বিশ্ব

চীন-ভারতের জন্য ৫০০ শতাংশ শুল্ক? ট্রাম্পের রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইনে কী আছে

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রুশ পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের সুযোগ রেখে একটি নতুন বিল অনুমোদন করেছেন। ‘স্যানকশনিং রাশিয়া অ্যাক্ট অব ২০২৫’ নামের এই বিলটি এমন দেশগুলোর ওপর অন্তত ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছে, যারা ‘জ্ঞাতসারে এই বাণিজ্যে জড়িত’।

 

মার্কিন সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম বলেন, দ্বিদলীয় সমর্থনের পথে থাকা এই বিলটির লক্ষ্য হলো ‘সস্তা রুশ তেল কেনা দেশগুলোকে শাস্তি দেওয়া’, যা ভারতের জ্বালানি আমদানিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য সম্পর্ক আরো চাপের মুখে ফেলতে পারে।

 

প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে করেন যে রুশ সরকার বা রাশিয়ার নির্দেশে কাজ করা কেউ ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে, তবে ব্যাপক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর হবে।

 

একই সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে হওয়া শান্তি চুক্তি লঙ্ঘিত হলে, ইউক্রেনে আরেকটি আগ্রাসন শুরু হলে অথবা ইউক্রেন সরকারকে উৎখাত, ভেঙে দেওয়া বা দুর্বল করার চেষ্টা হলে—এই ব্যবস্থাগুলোও পুনরায় কার্যকর হবে।

বিলে বলা হয়েছে, ট্রাম্পকে ‘রুশ উৎসের ইউরেনিয়াম ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিনিময়ে জ্ঞাতসারে জড়িত দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া সব পণ্য ও সেবার ওপর শুল্কহার অন্তত ৫০০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে—সেসব পণ্য ও সেবার মূল্যের তুলনায়’।

 

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গ্রাহাম বলেন, ‘আজ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠকের পর, তিনি সেই দ্বিদলীয় রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলটিতে সবুজ সংকেত দিয়েছেন, যেটি নিয়ে আমি সিনেটর ব্লুমেনথালসহ বহুজনের সঙ্গে মাসের পর মাস কাজ করেছি।’ বিলটির সময়োপযোগিতা ব্যাখ্যা করে তিনি আরো বলেন, ‘ইউক্রেন শান্তির জন্য ছাড় দিচ্ছে আর পুতিন কেবল কথার ফুলঝুরি দিচ্ছেন—নিরীহ মানুষ হত্যাই চলছেই।

 

তিনি বলেন, ‘এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সস্তা রুশ তেল কিনে পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রে জ্বালানি জোগানো দেশগুলোকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা দেবে। এটি চীন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিপুল প্রভাব খাটানোর সুযোগ দেবে, যাতে তারা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পুতিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অর্থ জোগানো সস্তা রুশ তেল কেনা বন্ধে প্রণোদিত হয়।’

 

চলতি সপ্তাহের শুরুতে গ্রাহাম বলেন, একই ইস্যুতে ২০২৫ সালের আগস্টে আরোপিত উচ্চ শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য ভারত ওয়াশিংটনের কাছে তদবির করছে। গ্রাহামের দাবি, ভারতের যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত বিনয় মোহন কোয়াত্রা গত মাসে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নয়াদিল্লির রুশ তেল কেনা কমানোর বিষয়টি তুলে ধরেন এবং অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কে ছাড় চান।

 

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র কয়েক মাস ধরেই একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কাজ করছে, তবে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি; রুশ তেল ও দুগ্ধপণ্য এই আলোচনার প্রধান বিরোধের বিষয়। সর্বশেষ বাণিজ্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ১০–১২ ডিসেম্বর, যখন মার্কিন কর্মকর্তারা ভারতে আসেন।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্পের সঙ্গে সাংবাদিকদের গ্রাহাম বলেন, ‘এক মাস আগে আমি ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের বাড়িতে ছিলাম, আর তিনি শুধু এই কথাই বলছিলেন যে ভারত কম রুশ তেল কিনছে। তিনি আমাকে প্রেসিডেন্টকে ২৫ শতাংশ শুল্ক শিথিল করার কথা বলতে বলেন।’ আগস্টে এই শুল্ক আরোপ করা হয়; যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি ছিল, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের জ্বালানি বাণিজ্য পরোক্ষভাবে ইউক্রেনে মস্কোর যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে সহায়তা করছে।

 

অতিরিক্ত শুল্ক যোগ হওয়ায় কিছু ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট শুল্ক ৫০ শতাংশে পৌঁছয়।

ট্রাম্প প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, এই শুল্কগুলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সম্পর্ককে চাপে ফেলেছে। হাউস জিওপি মেম্বার রিট্রিটে তিনি বলেন, বাণিজ্য পদক্ষেপে মোদি অসন্তুষ্ট, তবে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমানোর দিকেও তিনি ইঙ্গিত করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি আমার ওপর খুব খুশি নন, কারণ এখন তারা অনেক শুল্ক দিচ্ছে, কারণ তারা তেল কেনা বন্ধ করছে না—কিন্তু তারা এখন তা খুব উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে, যেমনটা আপনি জানেন, রাশিয়া থেকে।’

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার সতর্ক করেছেন, ‘রুশ তেলের ইস্যুতে সহযোগিতা’ না করলে ভারতের ওপর শুল্ক আরো বাড়তে পারে—এভাবে তিনি বাণিজ্য চাপকে সরাসরি রাশিয়া–ইউক্রেন সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তার দাবি, ছাড়মূল্যের রুশ অপরিশোধিত তেল কেনা ইউক্রেনে মস্কোর যুদ্ধযন্ত্রকে জ্বালানি জোগাচ্ছে।

 

তবে ভারত দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি রুশ তেল কেনা বন্ধের আশ্বাস দিয়েছেন—ট্রাম্পের এমন আগের দাবিকে নয়াদিল্লি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, এমন কোনো কথোপকথন হয়নি। ওয়াশিংটন যখন নিষেধাজ্ঞা বিলটি এগিয়ে নেওয়ার পথে এগোচ্ছে, তখন প্রস্তাবিত আইনটি ভারতের জন্য নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

 

একই সময়ে ট্রাম্প নিজেকে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেছেন, তবে এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

 

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মিসাইল। ছবি : সংগৃহীত
ইরান তৃতীয় দফায় মিসাইল ছুঁড়ল, ইসরায়েলে জরুরি সাইরেন বাজলো

দখলদার ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে তৃতীয় দফায় মিসাইল ছুড়েছে ইরান। বাংলাদেশ সময় শনিবার (৭ মার্চ) ২টার দিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানায়, ইরান থেকে নতুন মিসাইল ছোড়া হয়েছে। তারা জানিয়েছে, স্থানীয় শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে এখন পর্যন্ত তিনবার মিসাইল হামলা চালিয়েছে। নতুন মিসাইলের প্রভাবে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল ও দখলকৃত পশ্চিমতীরে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজছে।   সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ০৭, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি

৪২ দাঁত নিয়ে গিনেস রেকর্ড গড়লেন মালয়েশিয়ার ব্যক্তি

আবারও ইসরায়েলে মিসাইল ছুড়ল ইরান

ট্রাম্প ও রুবিও

রুবিওকে কিউবার দায়িত্ব দিতে চান ট্রাম্প

একটি F-15D যুদ্ধবিমান পরিীক্ষামূলক ‘ব্লু স্প্যারো’ মিসাইল বহন করে উড্ডয়ন করছে।
খামেনিকে হত্যায় ‘ব্লু স্প্যারো’ মিসাইল ছুড়েছিল ইসরায়েল

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের শুরুতেই ‘নিখুঁত’ অভিযান চালিয়ে হত্যা করা হয় সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির শীর্ষ কয়েক ডজন নেতাকে। খামেনিকে হত্যার সেই অভিযানে ইসরায়েল ‘ব্লু স্প্যারো’ নামে শক্তিশালী একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে, যেটি আকাশ থেকে ছোড়ার পর পৃথিবী মণ্ডলের বাইরে মহাশূন্য ঘুরে আবার পৃথিবীতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। নিউ ইয়র্ক পোস্ট লিখেছে, ইসরায়েলের তৈরি ‘ব্লু স্প্যারো’ ক্ষেপণাস্ত্রটি ১ হাজার ২৪০ মাইল পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার আগে সেটি বায়ুমণ্ডল অতিক্রম করে মহাশূন্য ঘুরে আসে। ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটির আঘাত এতটাই তীব্র যে এর ধ্বংসাবশেষ পশ্চিম ইরাকেও খুঁজে পাওয়া গেছে। ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে গেছে ওই অঞ্চলে। খামেনিকে হত্যার সেই অভিযান চালানো হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর দিনই। দিনটি ছিল শনিবার, যা মূলত ইসরায়েলে সাপ্তাহিক ছুটির দিন। এ দিনটিকে ঘিরেই ইসরায়েলি কর্মকর্তারা একটি ধারণা তৈরি করেন যে, তাদের বাহিনী সাপ্তাহিক ছুটির কারণে কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। এভাবেই খামেনিকে হত্যায় আকস্মিক হামলার পরিকল্পনা করা হয় বলে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) এক কর্মকর্তা। বিবিসির তথ্যের বরাতে নিউ ইয়র্ক পোস্ট বলছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা এমন কিছু ছবি ও তথ্য প্রচার করেছিলাম, যা দেখে মনে হচ্ছিল আইডিএফ কর্মী ও উচ্চপদস্থ কমান্ডারেরা সাবাত ডিনারের (শনিবারের রীতি) জন্য বাসায় চলে যাচ্ছেন।’ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সাপ্তাহিক ছুটির দিন উপভোগের জন্য যখন সদর দপ্তর ত্যাগ করার নাটকীয়তা দেখান। ঠিক তখনই তারা দ্রুত ছদ্মবেশ ধারণ করে অত্যন্ত গোপনে পুনরায় দপ্তরে ফিরে যান এবং খামেনির কম্পাউন্ডে হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেন। ইসরায়েলের সেই অভিযান সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, মূলত রাতেই হামলার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের শনিবার সকালের একটি বৈঠকের তথ্য পেয়ে যায় গোয়েন্দারা। সে কারণে সময়সূচিও পাল্টে ফেলা হয়। হামলার আগে ধারণা করা হত খামেনি আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষায় অধিকাংশ রাত ভূগর্ভস্থ বাংকারে কাটাতেন। আইডিএফ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে পাস্তুর স্ট্রিটে অবস্থিত খামেনি কম্পাউন্ডে যখন ইরানের জ্যেষ্ঠ নেতাদের দেহরক্ষীরা এসে পৌঁছান, তখন ইসরায়েলের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ তাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছিল। মোসাদের কাছে ইরানি কর্মকর্তাদের রক্ষীদের গতিবিধির তথ্য ছিল। পাস্তুর স্ট্রিটে বসানো একটি ক্যামেরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সব তথ্য চলে যায় তেল আবিবে। এর ফলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা হামলার জন্য উপযুক্ত সময় ঠিক করে ফেলেন। ইরানের সময় অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় এফ-১৫ জেট ও অন্যান্য যুদ্ধবিমান প্রস্তুত করে ইসরায়েল। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর খামেনির কম্পাউন্ডের কেন্দ্রস্থল নিশানা করে বিমানগুলো থেকে ‘ব্লু স্প্যারোসহ’ ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ‘ব্লু স্প্যারো’ আকাশ থেকে ছোড়া এমন এক সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র, যা মূলত সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘স্কাড’ ক্ষেপণাস্ত্রের আদলে তৈরি, যেমনটি পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ইরাক ব্যবহার করেছিল। ইসরায়েলের ‘ব্লু স্প্যারো’ সাধারণত যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া হয়। এরপর সেগুলো মহাকাশ পর্যন্ত উঠে আবার পৃথিবীর দিকে ঘুরে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে। মহাকাশ থেকে পৃথিবীর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সময় এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রচণ্ড গতি পায়। প্রচণ্ড গতির কারণে সেগুলোকে আকাশে ধ্বংস করে ফেলা কঠিন হয়ে পড়ে। এর আগে ২০২৪ সালে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানে হামলার সময়ও ইসরায়েল এগুলো ব্যবহার করেছিল বলে ধারণা করা হয়। বৃহস্পতিবার সেই আইডিএফ কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম দফার হামলার সময় আইডিএফ ও মার্কিন বাহিনী সরাসরি যুক্ত ছিল, যাতে ইরানের প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা যায়। একই সময়ে খামেনির কম্পাউন্ড এলাকায় একডজন মোবাইল ফোন টাওয়ারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে আইডিএফ, যাতে খামেনির নিরাপত্তা বাহিনী কোনো ধরনের আগাম সতর্কবার্তা না পায়। এই হ্যাকিং ও গোয়েন্দা তৎপরতা ছিল খামেনিকে হত্যার জন্য মোসাদের বছরের পর বছর ধরে চালানো পরিকল্পনা ও অভিযানের অংশ। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, তেহরানে সেই বৈঠকের নতুন গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার আগেই সিআইএ ৮৬ বছর বয়সী খামেনির চলাফেরা ও দৈনন্দিন রুটিন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পেয়ে গিয়েছিল। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দাবি, খামেনি ছাড়াও এই হামলায় ইরানের ৪০ জনেরও বেশি শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ ও দেশটির সর্বোচ্চ সামরিক কর্মকর্তা আব্দুর রহিম মুসাভি, খামেনির মেয়ে, নাতি-নাতনি, পুত্রবধূ ও জামাতাও নিহত হন ওই পরিকল্পিত হামলায়।

মারিয়া রহমান মার্চ ০৭, ২০২৬ 0

যুদ্ধের ২৩তম হামলা শুরুর ঘোষণা বিপ্লবী গার্ডের

বিশ্বে প্রথম পারকিনসন রোগের চিকিৎসায় স্টেম-সেল অনুমোদন জাপানে

ছবি : সংগৃহীত

ইরান থেকে নাগরিক সরিয়ে নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া

ছবি : সংগৃহীত
উপসাগরীয় দেশ ও ইউক্রেনকে পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র দিতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র : ইইউ কমিশনার

যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইউক্রেনকে আত্মরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করতে সক্ষম নয় বলে শুক্রবার জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের(ইইউ) প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ বিষয়ক কমিশনার আন্দ্রিয়ুস কুবিলিউস। ওয়ারশ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইরান সংকটের পর, যদি আমরা একে এভাবে বলি, ইউরোপের জন্য আকাশ প্রতিরক্ষা ও অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানো আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।’ তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই উপসাগরীয় দেশগুলো, নিজেদের সেনাবাহিনী এবং একই সঙ্গে ইউক্রেনের জন্য পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করতে পারবে না। কুবিলিউস সতর্ক করে বলেন, ইউরোপ এখন অ্যান্টি-মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি ‘বড় চ্যালেঞ্জ’-এর মুখোমুখি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ০৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে ৩০০ জন করে যুদ্ধবন্দি বিনিময়

ছবি : সংগৃহীত

গোপন সার্ভার মুছে ফেলতে মার্কিন দূতাবাসকে নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

থামছে না ইরান, পাল্টা হামলা অব্যাহত

0 Comments