।   মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীতে ‘ইতালিতে দক্ষ অভিবাসনের জন্য ভাষা, নাগরিক ও পেশাগত প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা জানান। ইতালিয়ান দূতাবাস এবং তাদের আন্তর্জাতিক সহযোগী অংশীদারদের যৌথ উদ্যোগে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।     মাহ্দী আমিন বলেন, ইতালিয়ান ভাষা শিক্ষা, সুনির্দিষ্ট কর্মদক্ষতা অর্জন এবং পেশাগত সঠিক আচরণ ও মূল্যবোধ বিকাশে কার্যকর মডেলটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সরকার এই পূর্ণাঙ্গ কাঠামোটিকেই জাতীয় পর্যায়ে বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে দিতে এবং বিভিন্ন স্তরে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে চায়।     তিনি দক্ষ, নিয়মতান্ত্রিক ও কম খরচে বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা নির্বাচিত নতুন বাংলাদেশ সরকারের সুনির্দিষ্ট রূপকল্পের অন্তর্ভুক্ত বলে জানান। আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন, সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে এই আয়োজনটি শতভাগ সঙ্গতিপূর্ণ।     প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, অভিবাসনপ্রত্যাশী কর্মীদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল, নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিদেশে কাজের পথ উন্মোচন করা জরুরি, যেখানে অভিবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে এবং সম্ভব হলে তা শূন্য খরচে নিশ্চিত করা হবে।     যৌথ এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের দক্ষ জনগোষ্ঠীর অভিবাসন প্রক্রিয়া আরো বেগবান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মাহ্দী আমিন।   প্রবাসী কর্মীদের সহায়তায় সরকার নীতিগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত দক্ষ অভিবাসন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সহযোগীদের অভিজ্ঞতা ও সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন খাতে এটি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি জানান, এই সফল উদ্যোগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ইতালির এই মডেলকে ভিন্ন ভিন্ন খাতে, অন্যান্য দেশে এবং নতুন ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।     সেমিনারে উপস্থিত প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একমাত্র জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘বোয়েসেল’-এর প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, জাতীয় নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সবাইকে এক দল হয়ে অভিন্ন লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। ইতালি সরকারের এই ইতিবাচক উদ্যোগটি যাতে জাতীয় নীতিতে একীভূত হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল নীতি সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।   একই সঙ্গে সংসদ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এক হয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। ইতালির বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপস্থাপিত সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনার প্রশংসা করে মাহ্দী আমিন বলেন, এই দিকনির্দেশনা ও উদ্যোগগুলো প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্পের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি ভবিষ্যৎ কর্মপন্থায় নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।     বর্তমানে ইতালিতে বসবাসরত আড়াই লাখেরও বেশি বাংলাদেশির অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও চিকিৎসার পাশাপাশি জনমানুষের পারস্পরিক সেতুবন্ধনে অভিবাসন সবসময়ই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। ইতালির সমাজ ও মূলধারার অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের ভূমিকা যেমন অনস্বীকার্য, তেমনি তাদের প্রেরিত রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। প্রবাসী ভাইবোনদের প্রতিটি অর্জনের পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ ও সফলতার গল্প।   দক্ষ হয়ে ইতালি গিয়ে প্রবাসীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যাশা বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর মেধা ও যোগ্যতার কোনো ঘাটতি নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, মূল চ্যালেঞ্জ হল সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান, দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক সুযোগ তৈরি করে দেওয়া।     তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতিটি পদক্ষেপে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রবাসীদের কল্যাণে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের আদলে প্রবাসী ভাইবোনদের সার্বিক সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বোয়েসেলসহ অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দক্ষ অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরো সহজতর করার ওপরও বিশেষ জোর দেন তিনি।     মাহ্দী আমিন জানান, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তরুণদের তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আজকের এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা যে ইতালিয়ান ভাষা, আধুনিক কাজের দক্ষতা এবং পেশাগত নিয়মকানুন শিখছেন, তা সরকারের তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমেরই বাস্তব প্রতিফলন। এই সফল আয়োজনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইতালিয়ান ভাষাসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ভাষাকে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা কারিকুলামে নিয়মিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।     প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা কেবল নিজেদের ক্যারিয়ারই গড়ছেন না, বরং বিশ্বমঞ্চে দক্ষ ও মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে কাজ করার ক্ষেত্রে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এক একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। আগামী দিনে ধাপে ধাপে ইতালির উদ্দেশে যাত্রা করার মাধ্যমে আপনাদের সামনে অমিত সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত হবে।     সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির বর্তমান রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মিশন প্রধান ড. লরা টম বন্ডে, ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির উপ-মিশন প্রধান ডা. ফেদেরিকো জামপারেল্লি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের উপ-প্রধান বাইবা জারিনা, ইতালিয়ান দূতাবাসের অভিবাসন উপদেষ্টা জুসেপ্পে দি জিওভান্নিসহ অনেকেই।     প্রসঙ্গত, ইতালি অভিবাসন আইন ২০২৩-এর ২৩ ধারা অনুযায়ী, ইতালীয় শ্রম ও সামাজিক নীতি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত প্রি-ডিপার্চার (প্রস্থান-পূর্ব) প্রশিক্ষণ প্রকল্পগুলো প্রতিবছর ‘ফ্লো ডিক্রি’র নির্ধারিত কোটার বাইরেও দক্ষ কর্মীদের বৈধভাবে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মৌলিক ইতালীয় ভাষা শিক্ষা, ইতালির নাগরিকত্ব ও সমাজ সম্পর্কিত ধারণা এবং সংশ্লিষ্ট খাতের পেশাগত দক্ষতা। চলমান হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতের 'টেস্ট' প্রকল্পের আওতায় 'ফ্রন্টিয়ার্স স্কিলস'-এর মাধ্যমে নির্বাচিত সম্ভাব্য অভিবাসী এবং ‘ফরম্যাজিঅনে’ টেক্সটাইল প্রকল্পের শিক্ষার্থীরাও এই সেমিনারে অংশ নেন।

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

সারা দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৬, আক্রান্ত ২১০০

ছবি: সংগৃহীত

চারদিন গ্যাস বন্ধের খবর গুজব : পেট্রোবাংলা

৭ নভেম্বর ৬ ঘণ্টা টোল ফ্রি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

0 Comments