বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মসজিদ কোন দেশে? সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, উত্তরটা সহজ ও অনুমেয়। কিন্তু সাম্প্রতিক তথ্য ও পরিসংখ্যান বলছে, বাস্তব চিত্র আরও বিস্ময়কর। ২০২৫–২৬ সালের বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মসজিদের সংখ্যায় বিশ্বে এক নম্বরে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া।
মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়। মুসলিম সমাজে এটি ধর্মীয় শিক্ষা, সামাজিক মিলনমেলা, দান-খয়রাত, সম্প্রীতি ও সামষ্টিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। তাই কোন দেশে কত মসজিদ রয়েছে, তা সেই দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি।
মসজিদের সংখ্যায় শীর্ষ দেশগুলো
সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, মসজিদের সংখ্যায় বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটি অন্য সব দেশকে বহু ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেছে।
১. ইন্দোনেশিয়া : প্রায় ৮ লাখ মসজিদ
বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় আনুমানিক ৮ লাখ মসজিদ রয়েছে। শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম, সবখানেই মসজিদ রয়েছে। এসব মসজিদ শুধু ইবাদতের জায়গা নয়; শিক্ষা, সামাজিক অনুষ্ঠান ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০ কোটির বেশি মুসলিম জনসংখ্যা এবং ইসলামী সংস্কৃতির গভীর প্রভাবই এই বিপুল সংখ্যার প্রধান কারণ।
২. ভারত : প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ মসজিদ
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ না হলেও, মসজিদের সংখ্যায় ভারত বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি। দেশটিতে আনুমানিক ৩ থেকে ৪ লাখ মসজিদ রয়েছে। ২০ কোটির বেশি মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় চাহিদা মেটাতে ঐতিহাসিক মসজিদ থেকে শুরু করে মহল্লাভিত্তিক ছোট মসজিদ, সবই এখানে দেখা যায়।
৩. বাংলাদেশ : প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মসজিদ
দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বাংলাদেশেও রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মসজিদ। তুলনামূলক ছোট আয়তনের হলেও গ্রাম ও শহরজুড়ে ঘন মসজিদ নেটওয়ার্কের কারণে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম মসজিদসমৃদ্ধ দেশ বলা হয়।
ইসলামের দুই পবিত্রতম মসজিদ, মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর দেশ সৌদি আরবে আনুমানিক ৩ লাখ মসজিদ রয়েছে। পাড়া-মহল্লার ছোট মসজিদ থেকে শুরু করে বিশাল ও ঐতিহাসিক মসজিদ, সবই এই সংখ্যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
৫. পাকিস্তান : ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি মসজিদ
পাকিস্তানে মসজিদের সংখ্যা এক লাখ ১০ হাজারের বেশি বলে ধারণা করা হয়। দেশটির সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনে ইসলামের প্রভাব এই সংখ্যার মধ্যেই স্পষ্ট।
উল্লেখযোগ্য অন্যান্য দেশ
এই পরিসংখ্যানগুলোর মাধ্যমে বুঝা যায়, মসজিদ শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়; বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের প্রতিফলন।
মসজিদের হিসাব গণনা করা হয় যেভাবে
মসজিদের সংখ্যা গণনায় সাধারণত কয়েকটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়—
তবে দেশভেদে সংজ্ঞা ও গণনার পদ্ধতি ভিন্ন হওয়ায় সংখ্যায় কিছু তারতম্য দেখা যায়।
এসব দেশ এগিয়ে কেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব দেশে মসজিদ বেশি থাকার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় প্রধান ভূমিকা পালন করছে।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়, এমন দেশেও মসজিদের বৃদ্ধি
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর বাইরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপেও মসজিদের সংখ্যা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মসজিদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশে হাজার হাজার মসজিদ ও নামাজঘর মুসলিমদের ধর্মীয় ও সামাজিক চাহিদা পূরণ করছে।
হিসাবের চ্যালেঞ্জ
বিশ্বব্যাপী মসজিদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ সহজ নয়। অনেক মসজিদ অনিবন্ধিত, কোথাও নতুন মসজিদ তৈরি হচ্ছে, আবার কোথাও পুরোনো মসজিদ সংস্কার বা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই সংখ্যাগুলো আনুমানিক হলেও সামগ্রিক প্রবণতা স্পষ্ট।
সংক্ষেপে
বিশ্বজুড়ে মসজিদের বিস্তার শুধু পরিসংখ্যান নয়; এটি ঈমান, বিশ্বাস, ইতিহাস ও মানবিক সম্পর্কের এক জীবন্ত দলিল। জাকার্তা থেকে ঢাকা, কায়রো থেকে নিউইয়র্ক, সবখানেই মসজিদ আজও ব্যক্তিগত ইবাদত ও সামষ্টিক জীবনের মিলনস্থল হয়ে আছে।
সূত্র : হালাল টাইমস
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
দিনাজপুর জেলায় আম বাগানে সবুজ পাতার ফাঁকে আমের গুটি দৃশ্যমান হচ্ছে। জেলার সর্বত্র আম বাগানে মুকুল ও গুটির মৌ মৌ গন্ধ মুখরিত। আমের বাম্পার ফলন অর্জনের লক্ষে চাষীরা গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। দিনাজপুর হটিকালচার বিভাগের উপপরিচালক মো. এজামুল হক বাসস’কে বলেছেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ১০ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারের জেলায় বাম্পার আমের ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, এখন নতুন প্রজাতির আমের চারা সৃজন করে চাষীরা ফলন পূর্বের তুলনায় দ্বিগুণ পেতে শুরু করেছে। আমের চারা রোপণের এক বছরের মধ্যে ওই চারা গাছে আম ধরতে শুরু করেছে। ৫ বছর বয়সের চারা গাছে যে পরিমাণ আম ঝুলে রয়েছে, চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। ফল নিয়ে গবেষণায় দেশের কৃষি বিশেষজ্ঞরা উন্নত ফলনশীল আমের প্রজাতি সৃষ্টি করেছে। দিনাজপুরে এসব নতুন প্রজাতির আম গাছে গত কয়েক বছর থেকে বিপুল পরিমাণ আমের ফলন হচ্ছে। নতুন প্রজাতির আম খেতে খুবই সুস্বাদু ও মিষ্টি। ফলে এসব আমের চাহিদা দিনাজপুরসহ সারা দেশেই ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তিনি বলেন, গত বছর দিনাজপুর জেলায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছিল। ফলন হয়েছিল প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ মেট্রিক টন। এই জেলার বাড়ির চারপাশে এবং পরিত্যক্ত জায়গাতে আমের গাছ গুলোতে ব্যাপকহারে আমের ফলন হচ্ছে। সব মিলিয়ে জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত, দিনাজপুর জেলায় আমের বাগান ও সর্বত্রই মুখরিতে থাকে পাকা আমের সরবরাহে। চলতি বছর জেলায় গত বছরের তুলনায় ৮৭৫ হেক্টর জমিতে আমের চাষ বেশি হয়ে মোট ১০ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন প্রজাতির আম কাটিমন, ব্যানানা ম্যাংগো, বারি-১,বারি ২,বারি-৩ ও বারি-৪, ব্যাপকহারে চাষ করা হয়েছে। এসব প্রজাতির আমের বাগানে মৌসুমের শুরুতেই ব্যাপকহারে মুকুল ছেয়ে গেছে। অনেক গাছে আমের গুটি এসে গেছে। এখন চাষীরা তাদের আম গাছের ফল ধরে রাখতে পরিচর্যাসহ বিভিন্ন ধরনের ভিটামিনের স্প্রে করছেন। এছাড়া দেশি জাতের আম রুপালি, হাড়িভাঙ্গা, ছাতাপরা, গোপালভোগ, মিশ্রিভোগ, ফজলিসহ বিভিন্ন ধরনের আমের চাষ এই জেলাতে ব্যাপকহারে চাষ হয়েছে। তিনি জানান জেলা ১৩টি উপজেলাতেই এখন আম চাষের রমরমা অবস্থা। আমের ফলন যেমন ভালো হয়, তেমনি বাজারে চাহিদাও রয়েছে। এই জেলার আম দেশের সমগ্র এলাকাতেই মৌসুমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাইকাররা নিয়ে যায়। এখানের আম বাগান গুলো থেকে রাজধানী ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলার আম ব্যবসায়ীরা বাগান গুলো ২ থেকে ৩ বছর ধরে ফল ক্রয় করে নিচ্ছে। এখন বাগান ক্রয় করা পাইকাররা মৌসুমের শুরু থেকে আম বাগানে পানি সেচসহ ভিটামিন ওষুধ প্রয়োগ ও আম গাছে ফল ধরে রাখতে স্প্রে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। মুন্সীগঞ্জ থেকে দিনাজপুর সদরে কর্ণাই গ্রামে আম বাগানের ফল ক্রয় করে নিয়েছে পাইকার রহমত আলী ও শরিফুল ইসলাম। তাদের দু’জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর ৩ বছর মেয়াদি তারা দু’জন মিলে ৫টি আম বাগানের ফল আগাম ক্রয় করে নিয়েছে। তারা ৫টি আম বাগান ৩ বছর মেয়াদি ১৫ লক্ষ টাকা দিয়ে ফল ক্রয় করেছে। গত বছর ওই ৫টি বাগানে তাদের খরচ বাদে ১০ লক্ষ টাকা মুনাফা অর্জিত হয়েছে। আগামী দু’বছর তারা যে টাকা দিয়ে বাগান ক্রয় করেছে। তার দ্বিগুণ ৩০ লক্ষ টাকার আম বিক্রি করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বাগানের পরিচর্যা শুরু করেছেন। একইভাবে জেলার বিরল, সদর বোচাগঞ্জ, কাহারোল, বীরগঞ্জ, পার্বতীপুর, চিরিরবন্দর, ঘোড়াঘাট ও নবাবগঞ্জ এলাকার প্রায় দু’হাজার আম-বাগান বিভিন্ন জেলার পাইকাররা আগাম দু’তিন বছরের জন্য ফল ক্রয় করে নিয়েছেন। এখন এসব পাইকাররা তাদের ক্রয় করে নেয়া আম বাগান গুলোতে পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তারা সকলেই ভাল ফলনের জন্য সব ধরনের ভিটামিন ও স্প্রে প্রয়োগ করে বাগানের সফলতা অর্জনে সক্ষম হবে বলে আশা করছেন। জেলার ১৩টি উপজেলার বিভিন্ন আম বাগান ঘুরে দেখা গেছে, ফাল্গুনের শুরুতেই পরিবর্তন শুরু হয়েছে প্রকৃতির এবং চৈত্র মাসে গাছে আমের গুটি দৃশ্যমান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গাছের পুরোনো পাতা ঝরে বের হচ্ছে নতুন পাতা। আর সেই পাতার ফাঁকে বেরিয়ে আসছে আম, লিচু, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলের মুকুল। জেলার হাকিমপুর উপজেলার বাসুদেবপুর গ্রামের খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমার বাড়িতে একটা ফজলি ও একটি ন্যাংড়া জাতের আম গাছ আছে। গাছ দু’টির বয়স প্রায় ১২/১৩ বছর হবে। প্রতি বছর পর্যাপ্ত পরিমাণ আম ধরে। এবারও গাছ দু’টিতে প্রচুর মুকুল এসেছে। যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তাহলে অনেক আমের ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের আম চাষী মো. জিয়াব উদ্দিন বলেন, ‘আমার ৫ একর জমির ওপর ৩টি আম বাগান রয়েছে। বাগানে ফজলি, হিমসাগর, ল্যাংড়া, নাগ ফজলিসহ কয়েক জাতের আমের গাছ রয়েছে। বাগানের বয়স প্রায় ১৫/১৬ বছর, প্রতিটি গাছ কলম করা। তাই ছোট থেকেই আম ধরেছে। আশা করছি আবহাওয়া ভালো থাকলে এবারও আমের ভালো ফলন পাব।’ হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মোছা. আরজেনা বেগম জানান, চলতি বছর আমের মৌসুমে এবার এই উপজেলায় ৩২৭ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। বাগানের সংখ্যা ২৪৮টি। এছাড়াও উপজেলার প্রায় প্রতিটি বাড়িসহ বিভিন্নস্থানে আমের গাছ রয়েছে। প্রায় গাছে আমের মুকুল এসেছে। আমরা বাগান চাষীসহ বসত-বাড়িতে থাকা আম গাছ মালিকদের পরামর্শ দিয়ে আসছি। এছাড়াও গাছের যত্ন নেয়ার বিষয়ে সহযোগিতা করেছি। দিনাজপুর জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘জেলায় চলতি আমের মৌসুমে ১০ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে। আম চাষীদের যাতে আমের ভাল ফলন হয়, সেই জন্য কৃষি অধিদপ্তর থেকে তাদের বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আশা করছি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আম চাষীরা ভালো ফলন পাবেন। তিনি বলেন, গত বছর দিনাজপুর থেকে দেশের বাইরে বিদেশে বেশ কয়েকটি দেশে এই জেলার আম প্যাকেটিং পদ্ধতিতে রপ্তানি করা হয়েছে। এখনকার আম রপ্তানিতে বেশ ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে। আশা করছি চলতি বছরেও এই জেলার আম বিদেশে রপ্তানি করার ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।
গণভোটের রায় কার্যকর এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করবে ১১ দলীয় ঐক্য। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আজাদ। তিনি অভিযোগ করেন সরকারি দল সংসদ পরিচালনায় ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছে৷ বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার মতোই ফ্যাসিবাদী পথে হাটছে উল্লেখ করে এই নেতা জানান, জনস্বার্থ রক্ষায় রাজপথের আন্দোলন ছাড়া ১১ দলের আর কোন বিকল্প নেই৷ তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কার ই করতে হবে। সংবিধান সংশোধনের মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগের পথেই হাটছে সরকার। জনগণের রায় মূল্যায়ন না করলে, রাজপথে আন্দোলনের বিকল্প নেই।’ হামিদুর রহমান বলেন, ‘১১ দলের আজকের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে রাজপথের আন্দোলন ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই৷ শনিবার বিকেলে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে ১১ দল।’ এসময় তিনি সংসদে সরকারি দলের মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন এবং জ্বালানি সংকট সমাধানে ব্যার্থতার সমালোচনা করেন৷এই নেতা জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আগামী ৭ই এপ্রিল বৈঠক করে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করবে ১১ দল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে একাত্তর বিধিতে (পয়েন্ট অব অর্ডার) দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে চমৎকারভাবে পরিবেশন করতে পারেন।’ অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতার ব্যবহৃত ‘মিথ্যা’ শব্দটিকে অসংসদীয় রীতি হিসেবে আখ্যায়িত করে তা এক্সপাঞ্জ (কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া) করার দাবি জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে এই দুই নেতার মধ্যে পাল্টাপাল্টি এই বাক্যবিনিময় চলে। স্পিকারের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মাননীয় সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমরা কালকে চলে যাওয়ার পর আমাকে ভালোবেসে একটা কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন যে আমি একটি অসত্য কথা এখানে বলে গেছি। আমি এটা জানতে পারলাম। তো আসলে আল্লাহ তা’আলা তাকে অপূর্ব দক্ষতা দিয়েছেন। জাস্ট বোতল পরিবর্তন করে মেটেরিয়াল ঠিক রেখে তিনি সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে চমৎকারভাবে পরিবেশন করতে পারেন। এ জন্য শুধু তাকে ধন্যবাদ জানানোর জন্য আমি এখানে দাঁড়িয়েছি।’ এ সময় স্পিকার বিরোধীদলীয় নেতাকে বলেন, ‘মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা, আপনি পয়েন্ট অব অর্ডারে নিশ্চয় এ বক্তব্য রেখেছেন। পয়েন্ট অব অর্ডার চলমান বিষয়ের ওপরে। এটা তো গতকালকের বিষয় গতকালকেই শেষ হয়ে গিয়েছে। সুতরাং এখন আর নতুন করে তোলার প্রয়োজন নেই। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘এই মুহূর্তে বিরোধীদলীয় নেতা দুটি অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার করেছেন। সেটা হচ্ছে ‘মিথ্যা’। এটা অসত্য বললে আমি আপত্তি করতাম না। আমি অনুরোধ করব এটি এক্সপাঞ্জ করা হোক।’ গতকাল বুধবারের বক্তব্য প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিয়ে স্পিকারের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, তার কালকের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আমি বলেছিলাম মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা এখানে একটা অসত্য বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। এটা ছিল যেখানে রুল ৬২ অনুসারে আপনি একজন বেসরকারি সদস্যের মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন উনারা (বিরোধী দল) ওয়াকআউট করার অনেক পরে। তাহলে সেটা পার্লামেন্টে উত্থাপিত বা পড়িত হলো কীভাবে? সুতরাং আমি বলেছিলাম সে বক্তব্যটা অসত্য।’ জবাবে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিভ্রান্তিটা এখানে। একই প্রস্তাব একজন স্বতন্ত্র সদস্য এনেছিলেন, যা গতকাল ভিন্ন নামে এসেছে। বিষয়বস্তু একই ছিল কিন্তু শুধু নাম বদলে গেছে। আমি আগেরটি জানতাম বলেই বলেছি, এখানে কোনো ভুল তথ্য দিইনি।