জাতীয়

ঈদযাত্রার ১৫ দিনে ৪৪২ দুর্ঘটনা, নিহত ৪৩৮

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে চলাচলের সময় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

 

সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, ঈদযাত্রার ১৫ দিনে সারাদেশে ৪৪২টি দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৩৪০ জন।

 

রোববার (৭ জুন) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২১ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে সড়কপথে। এই সময়ে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৯৪ জন আহত হয়েছেন। রেলপথে ৩১টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে নৌপথে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন।

 

যাত্রী কল্যাণ সমিতির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৩৯ শতাংশই মোটরসাইকেলকেন্দ্রিক। ঈদযাত্রায় ১৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫৯ জন নিহত এবং ১৮০ জন আহত হয়েছেন, যা এবারও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাকে শীর্ষে রেখেছে।

 

গত বছরের ঈদুল আজহার তুলনায় এবার দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর একই সময়ে ৩৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯০ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৮২ জন আহত হয়েছিলেন।

 

সংগঠনটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন সড়কে গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং ভাঙাচোরা সড়ক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঈদকেন্দ্রিক স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগ দিয়ে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা কঠিন।

 

তিনি আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক ব্যবস্থাপনা চালু, চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রায় ৮০ শতাংশ যানবাহন একজন চালক দিয়ে দীর্ঘ সময় পরিচালিত হয়েছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। অনেক মালিক মেয়াদোত্তীর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন সড়কে নামিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

 

দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের মধ্যে চালক, শ্রমিক, পথচারী, নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন।

 

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ৪৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে মুখোমুখি সংঘর্ষে। এছাড়া ২৯ দশমিক ১৮ শতাংশ ঘটনা ধাক্কা বা চাপায়, ১৭ দশমিক ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে এবং ১ দশমিক ৫২ শতাংশ রেল-যানবাহন সংঘর্ষে ঘটেছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সচিব ড. এ ওয়াই এম একরামুল হক, যুগ্ম মহাসচিব অর্পনা রায় দাশ, অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল, দপ্তর সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বিটুসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
সাবেক ভূমিমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদের তথ্য পাঠাল এফবিআই

যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্ত্রী রুকমীলা জামানের সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসার রেকর্ড সংক্রান্ত তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই।   এর আগে তাদের ব্যাংক, ব্যবসা ও সম্পত্তির রেকর্ড চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি সহায়তার অনুরোধ পাঠিয়েছিল দুদক। দেশটিতে থাকা অপরাধলব্ধ বলে অভিযোগ করা সম্পদ জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করতেও সহায়তা চাওয়া হয়েছিল।   অন্যদিকে নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, তার স্ত্রী নাসরিন ইসলাম ও সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে দুদকের আইনি সহায়তার অনুরোধ পুরোপুরি বাস্তবায়নের তথ্য দিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বায়ত্বশাসিত দ্বীপ অঞ্চল আইল অব ম্যান কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি অবরুদ্ধ করার তথ্য দিয়েছে তারা।   দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম সোমবার কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য দেন।   দুদক বলেছে, সাইফুজ্জামান চৌদুরী জাবেদ ও তার স্ত্রীর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পারস্পরিক আইনি সহায়তার অনুরোধ বা এমএলএআর পাঠানো হয়েছিল।   এমএলএআর হল, তদন্ত বা বিচারকাজে তথ্য, নথি কিংবা সম্পদ জব্দের জন্য অন্য দেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সহায়তা চাওয়ার প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের সহায়তা চেয়েছিল দুদক।   অনুরোধে জাবেদ ও তার স্ত্রীর ব্যাংক, ব্যবসা ও সম্পত্তির রেকর্ড চাওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অপরাধলব্ধ বলে অভিযোগ করা সম্পদ জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করতেও সহায়তা চাওয়া হয়েছিল।   তবে এফবিআই থেকে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি কবে এসেছে, তাতে কী তথ্য রয়েছে কিংবা কত সম্পদ চিহ্নিত হয়েছে, তা প্রকাশ করেনি দুদক। যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কোনো সম্পদ এরই মধ্যে জব্দ বা বাজেয়াপ্ত হয়েছে কি না, তাও জানানো হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্রে থাকা জাবেদ দম্পতির সম্পদের মূল্য জানতে চাইলে আকতারুল ইসলাম বলেন, “পরে তথ্য পাওয়া গেলে সাংবাদিকদের জানানো হবে।”   ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি ঢাকার একটি আদালত আওয়ামী লীগের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌদুরী জাবেদ ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের সাত দেশে থাকা ১ হাজার ৮২৪ কোটি ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯০৫ টাকার সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেয়। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পত্তির ক্রয়মূল্য দেখান হয়েছিল ৪৩৬ কোটি ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ২৪২ টাকা।   আইল অব ম্যানে সম্পত্তি অবরুদ্ধ নজরুল ইসলাম মজুমদার, তার স্ত্রী নাসরিন ইসলাম, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এবং ওয়ান প্রপার্টি লিমিটেডের বিষয়ে আইল অব ম্যানে এমএলএআর পাঠিয়েছিল দুদক। কমিশন বলেছে, অনুরোধে চাওয়া সব কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে আইল অব ম্যান কর্তৃপক্ষ। এমএলএআরটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।   অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি অবরুদ্ধ করার তথ্যও দুদককে দিয়েছে আইল অব ম্যান কর্তৃপক্ষ।   ব্রিটিশ কোম্পানি নিবন্ধকের অনলাইন নথি অনুযায়ী, ওয়ান প্রপার্টি লিমিটেড আইল অব ম্যানে নিবন্ধিত। নথিতে নাসরিন ইসলাম ও নজরুল ইসলাম মজুমদারকে প্রতিষ্ঠানটির সুবিধাভোগী মালিক দেখানো হয়েছে। কোম্পানিতে দুজনেরই ২৫ শতাংশের বেশি শেয়ার ও ভোটাধিকার রয়েছে।   এর আগে ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি নজরুলের বিরুদ্ধে বৈধ আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৭৮১ কোটি ৩১ লাখ ২২ হাজার ৪৫৪ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নতুন দায়িত্ব পেলেন জয়নুল আবদিন ফারুক

সংগৃহীত ছবি

সন্তানকে সম্পত্তি দিয়েও আজীবন ভোগ করতে পারবেন বাবা মা, সংসদে বিল পাস

সংগৃহীত ছবি

এক ইঞ্জিনের লঞ্চ নিয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত
লাইব্রেরি-বিদ্যালয়ের ‘মুজিব কর্নার’ বদলের প্রস্তাব সংসদে

দেশের লাইব্রেরি ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপন করা ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নারের’ নাম পরিবর্তন করে ‘মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই’ কর্নারে রূপান্তরের প্রস্তাব দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নে সংস্কৃতি মন্ত্রীর কাছে তিনি এ প্রস্তাব দেন।    এর আগে বেলা ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। মারদিয়া মমতাজ তার প্রশ্নে বলেন, ‘আমরা জানি, গত ফ্যাসিস্ট রেজিমে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সাড়ে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের সরকারি বেসরকারি পাঠাগারগুলো এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুজিব কর্নার স্থাপন করা হয়েছিল। চব্বিশের আগস্টের পর এই নোটিশগুলো সরিয়ে নেওয়া হয় বা শিরোনামগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু পাঠাগারগুলো আগের অবস্থায় আছে। মাননীয় মন্ত্রীর কাছে আপনার (স্পিকার) মাধ্যমে প্রশ্ন যে, এই  লাইব্রেরিগুলোকে যদি সংস্কারের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই কর্নারে রূপান্তরিত করা হয়, তাহলে দেশের মানুষের জন্য কল্যাণের কাজ হতে পারে। এ ব্যাপারে কোনও চিন্তা আছে কি না জানতে চাই?’   জবাবে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় বলেন, ‘আমাদের জাতীয় থেকে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত অনেক পাবলিক লাইব্রেরি রয়েছে। মাননীয় সংসদ সদস্য যে লাইব্রেরির কথাগুলো বললেন, আমরা অবশ্যই এগুলোকে আমাদের আওতায় নেবো। উনি একটি তালিকা করে আমাদের দিতে পারেন, আমরা আলোচনা করে ব্যবস্থা নেবো।’

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনার আপিল নিয়ে যে কথা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

সংগৃহীত ছবি

সরকারি হাসপাতালে ১১,৪৯৫ পদ খালি, দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধ তিন ট্রেন চালু নিয়ে ঢাকায় বৈঠক আগামীকাল

ফাইল ছবি
সব সরকারি চাকরিজীবীর জন্য মোবাইল ভাতা, কে কত পাবেন

নতুন জাতীয় বেতনস্কেল কার্যকর হলে প্রথমবারের মতো সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীকে মোবাইল ভাতার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতদিন মূলত পঞ্চম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীরা এ সুবিধা পেতেন। ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগে বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভাতার পরিধি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মোবাইল ভাতার আওতা সম্প্রসারণের বিষয়টি জানানো হয়। কোন গ্রেডে কত মোবাইল ভাতা সচিব কমিটির সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে প্রথম থেকে তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তারা মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১ হাজার টাকা করে মোবাইল ভাতা পাচ্ছেন। জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর প্রস্তাবে নতুন করে ষষ্ঠ থেকে দশম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মাসে ৫০০ টাকা এবং একাদশ থেকে বিংশ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ৪০০ টাকা মোবাইল ভাতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী ভাতার হার ছিল—১ম থেকে ৩য় গ্রেড: মাসে ১,৫০০ টাকা; ৪র্থ ও ৫ম গ্রেড: মাসে ১,০০০ টাকা; ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম গ্রেড: মাসে ৫০০ টাকা এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেড: মাসে ৪০০ টাকা। এই হারে ভাতা দিতে হলে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশন বাদে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক সংশ্লেষ প্রায় ৬০৬ কোটি টাকা হতো। সুপারিশ কমিটির সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল ভাতার আওতা সব গ্রেডে রাখার বিষয়ে একমত হলেও ভাতার হার কিছুটা যৌক্তিকীকরণের সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে বিংশ গ্রেডের কর্মচারীরা মাসে ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা পাবেন। অর্থাৎ, জাতীয় বেতন কমিশনের প্রস্তাবের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ভাতার হার কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সব গ্রেডকে ভাতার আওতায় রাখার বিষয়টি বহাল থাকছে। সচিব কমিটির এক কর্মকর্তা জানান, সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগে মোবাইল ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা এখন সব স্তরের কর্মচারীর ক্ষেত্রেই রয়েছে। ফলে সব গ্রেডকে মোবাইল ভাতার আওতায় আনার প্রস্তাবটি যৌক্তিক। তবে এর ফলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভাতার হার যৌক্তিক করার প্রয়োজন রয়েছে। ধাপে ধাপে কার্যকর হবে নতুন বেতনস্কেল জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। বেতনস্কেল বাস্তবায়নের আর্থিক সংশ্লেষ এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর এর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে চলতি ২০২৬-২৭ এবং আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন বেতনস্কেলের আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক সরকারি কর্মচারী উপকৃত হবেন। পাশাপাশি প্রায় সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগীও এর সুফল পাবেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্যও ভাতা শুধু মোবাইল ভাতাই নয়, নতুন জাতীয় বেতনস্কেলে সরকারি কর্মচারীদের জন্য আরও কিছু নতুন সুবিধা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমবারের মতো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত রয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ফাইল ছবি

এক উপজেলার সব ইউনিয়নে একই দিনে ভোট: ইসি সচিব

দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশ-ইতালি একসঙ্গে কাজ করবে: এলজিআরডি মন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মিয়ানমার বিষয়ক জাপানের বিশেষ দূতের সাক্ষাৎ

0 Comments