লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ২১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর মধ্যে ১৬ জন লেবানিজ নাগরিক এবং ৫টি লেবানন-ভিত্তিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা (ডব্লিউএএম) জানিয়েছে, সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির সকল নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে কোনো ধরনের আর্থিক বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকলে তা দ্রুত চিহ্নিত করা হয়।
নির্দেশনা অনুযায়ী, তালিকাভুক্তদের সকল সম্পদ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জব্দ করতে হবে। তাদের সঙ্গে জড়িত যেকোনো ধরনের লেনদেন বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম আইন অনুযায়ী বন্ধ করতে হবে।
আরব আমিরাত সরকার জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ দমনে তাদের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারেরই একটি অংশ। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অর্থায়ন বন্ধ করতে তারা কঠোর অবস্থানে থাকবে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের মার্চ মাসে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-এর দেশগুলোর সঙ্গে একাত্ম হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত হিজবুল্লাহকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তাদের আর্থিক নেটওয়ার্ক ভাঙতে এই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
স্যাটেলাইট চিত্রে লাওসে চীনের একটি নতুন সামরিক স্থাপনায় যুদ্ধবিমান মোতায়েন থাকার বিষয়টি ধরা পড়েছে। গত সপ্তাহে চালু হওয়া এই স্থাপনাটি মূল ভূখণ্ডভিত্তিক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বেইজিংয়ের বিমানবাহিনীর জন্য প্রথম কোনো ঘাঁটি বা অবস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘ভ্যান্টর’-এর দেওয়া ছবিতে দেখা যায়, ‘বান কুন’ বিমানবন্দরে আটটি হালকা যুদ্ধবিমান এবং সারিবদ্ধভাবে রাখা এক ডজনেরও বেশি সামরিক যান অবস্থান করছে। যা দেশের বাইরে চীনের সামরিক উপস্থিতি বিস্তারের সর্বশেষ পদক্ষেপ। রানওয়েটি এখনও নির্মাণাধীন। বিমানগুলোর আকৃতি চীনের তৈরি ‘হংদু জেএল-৮’ জেটের সাথে হুবহু মিলে যায়। এটি মূলত দুই আসনের প্রশিক্ষণ বিমান হলেও প্রয়োজনে বোমা বহনের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যায়। লন্ডন-ভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’-এর তথ্যমতে, লাওসের কাছে এ ধরনের চারটি বিমান রয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর তোলা এই ছবিগুলোতে রানওয়ের চারপাশে ব্যাপক নির্মাণকাজও দেখা যায়। এর আগের দিনই চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রাজধানী ভিয়েনতিয়ানের অদূরে ‘বান কুন’-এ এই কেন্দ্রটি স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছিল। লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েন থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এই বিমানবন্দরটি গত এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। কয়েক মাস আগের স্যাটেলাইট চিত্রে যেখানে কৃষিজমি ও মাটির রাস্তা দেখা গিয়েছিল, সেখানে এখন নতুন ভবন ও পাকা রানওয়ে দৃশ্যমান।
দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি পরিকল্পনাবিদরা ভারতের জ্বালানি পরিশোধন অবকাঠামোর বড় ধরনের সম্প্রসারণে অর্থায়নের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের সার্বভৌম সম্পদ তহবিলগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের উদ্যোগ নিয়েছেন। একই সঙ্গে বৃহত্তর জ্বালানি খাতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াচ্ছে ভারত। গত মাসে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি জানিয়েছিলেন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বড় জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশগুলো ভারতের শোধনাগার খাতের প্রকল্পে অর্থায়নে ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছে। ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা পূরণে দেশটির তেল শোধন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে ভারতের শোধন সক্ষমতা দৈনিক ৫৪ লাখ ব্যারেল। তা বাড়িয়ে ৬২ লাখ ব্যারেলের বেশি করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক দেশগুলোর সরাসরি তেল শোধনাগার প্রকল্পের প্রস্তাবের পাশাপাশি জ্বালানি খাতের বিভিন্ন পর্যায়ে বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে কাতারের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়াচ্ছে নয়াদিল্লি। ২০২৬ সালের এপ্রিলে দুই দিনের সরকারি সফরে দোহা যান হরদীপ সিং পুরি। সেখানে তিনি কাতারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এবং কাতারএনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ শেরিদা আল-কাবির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে কৌশলগত সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সামুদ্রিক সরবরাহ শৃঙ্খলের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। কাতারের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কিউএনএ জানায়, বৈঠকে দুই কর্মকর্তা দ্বিপক্ষীয় জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার সময় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য নির্বিঘ্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ চুক্তি ঐতিহাসিকভাবে ভারত-কাতার বাণিজ্যিক সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি। তবে বর্তমানে জ্বালানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অবকাঠামোয় পারস্পরিক মালিকানা অংশীদারত্বের বিষয়টিও দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। কিউএনএ জানিয়েছে, ২০২৪ সালে পেট্রোনেট এলএনজি কাতারএনার্জির কাছ থেকে বছরে ৭৫ লাখ টন এলএনজি কেনার চুক্তির মেয়াদ আরও ২০ বছর বাড়ায়। চুক্তিটি ২০২৮ সালের জুলাই পর্যন্ত এবং এরপরও কার্যকর থাকবে। নতুন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজতে ভারত ও কাতার যৌথ বিনিয়োগ টাস্কফোর্স (জেটিএফআই) গঠন করেছে। অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে বাণিজ্যিক সুযোগ অনুসন্ধান করছে এই টাস্কফোর্স। ২০২৪ সালের জুনে নয়াদিল্লিতে যৌথ কর্মী গোষ্ঠীর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কাতারের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের আন্ডারসেক্রেটারি মোহাম্মদ বিন হাসান আল-মালিকি এবং ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগের আন্ডারসেক্রেটারি অজয় শেঠ যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন। ওই বৈঠকে আল-মালিকি জানান, ২০২৩ সালে ভারত ও কাতারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৩৪৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে কাতারের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হয়েছে ভারত। কাতার থেকে ভারতে প্রধানত এলএনজি, এলপিজি, রাসায়নিক, পেট্রোকেমিক্যাল, প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামজাত পণ্য রপ্তানি হয়। অন্যদিকে ভারত থেকে কাতারে রপ্তানি করা হয় শস্য, তামাজাত পণ্য, লোহা ও ইস্পাতজাত পণ্য, সবজি, মসলা, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, নির্মাণসামগ্রী ও তৈরি পোশাক। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে দ্বৈত কর পরিহার চুক্তিসহ (ডিটিএএ) বিভিন্ন আর্থিক কাঠামোও রয়েছে। কর ফাঁকি রোধ এবং আয়কর হার নির্ধারণের লক্ষ্যে ভারত ও কাতার ১৯৯৯ সালের এপ্রিলে চুক্তিটি স্বাক্ষর করে। এটি ২০০০ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। চুক্তি অনুযায়ী, সুদ, রয়্যালটি ও কারিগরি সেবা ফির ওপর উৎসে করের হার ১০ শতাংশ। কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিকানা কমপক্ষে ১০ শতাংশ হলে লভ্যাংশের ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ। ভারতের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো খাতেও কাতারের সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের বিনিয়োগ রয়েছে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি (কিউআইএ) প্রায় ৪৫ কোটি ডলারে আদানি ইলেকট্রিসিটি মুম্বাই লিমিটেডের (এএইএমএল) ২৫ দশমিক ১ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করে। এর মাধ্যমে ভারতের শহরভিত্তিক বিদ্যুৎ বিতরণ খাতে কিউআইএর বিনিয়োগ শুরু হয়। এরপর ২০২৩ সালের আগস্টে কিউআইএ তাদের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ আরও বাড়ায়। সংস্থাটির সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইনকিউ হোল্ডিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ৫০ কোটি ডলারে আদানি গ্রিন এনার্জি লিমিটেডের (এজিইএল) ২ দশমিক ৬৮ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করা হয়। কিউএনএ জানিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিলে কাতার সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নর এবং কিউআইএর চেয়ারম্যান শেখ বান্দার বিন মোহাম্মদ বিন সউদ আল-থানি এজিইএলের নির্বাহী পরিচালক সাগর আদানির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বিনিয়োগের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী দুই দশকে বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদা বৃদ্ধির ২৫ শতাংশ ভারতের কারণে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে শোধনাগার খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বভৌম সম্পদ তহবিলগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বকে গুরুত্ব দিচ্ছে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের (ইউএনএইচআরসি) ৬৩তম অধিবেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে বাংলাদেশের নেতৃত্বে উত্থাপিত একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। ‘মানবাধিকার উন্নয়ন ও সুরক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব’ শীর্ষক প্রস্তাবটি মানবাধিকার পরিষদে এআই ও মানবাধিকারের সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার নতুন দিগন্ত তৈরি করেছে। বাংলাদেশের উদ্যোগে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, মিসর, গ্রিস, গায়ানা, কুয়েত ও নেপালকে নিয়ে গঠিত কোর গ্রুপের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটির খসড়া উপস্থাপন করা হয়। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনায় জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন প্রস্তাবটির পেন হোল্ডার হিসেবে কাজ করে। চলতি বছরের আগস্টে কোর গ্রুপের পক্ষে প্রথমবারের মতো প্রস্তাবটি মানবাধিকার পরিষদের প্রাক-অধিবেশন সভায় উপস্থাপন করা হয়। এরপর বাংলাদেশ কোর গ্রুপের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ চালায়। এসব আলোচনার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রস্তাব তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রস্তাবটিতে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমাজ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে এআইয়ের উন্নয়ন ও ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মানবিক মর্যাদা এবং মানুষের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাকে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বিবেচনায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রস্তাবে উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর কার্যকর অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো যেন এআইসহ উদীয়মান প্রযুক্তির সুফল থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, কারিগরি সহায়তা, জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময় এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে বাংলাদেশের নেতৃত্বে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হওয়াকে বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি উদীয়মান বৈশ্বিক ইস্যুতে আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণী আলোচনায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টিও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।