প্রবাসী

ভিসা ইস্যুতে বাংলাদেশকে বড় দুঃসংবাদ দিল অস্ট্রেলিয়া

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ভিসার জন্য আবেদনে ‘স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত সমস্যার’ কারণে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার চারটি দেশকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে অস্ট্রেলিয়া। এই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান। এর ফলে এসব দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন এখন থেকে আরও কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় অধ্যয়নে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছিল এই চার দেশের নাগরিক। অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন দপ্তরের সাবেক উপসচিব ড. আবুল রিজভি জানান, অত্যন্ত অস্বাভাবিকভাবে চারটি দেশকে এভিডেন্স লেভেল টু থেকে এভিডেন্স লেভেল থ্রি-এ স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

এর আগে অস্ট্রেলিয়ার হোম অ্যাফেয়ার্স বিভাগের এক মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ৮ জানুয়ারি দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের এভিডেন্স লেভেল পরিবর্তন করা হয়েছে। তার ভাষায়, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে ভিসা আবেদনে নতুন করে সামনে আসা স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী প্রকৃত শিক্ষার্থীদের সুযোগও বজায় থাকবে। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ান সরকার চায় শিক্ষার্থীরা দেশটিতে অবস্থানকালে একটি ইতিবাচক শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা লাভ করুক এবং উচ্চমানের শিক্ষা গ্রহণ করুক। এ জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থা ও স্টুডেন্ট ভিসা প্রোগ্রামে একটি শক্ত কাঠামো থাকা জরুরি।

এভিডেন্স লেভেল থ্রি রেটিংয়ের অর্থ হলো, ভিসা আবেদনকারী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সক্ষমতা ও শিক্ষাগত ইতিহাসসংক্রান্ত আরও বিস্তারিত নথিপত্র জমা দিতে হবে। এ বিষয়ে ড. রিজভি বলেন, এভিডেন্স লেভেল যত বেশি হয়, তত বেশি কাগজপত্রের প্রয়োজন হয় এবং যাচাই প্রক্রিয়ায় বাড়তি ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপ থাকে। প্রয়োজনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে ট্রান্সক্রিপ্ট যাচাই করা হতে পারে, এমনকি ব্যাংকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হতে পারে।

সাধারণত প্রতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে আগের বছরের তথ্যের ভিত্তিতে এসব রেটিং হালনাগাদ করা হলেও বছরের শুরুতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে কারণ হিসেবে ড. রিজভি মনে করেন, গত ডিসেম্বরের শুরুতে ভারতে বড় ধরনের ভুয়া ডিগ্রি জালিয়াতি উদ্ঘাটনের ঘটনা প্রভাব ফেলতে পারে। সে সময় দেশটিতে এক লাখের বেশি সন্দেহজনক সনদ জব্দ করা হয়।

এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান উৎস বাংলাদেশ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশি আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতা ও শিক্ষাগত পটভূমি আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। ভিসা আবেদনপ্রক্রিয়ায় বেশি প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে এবং যাচাইকরণে সময়ও আগের তুলনায় বেশি লাগবে। ফলে অনেক শিক্ষার্থীর জন্য ভিসা পাওয়া আরও কঠিন ও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠতে পারে।

 

ড. আবুল রিজভি বলেন, নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি সময় লাগবে। তবে একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া সরকার ২০২৬ সালের জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ঘোষিত কোটা অপরিবর্তিত রেখেছে। ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ বছর ২ লাখ ৯৫ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার সুযোগ পাবে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৫ হাজার বেশি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলা, সৌহার্দ্য বাড়াতে বর্ণাঢ্য আয়োজন

মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি জোরদার করতে আয়োজন করা হয়েছে ‘চিত্তবিনোদন ও মিলনমেলা ২০২৬’। শনিবার নেগারি পুলাওয়ের পেজাবাত পারকেসোতে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।   যৌথভাবে এ আয়োজন করে কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন ও মালয়েশিয়ার সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থা পারকেসো।   অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পারকেসোর ফরেন ওয়ার্কার্স ডিভিশনের প্রধান হারিরি হারুন ও পরিচালক পুয়ান রাফিদাহ বিনতি আব্দুল রহিম।   এছাড়া পারকেসোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন রেমিট্যান্স হাউসের প্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি এতে অংশ নেন।   অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত এবং পারকেসোর সেবাসংক্রান্ত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিনিস্টার (শ্রম) মো. সিদ্দিকুর রহমান।   উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রবাসীরা সরাসরি হাইকমিশনার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।   প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাইকমিশনার প্রবাসীদের ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের অধিকার সুরক্ষা ও কল্যাণে হাইকমিশন কাজ করে যাচ্ছে।   অনুষ্ঠানের শেষাংশে প্রবাসী শিল্পীদের পরিবেশনায় দেশাত্মবোধক ও লোকজ সংগীতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। পরে অংশগ্রহণকারীদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা করা হয়।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ওমানে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, শ্রমিক ভিসা চালু নিয়ে জোরালো আশাবাদ

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে ব্যাপক ধরপাকড়, এক সপ্তাহে গ্রেপ্তার ১২ হাজারের বেশি

ছবি : সংগৃহীত

হিশাম গ্রেপ্তার, লিমন-বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য

ছবি : সংগৃহীত
মালদ্বীপে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান, বিপাকে বাংলাদেশিরা

মালদ্বীপে অবৈধভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান ‘অপারেশন কুরাঙ্গি’র তৃতীয় ধাপ আগামী ২ মে থেকে শুরু হচ্ছে। এ ধাপে ভিসা ফি পরিশোধ না করা এবং তথ্য জমা না দেওয়া অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইহুসান।   সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এই অভিযানের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপর। ২০২৪ সালের ২ মে থেকে মালদ্বীপে কর্মরত অভিবাসীদের তথ্য সংগ্রহে বিশেষ অভিযান শুরু করে দেশটির সরকার, যার মধ্যে ‘অপারেশন কুরাঙ্গি’ অন্যতম উদ্যোগ। সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইহুসান বলেন, অভিযান শুরুর আগে মাত্র ২৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ অভিবাসী বৈধভাবে কর্মরত ছিল, বাকিদের কোনো সঠিক তথ্য ছিল না। তবে গত দুই বছর ধরে পরিচালিত অভিযানের ফলে এই হার বেড়ে ৬২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তিনি আরও জানান, এখনো ২ হাজার ৯৩৩ জন অভিবাসী তাদের তথ্য জমা দেননি। আগামী এক বছরের মধ্যে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। অভিবাসীদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন কুরাঙ্গি’র তৃতীয় ধাপ শুরু হলে ভিসা ফি পরিশোধ না করা এবং তথ্য না দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবারের অভিযান আরও কঠোরভাবে পরিচালিত হবে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্থানীয় প্রভাব বা সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না। একবার আটক হলে ছাড় পাওয়ার সুযোগও থাকবে না বলে জানানো হয়েছে। তাই মালদ্বীপে অবস্থানরত অভিবাসীদের দেশটির আইন মেনে চলার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

মালয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়র লেকচারার হিসেবে আমন্ত্রণ পেলেন শাপলা খানম

ছবি: সংগৃহীত

নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে মালয়েশিয়ায় ভার্চুয়াল ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের প্রভাব: মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসীদের কাজ হারানোর শঙ্কা, বাড়ছে খরচের চাপ

ছবি: সংগৃহীত
ইতালিতে বাংলাদেশি ৩৩ বছর বয়সী যুবক বহিষ্কার, রোমের সিপিআরে হস্তান্তর

  ইতালিতে অনিয়মিত অবস্থান, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও প্রশাসনিক নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে ৩৩ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি যুবককে দেশ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালির ফ্রোজিনোনে প্রদেশের পুলিশ প্রশাসন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে আটক করে রোমের পন্তি গালেরিয়া সিপিআর (সেন্ত্রো দি পারমানেনৎসা পের ইল রিমপাত্রিও) কেন্দ্রে হস্তান্তর করা হয়েছে, যেখান থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।   পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই যুবক দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে অনিয়মিতভাবে অবস্থান করছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল। ফ্রোজিনোনে প্রদেশের কোয়েস্তোরে (পুলিশ কমিশনার) তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ জারি করেন। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।   আটকের পর তাকে সরাসরি রোমের পন্তি গালেরিয়া সিপিআর কেন্দ্রে নেওয়া হয়। এই কেন্দ্রটি মূলত বহিষ্কারের অপেক্ষায় থাকা বিদেশি নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত একটি প্রশাসনিক হোল্ডিং সেন্টার, যেখানে পরিচয় যাচাই, ভ্রমণ নথি প্রস্তুত এবং নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।   ইতালির অভিবাসন আইন অনুযায়ী, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থান, আদালত বা প্রশাসনিক নির্দেশ অমান্য, কিংবা জননিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ জারি করা হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে অনিয়মিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নজরদারি আরও জোরদার করেছে প্রশাসন।   বিশেষ করে রোম, মিলান, নেপলস ও ফ্রোজিনোনের মতো এলাকায় বসবাসরত প্রবাসীদের মধ্যে বৈধ নথি নবায়ন, বসবাসের অনুমতি এবং কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কারণ প্রশাসনিক সামান্য জটিলতাও অনেক সময় বহিষ্কারের মতো কঠিন পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে।   প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা বলছেন, ইতালিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বৈধ কাগজপত্র হালনাগাদ রাখা এবং আইন মেনে চলা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় আটক, সিপিআরে স্থানান্তর এবং দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি বাড়ছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার বাসার বাইরে পুলিশের অভিযান। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হিশাম, কে এই ব্যক্তি?

নিহত মুরাদ শেখ। ছবি : সংগৃহীত

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বৃষ্টি মৃত অবস্থায় উদ্ধার

0 Comments