বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মসজিদ কোন দেশে? সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, উত্তরটা সহজ ও অনুমেয়। কিন্তু সাম্প্রতিক তথ্য ও পরিসংখ্যান বলছে, বাস্তব চিত্র আরও বিস্ময়কর। ২০২৫–২৬ সালের বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মসজিদের সংখ্যায় বিশ্বে এক নম্বরে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া।
মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়। মুসলিম সমাজে এটি ধর্মীয় শিক্ষা, সামাজিক মিলনমেলা, দান-খয়রাত, সম্প্রীতি ও সামষ্টিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। তাই কোন দেশে কত মসজিদ রয়েছে, তা সেই দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি।
মসজিদের সংখ্যায় শীর্ষ দেশগুলো
সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, মসজিদের সংখ্যায় বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটি অন্য সব দেশকে বহু ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেছে।
১. ইন্দোনেশিয়া : প্রায় ৮ লাখ মসজিদ
বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় আনুমানিক ৮ লাখ মসজিদ রয়েছে। শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম, সবখানেই মসজিদ রয়েছে। এসব মসজিদ শুধু ইবাদতের জায়গা নয়; শিক্ষা, সামাজিক অনুষ্ঠান ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০ কোটির বেশি মুসলিম জনসংখ্যা এবং ইসলামী সংস্কৃতির গভীর প্রভাবই এই বিপুল সংখ্যার প্রধান কারণ।
২. ভারত : প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ মসজিদ
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ না হলেও, মসজিদের সংখ্যায় ভারত বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি। দেশটিতে আনুমানিক ৩ থেকে ৪ লাখ মসজিদ রয়েছে। ২০ কোটির বেশি মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় চাহিদা মেটাতে ঐতিহাসিক মসজিদ থেকে শুরু করে মহল্লাভিত্তিক ছোট মসজিদ, সবই এখানে দেখা যায়।
৩. বাংলাদেশ : প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মসজিদ
দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বাংলাদেশেও রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মসজিদ। তুলনামূলক ছোট আয়তনের হলেও গ্রাম ও শহরজুড়ে ঘন মসজিদ নেটওয়ার্কের কারণে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম মসজিদসমৃদ্ধ দেশ বলা হয়।
ইসলামের দুই পবিত্রতম মসজিদ, মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর দেশ সৌদি আরবে আনুমানিক ৩ লাখ মসজিদ রয়েছে। পাড়া-মহল্লার ছোট মসজিদ থেকে শুরু করে বিশাল ও ঐতিহাসিক মসজিদ, সবই এই সংখ্যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
৫. পাকিস্তান : ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি মসজিদ
পাকিস্তানে মসজিদের সংখ্যা এক লাখ ১০ হাজারের বেশি বলে ধারণা করা হয়। দেশটির সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনে ইসলামের প্রভাব এই সংখ্যার মধ্যেই স্পষ্ট।
উল্লেখযোগ্য অন্যান্য দেশ
এই পরিসংখ্যানগুলোর মাধ্যমে বুঝা যায়, মসজিদ শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়; বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের প্রতিফলন।
মসজিদের হিসাব গণনা করা হয় যেভাবে
মসজিদের সংখ্যা গণনায় সাধারণত কয়েকটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়—
তবে দেশভেদে সংজ্ঞা ও গণনার পদ্ধতি ভিন্ন হওয়ায় সংখ্যায় কিছু তারতম্য দেখা যায়।
এসব দেশ এগিয়ে কেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব দেশে মসজিদ বেশি থাকার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় প্রধান ভূমিকা পালন করছে।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়, এমন দেশেও মসজিদের বৃদ্ধি
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর বাইরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপেও মসজিদের সংখ্যা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মসজিদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশে হাজার হাজার মসজিদ ও নামাজঘর মুসলিমদের ধর্মীয় ও সামাজিক চাহিদা পূরণ করছে।
হিসাবের চ্যালেঞ্জ
বিশ্বব্যাপী মসজিদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ সহজ নয়। অনেক মসজিদ অনিবন্ধিত, কোথাও নতুন মসজিদ তৈরি হচ্ছে, আবার কোথাও পুরোনো মসজিদ সংস্কার বা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই সংখ্যাগুলো আনুমানিক হলেও সামগ্রিক প্রবণতা স্পষ্ট।
সংক্ষেপে
বিশ্বজুড়ে মসজিদের বিস্তার শুধু পরিসংখ্যান নয়; এটি ঈমান, বিশ্বাস, ইতিহাস ও মানবিক সম্পর্কের এক জীবন্ত দলিল। জাকার্তা থেকে ঢাকা, কায়রো থেকে নিউইয়র্ক, সবখানেই মসজিদ আজও ব্যক্তিগত ইবাদত ও সামষ্টিক জীবনের মিলনস্থল হয়ে আছে।
সূত্র : হালাল টাইমস
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অবৈধ পুশইন ও হত্যাকাণ্ড বন্ধের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপি ও সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। সোমবার (১৫ জুন) ১১ দলীয় ঐক্যের ডাকা এই কর্মসূচিতে তিনি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির দাবি জানান। সমাবেশে বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় দেশের ওপর ‘মুজিববাদী বয়ান’ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের আন্দোলনের রক্তের মধ্য দিয়ে সেই ধারা থেকে বেরিয়ে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি, ইসলাম ও সার্বভৌমত্বের স্বপ্ন দেখা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। যার বাপ বলেছিলেন ‘উই রিভল্ট’, তারই সন্তান তারেক রহমান মুজিববাদের পথ ধরে মোদির কাছে আবার নজরানা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমালোচনা করে বলেন, ‘আপনি যদি মুজিববাদের পথে যেতে চান, মনে রাখবেন আওয়ামী লীগের চেয়ে বড় মুজিববাদী হতে পারবেন না।’ তিনি দাবি করেন, জনগণ এ ধরনের রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা যদি সীমান্তে পুশইন, সীমান্ত হত্যা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে না পারেন, তাহলে আপনারা নাকে খত দিয়ে পদত্যাগ করুন। আর যদি সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ না করেন, তাহলে এ দেশের জনগণ টেনে-হিঁচড়ে পদত্যাগ করাতে বাধ্য হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের সভাপতি হয়েছেন, কিন্তু তিনি আমাদের সীমান্তের হত্যাকাণ্ড, পুশইন দেখেন না। আপনার চোখে শুধু ভিন্ন দেশের করায়ত্তের মধ্য থেকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব জলাঞ্জলি দেওয়া যায় সেই পথে আপনি তারেক রহমানের পথ ধরে হাঁটছেন। প্রিয় খলিল ভাই, এই খলিল ভাই আপনি ছিলেন না। যদি আপনিও মুজিববাদের পথ ধরে হাঁটার চেষ্টা করেন, তাহলে আপনাকেও শায়েস্তা করার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। তখন আপনি কোন খলিল ভাই, আমরা তা চিনব না।
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘প্রায় ১৭ বছর পর একটা অর্থবহ নির্বাচন হবে, জাতি আশা করেছিল। আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে, নির্বাচন খুব সুন্দর হয়েছিল, কিন্তু ফলাফলটা সুন্দর হয়নি। ফলাফলের ক্ষেত্রে অনেক কিছু করা হয়েছে, এটা অনেকে এখন স্বীকার করছেন। তারপরও আপনাদের প্রশ্ন থাকতেই পারে, আমরা কেন ফলাফল মেনে নিয়েছি। আমরা মেনে নিয়েছি দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে সামনে রেখে।’ রবিবার (১৪ জুন) রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় জামায়াত আমির এ কথা বলেন। জামায়াতের আমির বলেন, ‘দুনিয়ার যে সমস্ত জায়গায় একবার গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে, সেই জায়গা থেকে তারা আর বের হতে পারছে না। আমরা যদি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করতাম, আমাদের আশঙ্কা ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হতো। এটা এই জাতিকে কোথায় নিয়ে যেতো, তা আল্লাহ জানেন। এটা আমাদের আশঙ্কা, এটা না-ও হতে পারতো।’
এলাকার সংসদ সদস্যরা (এমপি) নিজেদের উন্নয়ন জাহির করার জন্য বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টার (প্রশিক্ষণ কেন্দ্র) তৈরি করলেও সেগুলোতে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। এর ফলে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির তহবিল বা ফান্ড কোনো কাজে আসছে না এবং কার্যকারিতা হারাচ্ছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে শিক্ষা ও কর্মসংস্থান বিষয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ডায়ালগ’-এ অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভ্যন্তরীণ সেবা খাতের নানা সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে এমন চারটি ট্রেনিং সেন্টার আছে, যেখানে কোনো শিক্ষকও নেই, ছাত্রও নেই। এগুলো স্রেফ এলাকার এমপিরা তাদের উন্নয়ন দেখাতে তৈরি করেছিলেন। এসব অকার্যকর কর্মসূচির কারণে সরকারি ফান্ডের অপচয় হচ্ছে।’ বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর ওপর জোর দিয়ে নুরুল হক বলেন, বাংলাদেশ এখন জাপানসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশের জব মার্কেটে (শ্রমবাজার) বড় পরিসরে কাজ করতে চায়। এই লক্ষ্য অর্জনে এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে দেশের পলিসি বা নীতিগত জায়গায় বড় পরিবর্তন দরকার। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর বেহাল দশা কাটাতে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় পর্যায়ের ট্রেনিং সেন্টারগুলোকে ‘মডেল’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে অন্যান্য কেন্দ্রের দুরবস্থা কাটানোর চেষ্টা করা হবে। এ সময় দেশের নিজস্ব আইডিয়া বা ভাবনাগুলোকে প্রমোট (প্রচার) না করার মানসিকতা থেকেও সবাইকে বের হয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। সরকারি দফতরের সেবা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নুরুল হক নুর বলেন, ‘সেবাগ্রহীতা হিসেবে সাধারণ নাগরিকরা কোনো সরকারি দফতরে গেলে এখনও সম্মানের সঙ্গে সেবা পায় না। এই সংস্কৃতির বদল দরকার।’ তবে দেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর একটি চমৎকার ভিশন (লক্ষ্য) রয়েছে উল্লেখ করে সেটি বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন তিনি।