শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বন্যায় চ্যালেঞ্জের মুখে দেশটির পর্যটনভিত্তিক অর্থনীতি। গত সপ্তাহে ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়া দ্বীপজুড়ে তাণ্ডব চালানোর পর পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। এতে প্রায় ৫০০ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। দেশের তৃতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের খাত পর্যটন। মূলত ছোট অপারেটরদের ওপরই নির্ভরশীল, যা জিডিপির প্রায় ৪ শতাংশ। ২০২২ সালের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিল। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়ার ব্যাপক ক্ষতি আবারও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ঘূর্ণিঝড়টি দেশের ২২ মিলিয়ন মানুষের প্রায় ১০ শতাংশ-এর ওপর প্রভাব ফেলেছে, হাজারো ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, মারা গেছেন অন্তত ৪৮৬ জন, নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেকে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক, বিদ্যুৎলাইন, টেলিকম সেবা এবং কৃষি খাত। এ বছর মধ্য নভেম্বর পর্যন্ত পর্যটক আগমন দুই মিলিয়ন ছাড়িয়েছে, আর সরকার আশা করছে, বছর শেষে এ সংখ্যা ২ দশমিক ৬ মিলিয়ন হবে, যা কোভিড-পরবর্তী সময়ে সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বিষাক্ত রাসায়নিকবাহী একটি ট্যাংক বিস্ফোরণের আশঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে। ফলে সরিয়ে নেওয়া ৫০ হাজার বাসিন্দার মধ্যে কিছু মানুষকে বাড়িতে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সোমবার রাতে কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। গার্ডেন গ্রোভ পুলিশের প্রধান আমির এল-ফাররা বলেন, নতুন তথ্য ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার পর সরিয়ে নেওয়ায় এলাকা ছোট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। তনি বলেন, ‘যারা এখনও এর প্রভাবে রয়েছেন, তাদের জন্য বিষয়টি হতাশাজনক হতে পারে। এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৬ হাজার।’ দাহ্য রাসায়নিকভর্তি ট্যাংকটি বিস্ফোরিত হতে পারে কিংবা বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়তে পারেÑ এমন আশঙ্কায় শুক্রবার কর্তৃপক্ষ অরেঞ্জ কাউন্টির ঘনবসতিপূর্ণ গার্ডেন গ্রোভ এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। ট্যাংকটিতে সাত হাজার গ্যালন বা প্রায় ২৬ হাজার লিটার মিথাইল মেথাক্রাইলেট রয়েছে। প্লাস্টিক তৈরিতে ব্যবহৃত এ তরল অত্যন্ত অস্থিতিশীল। গত সপ্তাহের শেষ দিকে ট্যাংকটিতে প্রথমে গ্যাস লিক এবং পরে ফাটল শনাক্ত করার পর পরিস্থিতির শুরু হয়। কাউন্টি ফায়ার কর্মকর্তারা রোববার রাতে জানান, বর্তমানে কোনো সক্রিয় গ্যাস লিক নেই। সোমবার অরেঞ্জ কাউন্টি ফায়ার অথরিটির ইনসিডেন্ট কমান্ডার ক্রেইগ কোভি বলেন, ট্যাংকের ভেতরের চাপ কমছে। তাপমাত্রাও ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট থেকে নেমে ৯৩ ডিগ্রি ফারেনহাইটে এসেছে।
ভারত সফরে এসে আগ্রার ঐতিহাসিক তাজমহল পরিদর্শন করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। স্ত্রী জ্যানেট রুবিওকে সঙ্গে নিয়ে ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটির সামনে বিখ্যাত বেঞ্চে বসে তোলা ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন তিনি। তবে ছবিটি প্রকাশের পরই তা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। চলমান সংঘাতের মধ্যেই তেহরান এই ছবিকে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক খোঁচা দেওয়ার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছে। ছবি প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভারতের হায়দরাবাদে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট জেনারেল সামাজিক মাধ্যম এক্সে প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা লিখেছে, মার্কো রুবিও যদি ইতিহাস কিংবা স্থাপত্য সম্পর্কে জানতেন, তাহলে এখানে ছবি তোলার জন্য পোজ দিতেন না। পোস্টে আরও বলা হয়, এই স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়েছিল সম্রাটের ইরানি স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার স্মারক হিসেবে। এটি নির্মাণ করেছেন ইরানি স্থপতিদের মেধা ও সৃজনশীলতায়। অথচ আজ তার সরকারই ইরানি সভ্যতাকে মুছে ফেলার হুমকি দিচ্ছে এবং অন্যান্য সভ্যতাকেও অপমান করছে। উল্লেখ্য, ইরান সংঘাতের চূড়ান্ত উত্তেজনার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। এর জবাবে ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র আড়াইশ বছরের ইতিহাসের সঙ্গে ইরানের ছয় হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো সভ্যতার তুলনা টেনে ট্রাম্পের মন্তব্যকে উপহাস করেছিলেন। ভালোবাসার স্মৃতিসৌধ হিসেবে পরিচিত তাজমহল ১৬৩২ সালে মুঘল সম্রাট শাহজাহান তার তৃতীয় স্ত্রী মমতাজ মহলের স্মৃতিতে নির্মাণ শুরু করেন। ঐতিহাসিকদের মতে, তাজমহল মুঘল স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হলেও এর শিকড় গভীরভাবে প্রোথিত ফারসি ঐতিহ্যের মধ্যে। রাজপরিবারের বংশপরিচয় থেকে শুরু করে স্থাপত্য নকশা এবং অলংকরণ সব ক্ষেত্রেই পারস্যের প্রভাব স্পষ্ট। মমতাজ মহলের প্রকৃত নাম ছিল আরজুমান্দ বানু বেগম। তিনি ইরানের একটি প্রভাবশালী ফারসি অভিজাত পরিবারের সদস্য ছিলেন। তার বাবা আবদুল হাসান আসাফ খান ছিলেন মুঘল দরবারের উচ্চপদস্থ পারস্য বংশোদ্ভূত অভিজাত। মমতাজের দাদা মির্জা গিয়াস বেগ, যিনি পরে ইতিমাদ-উদ-দৌলা উপাধি লাভ করেন, ইরানের তেহরান থেকে ১৫৭৭ সালে ভারতে এসে সম্রাট আকবরের দরবারে যোগ দেন। এই পারিবারিক সূত্রেই মমতাজ ছিলেন সম্রাট জাহাঙ্গীরের প্রধান স্ত্রী সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের ভাতিজি। অন্যদিকে মমতাজের মা দিওয়ানজি বেগমও ছিলেন পারস্যের কাজভিন শহরের বিশিষ্ট অভিজাত খাজা গিয়াসউদ্দিনের কন্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ইরানের সীমানার বাইরে তাজমহলই সম্ভবত ফারসি স্থাপত্যের সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ। এর বিশাল পেঁয়াজাকৃতি দ্বৈত গম্বুজ এবং সূক্ষ্ম মার্বেল ইনলে কাজ সরাসরি সাফাভি পারস্যের স্থাপত্য ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত। তাজমহলের বিখ্যাত চারবাগ বাগানও পারস্য স্থাপত্যের আরেকটি স্পষ্ট ছাপ বহন করে। জলধারার মাধ্যমে চারটি অংশে বিভক্ত এই বাগান ইসলামী ঐতিহ্যে বর্ণিত জান্নাতের চার নদীর প্রতীক হিসেবে নির্মিত। তাজমহলের মার্বেল দেয়ালে খোদাই করা পবিত্র কোরআনের আয়াতগুলো নির্বাচন ও লিপিবদ্ধ করেছিলেন ইরানের শিরাজ শহরের বিখ্যাত ক্যালিগ্রাফার আবদুল হক। তার অসাধারণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ শাহজাহান তাকে আমানত খান উপাধিতে ভূষিত করেন। ঐতিহাসিকদের মতে, তাজমহল মূলত ফারসি শিল্প ও স্থাপত্যধারার সঙ্গে ভারতীয় কারিগরি দক্ষতা এবং স্থানীয় উপকরণের এক অনন্য সমন্বয়। এই কারণেই বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত স্থাপত্য নিদর্শনটি শুধু মুঘল ঐতিহ্যের প্রতীক নয়, বরং ভারত ও পারস্যের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক সংযোগেরও এক অনন্য সাক্ষ্য হয়ে আছে। সূত্র : এনডিটিভি
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মধ্যপ্রাচ্য ষড়যন্ত্র পরিচালনা কিংবা সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে অবশিষ্ট থাকবে না এবং দেশটি প্রতিদিনই তার আগের অবস্থান থেকে আরও দূরে সরে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। মঙ্গলবার (২৬ মে) হজ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এই অঞ্চল ঘাঁটিগুলোর জন্য ঢাল হিসেবে কাজ করবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রও আর নিরাপদ আশ্রয় পাবে না। মুসলিম দেশগুলো এমন এক ঐতিহাসিক পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে আঞ্চলিক বাস্তবতা অপরিবর্তনীয়ভাবে বদলে যাচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রভাব ক্রমাগত কমে আসছে। বার্তায় তিনি আঞ্চলিক প্রতিরোধ অক্ষের ভূমিকাকে বিশেষভাবে তুলে ধরেন। খামেনি বলেন, আগামীর ভবিষ্যৎ মুসলিম উম্মাহর এবং নতুন ইসলামী সভ্যতার। ইরান, লেবানন, ফিলিস্তিন, ইরাক, সিরিয়া, আফ্রিকা, ইয়েমেন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানজুড়ে বিস্তৃত এই প্রতিরোধ শক্তি একটি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। এদিকে গত এপ্রিল থেকে আরোপিত যুদ্ধবিরতিকে উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র গতকাল ইরানের ওপর রাতভর হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধ শেষ করার সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার জন্য ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কাতারে থাকাকালীন এই হামলাগুলো চালানো হয়। দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন হামলায় ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)’র ৪ সদস্যের নিহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) ইরান থেকে প্রাপ্ত অসমর্থিত সূত্রের বরাতে টাইমস অব ইসরায়েল বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সেন্টকম হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছে, তারা নিজেদের বাহিনীকে রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এটি একটি প্রতিরক্ষামূলক অভিযান ছিল বলে দাবি করে সংস্থাটি। দক্ষিণ ইরানে মাইন বসানোর কাজে ব্যবহৃত নৌযান এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধবিরতি নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যেই এই হামলার ঘটনাটি ঘটল। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান