আন্তর্জাতিক

বিক্ষোভ চলাকালে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ইরানের প্রেসিডেন্টের

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি : সংগৃহীত
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি : সংগৃহীত

বিক্ষোভের মধ্যে বড় ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। দেশজুড়ে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা সহিংস বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তিনি দুর্বল অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে জানান, তার সরকার জনগণের কথা শুনতে প্রস্তুত এবং চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

রোববার (১১ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-র এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উসকে দিতে ভূমিকা রাখছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান হলেও সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানের মুদ্রার বড় ধরনের অবমূল্যায়নের পর দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে হঠাৎ মুদ্রার দরপতনে নিত্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে পৌঁছে। শুরুতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ হলেও ধীরে ধীরে এসব আন্দোলন সরকারবিরোধী রূপ নেয়।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, মানুষের উদ্বেগ বাস্তব। আমাদের উচিত তাদের সঙ্গে বসে কথা বলা এবং দায়িত্ব থাকলে সমস্যার সমাধান করা। তবে আরও বড় দায়িত্ব হলো, কিছু দাঙ্গাবাজ যেন পুরো সমাজকে ধ্বংস করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।

তিনি আবারও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং জনগণকে তথাকথিত দাঙ্গাবাজ ও সন্ত্রাসীদের থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।

আল জাজিরা জানায়, ২০২২–২৩ সালে মাহসা আমিনি-র হেফাজতে মৃত্যুর পর যে আন্দোলন হয়েছিল, তার পর থেকে এটিই ইরানে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ বলে মনে করা হচ্ছে।

আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি জানান, ইরানি কর্তৃপক্ষ গত এক সপ্তাহ ধরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বিদেশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহিংস গোষ্ঠীর পার্থক্য তুলে ধরার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, সরকারি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাও মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়নের কারণে সৃষ্ট জনঅসন্তোষকে যৌক্তিক বলে স্বীকার করেছেন।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ১০৯ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন।

এদিকে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ সংসদে দেওয়া বক্তব্যে শান্তিপূর্ণ ও সশস্ত্র বিক্ষোভকারীদের মধ্যে পার্থক্য টানেন। তিনি বলেন, সরকার অর্থনৈতিক দাবিকে কেন্দ্র করে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে স্বীকৃতি দিলেও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে।

সাবেক রেভল্যুশনারি গার্ড কমান্ডার কালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগে সামরিক পদক্ষেপ নেন, তাহলে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজগুলো বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে। তবে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল সতর্ক করে বলেছেন, বিক্ষোভে জড়িতদের মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

 

এদিকে পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর মতে, দেশজুড়ে ৬০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫১ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জন শিশু। আহত হয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ এবং ব্যাপক ধরপাকড় চলছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ–চীনের গতিবিধিতে নজর রাখতে হলদিয়া নদীতে ভারতীয় ঘাঁটি স্থাপন

পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া নদীতে নতুন একটি নৌঘাঁটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী। চীনা নৌবাহিনীর ক্রমবর্ধমান তৎপরতা এবং বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে ঘিরে পরিবর্তিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে উত্তর বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে সামুদ্রিক উপস্থিতি জোরদার করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খবর ইন্ডিয়া টুডের। শীর্ষ প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘাঁটিটি একটি নৌ ‘ডিটাচমেন্ট’ হিসেবে কাজ করবে। এটি পূর্ণাঙ্গ বড় নৌঘাঁটি না হলেও ছোট আকারের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের জন্য একটি পৃথক ইউনিট হিসেবে কার্যকর হবে। এখানে মূলত দ্রুতগামী ও হালকা যুদ্ধজাহাজ রাখা হবে। নতুন নৌঘাঁটির জন্য হলদিয়ার বিদ্যমান ডক কমপ্লেক্স ব্যবহার করা হবে। ফলে আলাদা করে বড় অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজন পড়বে না এবং স্বল্প সময়ের মধ্যেই ঘাঁটির কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে একটি নির্দিষ্ট জেটি নির্মাণের পাশাপাশি জাহাজ ও নৌসেনাদের পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এই নৌঘাঁটি পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হবে। হলদিয়ায় ঘাঁটি স্থাপন করা হলে হুগলি নদী হয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই বঙ্গোপসাগরে পৌঁছাতে পারবে ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজগুলো। ভারতীয় নৌবাহিনী সূত্র জানায়, নতুন ঘাঁটিতে ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফটস (এফআইসি) এবং নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফটস (এনডব্লিউজেএফএসি)–এর মতো দ্রুতগামী সামরিক নৌযান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হবে। এসব নৌযানের গতি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৪৫ নট, অর্থাৎ প্রায় ৭৪ থেকে ৮৩ কিলোমিটার। এফআইসি ও এনডব্লিউজেএফএসি সিরিজের যুদ্ধজাহাজগুলো বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির সামরিক নৌযান হিসেবে পরিচিত। এসব নৌযানে সিআরএন-৯১ স্বয়ংক্রিয় মেশিনগান এবং ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি সুইসাইডাল ড্রোন ‘নাগাস্ত্র’ সিস্টেমসহ আধুনিক অস্ত্র সংযোজন করা হবে। প্রস্তাবিত এই নৌঘাঁটিতে প্রায় ১০০ জন নৌ কর্মকর্তা ও সৈনিক সার্বক্ষণিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশি শনাক্তে এআই প্রযুক্তি আনছে ভারত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনকে নজরে রাখতে নতুন নৌঘাঁটি করছে ভারত

ছবি: সংগৃহীত

ভারত–পাকিস্তান সীমান্তে আবারও উত্তেজনা, আকাশে একাধিক ড্রোন

ছবি: সংগৃহীত
বিক্ষোভ ছড়িয়ে ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা ইরানের নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলভি

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় আসতে চান নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলভি। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের আগেই ইরান ছাড়েন বর্তমানে ৬৫ বছর বয়সী পাহলভি। এরপর থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।   যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত বিভিন্ন বার্তা ও ভিডিওতে পাহলভি বিক্ষোভকারীদের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতনের আহ্বান জানিয়েছেন। এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, আমরা ইসলামী প্রজাতন্ত্র এবং এর জীর্ণ, ভঙ্গুর ও দমনমূলক ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে নতজানু করব। ইরানে পাহলভির প্রকৃত জনসমর্থনের মাত্রা নির্ধারণ করা কঠিন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু যাচাইকৃত ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের ‘শাহ দীর্ঘজীবী হোক’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে। এতে বোঝা যায়, অন্তত একটি অংশের মধ্যে তার প্রতি সহানুভূতি রয়েছে। তবে বেশিরভাগ বিক্ষোভকারী কোনো নির্দিষ্ট নেতার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন না। তারা মূলত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-র বিরুদ্ধে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ ধরনের স্লোগান দিচ্ছেন এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়, মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধ ইরানের অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করেছে, যা এই বিক্ষোভের বড় প্রেক্ষাপট হয়ে উঠেছে। উত্তর ইরানের ২৭ বছর বয়সী আজাদেহ নামের এক তরুণী এক বার্তায় বলেন, রেজা পাহলভি যা শিখেছেন, তা তার বাবার কাছ থেকেই—যিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। আমরা পাহলভিদের শাসন দেখেছি। এখন সময় একটি গণতান্ত্রিক দেশের। ক্ষমতা গ্রহণে নিজেকে প্রস্তুত দাবি করে পাহলভি নিজেকে একজন ‘রূপান্তরের নেতা’ হিসেবে উপস্থাপন করছেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের সময় যেমন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি একক কণ্ঠে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেমন কোনো একক নেতৃত্ব নেই। এই নেতৃত্বশূন্যতাকেই নিজের সুযোগ হিসেবে দেখছেন পাহলভি। ১৯৬০ সালে জন্ম নেওয়া পাহলভিকে ১৯৬৭ সালে তার বাবা শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির রাজ্যাভিষেকের সময় যুবরাজ ঘোষণা করা হয়। শাহের শাসনামলে রাজপরিবারের বিলাসী জীবনযাপন, গভীর অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং কুখ্যাত গোপন পুলিশ সাভাকের দমননীতি ব্যাপক জনঅসন্তোষ সৃষ্টি করেছিল। ইরান ছাড়ার পর পাহলভি যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক প্রশিক্ষণ নেন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করেন। ২০২৩ সালে তিনি ইসরায়েল সফর করে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি তিনি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পক্ষেও প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিলেন।   তবে পশ্চিমা সরকারগুলোর কাছ থেকে এখনো স্পষ্ট রাজনৈতিক সমর্থন পাননি পাহলভি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হলে তাদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বললেও জানিয়েছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে পাহলভির সঙ্গে সাক্ষাৎ করা ‘উপযুক্ত নাও হতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

বিক্ষোভকারীদের অনেকে বিদেশি এজেন্টদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত : ইরান

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি : সংগৃহীত

বিক্ষোভ চলাকালে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ইরানের প্রেসিডেন্টের

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে: মানবাধিকার সংস্থা

ছবি: সংগৃহীত
ইরানে ‘শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর’ দেখতে চায় ব্রিটেন

ইরানে দুই সপ্তাহ ধরে চলমান বিক্ষোভ-সহিংসতার অবসানে দেশটিতে ‌‌‘‘শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর’’ দেখতে চায় যুক্তরাজ্য। দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর বিদায়ই একমাত্র সমাধান বলে রোববার ব্রিটেনের মন্ত্রিসভার এক সদস্য ওই মন্তব্য করেছেন।   ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া গত দুই সপ্তাহের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ইরানে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৯২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া চলমান এই সংঘাতে আহত হয়েছেন আরও হাজার হাজার মানুষ। এই সংঘাতের সমাধানের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার বলেছেন, ইরানে সহিংসতার অবসানই যুক্তরাজ্যের অগ্রাধিকার।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘‘ব্রিটিশ সরকার সবসময়ই ইরানকে একটি বৈরী রাষ্ট্র হিসেবে দেখেছে। আমরা জানি, তারা মধ্যপ্রাচ্য এবং এর বাইরেও নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে নিজেদের জনগণের ক্ষেত্রে তারা দমনমূলক শাসনব্যবস্থা চালু রেখেছে।   ব্রিটিশ এই পরিবহনমন্ত্রী বলেন, আমার মনে হয়, এই মুহূর্তে ইরানে যে সহিংসতা চলছে, তা থামানোর চেষ্টা করাই আজকের দিনের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।   তিনি বলেন, সেখানকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ভবিষ্যতে যাই ঘটুক না কেন, আমরা চাই তা যেন শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে হয়। যেখানে মানুষ মৌলিক স্বাধীনতা ভোগ করতে পারবে এবং ইরানে যথাযথ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ আবার ফিরে আসবে।   এদিকে, বাইরের শক্তির সমর্থনে বিভিন্ন গোষ্ঠী দেশের ভেতরে দাঙ্গা চালিয়ে যাচ্ছে অভিযোগে করে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। রোববার কয়েকশ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের জাতীয় পুলিশ।   ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে চলমান নজিরবিহীন সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়েছে ইসরায়েল। ইরানে বিক্ষোভকে দেশটির জনগণের ‌‌‘‘স্বাধীনতার সংগ্রাম’’ বলে অভিহিত করে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক ভিডিওতে সার বলেছেন, আমরা ইরানি জনগণের স্বাধীনতার সংগ্রামে সমর্থন এবং তাদের সাফল্য কামনা করি। তিনি বলেন, আমরা মনে করি তারা স্বাধীনতার যোগ্য... ইরানের জনগণের সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই।   ইসরায়েলি এই মন্ত্রী বলেছেন, ‘‘আমাদের একটি বড় সমস্যা আছে—যা শুধু আমাদের সমস্যা নয়, এটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমস্যা। আর সেটি হলো ইরানি শাসনব্যবস্থা; যা সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার এক নম্বর রপ্তানিকারক।’’   পৃথক এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের একজন সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, সেনাবাহিনী ইরানের পরিস্থিতির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, এই বিক্ষোভ ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তা সত্ত্বেও, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ধারাবাহিকভাবে নিজেদের সক্ষমতা ও অভিযানের প্রস্তুতি জোরদার করছে।   তিনি বলেন, প্রয়োজনে শক্ত হাতে জবাব দেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত থাকব। ইরান বারবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়া এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জাতীয় ঐক্য দুর্বল করার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ করেছে।   এর আগে, রোববার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ আইনপ্রণেতাদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও নৌ-পরিবহন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানবে।   সূত্র: হারেৎজ, এএফপি।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

বিক্ষোভ প্রশমনে অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ইরানের

ছবি : সংগৃহীত

ইরানে সহিংস সংঘর্ষে প্রাণ গেল শতাধিক নিরাপত্তা সদস্যের

ছবি: সংগৃহীত

ইরান ইস্যুতে ফের মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র, পাল্টাপাল্টি হামলার হুমকি

0 Comments