দীর্ঘ দুই যুগ পর রংপুর সফরে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও রংপুর নগরীতে আয়োজিত জনসভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে বগুড়া থেকে পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুরে গিয়ে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন তারেক রহমান। পরে তিনি রংপুর নগরীর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জনসভা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
জনসভাকে কেন্দ্র করে রংপুরজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। সকাল থেকেই রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নগরীতে আসতে শুরু করেছেন। জুমার নামাজের পর জনসমাগম আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে মঞ্চ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। জনসভা এলাকায় একাধিক ডিজিটাল এলইডি স্ক্রিন স্থাপন করা হয়েছে, যাতে দূরবর্তী স্থান থেকেও বক্তব্য দেখা ও শোনা যায়। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে মাইক ও স্ক্রিন বসানো হয়েছে।
এদিকে জনসভাকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, পুরো এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকধারী পুলিশ এবং রুফটপে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন তল্লাশিচৌকিতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী বলেন, জনসভা এলাকা ও চলাচলের পথগুলো নিরাপদ রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর চেম্বার ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি। এতে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে রংপুর অঞ্চলে বিএনপির পক্ষে গণজাগরণ তৈরি হয়েছে। জনসভায় তার প্রতিফলন দেখা যাবে।
তিনি বলেন, বৃহত্তর রংপুর দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, বিমানবন্দর চালু, ভারী শিল্পে গ্যাস সংযোগ, কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন, অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন ও শহীদ আবু সাঈদের নামে একটি বড় প্রতিষ্ঠান স্থাপনের দাবিসহ একাধিক বিষয় তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।
রাজশাহী থেকে উত্তরাঞ্চল সফর শুরু করেন তারেক রহমান। রাজশাহী, নওগাঁ ও বগুড়ায় পৃথক জনসভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও ডাকসাইটে রাজনীতিক মাহমুদুর রহমান মান্না সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শুধু পরাজিত নন; স্বল্পভোটে তৃতীয় স্থান অধিকার ও জামানত খুইয়েছেন। ফলাফল ঘোষণার পর থেকে এ শোচনীয় পরাজয় নিয়ে নানা কথা চলছে। কেউ বলছেন, তিনি এলাকায় বসবাস করেন না; কেউ বলছেন, তিনি সামাজিক নন; আবার কেউ বলছেন, তিনি আধুনিক বা কূট-রাজনীতি বোঝেন না। এসব কারণেই এলাকার গ্রহণযোগ্যতা কমে গেছে। আবার তার দলের লোকজন বলছেন, বিএনপি সমর্থন দিয়ে প্রত্যাহার ও তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর কারণেই তিনি জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন অফিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়ার শিবগঞ্জের বিহার ইউনিয়নের বিহার ফকিরপাড়া গ্রামের আফসার উদ্দিন আহমেদ ও মেহের আক্তারের সন্তান। এলাকায় তাদের ভিটামাটি থাকলেও বাড়িঘর নেই। জাতীয় নির্বাচন এলেই কেবল তিনি এলাকায় এসে ভাড়া বাসায় থাকেন। তিনি ১৯৯১ সাল থেকে সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৫ বছরে জনতা মুক্তি পার্টি, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও নাগরিক ঐক্য থেকে পাঁচবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তবে তিনি কোনোবারই জয়ের মুখ দেখেননি। ১৯৯১ সালে জনতা মুক্তি পার্টি (কাস্তে মার্কা) থেকে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মোট দুই হাজার ১৮০ ভোট লাভ করেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের (নৌকা) প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে ১৯ হাজার ৮৭১ ভোট পান। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ (নৌকা) থেকে নির্বাচন করে ৩৬ হাজার ৭৫০ ভোট পান। এরপর তিনি ২০১৮ সালে বিএনপির প্রার্থী হয়ে ৫৯ হাজার ৭১৩ ভোট পান। সর্বশেষ ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দল নাগরিক ঐক্য (কেটলি) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩ হাজার ৪২৬ ভোট পান। প্রদত্ত ভোটের এক অষ্টমাংশ পেতে ব্যর্থ হওয়ায় তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে মোট ১১৫ কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৫৫ জন। প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ৪৮ হাজার ৪৯৩টি। বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী মীর শাহে আলম ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর সাবেক মেয়র আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫৪৮ ভোট। মাহমুদুর রহমান মান্না অল্প ভোট ও জামানত হারানো প্রসঙ্গে এলাকার লোকজন বলেন, এটা হবারই কথা ছিল। কারণ তিনি এলাকায় বসবাস করেন না। নির্বাচন এলে এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে সরব হন। সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে তার সম্পর্কে নেই বললেই চলে। তিনি এলাকায় এলে ৪-৫ জন নেতাকর্মীকে নিয়ে চলাফেরা করেন। একজন সংসদ-সদস্য হওয়ার জন্য যে জনসমর্থন থাকা দরকার তা মান্নার নেই বা কখনো ছিল না। তবে নাগরিক ঐক্যের নেতাকর্মীরা বলেন, এলাকায় মান্নার প্রচুর জনপ্রিয়তা রয়েছে। ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিটি পথসভা জনসভায় পরিণত হয়েছে। জনগণ তাকে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে ছিলেন। মান্নার এ জনপ্রিয়তা দেখে বিএনপিসহ অন্য দলের প্রার্থীরাও ভীত হয়ে পড়েছিলেন। তবে বিএনপি মান্নাকে কথা দিয়েও শেষ পর্যন্ত সমর্থন না দিয়ে বেইমানি করেছে। বিএনপির লোকজন তার (মান্না) সম্পর্কে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছে। তারা বলেছেন, মান্না জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য করেছে। আবার বলা হয়েছে, মান্না জামায়াতের টাকা খেয়ে বসে গেছে। এসব কথা বলে ভোটারদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে। এছাড়া নাগরিক ঐক্যের অনেক ভোটারকে টাকার বিনিময়ে কেনা হয়েছিল। স্থানীয় অনেক জনপ্রতিনিধি নাগরিক ঐক্যের বিপক্ষে অবস্থান নিতে বাধ্য করেছে। বিএনপি প্রার্থীর লোকজন নির্বাচনে প্রচুর টাকা ব্যয় ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ভোট নিয়েছেন। ফলে বিএনপি প্রার্থী মীর শাহে আলম বিজয়ী হলেও মাহমুদুর রহমান মান্নার শোচনীয় পরাজয় ও জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মান্না বলেন, তিনি কম ভোট পাননি; পরাজয়ের কারণ জানলেও এ মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করবেন না।
পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ভুট্টা চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। অনাবাদি ও উঁচুনিচু পাহাড়ি জমিকে কাজে লাগিয়ে কৃষকরা এখন ভুট্টা চাষে সাফল্যের মুখ দেখছেন। কৃষি বিভাগ বলছে, পরিকল্পিত চাষ ও আধুনিক জাত ব্যবহারের ফলে উৎপাদন বাড়ছে এবং কৃষকের আয়েও ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাটিরাঙ্গায় ৫৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়। ওই বছরে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৫১ মেট্রিক টন। অপরদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদ করা হয়েছে, যেখানে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪১০ মেট্রিক টন। জমির পরিমাণ কিছুটা কমলেও ফলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কৃষি বিভাগ বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ‘কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারকরণ’ প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মাটিরাঙ্গা কার্যালয়ের উদ্যোগে বিএম-৫১৮ (হাইব্রিড) জাতের ৪টি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি প্রদর্শনীতে ৩৩ শতক জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়। প্রদর্শনীগুলো মাটিরাঙ্গা পৌরসভা, গাজিনগর, বেলছড়ি, তবলছড়ি সহ মোট চারটি ব্লকে স্থাপন করা হয়েছে। এসব প্রদর্শনীতে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই দমন কৌশল কৃষকদের হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে। কৃষক আব্দুর মালেক জানিয়েছেন, তিনি চলতি মৌসুমে তার ৩৩ শতক জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছেন। জমি পরিষ্কার করা, আগাছা দমন, সার প্রয়োগ ও সময়মতো বপন—all মিলিয়ে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়েছে। প্রতি কানি জমিতে প্রায় ১৭ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়, যার মধ্যে বীজ, সার, সেচ, শ্রমিক ও পরিচর্যার ব্যয় অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন, সঠিক সময়ে সার ও সেচ দিতে পারলে ফলন ভালো হয়। বিশেষ করে গাছের বৃদ্ধি পর্যায়ে পরিচর্যা ঠিকভাবে করলে দানা ভরাট হয় এবং ফলন আশানুরূপ পাওয়া যায়। যদি বাজারে দাম ভালো থাকে, তাহলে এই জমি থেকে অর্ধলক্ষাধিক টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। বিএম-৫১৮ (হাইব্রিড) জাতের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো—উচ্চ ফলনশীলতা, ভালো দানা গঠন, আবহাওয়া সহনশীলতা, শক্ত ও মজবুত গাছের গঠন। গাছের উচ্চতা ১০৫-১১৫ সেমি পর্যন্ত হয়। গাছের জীবনকাল ১৪০-১৪৫ দিন এবং সম্ভাব্য ফলন হেক্টরপ্রতি ১৩-১৪ মেট্রিক টন। উন্নত প্রযুক্তি ও মানসম্মত বীজ ব্যবহারের ফলে পাহাড়ি মাটিতেও আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাচ্ছে। কৃষক করিম মিয়া বলেন, চলতি মৌসুমে তিনি বিএম-৫১৮ জাতের ভুট্টা চাষ করে আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন। এই জাতের গাছগুলো শক্ত ও মজবুত হওয়ায় ঝড়-বৃষ্টি কিংবা দমকা হাওয়াতেও সহজে হেলে পড়ে না। পাহাড়ি এলাকার অনিশ্চিত আবহাওয়ার মধ্যেও গাছ ভালোভাবে দাঁড়িয়ে থাকে, যা ফলন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, রোগবালাই তুলনামূলক কম দেখা যায়। সময়মতো সার ও পরিচর্যা করলে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয় এবং মোচাগুলো দানায় পরিপূর্ণ হয়। দানাগুলো মোটা, ভরাট ও আকর্ষণীয় রঙের হওয়ায় স্থানীয় বাজারে এর চাহিদা বেশি। ফলে বিক্রির সময় ভালো দাম পাওয়া যায়, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ চাকমা বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলে ভুট্টা একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল। মাটিরাঙ্গার মাটি ও আবহাওয়া ভুট্টা চাষের জন্য উপযোগী। সঠিক সময়ে বপন, সুষম সার প্রয়োগ এবং নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনের মাধ্যমে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বিএম-৫১৮ জাতের প্রদর্শনী প্লটগুলোতে কৃষকরা হাতে-কলমে আধুনিক চাষ পদ্ধতি শিখছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে এবং কৃষকরা কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চলেন, তাহলে আগামী মৌসুমগুলোতে মাটিরাঙ্গায় ভুট্টা উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। মাটিরাঙ্গা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, ভুট্টা আজ আর শুধু পশুখাদ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের পুষ্টিকর খাদ্য, শিল্পের মূল্যবান কাঁচামাল এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার উজ্জ্বল দ্বার। পাহাড়ি অঞ্চলের ঢালু জমিতে ভুট্টা চাষের বিস্তার ঘটালে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের প্রধান খাদ্য—ভাত এবং ধানের প্রতি নির্ভরতা বিবেচনায় রেখে ধানের জমিতে ভুট্টার আবাদকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) সংসদীয় আসন থেকে ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। মিথ্যা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে দীর্ঘদিন নির্বাসনে কাটানোর পর দেশে ফিরে মন্ত্রী হওয়া তার জন্য একটা সময় অসম্ভবই ভাবা হচ্ছিল। কায়কোবাদ বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান। এলাকায় বিপুল জনপ্রিয় এ নেতা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এবার ডাবল হ্যাটট্রিক করেছেন। ব্যাক্তিগতভাবে তিনি ৬ কন্যা সন্তানের জনক। রাজনৈতিক জীবনে বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এ পর্যন্ত এসেছেন। তিনি বহু নির্যাতনের শিকার হয়ে তার অবস্থান ধরে রেখেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের কর্মজীবন শুরু হয় ব্যবসায়ী এবং ঠিকাদার হিসেবে। তিনি ১৯৮৬ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালের শেষ দিকে তিনি সংসদের হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯০ সালের ২ মে থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ধর্মপ্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলামের নিকট পরাজিত হন। ১২ জুন ১৯৯৬ সালের ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টি প্রার্থী হিসেবে ৩য় বারের মতো সংসদ সদস্য হন। ২০০১ সালে বিএনপিতে যোগদান করে চতুর্থবারের মতো তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। স্থানীয়রা জানায়, ২০১০ সালে তাকে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়। পর থেকে তিনি বিদেশে নির্বাসনে থেকেই দলের কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং দলকে সংগঠিত করেন। দীর্ঘ ১৫ বছর বিদেশে অবস্থান করে তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা তথা মুরাদনগর উপজেলা বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করেন। ২০১৬ সালে নির্বাসনে থেকেই কায়কোবাদ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদ লাভ করেন। তিনি ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা-৩ আসন থেকে ষষ্ঠবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এতে তার ডাবল হ্যাটট্রিক পূর্ণ হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি তাকে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় ধর্মমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এদিকে মন্ত্রিত্ব লাভের পর থেকে তাকে নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। একজন জননেতাকে মুল্যায়ন করায় এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, সবকিছু আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় হয়। আমার আল্লাহ যা চায় তাই হয়। তিনি অসীম ক্ষমতার অধিকারী। মুরাদনগরের মানুষ আমাকে ৬ষ্ঠ বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। এবার তারেক রহমান আমাকে ধর্মমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন। আমার জীবনে আর কোন প্রত্যাশা নেই। তিনি বলেন, সন্ত্রাস চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমি এখন লড়াই করব। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আমি কাজ করব। জনগণ যেভাবে চায় সেভাবেই এলাকার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করব।