ভোট সুষ্ঠু হলে ফলাফল মেনে নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ভোট নিয়ে বিভ্রান্ত করা হলে ফল মেনে নেওয়া হবে না। জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারলে গণতন্ত্রের সূচনা হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, মানুষ যাতে তার দেওয়া ভোটের ফল দ্রুত পায়, আশা করি সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচেষ্ট থাকবে। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারলে কোনো ষড়যন্ত্রই টিকবে না। ভোট সুষ্ঠু হলে ফলাফল মেনে নেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, গতকাল থেকেই কিছু রাজনৈতিক দলের দ্বারা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে।
জনগণের শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করবে বলে প্রত্যাশা করি। ভোটে জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।
তারেক রহমান বলেন, আমি সবাইকে আহ্বান করব— আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি যেন ভোটাররা শান্তিপূর্ণ ও সুন্দরভাবে তাদের এই অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। আমরা সকলে মিলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশ তেলের দাম বাড়িয়েছে। বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দাম না বাড়ালেও বিভিন্ন জায়গায় অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এই দাম বাড়ার পেছনে কারা জড়িত, ফেসবুকে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ১১টায় দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, জ্বালানি তেলের দাম সরকার বাড়ায়নি, সিন্ডিকেট বাড়িয়েছে। বাসের ভাড়াও সরকার নয়, সিন্ডিকেটের ইচ্ছেমতো বেড়েছে। পোস্টের মন্তব্যের ঘরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও লিখেছেন, জনগণ আর সিন্ডিকেটের এই ‘সমঝোতা’ গড়ে তোলায় রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ। এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ সকালে ফেসবুকে লিখেছেন, সরকার বলছে দেশে তেলের কোনো সংকট নেই, আমিও এইটার সঙ্গে একমত। আসলেই এখনও এমন কিছুই হয় নাই যে দেশে এত তাড়াতাড়ি তেলের সংকট দেখা দিবে। হয়তো শঙ্কা থাকতে পারে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে, যেহেতু দেশে তেলের সংকট নেই তাহলে প্রত্যেকটা পাম্পে গাড়ির এত লম্বা লম্বা লাইন কেন? তেলের এত হাহাকার কেন? হ্যাঁ, এই প্রশ্নটা আমারও, গতকালও মহাখালীর দিকে প্রত্যেকটা পাম্পে দেখলাম প্রায় এক-দেড় কিলোমিটার লম্বা গাড়ির লাইন। আমি ভুল না করলে দেশের প্রায় প্রত্যেক পাম্পের অবস্থা একই রকম। এইবার আসেন মূল আলাপে, আমাদের দেশে দৈনিক অকটেনের চাহিদা গড়ে ১৩-১৪ লাখ লিটার। এবং এই চাহিদার ৮০ শতাংশই দেশে উৎপাদন করা হয়, যা সরকারি গ্যাসক্ষেত্র ও বেসরকারি ফ্রাকশনেশন প্ল্যান্ট থেকে প্রাপ্ত কনডেনসেট পরিশোধনের মাধ্যমে তৈরি হয়। আর অবশিষ্ট ২০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। অন্যদিকে পেট্রোলের চাহিদার শতভাগই দেশে উৎপাদিত হয়। তাহলে মোট চাহিদার ৮০ শতাংশ অকটেন এবং মোট চাহিদার শতভাগ পেট্রোলই দেশে উৎপাদিত হয়। আর উৎপাদনের উৎস হলো দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রাপ্ত কনডেনসেট এবং ইস্টার্ন রিফাইনারি। আবার তেল মজুত রাখা যায় প্রায় সাড়ে ৬ কোটি লিটার। অর্থাৎ ২০ শতাংশ তেল বিদেশ থেকে আসুক আর না আসুক তেল কিন্তু দেশে ৪০-৫০ দিনের স্টক রয়েছে। এইবার প্রশ্ন হইলো, সবকিছুই ঠিকঠাক, তাহলে পাম্পে এত ভিড় কেন? তেলের জন্য এত হাহাকার কেন? সহজ উত্তর হইলো সিন্ডিকেট। যারা এই কয়দিনে হাজার কোটি টাকা আপনার আমার পকেট থেকে লুট করে নিয়ে গেছে। তাহলে এই সিন্ডিকেট কারা? সরকারের থেকেও কি এই সিন্ডিকেটের শক্তি বেশি?
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগের মতো বর্তমান সরকারও দ্বিচারিতা ও সংবিধানকে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করছে। এ প্রবণতা চললে জনগণ আবারো রাজপথে নেমে তাদের রায় দেবে। শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের কলেজ রোড এলাকায় সংগঠনটির প্রথম জেলা ও মহানগর সাধারণ সভায় তিনি এ কথা বলেন। নারায়ণগঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ ইতোমধ্যেই দলটির একটি শক্তিশালী ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ আরও শক্তিশালী ঘাঁটিতে পরিণত হবে—এটা আমি ভবিষ্যৎ মনে করি না, বরং বর্তমান বাস্তবতা। অলরেডি নারায়ণগঞ্জ এনসিপির একটি শক্ত ঘাঁটি। সংগঠন শক্তিশালী করার পেছনে স্থানীয় নেতাকর্মীদের অবদানের কথা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, এটার জন্য অবশ্যই কৃতিত্ব আপনাদের, যারা গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে কাজ করেছেন। এ সময় তিনি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ আব্দুল্লাহ আল আমিনকে। নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে নারায়ণগঞ্জকে একটি মাফিয়া এলাকা হিসেবে পরিচিত করা হয়েছিল। এখানকার রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করত বিভিন্ন গডফাদার ও মাফিয়ারা। গত বছর ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই গডফাদার ও মাফিয়ারা পরাজিত হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। বর্তমান সংগ্রামের লক্ষ্য নিয়ে তিনি বলেন, এখন আমাদের সংগ্রাম হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি ও অর্থনীতিকে এখানকার মানুষের জন্য গড়ে তোলা—যাতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয় এবং তাদের পক্ষে কথা বলা হয়। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে যাতে নতুন করে কোনো গডফাদার বা মাফিয়া তৈরি না হয়, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক থাকব। নারায়ণগঞ্জের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এনসিপি সবচেয়ে দৃঢ় অবস্থানে থাকবে। সভায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক যুবায়ের সরদার, সদস্য সচিব জোবায়ের হোসেন (তামজিদ), সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হান, মহানগরের আহ্বায়ক মো. শওকত আলী, সদস্য সচিব আশিকুর রহমান চৌধুরী (অভি), সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদ আলম, জেলা ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব সারফারাজ হক সজীব, মহানগর ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলামসহ অনেকে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, ‘হাসিনা সরকার আসার পর দেশ নকলে সয়লাব হয়ে গিয়েছিল। এখন থেকে নকল করে পরীক্ষায় পাস করা আর চলবে না।’ শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড সম্মেলন কক্ষে শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পাবলিক পরীক্ষায় নকল শুরু করেছিল শিক্ষকরা, বন্ধও করেছিল শিক্ষকরা। আবার হাসিনা সরকার আসার পর দেশে নকলে সয়লাব হয়ে গিয়েছিল। এখন থেকে নকল করে পরীক্ষা আর চলবে না। সেক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমার প্রতি আস্থা রেখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছে। এই মন্ত্রণালয় আমার জন্য এবাদতখানা। আপনারা শিক্ষকরা যদি একজন ছাত্রকে মানুষ বানাতে পারেন সেটা আপনার জন্য সদকায়ে জারিয়া। এজন্য আপনাদের জন্যও এটা এবাদতখানা।’ নকল বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী আমলের মতো পরীক্ষা এদেশে আর হবে না। তখন শিক্ষকদের হাতে ২টা কলম থাকতো। ১টা কালো আরেকটা লাল। কালো কলম দিয়ে শিক্ষকরা ছাত্রদের খাতায় লিখে দিতো। শিক্ষকরা নকল সরবরাহ করতো। এখন থেকে তা বন্ধ। আগামী পরীক্ষা হবে নকলমুক্ত পরীক্ষা।’ মন্ত্রী বলেন, ‘সামনে এসএসসি পরীক্ষা। প্রতিটা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। শুধু পরীক্ষার সময়ই না, সর্বদা প্রতিটা প্রতিষ্ঠান ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামসুল ইসলাম, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাশার, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া, মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, সিনিয়র সহ সভাপতি আমিরুজ্জামান ভুঁইয়াসহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা।