বিনোদন

অনুরাগীদের জন্য বড় পদক্ষেপ নিলেন দীপিকা

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ০৫, ২০২৬

বলিউডের ‘ডিভা’ দীপিকা পাড়ুকোনের জীবনে এক বিশেষ মাইলফলক হয়ে থাকল তার এবারের জন্মদিন। জীবনের ৪০ বসন্ত পার করলেন এই অভিনেত্রী। তবে নিজের এই বিশেষ দিনটি কেবল কাছের মানুষদের সঙ্গে নয়, বরং একান্ত অনুরাগী ও ভক্তদের সঙ্গেই উদ্‌যাপন করলেন তিনি। মা হওয়ার পর এটি তার দ্বিতীয় জন্মদিন, তাই আয়োজনেও ছিল অভিনবত্বের ছোঁয়া।

 

দীপিকার এবারের জন্মদিনের মূল আকর্ষণ ছিল ভক্তদের প্রতি তার ভালোবাসা। কেবল একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজনই নয়, ভিনরাজ্যে থাকা অনেক ভক্তের জন্য নিজ খরচায় বিমানের টিকিট বুক করে দিয়েছেন অভিনেত্রী। এখানেই শেষ নয়, বিমানবন্দর থেকে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর জন্য তাদের ব্যক্তিগত গাড়ি ও চালকের সুবিধাও করে দেন তিনি। 

 

প্রিয় তারকার এমন উদারতায় আপ্লুত ভক্তরা। বড়দিনের আমেজে এলাহি আয়োজন জন্মদিনের উৎসবটি সেজেছিল বড়দিনের আমেজে। অন্দরমহল জুড়ে ছিল বিশালাকার ক্রিসমাস ট্রি ও আলোকসজ্জা। খাবারেও ছিল রাজকীয় আয়োজন। চাট, হরেক রকমের দক্ষিণী খাবার ও জিভে জল আনা ডেজার্টের গন্ধে ম ম করছিল চারপাশ। 

 

সেখানে উপস্থিত অনুরাগীদের সামনেই একটি বড় কেক কাটেন দীপিকা। পরনে ছিল উজ্জ্বল ‘ওয়াইন’ রঙের স্টাইলিশ কো-অর্ড সেট, যা তার লুকে যোগ করেছিল বাড়তি আভিজাত্য। মানসিক স্বাস্থ্য ও অনুপ্রেরণার বার্তা উৎসবের আনন্দের মাঝেও দীপিকা কথা বলেছেন জীবন ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে।

 

সোশ্যাল মিডিয়ায় ও অনুষ্ঠানে ভক্তদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘যখন মনে হবে জীবনে অনেক কিছু ঠিকঠাক হচ্ছে না, তখনও হাল ছাড়া যাবে না। তোমরা নিজেদের নিয়ে যা ভাবছো, তার চেয়েও অনেক বেশি ভালো করছো তোমরা।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

বিনোদন

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
মেসিই দেখালেন সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নের হৃদস্পন্দন: পূর্ণিমা

লিওনেল মেসির অনন্য পারফরম্যান্সে আর্জেন্টিনার রোমাঞ্চকর জয়ের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে। সেই উচ্ছ্বাসে শামিল হয়েছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূর্ণিমাও।   আর্জেন্টিনার জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন তিনি। পোস্টে আর্জেন্টিনা ও মেসির প্রতি নিজের ভালোবাসা এবং উচ্ছ্বাসের কথা তুলে ধরেন। পূর্ণিমা লেখেন, ‘আর্জেন্টিনার জন্য কী দুর্দান্ত একটি রাত।’   তিনি আরও লেখেন, ‘যখন সারা বিশ্ব ভেবেছিল সব শেষ, মেসি এবং তার যোদ্ধারা দেখিয়ে দিলেন সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নদের হৃদস্পন্দন কেমন হয়। সাহস, আবেগ আর বিশ্বাস এক নান্দনিক উপায়ে পুরো খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিল। আলহামদুলিল্লাহ।’ আর্জেন্টিনার এই জয়ের পর অভিনেত্রীর পোস্টে ভক্তরাও শুভেচ্ছা ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

তারকাদের প্রভাবে কি পরকীয়া স্বাভাবিক হয়ে উঠছে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

সালমান খানের আসন্ন ‘‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’’ চলচ্চিত্রের পোস্টার। ছবি : সংগৃহীত

নতুন লুকে চমক দিলেন সালমান খান, মুগ্ধ ভক্তরা

সংগৃহীত ছবি

১৯ বছর পর মিসরে কনসার্ট করবেন শাকিরা

ছবি: সংগৃহীত
শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দায়িত্বে শিল্পী সমিতির নতুন কমিটি

শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আগামী দুই বছরের জন্য দায়িত্ব বুঝে নিলো বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নতুন কমিটি। বুধবার রাত আটটায় বিএফডিসি'র আট নাম্বার ফ্লোরে অনুষ্ঠিত হয় এই শপথ গ্রহণ।   এতে নব নির্বাচিত সভাপতি শিবা সানুকে শপথ পাঠ করান বিদায়ী সভাপতি মিশা সওদাগর। পরে কমিটির অন্যদের শপথ পাঠ করান নব নির্বাচিত সভাপতি শিবা সানু।   শপথ গ্রহণ শেষে শিবা সানু গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আমরা আবার সবাই এক। আমরা চাই সবাইকে নিয়ে শিল্পী সমিতিকে এগিয়ে নিতে। বিজয়ী এবং বিজিত সবাইকে নিয়েই শিল্পী সমিতির মর্যাদা, পেশাদারিত্ব ও উন্নয়ন ঘটাতে চাই। আমাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আমাদের যেসব শিল্পীরা নির্বাচিত হতে পারেন নি তাদেরকে দিয়ে বিভিন্ন উপ কমিটি গঠন করে শিল্পী সমিতির উৎকর্ষ সাধন করতে চাই। শিল্পীদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায়  সব ভেদাভেদ ভুলে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।   শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সভাপতি শিবা সানু ও সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী ছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্রের নবীন ও প্রবীন শিল্পীরা।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৯, ২০২৬

মেলবোর্নের উৎসবে একসঙ্গে বাংলাদেশের তিন সিনেমা

ছবি: সংগৃহীত

সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকতে কেন জরুরি ভিটামিন বি-৩?

অপু বিশ্বাস। ফাইল ছবি

অপুর বিয়ে নিয়ে যা বললেন গৌতম

মৌসুমী হামিদ। ছবি: সংগৃহীত
ট্রমা পেরিয়ে নতুন অধ্যায়ে মৌসুমী হামিদ

একসঙ্গে বিয়ে ও মা হতে যাওয়ার খবর জানিয়ে ভক্ত-অনুরাগীদের চমকে দিয়েছেন অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ। তবে এই সুখবরের পেছনে লুকিয়ে আছে কঠিন এক সময়ের গল্প। অভিনেত্রীর ভাষ্য, গত দেড় বছর তার জীবনে ঝড় বয়ে গেছে। সেই দুঃসময় পেরিয়েই এখন নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।   সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মৌসুমী বলেন, ‘শেষ দেড়টা বছর আমার ওপর দিয়ে কী ঝড় বয়ে গেছে বলে বোঝাতে পারব না। এক প্রকার ট্রমায় চলে গিয়েছিলাম। তবে আল্লাহর ওপর ভরসা ছাড়িনি। আল্লাহ আমার দিকে নজর রেখেছেন বলেই আব্দুল ওয়াদুদ সজীবের মতো স্বামী পেয়েছি। তার সন্তানের মা হতে যাচ্ছি। এক দরজা বন্ধ হলে হাজার দরজা খুলে যায়—এখন কথাটা আমার কাছে বাস্তব মনে হচ্ছে।’   নিজেদের বিয়ের সময় নিয়ে আপাতত মুখ খুলতে চাননি এই অভিনেত্রী। জানান, আগের সংসার থেকে দীর্ঘদিন আলাদা থাকার পর তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই কঠিন সময়ে ১৫ বছরের বন্ধু আব্দুল ওয়াদুদ সজীবই সবসময় পাশে ছিলেন। পরে দুজনে নতুন করে জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে বিয়ের তারিখ এখনই প্রকাশ করতে নারাজ মৌসুমী। তার ভাষায়, ‘বিবাহবার্ষিকী এলেই সবাই জানতে পারবেন।’   স্বামী শোবিজের মানুষ না হলেও দীর্ঘদিনের পরিচিত বলে জানান মৌসুমী। তাদের পরিচয় মিডিয়ার বাইরের বন্ধু মহলের মাধ্যমে। তিনি বলেন, মিডিয়ায় জীবনের নানা কষ্টের সময়ে সজীবই তাকে মানসিকভাবে শক্তি জুগিয়েছেন। বর্তমানে স্বামী-স্ত্রী শুধু জীবনসঙ্গীই নন, ব্যবসায়িক অংশীদারও।   অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর একটি ব্যবসা পরিচালনা করছেন মৌসুমী হামিদ। প্রায় দেড় বছর আগে শুরু হওয়া সেই প্রতিষ্ঠানে শুরুতে আটজন কর্মী থাকলেও বর্তমানে কর্মীর সংখ্যা ২৫ জন। শিগগির তা ১০০ জনে পৌঁছাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সজীব, আর তার পরের দায়িত্বে রয়েছেন মৌসুমী নিজেই। তাই গর্ভাবস্থাতেও নিয়মিত অফিস ও মিটিং করছেন বলে জানান তিনি।   মাতৃত্বকালীন ছুটি কিছুদিন পর নিলেও অভিনয় থেকে দীর্ঘ বিরতি নেওয়ার ইচ্ছা নেই মৌসুমীর। তিনি বলেন, ‘আমি এখনো অভিনয়ের জন্য প্রস্তুত। আমার বর্তমান অবস্থার সঙ্গে মানানসই কোনো চরিত্র পেলে অবশ্যই ক্যামেরার সামনে দাঁড়াব। সন্তান হওয়ার পরও বড় কোনো বিরতি নিতে চাই না। আশা করছি, খুব শিগগির দর্শক আমাকে আবার পর্দায় দেখতে পাবেন।’

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৮, ২০২৬
নষ্ট ডিম চেনার চার সহজ উপায়। ছবি: সংগৃহীত

রান্নার আগে ডিম ভালো নাকি নষ্ট বুঝবেন যে ৪ উপায়ে

আন্তর্জাতিক প্রশংসার পর এবার বড়পর্দায় ‘শেকড়’

টালিউড অভিনেতা দেব ও শুভশ্রী। ফাইল ছবি

সাবেক প্রেমিক দেবকে নিয়ে মুখ খুললেন শুভশ্রী

0 Comments