ব্যাংকিং খাতে ‘আস্থা বাড়ানোকে’ প্রধান কাজ ধরে নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গুরু দায়িত্ব শুরু করতে চান নবাগত গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। একই সঙ্গে সুদের হার কমিয়ে আনার চেষ্টাও তার অগ্রাধিকারে থাকবে বলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন দায়িত্ব পাওয়া এই উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী।
পোশাক খাতের ব্যবসায়ী মোস্তাকুরকে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) নতুন গভর্নরের দায়িত্ব দিয়েছে তারেক রহমানের সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গভর্নর হওয়া আহসান এইচ মনসুরের স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি।
গভর্নর হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ে নিজের ভাবনা প্রকাশ করে মোস্তাকুর রহমান বলেন, অর্থনীতির অবস্থা, ব্যাংকিং খাতের অবস্থা। তাই এই সময়টায় এই দায়িত্ব নিয়ে কাজ করাতে ‘একটা চ্যালেঞ্জ আছে’।
তিনি আরও বলেন, ইনশাল্লাহ, আগে ব্যাংকে বসি। সবার সাথে আলোচনা করি। আশা করি সবার সহযোগিতা নিয়ে প্রধান কাজটা হবে, আগে ‘ট্রাস্ট বিল্ডিং’ ব্যাংকিং খাতে। শৃঙ্খলা আরও ফিরিয়ে নিয়ে আসা। নিশ্চয়ই আগের গভর্নর (আহসান এইচ মনসুর) অনেকখানি নিয়ে আসছে, আরও নিয়ে আসা।
তার ভাষ্য, আরেকটা হচ্ছে আমাদের যেটা প্রধান থাকবে যে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য করে আমাদের অর্থনীতিকে যতটুকু রান করা যায়। যে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে আসছে, তাই না? তো, এর জন্য চেষ্টা করা, সুদের হারকে কমিয়ে নিয়ে আসা। এই কাজগুলো করা।
নতুন গভর্নর হিসেবে তার করণীয় বিষয়ে জানতে চাইলে মোস্তাকুর রহমান বলেন, আমাদের আগে কাজ করতে হবে। মানে আমরা কথা বলে ফেললাম, কাজ করতে পারলাম না–এ রকম যাতে না হয়। আগে কাজ করি, সবার সহযোগিতা চাই।
বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রথম কোনো পোশাক খাতের ব্যবসায়ী গভর্নর মোস্তাকুর রহমান একসময় পুঁজিবাজারের ব্রোকারেজ হাউস এবং আবাসন ব্যবসায়ও যুক্ত ছিলেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ ও আমলার বাইরে এই প্রথম একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নরের দায়িত্ব দেওয়া হলো, যা এ খাত-সংশ্লিষ্ট অনেককে বিস্মিত করেছে।
চার বছর মেয়াদে তাকে গভর্নরের দায়িত্ব দিয়ে বুধবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ১৪ অগাস্ট অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব দেয়। তার নেতৃত্বে শুরু হয় ব্যাংক খাতের সংস্কারের কাজ।
দেড় বছরের মাথায় তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বুধবার আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। সেখানে তার নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করার কথা বলা হয়েছে।
নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান হেরা সোয়েটার গার্মেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাকাউন্টিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষে ১৯৯১ সালে ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) থেকে তিনি এফসিএমএ করেন মোস্তাকুর। ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি করপোরেট ফিন্যান্স, রপ্তানি, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছেন।
১৯৬৬ সালে ঢাকায় তার জন্ম; বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নে। তার বড় ভাই মো. মোস্তাফিজুর রহমান মামুন ছিলেন থানা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি।
সূত্র : বিডি নিউজ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
দেশের রপ্তানি আয় বাড়ানোর জন্য এর বিপরীতে সরকার যে প্রণোদনা দিয়ে থাকে তাতে উৎসে কর কমানো হলেও এখন সাড়ে ২৭ শতাংশ করের ঝুঁকির মুখে পড়েছেন রপ্তানিকারকরা। নতুন অর্থবছরের বাজেটে আয়কর আইনে ন্যূনতম করের বিধান থেকে বেরিয়ে আসার প্রস্তাব আসায় এ ধরনের করের বোঝা চাপার ঝুঁকিতে পড়েছেন তারা। গেল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থবিল ২০২৬ এ আয়কর আইনের ১৬৩ ধারায় সংশোধনী আনার প্রস্তাব করা হয়েছে, এটি গৃহীত হলে ন্যূনতম করের ধারাটি উঠে যাবে। এর ফলে সঞ্চয়পত্র থেকে শুরু করে রপ্তানি পণ্যের প্রণোদনা পর্যন্ত সব আয়ই, মোট আয় হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয় ও প্রথম করের ধাপ ১০ শতাংশ হওয়ায় সীমিত আয়ের মানুষ কিছুটা সুফল পাবেন, কিন্তু রপ্তানি প্রণোদনায় এমন কোনো করহার বা ধাপ না থাকায় পুরো আয়ের ওপরই রপ্তানিকারককে সাড়ে ২৭ শতাংশ কর দিতে হবে। বর্তমানে রপ্তানি খাতের প্রণোদনায় উৎসে কর একজন করদাতার ন্যূনতম কর হিসেবে চূড়ান্ত কর বা করদায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আইন অনুযায়ী, রপ্তানি প্রণোদনার বিপরীতে ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে রাখার বিধান রয়েছে; এটি কাটার পর করদাতাকে এর জন্য আর কর দিতে হতো না। এটিই আইনের ভাষায় ন্যূনতম কর হিসেবে চূড়ান্ত কর বা করদায়। আগামী করবর্ষের জন্য উৎসে কর নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ শতাংশ। অর্ধেক কমে যাওয়ার বিষয়টি দৃশ্যমান হলেও আয়করের নতুন বিধান অনুযায়ী উৎসে কর অগ্রিম আয়কর হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ রপ্তানিকারকের প্রণোদনা আয়ের ওপর যে পরিমাণ কর প্রযোজ্য তার থেকে ৫ শতাংশ বাদ দেওয়ার পরে বাকি কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে যাচ্ছে। আয়কর আইন অনুযায়ী, এটি রপ্তানি আয় নয় বরং রপ্তানির জন্য প্রাপ্ত প্রণোদনা থেকে আসা আয়; যেখানে সাধারণ আয়ের হিসাবে সাড়ে ২৭ শতাংশ করপোরেট করহার প্রযোজ্য হয়ে থাকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বর্তমানে একজন রপ্তানিকারক রপ্তানি আয়ের বিপরীতে এক কোটি টাকা প্রণোদনা পেলে সেখানে ১০ লাখ টাকা উৎসে কর ছিল, অর্থাৎ ১০ শতাংশ কর প্রযোজ্য। এটিই তার ন্যূনতম কর। নতুন বিধান হলে, এক কোটি টাকার রপ্তানি প্রণোদনার বিপরীতে উৎসে কেটে রাখ ৫ লাখ টাকা হবে অগ্রিম আয়কর; বাকি সাড়ে ২২ লাখ টাকা দিতে হবে বাড়তি কর। অর্থাৎ তার ওপর সাড়ে ২৭ শতাংশ করভার পড়ল। এ বিষয়ে এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস এর পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম বলেন, “দেখুন, এমনিতেই গার্মেন্টসের অবস্থা খারাপ। অনেকদিন টানা কমে যাচ্ছে রপ্তানি। এরমধ্যে রপ্তানিকারকদের এই মুহূর্তে দাবি ছিল উৎসে করটা কমিয়ে দেওয়া। তো উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ করা হয়েছে, এটা ঠিক আছে। কিন্তু দিনশেষে আপনি যখন চূড়ান্ত কর থেকে বেরিয়ে এসেছেন, এটাকে ‘স্ট্যান্ডার্ড রেটে’ নিয়ে আসবেন, তখন তাদের ওপরও বোঝাটা থাকবেই। অর্থাৎ আপনি রপ্তানির জন্য একটা প্রণোদনা পাচ্ছেন, তার ওপরে এখন সাড়ে ২৭ শতাংশ কর দিতে হবে। সাড়ে ২৭ শতাংশ কেন কর হবে, এ প্রশ্নে কর নীতির এই বিশ্লেষক বলেন, “রপ্তানিকারকদের খাত হিসেবে বলা হয়েছে তাদের রপ্তানি আয়ের ওপরে ১০ শতাংশ বা ১২ শতাংশ করপোরেট কর। যেহেতু সেটা রপ্তানি আয়। কিন্তু এটা তো আসলে রপ্তানি আয় না। এটা কর প্রণোদনা। আয়কর আইন অনুযায়ী এটার ওপর ‘স্ট্যান্ডার্ট রেটে’ কর হবে। সুতরাং এটার প্রভাব কিন্তু অনেক। প্রভাব অনেক বেশি হয়ে যাবে। ন্যূনতম করের ‘রেজিম’ থেকে বেরিয়ে আসার দাবি থাকলেও কোনো খাত বা ব্যক্তিকে এর থেকে বের করে আনার আগে ফল কী হবে তা খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করেন স্নেহাশীষ বড়ুয়া। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এটা উচিত ছিল- এটার ‘ইমপেক্ট স্টাডি’ করা। ওই শিল্পের লোকজনের সাথে আলোচনা করা যে এটা তাদের শিল্পকে কী পরিমাণ ‘এফেক্ট’ করবে। একই সঙ্গে এ সিদ্ধান্ত চলতি অর্থবছরের আয়ের ওপর করায় রপ্তানিকারকদের ওপর ‘রেট্রোস্পেক্টিভ’ প্রভাব পড়বে বলেও তিনি তুলে ধরেন। এই বিশ্লেষক বলেন, যারা বছরান্তে হিসাব করে থাকে তারা ২০২৫ এর শেষেই তাদের প্রথম ছয়মাসের হিসাব-নিকাশ শেষ করে ফেলেছে; আর যারা জুনে তাদের ব্যবসার হিসাব করে, তাদের হাতে রয়েছে আর মাত্র পনের দিন। এ সময় সরকারের এ সিদ্ধান্ত তাদের ওপর নেতিবাচক চাপ তৈরি করবে।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ থেকে কোনো প্রকৃত মালিককে অন্যায়ভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়ে থাকলে তাদের পুনরায় মালিকানায় ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভালো ট্র্যাক রেকর্ড থাকতে হবে। কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতা থাকতে হবে ব্যাংকের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতায়। বুধবার (১৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। আবদুল হাই সরকার বলেন, ব্যাংককে সচল ও শক্তিশালী করা আমাদের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজনে যোগ্য ও অভিজ্ঞ পুরোনো মালিকদের আবারও দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী এসব আইন নতুন করে পর্যালোচনা করা উচিত। অতীতের কারও অপরাধের দায় ভবিষ্যতের সৎ ও যোগ্য উদ্যোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। তার মতে, নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে ক্ষমতার প্রভাবে ব্যাংক থেকে অর্থ বের করে নেওয়া স্বাভাবিক ব্যাংকিং প্রক্রিয়া নয়। এভাবে অর্থ বের করা এক ধরনের লুটপাট। লুটপাটের ফলে একটি সুস্থ ও শক্তিশালী ব্যাংক ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি। বিএবি চেয়ারম্যান বলেন, উদ্যোক্তাদের মধ্যে যাদের একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সক্ষমতা রয়েছে, তাদের ওপর অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা যাবে না। এর ফলে বাধাগ্রস্ত হতে পারে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি সম্প্রসারণ। তার দাবি, দেশের ব্যাংকিং খাতের কিছু আইন ও বিধান ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। অতীতের কিছু অনিয়ম ও অপরাধের কারণে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের সুযোগ সীমিত করে দেওয়া উচিত নয় বলে মনে করেন আবদুল হাই সরকার। বর্তমান বাস্তবতায় ব্যাংকি-সংক্রান্ত কিছু আইন পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন আছে বলে জানান তিনি। এদিকে আজ ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের প্রধান কার্যালয়ে ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি মো. আলতাফ হুসাইনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত (চেয়ারম্যান চলতি দায়িত্ব) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন। এতে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত এমডি পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদার ও ড. এম কামাল উদ্দীন জসিম।
দেশে ‘স্টুডেন্ট ব্যাংকিং’ বা শিক্ষার্থী ব্যাংক হিসাব দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রান্তিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা প্রায় ৬২ লাখ ৭৩ হাজারে পৌঁছেছে এবং মোট আমানত দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। এ খাতে হিসাব খোলা ও আমানতের দিক থেকে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, আর দ্বিতীয় অবস্থানে ডাচ্–বাংলা ব্যাংক। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ৫৯টি ব্যাংক বর্তমানে শিক্ষার্থী ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। গত এক বছরে শিক্ষার্থী হিসাব প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, একই সঙ্গে আমানতও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। শীর্ষ পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক, ডাচ্–বাংলা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংক। এসব ব্যাংকের মাধ্যমেই মোট শিক্ষার্থী হিসাবের প্রায় ৬১ শতাংশ পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি শিক্ষার্থী ব্যাংক হিসাব খোলার বয়সসীমা ২৫ বছরে উন্নীত করেছে এবং প্রতিটি ব্যাংক শাখাকে অন্তত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। এতে নতুন হিসাব খোলার হার আরও বেড়েছে। বর্তমানে শহর এলাকায় ৫৬ শতাংশ এবং গ্রাম এলাকায় ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী হিসাব খোলা হয়েছে। পাশাপাশি ছেলেদের অংশগ্রহণ কিছুটা বেশি, মোট হিসাবের ৫৩ শতাংশ ছেলেদের এবং ৪৭ শতাংশ মেয়েদের নামে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃত্তি গ্রহণ, সঞ্চয়ের অভ্যাস গঠন এবং ব্যাংকিং সুবিধা সহজলভ্য হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাংক হিসাব খোলার প্রবণতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।