অর্থনীতি

ডিএসইতে ইতিবাচক ধারা, সূচক বেড়ে লেনদেনের পরিমাণ ৭১২ কোটি ছাড়িয়েছে

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ মঙ্গলবার শেয়ারবাজারে সূচক বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে বাজারে সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

ডিএসইতে আজ মোট ১ লাখ ৯২ হাজার ৭৭৬টি ট্রেডের মাধ্যমে ৩৯৪টি কোম্পানির ২৪ কোটি ৪০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭৬টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়।

মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭১২ কোটি ৩৪ লাখ ৮ হাজার ৪৬৪ টাকা।

ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১৮.৯২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫,২৬৬.৬৮ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ সূচক ৩.৮৭ পয়েন্ট বেড়ে ২,০২১.৭১ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরীয়াহ সূচক (ডিএসইএস) ১৪.৫৪ পয়েন্ট বেড়ে ১,০৭০.৩৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

লেনদেন হওয়া কোম্পানির মধ্যে শেয়ারের দর বেড়েছে ১৮৯টির, কমেছে ১৫৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫২টি কোম্পানির শেয়ার।

লেনদেনের পরিমাণের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো-এশিয়াটিক ল্যাব, ইসলামী ব্যাংক, ডমিনেজ স্টিল, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, বিএসসি, ব্র্যাক ব্যাংক, সিমটেক্স, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং সিটি ব্যাংক।

দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানি হলো— শাশা ডেনিমস, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, বিডি থাই ফুড, ১ম জনতা মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ফু-ওয়াং সিরামিকস, সিএপিএম আইবিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড, কনফিডেন্স সিমেন্ট, সামিট পাওয়ার, বিডি থাই এবং ওয়ালটন হাই-টেক।

অন্যদিকে, দর কমার শীর্ষ ১০ কোম্পানি- ডিবিএইচ ১ম মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স, ফনিক্স ইন্স্যুরেন্স, বে-লিজিং, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, জেনারেশন নেক্সট, চাটার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং আইএফআইসি ১ম মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি পদে আবেদুর রহমান সিকদার মনোনীত

নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে আবেদুর রহমান সিকদারের নিয়োগে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন হয়েছে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এনওসি পাওয়া গেলে দ্রুতই নতুন দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করবেন তিনি।   মঙ্গলবার (২৩ জুন) অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এমডি নিয়োগের বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে ব্যাংকটির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। পর্ষদের অনুমোদনের পর নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনাপত্তিপত্রের জন্য আবেদন করবে এবং অনাপত্তিপত্র মিলছে এমডি হিসেবে ব্যাংকে যোগদান করতে পারবেন।   যোগদানের বিষয়ে জানতে চাইলে বুধবার (২৪ জুন) আবেদুর রহমান সিকদার ঢাকা পোস্টকে বলেন, সরকার তাকে নিয়োগ দিলেও একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে কয়েকটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।   তিনি বলেন, ‘প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এরপর পর্ষদের আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি আমার বর্তমান কর্মস্থল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি নেওয়ার বিষয়টিও সম্পন্ন করতে হবে।’   আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, ‘সব ধরনের প্রক্রিয়া শেষ করেই নতুন দায়িত্বে যোগ দেব। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব দায়িত্ব গ্রহণের চেষ্টা করব।’   আবেদুর রহমান সিকদার বর্তমানে বেসরকারি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।   এদিকে এমডি না থাকায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। পাঁচটি সংকটে থাকা ব্যাংকের সম্পদ, দায়, জনবল ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা একীভূত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো এগিয়ে নিতে একজন পূর্ণকালীন প্রধান নির্বাহীর প্রয়োজন হলেও পদটি শূন্য রয়েছে।   বিশেষ করে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম, বড় অঙ্কের লেনদেন অনুমোদন, পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং নতুন সাংগঠনিক কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজগুলোতে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে অনেক গ্রাহক সময়মতো তাদের আমানত উত্তোলন করতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।   এ ছাড়া পাঁচটি ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা, কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস), জনবল ও শাখা কার্যক্রম একীভূত করার কাজও প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এমডি দায়িত্ব গ্রহণ করলে এসব কাজের গতি বাড়বে এবং ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু করা সহজ হবে।   দেশের ব্যাংক খাতে চলমান তারল্য সংকট মোকাবিলায় আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের সম্পদ ও দায় একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করেছে সরকার।   এদিকে বুধবার জাতীয় সংসদে দেওয়া তথ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসিকে 'ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম, ২০২৫'-এর আওতায় এনে তাদের সম্পদ ও দায় নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়েছে।   তিনি জানান, 'আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬'-এর আওতায় এসব ব্যাংকের গ্রাহকদের প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।   সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে দ্রুত কার্যকর করতে সরকার ইতোমধ্যে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে এবং তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করতে কোম্পানি সেক্রেটারি, চিফ ফাইন্যান্স অফিসার (সিএফও) এবং চিফ টেকনোলজি অফিসার (সিটিও) নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে।   সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এমডি হিসেবে আবেদুর রহমান সিকদারের যোগদান ব্যাংকটির পুনর্গঠন, গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে আমানত ফেরত, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং পাঁচটি ব্যাংকের একীভূত কার্যক্রম পরিচালনায় তার নেতৃত্ব বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।   আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। ৩৫ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা ব্যাংকটিতে সরকারের অংশীদারিত্ব রয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের জমার বিপরীতে শেয়ারে রূপান্তর করা হয়েছে। গত বছরের ৩০ নভেম্বর ব্যাংকটির কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়।

মারিয়া রহমান জুন ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে কঠোর হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত

সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোকে ৭৫ হাজার কোটি টাকার বেশি তারল্য সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত

সাড়ে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে ৭৫৯০৩ কোটি টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

আর্থিক সংকটে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে হিমশিম খাওয়া ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি টাকার বেশি জরুরি তারল্য সহায়তা দিয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিন মঙ্গলবার (২৪ জুন) প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোসাম্মৎ শারমীন আক্তারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।     লিখিত প্রশ্নে শারমীন আক্তার জানতে চান, তারল্য সংকটের কারণে যেসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের সঞ্চিত অর্থ ফেরত দিতে পারছে না, সেসব প্রতিষ্ঠান থেকে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত পাওয়া নিশ্চিত করতে সরকার কোনও পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা?     লিখিত জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব ব্যাংক তারল্য সংকটের কারণে গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধে সমস্যায় পড়েছে, সেসব ব্যাংককে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে জরুরি তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত এ সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা।’ তবে আর্থিক সংকটে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনও ধরনের তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়নি বলে তিনি সংসদকে জানান।   অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে সরকার ইতোমধ্যে “ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬” প্রণয়ন করেছে। আইন অনুযায়ী সমস্যাগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন, একীভূতকরণ বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’   প্রসঙ্গত, গত দেড় বছরে দেশের কয়েকটি শরিয়াহভিত্তিক ও বেসরকারি ব্যাংক তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে। বিশেষ করে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকে আমানত উত্তোলনে চাপ তৈরি হয়। অনেক গ্রাহক এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ তুলতে না পারা এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষার অভিযোগ করেন। ব্যাংক খাতে অনিয়ম, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুর্বল তদারকি, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং বিতর্কিত ঋণ বিতরণকে এ সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে অর্থনীতিবিদরা চিহ্নিত করেছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংক খাত সংস্কার, দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠন এবং আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ জোরদার করা হয়।   বাংলাদেশ ব্যাংক এরই অংশ হিসেবে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে বিশেষ তারল্য সহায়তা, আন্তব্যাংক সহায়তা এবং নীতিগত সুবিধা দিয়ে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন অব্যাহত রাখার চেষ্টা করে আসছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সব ব্যাংকে সঞ্চয়পত্র বিক্রি চালু রাখার নির্দেশনা

ছবি : সংগৃহীত

জুনেও রেমিট্যান্সের রেকর্ড গতি, ২৩ দিনেই ২২৩ কোটি ডলার

ঋণ নিয়ে ঋণ শোধ, বাড়ছে অর্থনীতির চাপ

ছবি: সংগৃহীত
সোনার বাজারে বড় ধস, ভরিতে দাম কমলো ৫,৪৮২ টাকা

দেশের বাজারে সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালংকারে দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমানো হয়েছে।   বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে। বাজুস জানায়, দেশে তেজাবি সোনা ও রুপার দাম কমেছে। এমন অবস্থায় বুধবার সকালে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এ দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণালংকারে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। এ ছাড়া ভ্যাটসহ ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দুই লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি এক লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা। সোনার দামের সঙ্গে কমানো হয়েছে রুপার দামও। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮৪১ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৯৭৪ টাকা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ–চীন বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন মোড় নিচ্ছে

ছবি: সংগৃহীত

স্বর্ণ ও রুপার আজকের বাজারদর

ছবি: সংগৃহীত

রিজার্ভ চুরির পরও সুইফটের সার্ভার রুমে নিরাপত্তা দুর্বলতা, বলছে অন্তর্বর্তী সরকারের কমিটি

0 Comments