স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, সড়ক ও নৌপথে পশুবাহী যানবাহনে যে কোনো ধরনের চাঁদাবাজিও কঠোর হস্তে দমন করা হবে। তিনি বলেন, ঈদের ছুটির আগেই পোশাক শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত এলে সেটি কূটনৈতিক আলোচনা হবে। ‘নোম্যান্স ল্যান্ড (শূন্যরেখা)’ বজায় রেখে ভারত নিজেদের সীমানার মধ্যে কোনো ব্যবস্থা নিতে চাইলে সেটি নিয়েও আলোচনা করা হবে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন বলেন, ভারতের কোনো অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন বা তার ফলাফল সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কোনো অঙ্গরাজ্যের একটি দলের বক্তব্যের জবাব আমরা দেব না। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের জানাতে হবে। তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হলো সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যে কোনো ধরনের ‘পুশইনের’ ব্যাপারে সতর্ক থাকা। বিজিবিকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা সতর্ক আছি। সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার দিকেই আমাদের নজর রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনপরবর্তী সহিংসতা এবং মুসলমানদের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো কিছু ছবি ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।
চাঁদাবাজির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে-বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের এমন বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন বলেন, নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোথায় কোথায় চাঁদাবাজি বেড়েছে, সে তালিকা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ৩০ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান চলছে। মাদক, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চিহ্নিত আসামি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঈদুল আজহায় নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, ঈদের আগে ও পরে সাতদিন করে ১৪ দিন পুলিশ সদর দপ্তরে বিশেষ মনিটরিং সেল চালু থাকবে। এ সময় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার হটলাইন সক্রিয় থাকবে। এছাড়া র্যাব, পুলিশ, আনসার, বিজিবি, কোস্ট গার্ডসহ সব গোয়েন্দা সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঈদের আগে পোশাক শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও শ্রমিক ফেডারেশনগুলোকে যথাযথ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিছু রুগ্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বন্ধ কারখানার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, কাঁচা চামড়ার ন্যায্যমূল্য নির্ধারণে ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বৈঠক করবে। পাশাপাশি চামড়া সংরক্ষণে সরকার বিনামূল্যে লবণ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে ইসলামি ফাউন্ডেশন ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার চালানো হবে। চামড়া যাতে পাচার না হয়, সে বিষয়েও সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এবার সারা দেশে ৪ হাজার ২৫৯টি পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১টি হাট থাকবে। হাটগুলোয় পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাল নোট শনাক্তে প্রতিটি হাটে ব্যাংকগুলোর বুথ ও মেশিন থাকবে। এছাড়া ইজারাদারদের চাহিদা অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অঙ্গীভূত আনসার’ নিয়োজিত করা হবে।
সড়ক ও নৌপথে পশুবাহী যানবাহনে যে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি কঠোর হস্তে দমনের হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবে এবং সিভিল ড্রেসে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও দক্ষ জনশক্তি সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, সিঙ্গাপুর একটি বৈশ্বিক ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সিঙ্গাপুরের একটি স্থানীয় হোটেলে বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুর আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা সিঙ্গাপুরে তাদের ব্যবসার বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা এবং বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমবাজারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুরের সভাপতি সংগঠনের কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নয়নে চেম্বারটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে রপ্তানি বৃদ্ধি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং সম্প্রতি বিনিয়োগসংক্রান্ত একটি বিল মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়েছে। তিনি আরও জানান, জনশক্তি রপ্তানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসংক্রান্ত বিষয়গুলো সমন্বয়ের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি পৃথক উইং গঠন করা হয়েছে, যা সরকারি ও বেসরকারি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। শামা ওবায়েদ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ শিল্প, শিক্ষা এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) খাতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বড় সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের সঙ্গে সিঙ্গাপুরের বাণিজ্য ঘাটতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেন। তার মতে, পাট ও পাটজাত পণ্য সিঙ্গাপুরের বাজারে বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় খাত হতে পারে, তবে এ জন্য গবেষণা, উদ্ভাবন এবং কার্যকর নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে একটি যৌথ বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর চেম্বার গঠনের প্রস্তাব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সভায় ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে ডাটা সেন্টার স্থাপনকে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ খাত হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে। তাদের মতে, এফটিএ হলে ইস্পাত, জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুরের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে পারে। ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি পণ্যের প্রদর্শনী আয়োজন, সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগকারীদের জন্য ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু, ব্যাংক হিসাব খোলার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ব্যবসায়িক কর্মশালা ও বাণিজ্য মেলার আয়োজনের প্রস্তাব দেন। সভায় চিকিৎসক, প্রকৌশলী, জাহাজ নির্মাণ শ্রমিক, আইটি পেশাজীবী, পরিবহন ও নির্মাণ খাতের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। তারা সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে বয়স্কদের সেবাদান খাতকে সম্ভাবনাময় হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রবাসী বাংলাদেশিরা অভিযোগ করেন, সিঙ্গাপুরে অভিবাসন ব্যয় অত্যন্ত বেশি এবং কিছু রিক্রুটিং এজেন্সির অনিয়মের কারণে কর্মীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। তারা স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, অভিবাসন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সরকার কাজ করছে। দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য টিভিইটি খাত সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সভায় আইটি, ডাটা অ্যানালাইসিস, সাইবার নিরাপত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। সমাপনী বক্তব্যে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের সব দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের দেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, মতবিনিময় সভায় উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো লিখিতভাবে দিলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন।
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা পাঠালেই নজরদারির আওতায় আসতে পারে কে টাকা পাঠালেন, কাকে পাঠালেন, কোথা থেকে পাঠালেন এবং লেনদেনের ধরন স্বাভাবিক কি না? ভুয়া সিম, প্রতারণামূলক মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব, অর্থ পাচার ও ডিজিটাল আর্থিক অপরাধ ঠেকাতে এবার লেনদেনে নজরদারির নতুন কাঠামো গড়ে তুলতে যাচ্ছে সরকার। এতে ব্যবহার করা হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মেশিন লার্নিং ও রিয়েল-টাইম লোকেশন তথ্য। পাশাপাশি সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তে তৈরি হবে রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা। ভুয়া সিম ও ভুয়া এমএফএস হিসাব শনাক্ত এবং বাতিলে গড়ে তোলা হবে পৃথক কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম। এমএফএস হিসাব খোলার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে এনআইডি ও বায়োমেট্রিক যাচাই। এজেন্টদের কার্যক্রম নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে রাখতে চালু হবে ভার্চুয়াল ডিজিটাল সীমানা। এমনকি কোনো গ্রাহকের মৃত্যুর ছয় মাস পর তার নামে নিবন্ধিত সিম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং অগ্রগতি জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) গড়ে তুলবে রিয়েল-টাইম লেনদেন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা। এআই ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা হবে প্রতারণার ধরন, অস্বাভাবিক লেনদেন এবং অর্থ পাচারের সম্ভাব্য প্রবণতা। বাংলাদেশ ব্যাংক, এনটিএমসি ও এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে একই কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে কোনো লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং লেনদেনের অবস্থান দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহকের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। রিয়েল-টাইম লোকেশন তথ্য সরবরাহের সুপারিশ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংককে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে লেনদেনের সময় সংশ্লিষ্ট অ্যাপ চালু হলে জিওলোকেশন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে। এমএফএস এজেন্টদেরও ভার্চুয়াল ডিজিটাল সীমানার আওতায় আনা হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত এলাকার বাইরে এজেন্টের কার্যক্রম পরিচালিত হলে তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে এক এলাকার এজেন্ট আইডি ব্যবহার করে অন্য এলাকায় অবৈধ বা অননুমোদিত লেনদেন ঠেকানোর সুযোগ তৈরি হবে। এমএফএস হিসাব খোলার ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র ও বায়োমেট্রিক তথ্যের বাধ্যতামূলক যাচাই করা হবে। বিটিআরসির সেন্ট্রাল বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন মনিটরিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এই যাচাই সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শুধু নতুন হিসাব নয়, পুরোনো এমএফএস হিসাবও যাচাইয়ের আওতায় আনা হচ্ছে। গ্রাহকের এনআইডি ও মোবাইল নম্বর মিলিয়ে দেখা হবে। ভুয়া বা অবৈধ ব্যবহারকারী শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক, এজেন্ট ও রিটেইলারদের শতভাগ ই-কেওয়াইসি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিত তথ্য হালনাগাদের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সিম নিবন্ধনে আনা হচ্ছে আরো কঠোরতা। কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর ছয় মাস পর তার নামে নিবন্ধিত সিম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এজন্য বায়োমেট্রিক যাচাই ব্যবস্থাকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্যভান্ডারসহ অন্যান্য সরকারি ডেটাবেসের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। একটি এনআইডির বিপরীতে সব অপারেটর মিলিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচটি সিম রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। দুটির বেশি সিম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে করা হবে অতিরিক্ত যাচাই। সিম নিবন্ধনের সময় আঙুলের ছাপ ও মুখমণ্ডলের ছবিও কেন্দ্রীয়ভাবে যাচাইয়ের আওতায় আসবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, এমএফএস ব্যবহার করে অপরাধ, অর্থ পাচার ও মাদক ঠেকাতে সরকার একটি সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছে। এটি বাস্তবায়ন হলে এমএফএস সেবার অপব্যবহার বন্ধ হবে।
গ্যাস ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের আয় না বাড়লেও তাদের ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে দলীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “মানুষের আয়-ইনকাম বাড়ছে না। আয় বৃদ্ধি না করে তার ওপর ব্যয় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এভাবে চলতে পারে না।” গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগস্ট মাসের জন্য মূল্য সমন্বয়ের কথা বলা হলেও এতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে সেপ্টেম্বরেও আবার দাম বাড়তে পারে। তিনি দাবি করেন, কয়েক মাস আগেই সিলিন্ডার গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছিল। জ্বালানি খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, গ্যাস ও তেল খাত বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের আলোচনা শোনা যাচ্ছে। তার মতে, সঠিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এ ধরনের পদক্ষেপ জনগণকে আরও বেশি ভোগান্তিতে ফেলতে পারে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি এবং বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলার অবনতি দেখা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলার অভাব রয়েছে এবং শেয়ারবাজার দীর্ঘদিন ধরে স্থবির অবস্থায় আছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহিনুর আলম, জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক জাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা।