প্রবাসী

দফায় দফায় সফরেও খুলল না মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরে কার্যত বন্ধ থাকায় নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। দুই দেশের সরকারপ্রধান পর্যায় থেকে শুরু করে উপদেষ্টা, মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাধিক বৈঠক, সফর ও আলোচনা হলেও শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে আশানুরূপ কোনো অগ্রগতি হয়নি। সংশ্লিষ্টরা এ অবস্থার জন্য সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা এবং ঢালাও মামলার নেতিবাচক প্রভাবকে দায়ী করছেন।


জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার মালয়েশিয়া। ২০২২ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৩১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার শ্রমিক মালয়েশিয়ায় গেছেন। তবে গত বছরের ৩১ মে থেকে বাংলাদেশসহ ১৫টি সোর্স কান্ট্রি থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ রাখে মালয়েশিয়া।
পরবর্তীতে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ইন্দোনেশিয়া, নেপালসহ কয়েকটি দেশ থেকে আবারও শ্রমিক নিতে শুরু করে মালয়েশিয়া। ইতোমধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও নেপাল থেকে ৪১ হাজার ৩৭৩ জন শ্রমিক নেওয়া হয়েছে এবং আগামী জানুয়ারিতে আরও ৫০ হাজার শ্রমিক নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। অথচ একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে মাত্র ২৯০ জন শ্রমিক মালয়েশিয়ায় যেতে পেরেছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নেপাল পাঠিয়েছে ২১ হাজার ১৮৩ জন এবং ইন্দোনেশিয়া ২৯ হাজার ৯০০ জন শ্রমিক। শুধু গত নভেম্বর মাসেই ইন্দোনেশিয়া পাঠিয়েছে ২ হাজার ৫৬১ জন ও নেপাল ৫ হাজার ৭৭৩ জন শ্রমিক, যেখানে বাংলাদেশ থেকে গেছেন মাত্র ৯০ জন।
এছাড়া বাংলাদেশ বাদে অপর ১৪টি সোর্স কান্ট্রি ২০২৫ সালে মোট ১ লাখ ১৩ হাজার ২২২ জন শ্রমিক পাঠানোর জন্য নিবন্ধন করেছে। এর মধ্যে নেপাল ৬০ হাজার, ইন্দোনেশিয়া ২২ হাজার ৬৮৫, ভারত ১২ হাজার ২৭, পাকিস্তান ৭ হাজার ৪২৮ এবং ফিলিপাইন ৬ হাজার ২০৪ জন শ্রমিক পাঠানোর নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে। সেখানে বাংলাদেশ থেকে চলতি বছরে নিবন্ধন হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৮৫৩ জন।
২০২৪ সালের ৩১ মে পর্যন্ত কলিং ভিসা, নিয়োগানুমতি ও বিএমইটির ছাড়পত্রসহ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও প্রায় ১৮ হাজার শ্রমিক মালয়েশিয়া যেতে পারেননি। গত বছরের ৪ অক্টোবর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বাংলাদেশ সফরের সময় বিষয়টি উত্থাপন করা হলে তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব শ্রমিক নেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল দুই দফা মালয়েশিয়া সফরসহ একাধিক যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির সভা করলেও বাস্তব কোনো সুফল আসেনি।
আটকে পড়া শ্রমিকদের মালয়েশিয়া পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় রাষ্ট্রীয় সংস্থা বোয়েসেলকে। তবে গত জুলাই থেকে প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও ৭ হাজার ৮৬৯ জনের মধ্যে মাত্র ১৫০ জন শ্রমিক পাঠাতে পেরেছে সংস্থাটি।
জনশক্তি রপ্তানিকারকরা বলছেন, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত জিটুজি প্লাস চুক্তির আওতায় শ্রমিক পাঠানোর সময় অর্থ ও মানব পাচারের অভিযোগে সিআইডি ও দুদকের একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলার সঠিক নিষ্পত্তি না হওয়ায় মালয়েশিয়া সরকার জানিয়েছে, ‘অপ্রমাণিত’ অভিযোগ প্রত্যাহার না করা হলে তারা বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেবে না।
বায়রার সিনিয়র সদস্য মোবারক উল্লাহ শিমুল বলেন, এসব মামলার কারণে মালয়েশিয়ার মানব পাচার সূচক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং শুধু বাংলাদেশ থেকেই শ্রমিক নিলে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, অতীতে কিছু রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে হুন্ডিতে অর্থ পাচারের অভিযোগ থাকায় নতুন করে কম অভিযোগযুক্ত এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।


ইউনিভার্সিটি অব পূত্রামালয়েশিয়ার গবেষক সৈয়দ কামরুল ইসলাম বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ থাকার সুযোগে নেপাল ও ইন্দোনেশিয়াসহ অন্যান্য দেশ বাজার দখল করে নিচ্ছে, আর বাংলাদেশ ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি

নাগরিকত্ব লাভের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদিত নয় বলে জানিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। বুধবার (১৮ মার্চ) ঢাকায় অবস্থিত দেশটির দূতাবাস ভিসাসংক্রান্ত এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।   বার্তায় বি১/বি২ ভিজিটর ভিসায় মা‌র্কিন যুক্তরা‌ষ্ট্রে গি‌য়ে যেসব কার্যক্রম অনুমোদিত নয়, তা জা‌নানো হয়েছে। ভিসা সংক্রান্ত ওই বার্তায় জা‌নি‌য়ে‌ছে, বি১/বি২ ভিজিটর ভিসায় বার্থ ট্যুরিজম (শিশুর জন্য আমেরিকার নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া) অনুমোদিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিয়োগকর্তা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে পারিশ্রমিক পাওয়া যায়, এমন কাজ করা অনুমোদিত নয়। ডিগ্রি বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেডিটের জন্য পড়াশোনা করা অনুমোদিত নয়। এ ছাড়া, পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করাও অনুমোদিত নয়।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে প্রাণ গেল প্রবাসীর

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ৬০ লাখ প্রবাসী পরিবারের ঈদে নেই আনন্দ, বাড়ছে উৎকণ্ঠা

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় অনিশ্চিত ওমানের ভিসা চালু

ছবি : সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ, ১০ দিন পর উদ্ধার বাংলাদেশির মরদেহ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর বগুড়ার সন্তান ইঞ্জিনিয়ার শাহনুর আলম সবুজের (৩৮) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত ১৬ মার্চ নর্দার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার একটি নদী থেকে তার মরদেহ ভেসে ওঠে।   জানা যায়, গত ৭ মার্চ ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সাক্রামেন্টো সিটির আলামেডা কাউন্টি এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হন তিনি। ওইদিন দুপুরে নির্ধারিত ফিশিং স্পটে তার ব্যবহৃত গাড়ি, দুটি মাছ ধরার ছিপ, জুতা ও মাছ রাখার পাত্র পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। একটি ছিপ ও জাল নিখোঁজ ছিল, যা থেকে ধারণা করা হয় বড় মাছ ধরতে গিয়ে তিনি গভীর পানিতে পড়ে যান।   পরিবার ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সবুজ সাঁতার জানতেন না। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ও নৌবাহিনী কয়েক দফায় তল্লাশি চালালেও তাৎক্ষণিকভাবে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।   পরে ১৬ মার্চ একই নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ২০০৮ সালে অভিবাসন ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং আলামেডা কাউন্টিতে পরিবারসহ বসবাস করছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও ৭ বছর বয়সী এক পুত্র রেখে গেছেন।   এদিকে তার মৃত্যু সংবাদে বগুড়ায় থাকা মা ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সময় ১৮ মার্চ বিকেল ৪টায় আলামেডা কাউন্টির একটি মুসলিম কবরস্থানে তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।   ইঞ্জিনিয়ার সবুজের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ফয়সল তুহিন এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মূকাভিনেতা কাজী মাশহুরুল হুদাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

স্পনসর ভিসায় আসা প্রবাসীদের স্টে-পারমিট সংকটের সমাধান চায় বিমাস

ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় ৮৫ বাংলাদেশি শ্রমিকের বেতন বকেয়া, তদন্তে হাইকমিশন

ছবি : সংগৃহীত

ঈদের নামাজ নিয়ে কাতার প্রবাসীদের জন্য দূতাবাসের জরুরি নির্দেশনা

ছবি : সংগৃহীত
ঈদে দেশে ফেরা অনিশ্চিত কুয়েতের প্রবাসী বাংলাদেশিদের

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কুয়েতের আকাশপথ বন্ধ থাকায় আসন্ন ঈদুল ফিতরে দেশে ফেরা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি। আকাশপথে চলাচলে আকস্মিক নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে স্থলপথে সৌদি আরব হয়ে দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন।   ওমরাহ ভিসাধারীদের আগামী ৩ এপ্রিলের মধ্যে সৌদি আরবে প্রবেশের বাধ্যবাধকতা থাকায় স্থলসীমান্তে যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ ও দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। কুয়েত সিটি থেকে হাফর আল-বাতিনের কাইসুমাহ বিমানবন্দর পৌঁছাতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগছে। সীমান্ত পারাপারের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে এই বিমানবন্দর ব্যবহার করে জেদ্দা, মদিনা বা রিয়াদ হয়ে দেশে ফিরছেন প্রবাসীরা।   স্থলপথের দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য যাত্রায় বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সীমান্তে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকা এবং দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে তাদের শারীরিক ও মানসিক দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। একদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির আতঙ্ক, অন্যদিকে যেকোনো মূল্যে দেশে ফেরার তাগিদ—সব মিলিয়ে প্রবাসীরা একটি অবর্ণনীয় পরিস্থিতির মধ্যে সীমান্ত পার হচ্ছেন।   প্রবাসীরা সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তারা চাইছেন বাংলাদেশ সরকার এবং কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস মানবিক দিকটি গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নিক। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থ যাত্রীদের নিরাপদে দেশে ফেরানোর জন্য সৌদি আরবের আল-বাতিন বিমানবন্দর থেকে সরাসরি বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে প্রবাসীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

পর্তুগালে প্রবাসী সাংবাদিকদের নতুন কমিটি, সাংবাদিকতার মানন্নয়নের অঙ্গীকার

ছবি : সংগৃহীত

ওমানে ঋণজনিত মামলায় কারাবন্দীদের মুক্তিতে সহায়তা দিচ্ছেন সুলতানের স্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

কোরিয়ার বিমানবন্দরে আটকা তিন শতাধিক বাংলাদেশি, বাড়ছে উদ্বেগ

0 Comments