সৃষ্টির সূচনা থেকেই ইসলামে জাকাতের বিধান প্রচলিত ছিল। কারণ মহান রাব্বুল আলামিন যখন পৃথিবীকে বসবাসের উপযোগী হিসেবে তৈরি করেন, ঠিক সেই থেকে দুনিয়াতে ধনী ও দরিদ্র এ দুই শ্রেণির মানুষ বসবাস করে আসছে। আজ আলোচনা করবে যেসব জিনিসের ওপর জাকাত আসে।
যেসব জিনিসের ওপর জাকাত ফরজ হয়
১. ব্যবসার নিয়তে কোনো কিছু ক্রয় করলে তা স্থাবর সম্পত্তি হোক যেমন জমি-জমা, ফ্ল্যাট কিংবা অস্থাবর যেমন মুদি সামগ্রী, কাপড়-চোপড়, অলংকার, নির্মাণ সামগ্রী, গাড়ি, ফার্নিচার, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী, হার্ডওয়ার সামগ্রী, বইপুস্তক ইত্যাদি, তা বাণিজ্য-দ্রব্য বলে গণ্য হবে এবং মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে জাকাত দেয়া ফরয হবে। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭১০৩,৭১০৪
২.সব ধরনের সম্পদ ও সামগ্রীর ওপর জাকাত ফরয হয় না। শুধু সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা, পালিত পশু (নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী) এবং ব্যবসার পণ্যে জাকাত ফরজ হয়।
৩. সোনা-রুপার অলংকার সর্বদা বা কালেভদ্রে ব্যবহৃত হোক কিংবা একেবারেই ব্যবহার না করা হোক সর্বাবস্থাতেই তার জাকাত দিতে হবে। সুনানে আবু দাউদ ১/২৫৫; সুনানে নাসায়ী হাদীস ২২৫৮; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৫৪-৭০৬১,৭০৬৩-৭০৬৫; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদিস ৯৯৭৪;৬/৪৬৯-৪৭১
৪. অলংকার ছাড়া সোনা-রুপার অন্যান্য সামগ্রীর ওপরও জাকাত ফরজ হয়। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদিস ৭০৬১; ৭০৬৬; ৭১০২)
৫. জামা-কাপড় কিংবা অন্য কোনো সামগ্রীতে সোনা-রুপার কারুকাজ করা থাকলে তাও জাকাতের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং যে পরিমাণ সোনা-রুপা কারুকাজে লেগেছে অন্যান্য জাকাতযোগ্য সম্পদের সঙ্গে তারও জাকাত দিতে হবে। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক হাদিস ৭০৬৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদিস ১০৬৪৮,১০৬৪৯,১০৬৫১)
সোনা-রুপা ছাড়া অন্য কোনো ধাতুর অলংকার ইত্যাদির ওপর জাকাত ফরয নয়। তদ্রূপ হিরা, মণি-মুক্তা ইত্যাদি মূল্যবান পাথর ব্যবসাপণ্য না হলে সেগুলোতেও জাকাত ফরয নয়।-কিতাবুল আছার মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৬১-৭০৬৪; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৪৪৭-৪৪৮
৬. মৌলিক প্রয়োজন থেকে উদ্ধৃত্ত টাকা-পয়সা নিসাব পরিমাণ হলে এবং এক বছর স্থায়ী হলে বছর শেষে তার জাকাত আদায় করা ফরয হয়।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৯১,৭০৯২
তদ্রূপ ব্যাংক ব্যালেন্স, ফিক্সড ডিপোজিট, বন্ড, সার্টিফিকেট ইত্যাদিও নগদ টাকা-পয়সার মতোই। এসবের ওপরও জাকাত ফরজ হয়।
৭. টাকা-পয়সা ব্যবসায় না খাটিয়ে এমনি রেখে দিলেও তাতে জাকাত ফরজ হয়। -আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৭; রদ্দুল মুহতার ২/২৬২,৩০০
৮. হজের উদ্দেশ্যে কিংবা ঘর-বাড়ি নির্মাণ, ছেলে-মেয়ের বিয়ে-শাদি ইত্যাদি প্রয়োজনের জন্য যে অর্থ সঞ্চয় করা হচ্ছে তা-ও এর ব্যতিক্রম নয়। সঞ্চিত অর্থ পৃথকভাবে কিংবা অন্যান্য জাকাতযোগ্য সম্পদের সাথে যুক্ত হয়ে নিসাব পরিমাণ হলে এবং নিসাবের ওপর এক বছর অতিবাহিত হলে জাকাত ফরজ হবে। বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তা যদি খরচ হয়ে যায় তাহলে জাকাত ফরয হবে না।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৩২; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০৩২৫
৯. দোকান-পাটে যা কিছু বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা থাকে তা বাণিজ্য-দ্রব্য। এর মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে জাকাত আদায় করা ফরয। -সুনানে আবু দাউদ ১/২১৮; সুনানে কুবরা বায়হাকী ৪/১৫৭; মুয়াত্তা ইমাম মালেক পৃ ১০৮; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক হাদীস ৭১০৩,৭১০৪; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১০৫৫৭, ১০৫৬০, ১০৫৬৩
নিসাবের বিবরণ
১১. স্বর্ণের ক্ষেত্রে জাকাতের নিসাব হলো ২০ মিসকাল। -সুনানে আবু দাউদ ১/২২১; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদিস ৭০৭৭, ৭০৮২
আধুনিক হিসাবে সাড়ে সাত ভরি
১২. রুপার ক্ষেত্রে নিসাব হলো দু’শ দিরহাম। -সহিহ বুখারি, হাদিস ১৪৪৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯৭৯
আধুনিক হিসাবে সাড়ে বায়ান্ন তোলা। এ পরিমাণ সোনা-রুপা থাকলে জাকাত দিতে হবে।
১৩. প্রয়োজনের উদ্ধৃত্ত টাকা-পয়সা বা বাণিজ্য-দ্রব্যের মূল্য যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমপরিমাণ হয় তাহলে জাকাতের নিসাব পূর্ণ হয়েছে ধরা হবে এবং এর জাকাত দিতে হবে।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৬৭৯৭,৬৮৫১; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৯৯৩৭
১৪. যদি সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা কিংবা বাণিজ্য-দ্রব্য- এগুলোর কোনোটি পৃথকভাবে নিসাব পরিমাণ না থাকে, কিন্তু এসবের একাধিক সামগ্রী এ পরিমাণ রয়েছে, যা একত্র করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয় তাহলে এক্ষেত্রে সব সম্পদ হিসাব করে জাকাত দিতে হবে।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৬৬,৭০৮১; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৩৯৩ কিছু দৃষ্টান্ত ক) কারো কাছে নিসাবের কম সোনা এবং নিসাবের কম রুপা আছে, কিন্তু যে পরিমাণ সোনা আছে তার মূল্য মজুদ রুপার সাথে যোগ করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য হয় বা তার চেয়ে বেশি হয়। তাহলে সোনা-রুপার মূল্য হিসাব করে জাকাত আদায় করতে হবে। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ৯৯৭৯,১০৬৪৯; রদ্দুল মুহতার ২/৩০৩
খ. কারো কাছে কিছু স্বর্ণালংকার আর কিছু উদ্বৃত্ত টাকা কিংবা বাণিজ্যদ্রব্য আছে যা একত্র করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয়। এর জাকাত দিতে হবে। -রদ্দুল মুহতার ২/৩০৩
গ. কারো কাছে নিসাবের কম রুপা আর কিছু উদ্বৃত্ত টাকা বা বাণিজ্যদ্রব্য আছে যা একত্র করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয়। এরও জাকাত দিতে হবে। -আদ্দুররুল মুখতার ২/৩০৩
১৫. নিসাবের অতিরিক্ত সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা ও বাণিজ্যদ্রব্যের জাকাত আনুপাতিক হারে দিতে হবে। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদিস ৭০৩২, ৭০৭৪, ৭০৭৫, ৭০৭৯, ৭০৮০; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৩৯০; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৯৯
১৬. কারো কাছে সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা কিংবা বাণিজ্যদ্রব্য পৃথকভাবে বা সম্মিলিতভাবে নিসাব পরিমাণ ছিল, বছরের মাঝে এ জাতীয় আরও কিছু সম্পদ কোনো সূত্রে পাওয়া গেল এক্ষেত্রে নতুন প্রাপ্ত সম্পদ পুরাতন সম্পদের সঙ্গে যোগ হবে এবং পুরাতন সম্পদের বছর পূর্ণ হওয়ার পর সমুদয় সম্পদের জাকাত দিতে হবে। বছরের মাঝে যা যোগ হয়েছে তার জন্য পৃথক বছর পূর্ণ হওয়া লাগবে না।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদিস ৬৮৭২,৭০৪০,৭০৪৪; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১০৩২৫,১০৩২৭
১৭. বছরের শুরু ও শেষে নিসাব পূর্ণ থাকলে জাকাত আদায় করতে হবে। মাঝে নিসাব কমে যাওয়া ধর্তব্য নয়। অবশ্য বছরের মাঝে সম্পূর্ণ সম্পদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় তবে ওই সময় থেকে নতুন করে বছরের হিসাব আরম্ভ হবে এবং এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর জাকাত আদায় করতে হবে। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৪২,৭০৪৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩০২
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মাস্টারকার্ড ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় দৈনন্দিন কেনাকাটায় ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারের প্রসার আরও ত্বরান্বিত করে ‘সাফারি স্পিরিট’ শীর্ষক উইন্টার ‘স্পেন্ড অ্যান্ড উইন’ ক্যাম্পেইন ২০২৫-২৬-এর বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে। ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলা এই ক্যাম্পেইনে সারা দেশ থেকে মাস্টারকার্ড ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডহোল্ডারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। গ্র্যান্ড প্রাইজ বিজয়ী ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মাস্টারকার্ড ক্রেডিট কার্ডহোল্ডার চান মিয়া পেয়েছেন ঢাকা থেকে যাওয়া-আসার এয়ারফেয়ারসহ কেনিয়ায় ৪ দিন ৩ রাতের একটি কাপল ট্রিপ এবং প্রিমিয়াম সাফারি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ। গ্র্যান্ড প্রাইজের পাশাপাশি অন্যান্য পুরস্কারের মধ্যে ছিল থাইল্যান্ড ও কক্সবাজারে কাপল ট্রিপ। এসব ভ্রমণ অভিজ্ঞতার পাশাপাশি, অন্যান্য বিজয়ীরা হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও গ্যাজেট ভাউচার, কাপল ডাইনিং এবং শপিং ভাউচারসহ বিভিন্ন লাইফস্টাইল পুরস্কার উপভোগ করেছেন। ‘সাফারি স্পিরিট’ ক্যাম্পেইনের আওতায় মাস্টারকার্ড কার্ডহোল্ডাররা অংশগ্রহণের সুযোগ পান রিটেইল লেনদেন সম্পন্ন করার মাধ্যমে। দেশে লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতিটির ন্যূনতম মূল্য ছিল ১,০০০ টাকা এবং দেশের বাইরে লেনদেনের ক্ষেত্রে ২৫ মার্কিন ডলার। এসব লেনদেন সম্পন্ন করতে হয়েছে পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) অথবা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে মাস্টারকার্ড ব্যবহার করে। নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী এসব যোগ্য লেনদেন থেকে অর্জিত মোট পয়েন্টের ভিত্তিতে বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়, যা একটি স্বাধীনভাবে অডিটকৃত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে, যাতে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যায়। এ প্রসঙ্গে মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, “বাংলাদেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ক্রমেই দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। এ ধরনের উদ্যোগ নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ডিজিটাল লেনদেনে গ্রাহকদের আস্থা আরও জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দৈনন্দিন কেনাকাটার সঙ্গে আকর্ষণীয় পুরস্কারের সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব ক্যাম্পেইন নগদবিহীন লেনদেনে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবাখাতে পারস্পরিক সহযোগিতার মূল্যবোধকে আরও দৃঢ় করে।”
সময়ের আবর্তন মানবসভ্যতার এক অনিবার্য বাস্তবতা, কিন্তু সেই সময়কে মানুষ কীভাবে ব্যাখ্যা করে সেখানেই গড়ে ওঠে তার বিশ্বাস, তার সংস্কৃতি এবং তার পরিচয়। পহেলা বৈশাখ আজ বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক বিস্তৃত উপস্থিতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তবে এর গভীরে প্রবেশ করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে এটি কেবল একটি দিন নয়, এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং বিশ্বাসের সংযোগস্থল, যেখানে একজন মুসলমানের অবস্থান নির্ধারণ সহজ নয়, কিন্তু অস্পষ্টও নয়। বাংলা সনের সূচনা হয়েছিল কোনো ধর্মীয় অনুষঙ্গ থেকে নয়, বরং প্রশাসনিক প্রয়োজন থেকে। মুঘল সম্রাট আকবর তার সাম্রাজ্যের করব্যবস্থাকে কৃষি মৌসুমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে একটি নতুন পঞ্জিকার প্রবর্তন করেন। হিজরি সনের সঙ্গে সৌরবর্ষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই ফসলি সন ধীরে ধীরে বাংলা সনে রূপান্তরিত হয়। এর জন্ম ছিল অর্থনৈতিক বাস্তবতায়, কিন্তু এর পরিণতি হয়েছে সাংস্কৃতিক বিস্তারে। কালের প্রবাহে এই দিনটি শুধু হিসাবের খাতা খোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা রূপ নিয়েছে এক সামষ্টিক উৎসবে। মেলা, শোভাযাত্রা, সংগীত, এবং নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে এটি আজ এমন এক পরিচয়ে পৌঁছেছে, যেখানে সংস্কৃতি ও উৎসব একাকার হয়ে গেছে। কিন্তু এখানেই একজন মুসলমানের জন্য প্রশ্নটি গভীর হয়ে ওঠে সংস্কৃতি কি বিশ্বাসের সীমারেখা অতিক্রম করতে পারে? ইসলাম এই প্রশ্নের উত্তর দেয় সুস্পষ্ট নীতির মাধ্যমে। সময়কে ইসলাম মর্যাদা দিয়েছে, কিন্তু তাকে উৎসবের রূপ দেয়নি। পবিত্র কুরআন সময়কে জবাবদিহিতার মানদণ্ড হিসেবে উপস্থাপন করে, আনন্দোৎসবের নয়। ইসলামে নির্ধারিত উৎসব কেবল দুটি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা যেগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত, মানুষের উদ্ভাবিত নয়। এই নীতিকে আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ মুহাম্মদ সা., যিনি মদিনায় এসে স্থানীয় উৎসবগুলোকে বাতিল করে মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত দুই ঈদের দিকনির্দেশনা দেন। তার বাণীতে উচ্চারিত হয়েছে এক মৌলিক সত্য যে ব্যক্তি কোনো জাতির অনুকরণ করে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত। এই হাদিস কেবল বাহ্যিক অনুকরণের বিরুদ্ধে সতর্কতা নয়, এটি পরিচয় ও বিশ্বাসের সুরক্ষার এক মৌলিক নীতিও। ইসলামী ফিকহের ধারাবাহিকতায় ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ী এবং ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল সকলেই দ্বীনের মধ্যে নতুন উৎসব সংযোজন এবং অমুসলিমদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের অনুসরণ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। পরবর্তীতে ইবনে তাইমিয়্যাহ তার বিশ্লেষণে দেখিয়েছেন, উৎসব কেবল আনন্দের বহিঃপ্রকাশ নয়, এটি একটি জাতির বিশ্বাস, দৃষ্টিভঙ্গি ও পরিচয়ের প্রতিফলন। তাই অন্যের উৎসব গ্রহণ করা মানে ধীরে ধীরে সেই পরিচয়ের প্রভাবকে নিজের ভেতরে প্রবেশ করানো। এই প্রেক্ষাপটে বাংলা নববর্ষের প্রশ্নটি আর কেবল সাংস্কৃতিক থাকে না, এটি আকিদার পরিসরে প্রবেশ করে। কারণ কোনো উৎসব যখন নিয়মিত আচার, প্রতীক, এবং সামষ্টিক উদযাপনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তা নিছক সময়চিহ্ন থাকে না, এটি এক ধরনের পরিচয়ের বহিঃপ্রকাশে পরিণত হয়। ইসলামের অবস্থান এখানে দ্ব্যর্থহীন বিধর্মীদের ধর্মীয় উৎসব ও অনুকরণ মুসলমানের জন্য অনুমোদিত নয়। কারণ ইসলাম তার অনুসারীদের জন্য একটি স্বতন্ত্র জীবনব্যবস্থা নির্ধারণ করেছে, যেখানে বিশ্বাস, আচরণ ও উৎসব সবকিছুই আল্লাহর নির্দেশনার আলোকে পরিচালিত হয়। এই স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করা শুধু একটি বিধান নয়, এটি ঈমানেরই অংশ। তবু বাস্তবতার একটি স্তর রয়েছে, যেখানে মানুষ সংস্কৃতির অংশ হিসেবে অনেক কিছুতে যুক্ত থাকে। এই বাস্তবতার মাঝেও একজন সচেতন মুসলমানের দায়িত্ব হলো নিজেকে প্রশ্ন করা সে কি কেবল একটি ঐতিহাসিক ক্যালেন্ডারের পরিবর্তনকে স্বীকার করছে, নাকি এমন এক উৎসবের অংশ হয়ে যাচ্ছে, যার ভেতরে অন্য বিশ্বাসের ছাপ ও ইসলামের সীমালঙ্ঘন নিহিত? ইসলামের দৃষ্টিতে যেসব উৎসব-আয়োজন ও খেলাধুলার মাধ্যমে মানুষের জীবন-সম্ভ্রমের নিরাপত্তাঝুঁকি, নামাজ-ইবাদতের জন্য প্রতিবন্ধক, বিধর্মীদের অনুসরণ, সময় ও অর্থের অপচয়, জুয়া-লটারি, রং খেলা, উদ্দামনৃত্য-গীত, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, উল্কি আঁকা, অবৈধপণ্যের বিপণন ইত্যাদির বাহুল্য থাকে, তা একজন ঈমানদারের জন্য অশোভন। কেননা শরীর ও মনের বিকাশে যেসব কাজকর্মের ফলে ফরজ লঙ্ঘন অথবা হারামের অনুষঙ্গ তৈরি হয়, সে সব কিছুই ইসলামের দৃষ্টিতে কবিরা গুনাহ। একটি কবিরা গুনাহ জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়ার যৌক্তিকতা হিসেবে যথেষ্ট। কবিরা গুনাহ তাওবা ছাড়া মাফ হয় না। বাংলা নববর্ষ তাই কেবল একটি দিন নয়, এটি একটি আয়না, যেখানে একজন মুসলমান তার অবস্থান, তার পরিচয় এবং তার দায়বদ্ধতাকে দেখতে পারে। এটি আনন্দের নয়, বরং সচেতনতার আহ্বান যেখানে সংস্কৃতিকে বুঝে গ্রহণ করতে হয়, কিন্তু বিশ্বাসকে কখনো আপস করা যায় না। পরিশেষে ইসলাম মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়, সময় কোনো উৎসব নয়, এটি একটি আমানত। আর এই আমানতের প্রতি দায়িত্বশীল থাকাই একজন মুমিনের প্রকৃত পরিচয়। লেখক: শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো, মিশর
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দিনের শুরুতে লেনদেনে প্রবেশ করতেই মূল্যবান এ ধাতুর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টা ২৩ মিনিটে (ইস্টার্ন টাইম) এবং গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ১টা ২৩ মিনিটে স্পট গোল্ডের মূল্য ০.৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭২৮ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে আসে। এটি গত ৭ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন স্তর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এদিকে, জুন ডেলিভারির জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচার বাজারে দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৫২ দশমিক ২০ ডলারে লেনদেন হয়। বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী সংঘাতের পর স্বর্ণের দামে ১০ শতাংশেরও বেশি পতন ঘটেছে। সাধারণভাবে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বা মুদ্রাস্ফীতির সময় স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে উচ্চ সুদের হার এ বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে, কারণ স্বর্ণ কোনো ধরনের সুদ প্রদান করে না। এছাড়া মার্কিন ডলারের মানও প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। ফলে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের বাজারে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।