সারাদেশ

চট্টগ্রামে অর্ধশতাধিক গ্রামে রোজা শুরু বুধবার

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্ধশতাধিক গ্রামে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে রোজা পালন শুরু করবে বাসিন্দারা। এসব গ্রামে মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে রোজা রাখেন, যা প্রতি বছরই চলে আসছে।

 

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে সেহরি খেয়ে আজ রোজা শুরু করবেন সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, পটিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে হাজার হাজার মুসলিম। এই অঞ্চলগুলোর মানুষ ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে আরব বিশ্বের সঙ্গে মিল রেখে রোজা, ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা পালন করে আসছে।

 

মির্জাখীল দরবারের অনুসারীরা সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, পটিয়া, বোয়ালখালীসহ ৫০ গ্রামের এক লাখেরও বেশি মানুষ আজ রোজা পালন শুরু করবেন। এছাড়া, দেশের অন্যান্য অঞ্চল যেমন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, চাঁদপুর, সিরাজগঞ্জ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেমন ভারত, মিয়ানমার, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, ইংল্যান্ডসহ মির্জাখীল দরবারের অনুসারীরা সেহরি খেয়ে রোজা পালন শুরু করবেন।

 

মির্জাখীল দরবারের একটি সূত্র জানায়, প্রায় আড়াই’শ বছর আগে মির্জাখীল গ্রামে হযরত মাওলানা মোখলেছুর রহমান জাহাঁগীরি (রহ.) পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় চাঁদ দেখা গেলে রোজা, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা পালন করার ফতোয়া দিয়েছেন। সেই থেকেই মুরিদরা একই নিয়মে সব ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছে।

 

মির্জাখীল দরবারের দায়িত্বশীল মুহাম্মদ জালালুল হাই জানিয়েছেন, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রাঘিমাংশ ও অক্ষাংশের হিসেব অনুযায়ী, আরব বিশ্বের চাঁদ দেখার খবর এবং স্থানীয় ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পর বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে রমজান মাসের সিয়াম পালন শুরু হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামে অর্ধশতাধিক গ্রামে রোজা শুরু বুধবার

দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্ধশতাধিক গ্রামে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে রোজা পালন শুরু করবে বাসিন্দারা। এসব গ্রামে মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে রোজা রাখেন, যা প্রতি বছরই চলে আসছে।   মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে সেহরি খেয়ে আজ রোজা শুরু করবেন সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, পটিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে হাজার হাজার মুসলিম। এই অঞ্চলগুলোর মানুষ ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে আরব বিশ্বের সঙ্গে মিল রেখে রোজা, ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা পালন করে আসছে।   মির্জাখীল দরবারের অনুসারীরা সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, পটিয়া, বোয়ালখালীসহ ৫০ গ্রামের এক লাখেরও বেশি মানুষ আজ রোজা পালন শুরু করবেন। এছাড়া, দেশের অন্যান্য অঞ্চল যেমন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, চাঁদপুর, সিরাজগঞ্জ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেমন ভারত, মিয়ানমার, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, ইংল্যান্ডসহ মির্জাখীল দরবারের অনুসারীরা সেহরি খেয়ে রোজা পালন শুরু করবেন।   মির্জাখীল দরবারের একটি সূত্র জানায়, প্রায় আড়াই’শ বছর আগে মির্জাখীল গ্রামে হযরত মাওলানা মোখলেছুর রহমান জাহাঁগীরি (রহ.) পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় চাঁদ দেখা গেলে রোজা, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা পালন করার ফতোয়া দিয়েছেন। সেই থেকেই মুরিদরা একই নিয়মে সব ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছে।   মির্জাখীল দরবারের দায়িত্বশীল মুহাম্মদ জালালুল হাই জানিয়েছেন, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রাঘিমাংশ ও অক্ষাংশের হিসেব অনুযায়ী, আরব বিশ্বের চাঁদ দেখার খবর এবং স্থানীয় ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পর বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে রমজান মাসের সিয়াম পালন শুরু হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

সকাল থেকে যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না ৯ ঘণ্টা

ছবি : সংগৃহীত

সমুদ্র শান্ত, কক্সবাজারে ভিড় বাড়ছে ডলফিনের

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

তারেক রহমানের আসন শূন্য ঘোষণা

আটক মাইদুল ইসলাম।
‘উপহারের প্যাকেটে’ ঘুষ নিয়ে শিক্ষা অফিসে সাবেক শিক্ষক, অতঃপর...

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীর এমপিওভুক্তির তদবির করতে শিক্ষা কর্মকর্তাকে ‘উপহারের প্যাকেটে’ মুড়িয়ে ৮ লাখ টাকা ঘুষ দিতে এসে রংপুরে আটক হয়েছেন সাবেক শিক্ষক পরিচয় দেওয়া কুড়িগ্রামের এক ব্যক্তি। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর নগরীর কাচারীবাজার এলাকায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা আঞ্চলিক কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিকেলে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আটক ব্যক্তির নাম মাইদুল ইসলাম (৫০)। তিনি কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার কাজাইকাটা এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি নিজেকে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দেন। পুলিশ ও আঞ্চলিক উপপরিচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার কাজাইকাটা উচ্চবিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী এমপিও সুপারিশের জন্য গত সোমবার উপপরিচালকের কার্যালয়ে যান মাইদুল ইসলাম। এক সপ্তাহ পর আবারও আজ সোমবার উপহারের বাক্সে করে ৮ লাখ টাকা নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা আঞ্চলিক উপপরিচালক মোছা. রোকসানা বেগম কক্ষে যান। সেখানে তাকে সুপারিশের বিনিময়ে বাক্সটি গ্রহণ করতে বলেন। এ সময় বক্সের ভেতরে টাকা থাকার বিষয়টি জানালে রোকসানা বেগম কর্মচারীদের মাধ্যমে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে টাকাসহ ওই ব্যক্তিকে আটক করে বিকেলে থানা নিয়ে যান। অভিযুক্ত মাইদুল ইসলাম ঘুষের প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি আলাপ করতে আসছি। ম্যাডাম ঘুষ খায় না সেটা আমি জানি না। এটা আমারই দোষ। মহানগর কোতোয়ালি থানার ওসি শাহজাহান আলী কালবেলাকে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এ সময় ৮ লাখ টাকা জব্দ করা হয়। শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) জানানো হয়েছে। দুদক এলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

নিখোঁজ স্ত্রীর সন্ধানে স্বামীর পুরস্কার ঘোষণা

ছবি : সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে ৪.৩ মাত্রার ভূমিকম্প

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ ধাম ঘিরে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী শিবচতুর্দশী মেলার শেষ দিন সোমবার লাখো পুণ্যার্থীর ঢল নামে।

পুণ্যার্থীতে মুখর চন্দ্রনাথ ধামের শিবচতুর্দশী মেলা

৭৩ জন বাংলাদেশি জেলেকে বিজিবির কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ফেরত আনা হয়েছে।
৭৩ বাংলাদেশিকে ফেরত দিল আরাকান আর্মি

মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির হাতে বিভিন্ন সময়ে নাফনদে মাছ শিকারের সময় আটক হওয়া ৭৩ জন বাংলাদেশি জেলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় তাদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া। দীর্ঘদিন পর দেশের মাটিতে পা রাখতে পেরে জেলেরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। টেকনাফ ঘাটে এসময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, অপেক্ষায় থাকা পরিবার-পরিজনদের মাঝে ফিরে আসে স্বস্তি। বিজিবির সিও বলেন, টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়া সংলগ্ন ট্রানজিট জেটিঘাট দিয়ে জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ধাপে ধাপে মিয়ানমারে আটক সব বাংলাদেশি জেলেকে ফেরত আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। নাফ নদ ও সাগর থেকে বিভিন্ন সময়ে ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেদের মুক্ত করতে বিজিবি আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ করে তৎপরতা চালাচ্ছে। বিজিবি সূত্র জানায়, গত পাঁচ মাসে টেকনাফ ও সেন্ট মার্টিন উপকূলীয় জলসীমা থেকে অন্তত ৪২০ জন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। সেন্ট মার্টিন দ্বীপের বাসিন্দা হুমায়রা বেগম বলেন, আমার স্বামীকে অপহরণের পাঁচ মাস ধরে জানি না তিনি বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন। দুই সন্তান নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে। আজ তিনি ফিরবেন এ আশায় বসে আছি। শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা মিয়ানমারে আটক নুরুল আলমের ভাই ছৈয়দ আলম বলেন, আজ জেলেরা ফেরত আসবেন শুনে এখানে এসেছি। খুব খুশি লাগছে, তবে তালিকায় আমার ভাইয়ের নাম আছে কি না, জানি না। বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে মাছ শিকার করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বাংলাদেশি জেলেরা জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারে ঢুকে পড়লে আরাকান আর্মি তাদের আটক করে। পরবর্তীতে তাদের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছিল। তারা আরও জানান, আটক জেলেদের ফিরিয়ে আনতে কক্সবাজার অঞ্চলের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো সমন্বিত মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করে। আরাকান আর্মির ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ, মধ্যস্থতা এবং সফল আলোচনার প্রেক্ষিতে আজ প্রথম ধাপে ৭৩ জনকে মুক্তি দেয়া হয়। এদিকে জেলেদের ফেরত আনার খবরে অনেক পরিবার দুপুর থেকে টেকনাফ জেটিঘাটে ভিড় করেছেন। প্রিয়জনদের একনজর দেখতে অনেকে সকাল থেকেই সেখানে অপেক্ষা করছেন।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
লক্ষ্মীপুরে অবৈধভাবে নদীপথে পাচারকালে সার জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

নদীপথে পাচারকালে ৩০০ বস্তা সার জব্দ

ছবি : সংগৃহীত

সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ নিহত ৫

বহিষ্কৃত নেতা রফিক মল্লিক ও মাকসুদুর ডালিম। সংগৃহীত ছবি

বরিশালে যুবদলের দুই নেতাকে সব পদ থেকে বহিষ্কার

0 Comments