ডিসেম্বর মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে এলপি গ্যাসের নতুন মূল্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ২১৫ টাকা থেকে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ২৫৩ টাকা। নতুন দাম আজ মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হচ্ছে।
একই সঙ্গে অটোগ্যাসের দামও সমন্বয় করেছে বিইআরসি। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৫৫ টাকা ৫৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫৭ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছে।
এর আগে ২ নভেম্বর এলপি গ্যাসের দাম সমন্বয় করে বিইআরসি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২৬ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ২১৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল। একই সময়ে অটোগ্যাসের দামও কমানো হয়েছিল—৫৬ টাকা ৭৭ পয়সা থেকে কমে দাঁড়িয়েছিল ৫৫ টাকা ৫৮ পয়সা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশঙ্কা করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন ব্যাহত হলে দেশের গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। এতে শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতেও চাপ বাড়বে। পরিশোধিত জ্বালানি তেল এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আসায় এ ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালির নির্ভরতা কম। ফলে আগামী জুন পর্যন্ত জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে আপাতত কোনো সংকট দেখছে না বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেল সরবরাহে ঝুঁকি দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ১৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। এর সঙ্গে আমদানি করা এলএনজি থেকে যুক্ত হচ্ছে আরো ৮০০ থেকে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে মোট সরবরাহের বড় অংশই এখন আমদানিনির্ভর। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় আনা প্রায় পুরো এলএনজি হরমুজ প্রণালি হয়ে আসে। ২০১৮ সাল থেকে জিটুজি ভিত্তিতে কাতার থেকে এলএনজি আমদানি শুরু করে বাংলাদেশ। পরে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ওমান থেকেও আমদানি শুরু হয়। পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্র জানায়, বছরে প্রায় ৬০ লাখ টন এলএনজি আমদানি করা হয়, যার মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ টনই আসে কাতার থেকে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক বলেছেন, চলতি মাসে অন্তত ৯টি এলএনজি কার্গো মহেশখালীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে ১৫ থেকে ১৮ তারিখের মধ্যে ১-২টি কার্গো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে চাপ এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে দেশজুড়ে শিল্প খাতে গ্যাস-সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর ফলে শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, আবাসিক এবং পরিবহনসহ প্রায় সব খাতেই বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল, গার্মেন্টস, সিরামিক ও স্টিলসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্পে কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে যদি এলএনজি আমদানি ব্যাহত হয়, তাহলে শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ সব ক্ষেত্রেই গ্যাস সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। গার্মেন্টস ও সিরামিক খাতের একাধিক উদ্যোক্তা জানিয়েছেন, গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারা কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছেন না। এখন যদি গ্যাসের সরবরাহ আরো কমে যায় তাহলে শিল্পের উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হবে। একইসঙ্গে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। শিল্পে গ্যাসের সংকট কাটাতে বিকল্প দেশগুলো থেকে এলএনজি আমদানির অনুরোধ জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। গ্রীষ্মকাল সামনে রেখে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে লোডশেডিং বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম বেড়ে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং শিল্প খাতে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। বিপিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেছেন, এখন দিন দিন বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে, ফলে বাড়তি জ্বালানিরও প্রয়োজন হচ্ছে। ফলে জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব পড়বে। এখন গ্যাস থেকে আমরা ৫০০০ মেগাওয়াট উৎপাদন করছি। বাকিটা কয়লা, তেল ও আমদানি থেকে আসছে। জ্বালানি তেল সরবরাহ আপাতত স্বস্তিতে এদিকে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে তাৎক্ষণিক সংকট দেখছে না বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ২০ দিনের জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। সমুদ্রপথে এবং খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে আরো ২০ থেকে ২৫ দিনের সরবরাহ। সরকার জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ২৮ লাখ ২০ হাজার টন তেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে বড় অংশ উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, চীন ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা হবে। ফলে এ ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা নেই বলে জানিয়েছে বিপিসি। বিপিসির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, জ্বালানি তেল আমদানির চুক্তিগুলো সাধারণত ছয় মাস মেয়াদি হয় এবং আগামী জুন পর্যন্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। চীন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া থেকে তেল আসবে, যে রুটে ইরান সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ার কথা নয়। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানিতে সংঘাত দীর্ঘ হলে প্রভাব পড়তে পারে। বিকল্প হিসেবে ফুজাইরাহ টার্মিনাল ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ—এই তিনটি বড় ঝুঁকি সামনে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেছেন, "আশা করছি শিগগিরই যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। সে ক্ষেত্রে জ্বালানি নিয়ে তেমন একটা সমস্যা হবে না বাংলাদেশের। এ ক্ষেত্রে এলএনজি সরবরাহে কিছুটা বিঘ্ন হতে পারে। তবে দুই সপ্তাহের মধ্যে সংঘাত বন্ধ না হলে সব ধরনের জ্বালানি সরবরাহে বড় সংকট হবে। পাশাপাশি ব্যয়ও বাড়বে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ডিসেম্বর, জানুয়ারির পর ফেব্রুয়ারিতেও তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। গত মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে ৩০২ কোটি ডলার এসেছে। এর আগে জানুয়ারিতে ৩১৭ ও ডিসেম্বরে এসেছিল ৩২২ কোটি ডলার। রবিবার (১ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০২ কোটি ১০ লাখ ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১০ কোটি ৭৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২৫২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে এসেছে ২ হাজার ২৪৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ। এর আগে জানুয়ারি মাসে দেশে এসেছে ইতিহাসে কোনো এক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ ও চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।
বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান বলেছেন, সরকার ও বেসরকারি খাতের কার্যকর উদ্যোগের ফলে এ বছর রমজানে বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে লক্ষণীয় স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে। আজ শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণে উন্নত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি ডিসিসিআই অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান। এ এইচ এম আহসান বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় যোগান ও চাহিদার সঠিক সমন্বয়ের কোনো বিকল্প নেই। তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যবহার ও বণ্টন বিষয়ে সঠিক তথ্য নিশ্চিত করার গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হলে উদ্যোক্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় কমে যায়, যা পণ্যের দামে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।’ বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং নবনির্বাচিত সরকার সকল স্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও বাজার ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু থাকার কোনো বিকল্প নেই, যা গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিশ্চিতের মাধ্যমে যা আরও সহজতর হবে। তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা গেলে, রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন সম্ভব হবে, যা আইন ও নীতি বহির্ভূত কার্যক্রম হ্রাসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে এ বিষয়ে দ্রুততার সাথে কিছু সংস্কার কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে, যার মাধ্যমে দৃশ্যমান পরিবর্তন পরিলক্ষিত হবে এবং জনগণের মাঝে আশার সঞ্চার হবে বলে তিনি অভিমত দেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি অধিশাখা) শিবির বিচিত্র বড়ুয়া বলেন, সার্বিক উন্নয়নের জন্য উন্নত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো বিকল্প নেই। তিনি জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আইপিও নীতি ২০২৫-২৮ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যা ব্যবসা ও বিনিয়োগ কার্যক্রমকে আরও সহজ করবে। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ স্বাগত বক্তব্যে বলেন, গত কয়েক বছরে বেসরকারি খাত প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। এর কারণ হিসেবে তিনি সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি, আইন-শৃঙ্খলার অপ্রত্যাশিত অবনতি, চাঁদাবাজি, অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রশাসনিক জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের কথা উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নব-নির্বাচিত সরকার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজীকরণে উদ্যোগী হবে। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ ও অনুমেয় পরিবেশ নিশ্চিতের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসরকারি খাত, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নীতিনির্ধারক ও অর্থনৈতিক মন্ত্রণালয় বা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল জলিল বলেন, দেশে উৎপাদিত আলুতে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে এর মান নষ্ট হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মান পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশ বিদেশে আলু রপ্তানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি কৃষক, উদ্যোক্তা ও সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ যানজট হ্রাসে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে দোকান বসানো থেকে বিরত থাকতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান এবং বিশেষ করে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পক্ষ হতে সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন। মুক্ত আলোচনায় ব্যবসায়ী হাজি আবুল হাশেম বলেন, যানজট ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ব্যবসায়ীদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। সরকারকে এসব সমস্যা সমাধানে শক্ত ভূমিকা নিতে হবে। তিনি সহনীয় ভ্যাট ও করনীতির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন, যাতে ব্যবসায়ীরা স্বাচ্ছন্দ্যে কার্যক্রম চালাতে পারেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজি মো. গোলাম মওলা, বাংলাদেশ ক্রোকারিজ মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনে সভাপতি হাজি মো. মনির হোসেন, মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজি মোহাম্মদ আলী ভূট্টো, ঢাকা চেম্বারের সাবেক ঊর্ধ্বত সহ-সভাপতি এম এস সেকিল চৌধুরী এবং নাহার কোল্ডস্টোরেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল ইসলাম খান বক্তব্য রাখেন।