বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের দুর্নীতির কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে এই খাতে আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের জন্য একটি স্বচ্ছ ও টেকসই রোডম্যাপ রেখে যেতে কাজ করছে।
আজ মঙ্গলবার বিদ্যুৎ ভবনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও অর্জন নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, প্রথমেই দুর্নীতির যে আর্কিটেকচারটি (কাঠামো) ছিল সেটিকে ভেঙে দিয়েছি। ২০১০ সালের দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ আইন বাতিল করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা কমিশনের হাতে আগে ছিল না। এর ফলে গত ১৬-১৭ মাসে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি।
দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, একটি জাতীয় পর্যায়ের কমিটি পদ্ধতিগত দুর্নীতির চিত্র চিহ্নিত করেছে। অন্যদিকে, বিচারপতি ও স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত আরেকটি কমিটি তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব তদন্তের ফলাফল ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য রেখে যাওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট বন্ধ করা হয়েছে। আগে একই মন্ত্রণালয়ের সচিবরা অধীনস্থ কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। তা বাতিল করা হয়েছে। এখন কোনো সচিবই আর তার অধীন বিভাগের কোম্পানির চেয়ারম্যান পদে নেই।
উপদেষ্টা বলেন, খাতভিত্তিক বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০২৫ এবং মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি-২০২৫ উল্লেখযোগ্য। পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে বিদ্যমান অস্থিরতা নিরসনে ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে একটি নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে, যা বর্তমানে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ট্যারিফ বেশি হওয়ার অভিযোগ যাচাইয়ে বুয়েটের নেতৃত্বে একটি কমিটি প্রকল্পভিত্তিক বিশ্লেষণ করেছে। কোথায় কতটা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে, তা চিহ্নিত করা হয়েছে।
জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, বিপুল পরিমাণ বিদেশি বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে। ফলে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম কমানো সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) তেল আমদানিতে রিফাইনারি মালিকানার শর্ত তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং প্রিমিয়াম প্রায় ৩৫ শতাংশ কমেছে। এতে ছয় মাসে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ৫৭ বছরের পুরোনো রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডকে ৩১ হাজার কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রিফাইনারি ইউরো-৫/৬ মানে উন্নীত হবে, যা পরিবেশ দূষণ কমাতে সহায়ক হবে।
গ্যাস অনুসন্ধান প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, অনশোর ও অফশোর অনুসন্ধান সময়সাপেক্ষ। অফশোর গ্যাস অনুসন্ধানে সংশোধিত চুক্তি প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে নতুন সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
কয়লা উত্তোলন প্রকল্পে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, গত দেড় বছরে অনেকগুলো আন্দোলন হয়েছে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে। ফলে সরকারের মেয়াদের শেষ পর্যায়ে গিয়ে নতুন করে কয়লা উত্তোলন প্রকল্পে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় ফিজিবিলিটি স্টাডি প্রস্তুত রাখা হয়েছে ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য।
রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বছরের মার্চে ৩০০ মেগাওয়াট উৎপাদনে যেতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে তা বাড়বে। এছাড়া আদানি চুক্তি আন্তর্জাতিক আইনি পর্যালোচনায় রয়েছে। বিদ্যুতের দাম স্থিতিশীল রাখতে ব্যয় কমানো ও সীমিত ভর্তুকির কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বড় বিনিয়োগের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত জরুরি। আর এসব খাতে প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লাগে। তবে আশা করা হচ্ছে নির্বাচিত সরকার সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভূমিসেবাকে আরও সহজ ও হয়রানিমুক্ত করতে সরকার ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে এই সেবা দেওয়া হবে, যাতে দুর্নীতি বা অযথা হয়রানির শিকার হতে না হয়। মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর ভূমি ভবনে ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধনের সময় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সারা দেশে প্রতিটি উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার বর্তমান সময়ের জন্য অপরিহার্য মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, এই ব্যবস্থানে আরও আধুনিকায়ন ও সহজ করে জনগণকে ভূমিসেবা দিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। তিন দিনব্যাপী এই ভূমিসেবা মেলা শেষ হবে আগামী বৃহস্পতিবার (২১ মে)। এবারের মেলার মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ ভূমি এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’। এ মেলা আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো ভূমি সেবা সহজীকরণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও নাগরিক সেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং প্রান্তিক পর্যায়ে সেবাগুলো পৌঁছে দেওয়া।
শেরপুর–এর শ্রীবরদীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে আশরাফুল ইসলাম (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৮ মে) সকালে উপজেলার খড়িয়া কাজিরচর ইউনিয়নের মাদারপুর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত আশরাফুল ইসলাম স্থানীয় কালু মিয়ার ছেলে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য নূরুল আমিনের সঙ্গে আশরাফুলের পরিবারের বিরোধ বাড়তে থাকে। এর জেরে শনিবার রাতে হামলা, মারধর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এরপর সোমবার সকালে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে গুরুতর আহত হন আশরাফুল। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আশরাফুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার নারীসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার (লিগ্যাল এইড) সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ৩ হাজার ৪শ’টি মামলায় আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত লিগ্যাল এইড-এর মাধ্যমে আইনি সহায়তার বিস্তারিত তথ্য এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ৩ হাজার ৪শ’টি; ৬৪ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ১০৮টি এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেলের মাধ্যমে ৪ হাজার ৬৪০টি মামলায় সরকারি খরচে আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। মোট ৪ লাখ ৬৬ হাজার ১৪৮টি মামলায় আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সরকারি খরচে ৫ লাখ ৭৪ হাজার ২৭৮ জনকে আইনি পরামর্শ সেবা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংস্থার অধীনে সরকারি খরচে এই সময়ের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ২৭ হাজার ১৬৭ জন; দেশের ৬৪ জেলার লিগ্যাল এইড অফিসের ৩ লাখ ২০ হাজার ৭৫৩ জন এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম শ্রমিক আইনি সহায়তা সেলের মাধ্যমে ২২ হাজার ১৫৩ জনকে আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি আইনি সহায়তায় জাতীয় হেল্পলাইন কলসেন্টারের (টোল ফ্রি-‘১৬৬৯৯’) মাধ্যমে ২ লাখ ৪ হাজার ২০৫ জনকে আইনি পরামর্শ সেবা দেওয়া হয়েছে। দেশের অসচ্ছল ও অসমর্থ বিচারপ্রার্থীদের জন্য সরকারি খরচে ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের’ অধীনে এসব সেবা দেওয়া হচ্ছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা এ কার্যক্রম পরিচালনা করে।