চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বর্তমানে উচ্চশিক্ষার জন্য ছুটিতে রয়েছেন ১২৮ জন শিক্ষক। তাদের মধ্যে ১৮ জনের ছুটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কয়েকজন ছুটির জন্য আবেদন করেছেন। আর কয়েকজন এখনো ছুটি বাড়ানোর জন্য নতুন করে আবেদন করেননি এবং কর্মস্থলেও যোগ দেননি। তবে মেয়াদ শেষ হওয়া এই ১৮ জন শিক্ষকের ছুটি বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো তথ্য এখনো উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা শাখায় এসে পৌঁছেনি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী আগস্ট মাসে আরও ৪৪ জন শিক্ষকের ছুটির মেয়াদ শেষ হবে।
ছুটিতে থাকা ১২৮ শিক্ষকের মধ্যে ১১১ জন পিএইচডি, ৭ জন পোস্টডক্টরাল, ৬ জন মাস্টার্স, ২ জন গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম এবং ২ জন কোনো ধরনের ডিগ্রি প্রোগ্রামে না থেকেও ছুটিতে রয়েছেন।
পদমর্যাদা অনুযায়ী ছুটিতে থাকা শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন ৬ জন অধ্যাপক, ৩৫ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৭৯ জন সহকারী অধ্যাপক এবং ৮ জন প্রভাষক।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ১০ জন শিক্ষক ছুটিতে রয়েছেন সমাজতত্ত্ব বিভাগে। এছাড়া ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস এবং যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ৮ জন করে, রসায়ন ও অর্থনীতি বিভাগে ৭ জন করে, চারুকলা, ব্যবস্থাপনা ও মনোবিজ্ঞান বিভাগে ৬ জন করে এবং ফার্মেসি বিভাগে ৫ জন শিক্ষক ছুটিতে রয়েছেন। বাকি বিভাগগুলোতে ছুটিতে থাকা শিক্ষকের সংখ্যা ৪ জনের কম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অধ্যাপক বলেন, ‘অনেকেই ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও ফিরে আসেন না। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েও বারবার ছুটির সময় বৃদ্ধি করেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. ইসকান্দর সিরাজ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী একজন শিক্ষক পিএইচডির জন্য বেতনসহ ৪ বছর ও বেতন ছাড়া আরও অতিরিক্ত ২ বছর ছুটি নিতে পারেন। এছাড়া ১ বছরের মাস্টার্সের জন্য ২ বছর এবং ২ বছরের মাস্টার্সের জন্য ৩ বছর ছুটি নিতে পারেন। বর্তমানে নিয়মের বাইরে কেউ ছুটিতে নেই। তবে যাদের মেয়াদ বৃদ্ধির তথ্য আসেনি, এর মূল কারণ হতে পারে এটা প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় আছে। আমাদের কাছে তাদের তথ্যটা এখনো আসেনি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘যদি কারও ছুটি শেষ হয়, তাকে ১ মাসের মধ্যে যোগদান করতে বলা হয়। এরপরও কেউ যোগদান না করলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইনে শাস্তির বিধান করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে বেতন বন্ধ বা চাকরিচ্যুতও করা হয়। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দৃষ্টান্ত আমরা দেখিয়েছি।’
উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, ‘কারও ছুটির মেয়াদ শেষ হলে তাকে নোটিশ পাঠানো হয়। এরপরও যদি তিনি কর্মস্থলে না ফেরেন, তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ীও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আইনের বাইরে গিয়ে ছুটিতে থাকার সুযোগ নেই।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সরকারি কলেজের বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের তিনটি কমিটির মাধ্যমে বদলির বিধান রেখে নতুন নীতিমালা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির মাধ্যমে সরকারি কলেজের প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকদের এবং অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির মাধ্যমে সহযোগী অধ্যাপকদের বদলি পদায়ন করা হবে। আর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির মাধ্যমে অধিদপ্তর, বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় এবং কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদে সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপকদের বদলি পদায়নের বিধান রাখা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) নতুন এ নীতিমালাটি প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি কলেজের প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদে বদলি ও পদায়নে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সদস্য হিসাবে থাকবেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক এবং সংশ্লিষ্ট জেলার এডিসি (শিক্ষা)। ওই অঞ্চলের সহকারী পরিচালক (কলেজ) কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। এ কমিটি দপ্তর ও সংস্থার পদ ছাড়া সরকারি কলেজের প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকদের বদলি ও পদায়নের আবেদন যাচাই-বাছাই করে বদলি ও পদায়নের আদেশ জারি করবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপকদের বদলি-পদায়নের কমিটির সদস্য হিসাবে থাকবেন ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (কলেজ)। অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (কলেজ) এ কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। এ কমিটি ঢাকা মহানগর, দপ্তর, সংস্থার পদ ছাড়া কলেজগুলোতে সহযোগী অধ্যাপক পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নের আদেশ জারি করবে। বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার পদ, কলেজের অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ পদে সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদের বদলি ও পদায়নের আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্ব দিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সদস্য হিসাবে থাকবেন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কলেজ) ও যুগ্মসচিব (কলেজ)। এ কমিটির সদস্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন উপসচিব (কলেজ)। এ কমিটি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, অন্যান্য দপ্তর ও সংস্থার সব পদে, কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদে সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে বদলি-পদায়ন সংক্রান্ত আবেদন যাচাই-বাছাই করে বদলি-পদায়নের আদেশ জারি করবে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রভাষকরা চাকরির দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বদলির আবেদন করতে পারবেন না। অন্যান্য শিক্ষক-কর্মকর্তারা একই কর্মস্থলে দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বদলির আবেদন করতে পারবেন না। তবে কোনো গুরুতর শারীরিক, মানসিক বা পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে ক্ষেত্র বিশেষে দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগে তারা বদলির আবেদন করতে পারবেন। যৌক্তিকতা সাপেক্ষে আবেদন বিবেচনার এখতিয়ার সরকারের থাকবে। স্বামী-স্ত্রী উভয়ে চাকরিজীবী হলে স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলে বা নিকটতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বদলির জন্য শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা আবেদন করতে পারবেন। সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। অবসরের প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে যাওয়ার এক বছর আগে কোনো শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা বদলির জন্য আবেদন করলে তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে। বদলির আবেদন মূল্যায়নে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যা, পেশাগত সমস্যা, আবেদনকারী ও তার পরিবারের সদস্যদের দুরারোগ্য অসুস্খতা, নিজ জেলা থেকে কর্মস্থালের দূরত্ব ইত্যাদি বিষয়ে বিবেচনা করা হবে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা, চাকরি বা স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন দেখেন অনেকেই। সেই স্বপ্নের কথা কাউকে জানালেই প্রথম যে পরামর্শটি শোনা যায়, সেটি হলো- ‘আগে আইইএলটিএস দাও।’ অনেকের কাছেই মনে হয়, ভিসা আর পাসপোর্টের মতোই বিদেশে যাওয়ার জন্য আইইএলটিএসও একটি অপরিহার্য ধাপ। কিন্তু কেন? আসলে আইইএলটিএস শুধু একটি পরীক্ষা নয় বরং এটি বিশ্বজুড়ে আপনার ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার স্বীকৃতি। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়, নিয়োগকর্তা কিংবা অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানতে চায়, আপনি ইংরেজিতে কতটা সাবলীলভাবে কথা বলতে, শুনতে, পড়তে এবং লিখতে পারেন। সেই দক্ষতারই নির্ভরযোগ্য মূল্যায়ন করে আইইএলটিএস। আইইএলটিএস কী? আইইএলটিএস বা ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টিং সিস্টেম হলো একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইংরেজি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা। এটি মূলত অ-ইংরেজিভাষী দেশের নাগরিকদের জন্য, যারা বিদেশে পড়াশোনা, চাকরি বা অভিবাসনের পরিকল্পনা করছেন। এই পরীক্ষায় চারটি দক্ষতা যাচাই করা হয়— লিসেনিং (শোনা) রিডিং (পড়া) রাইটিং (লেখা) স্পিকিং (কথা বলা) আইইএলটিএসের ধরন আইইএলটিএস অ্যাকাডেমিক : যারা বিদেশে স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি করতে চান, তাদের জন্য এই পরীক্ষা। আইইএলটিএস জেনারেল ট্রেনিং: যারা বিদেশে চাকরি, অভিবাসন বা স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এই সংস্করণ। কেন নেয়া হয় এই পরীক্ষা? যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও কর্মক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষাই প্রধান মাধ্যম। সেখানে একজন বিদেশি শিক্ষার্থী বা কর্মী যেন সহজে যোগাযোগ করতে পারেন, পড়াশোনা বুঝতে পারেন এবং কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারেন—তা নিশ্চিত করতেই আইইএলটিএসের মতো পরীক্ষা নেয়া হয়। আইইএলটিএসের সুবিধা বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশের হাজারো বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক কোম্পানি আইইএলটিএস স্কোর গ্রহণ করে।বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, হার্ভার্ড, মেলবোর্নসহ বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদন করতে ভালো আইইএলটিএস স্কোর প্রয়োজন হয়। ভিসা ও ইমিগ্রেশনে সহায়ক- স্টুডেন্ট ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট কিংবা কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশের স্থায়ী বসবাসের আবেদনেও আইইএলটিএস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পেশাগত স্বীকৃতি- চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট বা প্রকৌশলীর মতো অনেক পেশায় বিদেশে কাজ করতে ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে আইইএলটিএস প্রয়োজন হয়। আত্মবিশ্বাস বাড়ায়- আইইএলটিএসের প্রস্তুতির সময় শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, বাস্তব জীবনে ইংরেজিতে কথা বলা, বোঝা ও যোগাযোগ করার দক্ষতাও অনেকটাই উন্নত হয়। আইইএলটিএসকে শুধু বিদেশে যাওয়ার টিকিট হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের যোগাযোগ দক্ষতায় গড়ে তোলার একটি কার্যকর মাধ্যম। ইংরেজিতে সাবলীলভাবে কথা বলা, নিজের ভাবনা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা এবং বৈশ্বিক পরিবেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে চলার জন্যও আইইএলটিএসের প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বিদেশে পড়াশোনা বা চাকরির পরিকল্পনা থাকুক কিংবা না-ই থাকুক, নিজের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে আইইএলটিএস হতে পারে ব্যক্তিগত উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান বর্জন করেছে ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। শুধু ছাত্রদল নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রতিবাদে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেছেন তারা। আজ রবিবার ক্যাম্পাসের টিএসসি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিন, সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য আনিছুর রহমান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও সিন্ডিকেট সদস্য সানজিদা ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং পূর্ববর্তী কমিটির এক নেতাও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সেক্রেটারি আতিকুর রহমান বলেছেন, ‘নবীনবরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর অনুষ্ঠান; এটি কোনো দলীয় কর্মসূচি নয়। অথচ জুলাইয়ের পূর্বের মতো আবারও একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস গঠনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’ তার ভাষ্য, জুলাই আন্দোলনে বিভিন্ন মত ও সংগঠনের শিক্ষার্থীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যে ঐক্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল সেই অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই প্রত্যাশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। প্রশাসন যদি বৈষম্যমূলক অবস্থান গ্রহণ করে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সকল ছাত্রসংগঠন ও শিক্ষার্থীর জন্য সমান মর্যাদা, সমান সুযোগ এবং বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাই।’ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মো. আসাদুল্লাহ বলেছেন, ‘এদেশে জুলাই এসেছিল বৈষম্য দূর করার জন্য। কিন্তু আমরা এখানে দেখতে পাচ্ছি প্রশাসন আবারও বৈষম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। অতীতে যেমন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বাইরে কাউকে বিভিন্ন কর্মসূচিতে স্থান দেওয়া হতো না, আজও আমরা একই ধরনের চিত্র দেখলাম। শুধুমাত্র ছাত্রদলকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমাদের বক্তব্যের সুযোগ না থাকলে কারওই থাকা উচিত নয়। আর যদি সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে তা সব সংগঠনের জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। শুধুমাত্র একটি দলকে সুযোগ দেওয়া দৃশ্যত বৈষম্য। এই বৈষম্যের প্রতিবাদেই আমরা আজকের অনুষ্ঠান বর্জন করেছি।’ ছাত্রদল ছাড়া অন্য ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলী বললেন, ‘সময়ের স্বল্পতার কারণে আমরা অন্যান্য ছাত্রসংগঠনকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিতে পারিনি। তাদের আগের রাতেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, অনুষ্ঠানে তাদের বক্তব্যের কোনো অংশ থাকবে না। এত বড় একটি আয়োজনে ছাত্রদের এভাবে আচরণ করা ঠিক হয়নি।’