দলীয় নেতাকর্মীদের খোঁজ নেওয়া, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতা ও ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকসহ নানাভাবে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিনি ঘরোয়াভাবে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। জামায়াত আমিরের একান্ত সহকারী ডা. নজরুল ইসলাম কালবেলাকে এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার সারাদিনই নানারকম কাজে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন জামায়াত আমির। তিনি সকালে তার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসনের এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালকদের নিয়ে বৈঠক করেন। এরপর তিনি সকাল ১১ টায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর বিভিন্ন আসনের নির্বাচনী অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন।
ডা. নজরুল ইসলাম আরও জানান, এরপর জামায়াত আমির সারাদেশের যেসব স্থানে দলীয় নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন তাদের খোঁজ নিয়েছেন এবং কথা বলেছেন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তিনি রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠক করেন। উল্লেখ্য যে, গত ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলে জামায়াত আমির ১৫ দিনে প্রায় সারাদেশ সফর করে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিয়েছেন। নিজের নির্বাচনী আসন ঢাকা-১৫ তে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
ইইউ’র নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক:-
এদিকে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস ইজাবস এর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠককালে তারা বাংলাদেশ ও ইইউ’র স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার ব্যাপারে বাংলাদেশ ও ইইউ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করার ব্যাপারে তারা একমত পোষণ করেন।
এ সময় ইইউ’র পক্ষ থেকে আশ্বাস প্রদান করা হয় বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ’র ২০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল কাজ করবে। ভবিষ্যতে ইইউ ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
জামায়াত আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াতের ইউরোপের মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা, শিক্ষাবিদ ড. যুবায়ের আহমেদ এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে নিখোঁজ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সমাবেশে সংগঠনটির নেতারা গুমের অভিযোগ নিয়ে ‘প্রোপাগান্ডা’ ছড়ানোর অভিযোগও তোলেন। শনিবার (১৩ জুন) রাত ৯টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য হয়ে শাহবাগ গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘ছাত্রশিবিরের প্রতি ধিক্কার জানাচ্ছি। তারা ভুক্তভোগী নারীর নাম উল্লেখ করে প্রেস রিলিজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেছে। কথায় কথায় তারা ইসলামের কথা বলে, নারীর অধিকারের কথা বলে; কিন্তু তাদের আসল চরিত্র তাদের কর্মকাণ্ডেই প্রকাশ পেয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর আমির, নির্বাচিত এমপিবৃন্দ এবং শিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতারা একযোগে দেশে আবার গুমের সংস্কৃতি চালু হয়েছে বলে প্রচার চালিয়েছেন। বিগত দুই বছরে যারা মবকে উসকে দিয়েছে, নেতৃত্ব দিয়েছে এবং বিভিন্ন ক্যাম্পাসে প্রোপাগান্ডা ও মিথ্যাচার ছড়িয়েছে, তাদের প্রতি আমরা ধিক্কার জানাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘গুমের মতো রাষ্ট্রীয় অপরাধকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে আমরা উদ্বিগ্ন। অতীতে শত শত নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন, অথচ তাদের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করা হচ্ছে।’ ক্যাম্পাস রাজনীতি প্রসঙ্গে ছাত্রদল সভাপতি অভিযোগ করেন, ‘বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন গ্রুপ ও পেজ দখল করে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে, যা ক্যাম্পাসের সহনশীল পরিবেশ নষ্ট করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক এই রাজনীতির সুযোগ নিচ্ছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ।’ সমাবেশে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, ‘কুমিল্লায় যাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, তার নাম আমরা ছাত্রশিবিরের প্রকাশিত কোনো কমিটিতে দেখিনি। শিবির তাদের কেন্দ্রীয় কমিটিও প্রকাশ করেনি।’ তিনি দাবি করেন, ‘শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রেমের সম্পর্কের কারণে অভিযুক্তকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগের বিষয়ে তারা কোনো বিচার করেনি বলে আমরা মনে করি।’ গুমের অভিযোগ প্রসঙ্গে নাসির বলেন, ‘গুমের নাটক মঞ্চস্থ করে তারা অতীতের প্রকৃত গুমের ঘটনাগুলোকে অপমান করেছে। কোনো ঘটনা ঘটলেই জামায়াতের আমির তার ভেরিফায়েড আইডি থেকে গুমের অভিযোগ তোলেন। পাঁচ আগস্টের পর দেশে যত প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে, তার বড় অংশই জামায়াতের আমিরের মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।’ সমাবেশে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। সমাবেশে অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, সহসভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল ও শাফি ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান ও মাসুদুর রহমান, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মাহমুদ ইসলাম কাজল, ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশচন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা। বক্তারা অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং গুম ও অন্যান্য ইস্যুতে ‘রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা’ বন্ধের আহ্বান জানান।
মিশরের মরুভূমিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা গিজার গ্রেট পিরামিড শুধু প্রাচীন সভ্যতার প্রতীকই নয়, প্রকৌশল বিস্ময়েরও এক অনন্য উদাহরণ। প্রায় ৪ হাজার ৬০০ বছর ধরে অসংখ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানবসৃষ্ট নানা প্রভাব মোকাবিলা করেও এটি আজও দৃঢ়ভাবে টিকে আছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আধুনিক অনেক স্থাপনা ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও গিজার পিরামিডের স্থায়িত্ব দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের বিষয়। সম্প্রতি মিশর ও জাপানের গবেষকদের যৌথ এক গবেষণায় উঠে এসেছে এর পেছনের সম্ভাব্য বৈজ্ঞানিক কারণ। গবেষণায় পিরামিডের বিভিন্ন অংশে উন্নত সেন্সর স্থাপন করে কম্পনের ধরন বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষকদের মতে, পিরামিডের নিজস্ব কম্পনমাত্রা এবং এর নিচের মাটির কম্পনমাত্রা একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে ভূমিকম্পের শক্তিশালী কম্পন কাঠামোর ভেতরে প্রবেশ করলেও তা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে না। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, পিরামিডের অভ্যন্তরে থাকা একাধিক ‘রিলিভিং চেম্বার’ বা চাপ-নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ভূমিকম্পের সময় শক অ্যাবজরবারের মতো কাজ করে। এসব কক্ষ কম্পনের শক্তি শোষণ করে মূল কাঠামোকে সুরক্ষা দেয়। ১৯৯২ সালে কায়রোর কাছে আঘাত হানা ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে আশপাশের বহু ভবন ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও গিজার গ্রেট পিরামিড প্রায় অক্ষত ছিল। গবেষকদের দাবি, এটি প্রাচীন মিশরীয় স্থপতিদের অসাধারণ প্রকৌশল জ্ঞানেরই প্রমাণ। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পিরামিড নির্মাণে ব্যবহৃত বিশাল চুনাপাথর ও গ্রানাইট ব্লকগুলো এমনভাবে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছিল, যা কাঠামোটিকে অধিক স্থিতিশীল করে তোলে। এই ‘ইন্টারলকিং’ পদ্ধতি ভূমিকম্পের সময় পাথরগুলোকে বিচ্ছিন্ন হতে বাধা দেয়। গবেষকদের মতে, খুফুর পিরামিডের সফলতা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং উন্নত নির্মাণ কৌশলের ফল। আধুনিক প্রযুক্তির যুগেও এই স্থাপত্য মানব ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময় হিসেবে বিজ্ঞানীদের মুগ্ধ করে চলেছে। তাই গিজার গ্রেট পিরামিড শুধু একটি সমাধি স্থাপনা নয়; এটি প্রাচীন প্রকৌশল দক্ষতা, বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা এবং মানব মেধার এক অমর নিদর্শন।
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব কেন সংরক্ষিত আসনের সরকারদলীয় নারী এমপিদের দেওয়া হয়েছে, জাতীয় সংসদ তার ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারের যে ‘নিয়ম’ আছে, সে ‘নিয়ম’ অনুযায়ীই এগোচ্ছেন তারা। বুধবার বিকালে সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের এক সস্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ বিষয়ে ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকে বিরোধী দলের সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম, যিনি ব্যারিস্টার আরমান নামে পরিচিত, তিনি প্রশ্ন করে বলেন, “বহুল প্রচারিত পত্রিকায় আমরা জানতে পেরেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সরকার দলীয় মহিলা এমপিদের বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের এলাকায় উন্নয়ন তদারকি করার দায়িত্ব দিয়েছেন। আরও বলা হয়েছে, এসব উন্নয়নে ডিও লেটার ইস্যু করতে পারবেন সরকার দলীয় মহিলা এমপিগণ। “এ তথ্য থেকে আমাদের মধ্যে এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে যে এ কাজ কি তাদেরকে এ জন্য দেওয়া হচ্ছে যাতে আমরা যারা বিরোধী দলীয় এমপি আছি আমাদের এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আমাদের কোনো হক থাকবে না, এটা নিশ্চিত করার জন্যই কি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কিনা, দয়া করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের সামনে পরিষ্কার করবেন।” জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দল থেকে এবং আপনাদের দল থেকে যে সকল নারী সদস্যকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে য়েকদিন আগে, সংবিধানে বা আইনে নির্দিষ্টভাবে তাদের কোন আসন নেই। আপনার বা আমার যে কোন নির্দিষ্ট আসন আছে সেরকম নির্দিষ্ট কোন আসন তাদের নেই। খুব স্বাভাবিকভাবেই আমরা আমাদের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক যে কাঠামো তার ভিত্তিতে আমরা তাদেরকে দলীয় অবস্থান থেকে আমরা কিছু জায়গা তাদের জন্য নির্দিষ্ট করেছি, তারা কোথায় কাজ করবেন।” “আপনার নির্বাচন এলাকায় একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনার সম্পূর্ণ হক আছে যে আপনি আপনার এলাকার উন্নয়নের ব্যাপারে কিভাবে ভূমিকা রাখতে চান? যেহেতু এই সংসদ এই নারী নেতৃবৃন্দকে বা নারী সংসদ সদস্যদেরকে নির্বাচিত করেছেন। খুব স্বাভাবিকভাবেই তাদেরও একই রকমভাবে হক আছে, একই রকমভাবে হক আছে তার এলাকার বা তার এলাকার মানুষের জন্য।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খুব স্বাভাবিকভাবেই আমরা যেটি নিয়ম আছে সরকারের, সেই নিয়ম অনুযায়ী আমরা এগোচ্ছি। আপনার এলাকার যদি কোনো উন্নয়নের কোনো বিষয়ে আমার সহযোগিতা করার কিছু থাকে, জানাবেন।” ৩৫০ আসনের জাতীয় সংসদে ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত। ত্রয়োদশ সংসদে বিএনপি ৩৬, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট ১৩ এবং স্বতন্ত্র থেকে একজন নারী নির্বাচিত হয়েছে।