বিশ্ব

চীন-ভারতের জন্য ৫০০ শতাংশ শুল্ক? ট্রাম্পের রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইনে কী আছে

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৯, ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রুশ পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের সুযোগ রেখে একটি নতুন বিল অনুমোদন করেছেন। ‘স্যানকশনিং রাশিয়া অ্যাক্ট অব ২০২৫’ নামের এই বিলটি এমন দেশগুলোর ওপর অন্তত ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছে, যারা ‘জ্ঞাতসারে এই বাণিজ্যে জড়িত’।

 

মার্কিন সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম বলেন, দ্বিদলীয় সমর্থনের পথে থাকা এই বিলটির লক্ষ্য হলো ‘সস্তা রুশ তেল কেনা দেশগুলোকে শাস্তি দেওয়া’, যা ভারতের জ্বালানি আমদানিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য সম্পর্ক আরো চাপের মুখে ফেলতে পারে।

 

প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে করেন যে রুশ সরকার বা রাশিয়ার নির্দেশে কাজ করা কেউ ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে, তবে ব্যাপক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর হবে।

 

একই সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে হওয়া শান্তি চুক্তি লঙ্ঘিত হলে, ইউক্রেনে আরেকটি আগ্রাসন শুরু হলে অথবা ইউক্রেন সরকারকে উৎখাত, ভেঙে দেওয়া বা দুর্বল করার চেষ্টা হলে—এই ব্যবস্থাগুলোও পুনরায় কার্যকর হবে।

বিলে বলা হয়েছে, ট্রাম্পকে ‘রুশ উৎসের ইউরেনিয়াম ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিনিময়ে জ্ঞাতসারে জড়িত দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া সব পণ্য ও সেবার ওপর শুল্কহার অন্তত ৫০০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে—সেসব পণ্য ও সেবার মূল্যের তুলনায়’।

 

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গ্রাহাম বলেন, ‘আজ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠকের পর, তিনি সেই দ্বিদলীয় রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলটিতে সবুজ সংকেত দিয়েছেন, যেটি নিয়ে আমি সিনেটর ব্লুমেনথালসহ বহুজনের সঙ্গে মাসের পর মাস কাজ করেছি।’ বিলটির সময়োপযোগিতা ব্যাখ্যা করে তিনি আরো বলেন, ‘ইউক্রেন শান্তির জন্য ছাড় দিচ্ছে আর পুতিন কেবল কথার ফুলঝুরি দিচ্ছেন—নিরীহ মানুষ হত্যাই চলছেই।

 

তিনি বলেন, ‘এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সস্তা রুশ তেল কিনে পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রে জ্বালানি জোগানো দেশগুলোকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা দেবে। এটি চীন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিপুল প্রভাব খাটানোর সুযোগ দেবে, যাতে তারা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পুতিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অর্থ জোগানো সস্তা রুশ তেল কেনা বন্ধে প্রণোদিত হয়।’

 

চলতি সপ্তাহের শুরুতে গ্রাহাম বলেন, একই ইস্যুতে ২০২৫ সালের আগস্টে আরোপিত উচ্চ শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য ভারত ওয়াশিংটনের কাছে তদবির করছে। গ্রাহামের দাবি, ভারতের যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত বিনয় মোহন কোয়াত্রা গত মাসে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নয়াদিল্লির রুশ তেল কেনা কমানোর বিষয়টি তুলে ধরেন এবং অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কে ছাড় চান।

 

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র কয়েক মাস ধরেই একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কাজ করছে, তবে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি; রুশ তেল ও দুগ্ধপণ্য এই আলোচনার প্রধান বিরোধের বিষয়। সর্বশেষ বাণিজ্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ১০–১২ ডিসেম্বর, যখন মার্কিন কর্মকর্তারা ভারতে আসেন।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্পের সঙ্গে সাংবাদিকদের গ্রাহাম বলেন, ‘এক মাস আগে আমি ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের বাড়িতে ছিলাম, আর তিনি শুধু এই কথাই বলছিলেন যে ভারত কম রুশ তেল কিনছে। তিনি আমাকে প্রেসিডেন্টকে ২৫ শতাংশ শুল্ক শিথিল করার কথা বলতে বলেন।’ আগস্টে এই শুল্ক আরোপ করা হয়; যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি ছিল, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের জ্বালানি বাণিজ্য পরোক্ষভাবে ইউক্রেনে মস্কোর যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে সহায়তা করছে।

 

অতিরিক্ত শুল্ক যোগ হওয়ায় কিছু ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট শুল্ক ৫০ শতাংশে পৌঁছয়।

ট্রাম্প প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, এই শুল্কগুলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সম্পর্ককে চাপে ফেলেছে। হাউস জিওপি মেম্বার রিট্রিটে তিনি বলেন, বাণিজ্য পদক্ষেপে মোদি অসন্তুষ্ট, তবে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমানোর দিকেও তিনি ইঙ্গিত করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি আমার ওপর খুব খুশি নন, কারণ এখন তারা অনেক শুল্ক দিচ্ছে, কারণ তারা তেল কেনা বন্ধ করছে না—কিন্তু তারা এখন তা খুব উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে, যেমনটা আপনি জানেন, রাশিয়া থেকে।’

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার সতর্ক করেছেন, ‘রুশ তেলের ইস্যুতে সহযোগিতা’ না করলে ভারতের ওপর শুল্ক আরো বাড়তে পারে—এভাবে তিনি বাণিজ্য চাপকে সরাসরি রাশিয়া–ইউক্রেন সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তার দাবি, ছাড়মূল্যের রুশ অপরিশোধিত তেল কেনা ইউক্রেনে মস্কোর যুদ্ধযন্ত্রকে জ্বালানি জোগাচ্ছে।

 

তবে ভারত দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি রুশ তেল কেনা বন্ধের আশ্বাস দিয়েছেন—ট্রাম্পের এমন আগের দাবিকে নয়াদিল্লি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, এমন কোনো কথোপকথন হয়নি। ওয়াশিংটন যখন নিষেধাজ্ঞা বিলটি এগিয়ে নেওয়ার পথে এগোচ্ছে, তখন প্রস্তাবিত আইনটি ভারতের জন্য নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

 

একই সময়ে ট্রাম্প নিজেকে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেছেন, তবে এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

 

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ফরাসি কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে গোপন নেটওয়ার্ক গড়ার অভিযোগ ইরানের গোয়েন্দাদের

তেহরানে আটক দুই ফরাসি কূটনীতিকের বিরুদ্ধে গোপনে সরকারবিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অভিযোগ করেছে ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়। শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তেহরান দাবি করেছে, ওই ঘটনায় জব্দ করা নথিতে ইরানের ভেতরে ও বাইরে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ‘ইরান ইন্টারন্যাশনালের ’ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।       প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের একটি দাবি উপস্থাপন করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, একটি নিরাপত্তাসংক্রান্ত মামলায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের জন্য বিচারিক আদেশ বাস্তবায়নের সময় নিরাপত্তা বাহিনী একটি কথিত গোপন বৈঠকে ওই দুই ফরাসি কূটনীতিককে দেখতে পায়। তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর কূটনৈতিক পুলিশের মাধ্যমে ফরাসি প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।       বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা নথিতে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, তাদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ স্থাপন এবং একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব নথির কিছুতে ইরানে নিযুক্ত ফ্রান্সের এক সাবেক রাষ্ট্রদূতের স্বাক্ষরও ছিল বলে দাবি করেছে ইরান।     তেহরান এ ঘটনায় প্যারিসের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছে। ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ফরাসি সরকারকে তার অবৈধ ও হস্তক্ষেপমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।’       ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তির বিরুদ্ধেও ফ্রান্সকে সতর্ক করেছে ইরান। বিদেশি কূটনীতিকদের ‘অবৈধ ও হস্তক্ষেপমূলক কর্মকাণ্ড’ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।       জুলাইয়ে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিস্তারিত বক্তব্য। ঘটনাটি দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করে।       তবে ফ্রান্স ইরানের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। প্যারিসের দাবি, দুই ফরাসি কূটনীতিককে প্রায় চার ঘণ্টা আটক রাখা হয়েছিল এবং তাদের নিজ দেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এ সময় তাদের একজন শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও হন বলে ফ্রান্সের অভিযোগ।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি দখল করা এত সহজ নয়, ট্রাম্পকে বার্তা ইরানের

বাংলাদেশে সেল গঠনের চেষ্টা করছে আল-কায়েদা ভারত উপমহাদেশ শাখা

১৫ আগস্ট ঘিরে ধানমন্ডি ৩২ এ নিরাপত্তা জোরদার

ইরানের পাঁচ কর্মকর্তা ও ব্যক্তির ওপর কানাডার নিষেধাজ্ঞা

হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে নৌ চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পাঁচ ইরানি কর্মকর্তা ও ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কানাডা। শুক্রবার কানাডা জানায়, এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছে। ইরাকি সংবাদসংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর জানিয়েছে।   নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের কমান্ডার আলী আবদোল্লাহি, এর মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি, পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি, ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার শাহরাম ইরানি ও ইরানিয়ান অয়েল, গ্যাস অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যাল প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স ইউনিয়নের মুখপাত্র হামিদ হোসেইনি।   নিষেধাজ্ঞার ফলে কানাডায় তাদের কোনো সম্পদ থাকলে তা জব্দ করা হবে। কানাডীয় নাগরিক ও প্রতিষ্ঠান তাদের সঙ্গে আর্থিক বা ব্যবসায়িক লেনদেন করতে পারবে না। তারা কানাডায় প্রবেশেরও অযোগ্য হবেন।   নতুন এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের বিরুদ্ধে কানাডার নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়াল যথাক্রমে ২৩২ ও ২৬০।   কানাডার দাবি, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয়। এরপর দেশটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, জাহাজ আটক ও নৌ চলাচলে বাধা দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড চালিয়েছে।   কানাডার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পারস্য উপসাগরে ১ হাজার ৫০০টির বেশি জাহাজ আটকা রয়েছে। এসব জাহাজে প্রায় ৬ হাজার নাবিক অবস্থান করছেন।   সূত্র: শাফাক নিউজ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১৫, ২০২৬
ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংগৃহীত ছবি

ইরানকে আরও অর্থনৈতিক চাপে ফেলার হুমকি ট্রাম্পের

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ডিজেল দিতে অনুরোধ, বিবেচনা করছে ভারত

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বাজেয়াপ্ত সম্পদ ফেরত দিল ইউএই, সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ বলে নেতানিয়াহুর ব্যঙ্গ

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাজ্যকে ব্যঙ্গ করে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ঐতিহাসিকভাবে ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ ইউরোপীয় মিত্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্যের প্রতি নেতানিয়াহুর এমন মন্তব্য দুই দেশের ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েনের নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।       বৃহস্পতিবারম (১৩ আগস্ট) প্রচারিত ইসরাইলি পডকাস্ট ‘মেলেখ ব্লিটজার হাইম’-এ ইসরাইল নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের নেতিবাচক কাভারেজের সমালোচনা করতে গিয়ে নেতানিয়াহু এ মন্তব্য করেন।   তিনি উদাহরণ হিসেবে ব্রিটিশ লেখক র‍্যান্ডলফ চার্চিলের কথা উল্লেখ করেন। ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের সময় ইসরাইলের পক্ষে তার ইতিবাচক সংবাদ কাভারের প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু। এরপর ব্যঙ্গ করে বলেন, বর্তমানে ব্রিটেনে এমন সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন, কারণ দেশটিকে এখন ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ বলা যেতে পারে।     পডকাস্টের পরবর্তী অংশে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ২০২২ সালের একটি মন্তব্যেরও ইঙ্গিত দেন। ভ্যান্স সে সময় সম্ভাব্য কোনো পারমাণবিক অস্ত্রধারী ‘ইসলামপন্থী দেশ’ হিসেবে যুক্তরাজ্যের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন।     নেতানিয়াহু বলেন, কেউ একজন বলেছিলেন, পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রথম ইসলামি প্রজাতন্ত্র হবে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’। এরপর তিনি বলেন, ‘ইরানে এমন আরেকটি ইসলামি প্রজাতন্ত্র তৈরি হতে দেওয়া হবে না।’       নেতানিয়াহুর মন্তব্যের সমালোচনা ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে ব্রিটিশ ও আইরিশ ইহুদি সংগঠন ‘মুভমেন্ট ফর প্রগ্রেসিভ জুডাইজম’।     সংগঠনটির সহ-প্রধান রাবাই চার্লি বাগিনস্কি ও রাবাই জশ লেভ বলেন, যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিদ্বেষ, মুসলিমবিদ্বেষ এবং সামাজিক বিভাজন যখন মানুষের মধ্যে বাস্তব ভয় তৈরি করছে, তখন এ ধরনের ভাষা বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন।     তারা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ব্রিটিশ ইহুদিদের হয়ে কথা বলেন না। তার বক্তব্য আমাদের প্রতিনিধিত্ব করে না।’     যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের সাবেক ডাউনিং স্ট্রিট চিফ অব স্টাফ গ্যাভিন বারওয়েল নেতানিয়াহুর মন্তব্যকে সরাসরি ‘ইসলামবিদ্বেষ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।     সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, আশা করা যায়, এখন সবাই সেই ভান থেকে বেরিয়ে আসবে যে নেতানিয়াহু ব্রিটেনের কোনো বন্ধু।       দুই দেশের সম্পর্কে বাড়ছে দূরত্ব ঐতিহাসিকভাবে ইসরাইল ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন বেড়েছে।     সাবেক লেবার প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সময়ে যুক্তরাজ্য ইসরাইলের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করে এবং কিছু অস্ত্র রপ্তানির লাইসেন্স স্থগিত করে।     ফ্রান্সের মতো যুক্তরাজ্যও ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রিসভার সদস্য ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোটরিচের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।       গত বছর যুক্তরাজ্য ফ্রান্স ও কানাডাসহ কয়েকটি মিত্র দেশের সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়।       সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে লেবার পার্টির প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি স্বীকার করেন, যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতে দলটি অনেক দেরি করেছে।     বার্নহ্যাম বলেন, গাজায় সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি অবৈধ ইসরাইলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপও বিবেচনা করা প্রয়োজন।       ‘সম্পর্কের নতুন নিম্নস্তর’ ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সহযোগী অধ্যাপক রোদওয়ান আবুহারব বলেন, নেতানিয়াহুর মন্তব্য যুক্তরাজ্য-ইসরাইল সম্পর্কের ‘নতুন নিম্নস্তর’ নির্দেশ করছে।     তবে তার মতে, ইরান ইস্যুতে দুই দেশের নীতিগত অবস্থানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিলও রয়েছে।     আবুহারব বলেন, নেতানিয়াহু হয়তো মূলত অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এমন মন্তব্য করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি তার দুর্বল ও বিভক্ত জোট সরকারকে আরও সংহত করার চেষ্টা করতে পারেন।       নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন গাজা যুদ্ধ, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি, ইসরাইলি বসতি এবং অস্ত্র রপ্তানি নিয়ে যুক্তরাজ্য ও ইসরাইলের মধ্যে মতপার্থক্য ক্রমেই প্রকাশ্য হচ্ছে। ফলে তার বক্তব্য দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর নতুন করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।   সূত্র: আল-জাজিরা

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৪, ২০২৬
মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন। ছবি : গেটি ইমেজ

ইরানের সাথে যুদ্ধে ৪৫টি এমকিউ-৯ ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

চীনের জিয়াংসু প্রদেশের নানতোং এলাকায় একটি উচ্চগতির ট্রেন। ছবি: এএফপি

৫ সেকেন্ডে ৮০০ কিলোমিটার গতিতে নতুন বিশ্বরেকর্ড চীনা ট্রেনের

ছবি: সংগৃহীত

ভারতকে কড়া হুঁশিয়ারি, ‘সঠিক পথে না এলে জবাব দেবে পাকিস্তান’

0 Comments