বিশ্ব

ভেনেজুয়েলায় শত শত রাজনৈতিক বন্দির মুক্তির সম্ভাবনা

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বৃহস্পতিবার একটি ক্ষমা আইনে স্বাক্ষর করেছেন। যার ফলে শত শত রাজনীতিবিদ, কর্মী, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী অচিরেই মুক্তি পেতে পারেন। এই আইনের মাধ্যমে সরকার প্রথমবারের মতো পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছে যে দেশে রাজনৈতিক কারণে অনেকে বন্দি রয়েছেন। যা গত কয়েক দশক ধরে অস্বীকার করে আসছিল। খবর আলজাজিরার।

 

এই ক্ষমা আইন স্বাক্ষরিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর গত ৩ জানুয়ারি কারাকাসে হামলা এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর সরকারের সাম্প্রতিক সংস্কারের পথে ফেরার একটি অংশ হিসেবে। গত ২৭ বছরে ক্ষমতাসীন দলের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া বিরোধী নেতা, কর্মী, মানবাধিকার রক্ষাকর্মী, সাংবাদিকসহ অনেকেই এই আইনের সুবিধাভোগী হতে পারেন।

আইনটি ২০০২ সালের স্বল্পকালীন অভ্যুত্থান, ২০০৪ সাল থেকে বিভিন্ন মাসে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ ও নির্বাচনের সময়কার রাজনৈতিক প্রতিবাদ ও ‘হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডে’ জড়িতদের ক্ষমা প্রদান করবে। পূর্ববর্তী খসড়ায় অবৈধ কার্যকলাপ উসকে দেওয়া, কর্তৃপক্ষের বিরোধিতা, বিদ্রোহ ও রাষ্ট্রদ্রোহের মতো অভিযোগের কথা উল্লেখ ছিল। তবে চূড়ান্ত আইনে নির্দিষ্ট অপরাধের বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হয়নি।

আইনটি ২০১৯ সালের ঘটনায় সামরিক বিদ্রোহের অভিযোগে দণ্ডিতদের ক্ষমা প্রদান করবে না। এছাড়া রাজনৈতিক কারণে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকৃতদের সম্পদ ফেরত, রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা গণমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

ভেনেজুয়েলার বন্দি অধিকার সংগঠন ফোরো পেনালের হিসাব অনুসারে, গত ৮ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৪৪৮ জন মুক্তি পেয়েছেন। তবে রাজনৈতিক কারণে এখনো ৬০০-এর বেশি বন্দি রয়েছেন। বন্দিদের পরিবারের সদস্যরা কয়েক সপ্তাহ ধরে আটককেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষা করছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ আগের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেননি।

এই আইন স্বাক্ষরের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক সংকটের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বন্দিদের পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এখনো সন্দিহান রয়েছে যে আইনটি কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের আকাশ নিরাপত্তায় বড় হুমকি হয়ে উঠেছে রুশ ড্রোন

যুদ্ধক্ষেত্রে একের পর এক নতুন প্রযুক্তি ও সামরিক অস্ত্রের ব্যবহারের মধ্য দিয়ে ড্রোন যুদ্ধের সমীকরণ বদলে দিচ্ছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা খাতকে ফাঁকি দিতে রুশ বাহিনী তাদের অস্ত্রাগারে যুক্ত করেছে শক্তিশালী ও উচ্চগতির কামিকাজে ড্রোন ‘গেরান-৫’।      আগের প্রোপেলারচালিত ড্রোনের তুলনায় এটিকে ক্রুজ মিসাইলের আদলে তৈরি করা হয়েছে, যা শনাক্ত করা সাধারণ এয়ার ডিফেন্সের জন্য বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।        রাশিয়ার এই ড্রোনটি মূলত পূর্ববর্তী শাহেদ বা ‘গেরান’ সিরিজের নতুন রূপান্তর হলেও এতে যুক্ত করা হয়েছে শক্তিশালী টার্বোজেট ইঞ্জিন। যেখানে আগের সংস্করণগুলোর সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ১৫০ থেকে ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে, সেখানে ‘গেরান-৫’ ড্রোনের গতি ঘণ্টায় ৪৫০ থেকে ৬০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।        এর সর্বোচ্চ উড্ডয়ন দূরত্ব প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার এবং এটি প্রায় ৮৫০ কেজি টেক-অফ ওজন নিয়ে মাটির ২০০ মিটার থেকে শুরু করে প্রায় ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার উচ্চতায় উড্ডয়ন চালাতে সক্ষম। এছাড়া এটি প্রায় ৯০ কেজির ভারী বিস্ফোরক বহন করতে পারে, যা দিয়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে মারাত্মক আঘাত হানা সম্ভব।        ড্রোনটিতে ১২-চ্যানেলের কমেটা স্যাটেলাইট নেভিগেশন ও এআই চালিত প্রযুক্তির ব্যবহার থাকায় এটি শত্রুপক্ষের সিগন্যাল জামিং বা ইলেকট্রনিক আক্রমণও সহজে রুখে দিতে পারে।        সমর বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সুখোই-২৫ যুদ্ধবিমান থেকেও এই ড্রোন আকাশে উৎক্ষেপণ করার সুবিধা রয়েছে। প্রথাগত ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক কম খরচে তৈরি এই ড্রোন ক্রুজ মিসাইলের মতো কার্যকারিতা দেওয়ায় তা প্রতিপক্ষের অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।    ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা, আন্তর্জাতিক সামরিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোবাল মিলিটারি নেটওয়ার্ক’ এবং গ্লোবাল ডিফেন্স সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, অতি সম্প্রতি ১৯ সেপ্টেম্বর ইউক্রেনীয় বাহিনী তাদের নতুন তৈরি ইন্টারসেপ্টর ড্রোনের সাহায্যে একাধিক ‘গেরান-৫’ ভূপাতিত করার দাবি করলেও, উচ্চগতির এই ড্রোন বর্তমানে আকাশ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠেছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানি বাড়িয়েও জেট জ্বালানি সংকটে ইউরোপ

ইরান যুদ্ধের প্রভাবকে ‘ভূমিকম্প’ বললেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী

কেন বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম?

মঙ্গলবার থেকে বিদেশি ফ্লাইট বন্ধ রাখতে পারে ইরান

মঙ্গলবার থেকে সব দেশ থেকে ইরানে আসা ফ্লাইট বন্ধ রাখতে পারে ইরান। এই সিদ্ধান্ত কয়েক দিন কার্যকর থাকতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটি।   রোববার ইরাকের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাতে শাফাক নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।   ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরান ইরাকি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে সব দেশের ফ্লাইট গ্রহণ বন্ধ করার সম্ভাবনা রয়েছে।   তবে এখনো ইরাকে বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ইরানে ফ্লাইট বন্ধ রাখার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পায়নি।   ফলে ইরানে ফ্লাইট চলাচল সত্যিই বন্ধ হবে কি না এবং হলে কত দিন বন্ধ থাকবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: শাফাক নিউজ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

এআই ব্যবস্থাকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে বেইজিং

মস্কোয় ইউক্রেনের হামলায় তেল শোধনাগারে আগুন

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে পাকিস্তানের জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি

ইসরায়েলকে ৫৪ হাজার টন মারণাস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ক্ষুব্ধ মার্কিন রাজনীতিবিদেরা

ইসরায়েলের কাছে অত্যন্ত বিধ্বংসী ও প্রতিটি ২ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৯০৭ কেজি) ওজনের মোট ৬০ হাজার শক্তিশালী বোমা বিক্রির চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। কয়েক শ কোটি ডলারের এই চুক্তির সিংহভাগ ব্যয় মেটানো হবে খোদ মার্কিন করদাতাদের অর্থে। মার্কিন কংগ্রেসকে এরই মধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।   ইতিহাসে এর আগে কখনোই একসঙ্গে এত বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্র ইসরায়েলে পাঠায়নি ওয়াশিংটন। গাজায় প্রায় তিন বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানের মুখে মধ্যপ্রাচ্য যখন চরম মানবিক সংকটে, ঠিক তখনই এ বিশাল অস্ত্র চুক্তির খবর প্রকাশ্যে এল।   সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রায় ২৮০ কোটি মার্কিন ডলার। এ ব্যয়ের বড় অংশ মেটানো হবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিং’ (FMF) কর্মসূচির আওতায়—যেখানে মার্কিন সরকার তার নিজস্ব তহবিল থেকে ইসরায়েলকে অস্ত্র কেনার অনুদান দেয়।   সম্ভাব্য এ চুক্তির অধীনে মূলত তিন ধরনের ভারী বোমা সরবরাহ করা হবে: এমকে-৮৪ (MK-84): প্রায় ২ হাজার পাউন্ড ওজনের এই জেনারেল পারপাস বোমাটি বড় বড় বহুতল ভবন গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম। এটি বিস্ফোরণস্থল থেকে শত শত মিটার এলাকার কাঠামো ধসিয়ে দিতে পারে।   বিএলইউ-১১৭ (BLU-117): এমকে-৮৪-এর সমওজনের এ বোমায় উন্নত রাসায়নিক বিস্ফোরক ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী (প্রিসিশন-গাইডেড) প্রযুক্তি যুক্ত থাকে। এছাড়া এতে বিশেষ তাপপ্রতিরোধী প্রলেপ রয়েছে।   আই-২০০০ পেনিট্রেটর (বাংকার বাস্টার): প্রায় ২ হাজার পাউন্ডের অত্যন্ত শক্তিশালী এ বোমাটি মাটির নিচে বা কয়েক ফুট পুরু কংক্রিটের কাঠামো ভেদ করে বিস্ফোরিত হতে পারে। এর ধাতব বহিরাবরণ সাধারণ বোমার চেয়ে বহুগুণ শক্ত।   এর আগে বেসামরিক প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালে জো বাইডেন প্রশাসন ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমার চালান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেন এবং কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই দফায় দফায় শত শত কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির ছাড়পত্র দেন।   প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ২ হাজার পাউন্ডের ৬০ হাজার বোমার মোট ওজন প্রায় ৫৪ হাজার ৪০০ টন। এই ধ্বংসক্ষমতা প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের মূল কাঠামোর চেয়ে প্রায় সাত গুণ ভারী এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পুরো সময়ে জার্মানির বার্লিনের ওপর ফেলা সব বোমার মোট ওজনের সমান। ১৯৪৫ সালে জাপানের টোকিওতে এক রাতের হামলায় প্রায় ৮০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল মাত্র ১ হাজার ৬০০ টন বোমায়; তার তুলনায় এই চালান প্রায় ৩৫ গুণ বেশি ভারী।   গবেষণা অনুযায়ী, একটি ২ হাজার পাউন্ডের বোমা যেখানে পড়ে সেখানে প্রায় ৫০ ফুট চওড়া ও ১৬ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়। আল-জাজিরার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, গাজায় এ ধরনের উচ্চতাপযুক্ত (থার্মোবারিক) বোমা বিস্ফোরণে ৩ হাজার ৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা তৈরি হওয়ায় অন্তত ২ হাজার ৮৪২ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ সম্পূর্ণ বাষ্পীভূত হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।   এদিকে পেন্টাগনের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইউক্রেনকে সহায়তা এবং চলমান মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার কারণে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেরই গোলাবারুদের মজুত, বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষার ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইতিহাসের সেরা প্রযুক্তি ও অস্ত্র তৈরি করছে।   অন্যদিকে মার্কিন করদাতাদের অর্থে ইসরায়েলকে এই অস্ত্র দেওয়ার সিদ্ধান্তে ওয়াশিংটনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন এই চুক্তি ঠেকাতে তৎপর হওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত সরকারের হাতে মার্কিন নাগরিকদের টাকা তুলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রক্ষণশীল বিশ্লেষক টাকার কার্লসন এবং সাবেক রিপাবলিকান প্রতিনিধি মার্জোরি টেলর গ্রিনও এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে জানান, সাধারণ আমেরিকানরা এই প্রাণঘাতী আগ্রাসনের জন্য অর্থ দিতে চান না।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

মক্কা চুক্তির আওতায় সৌদির সামরিক চাহিদা পূরণে প্রস্তুত তুরস্ক

ছবি: সংগৃহীত

রিয়াদ বিমানবন্দরের কাছে অগ্নিকাণ্ড, ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের আশঙ্কা

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

বাইরের শক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের টেকসই নিরাপত্তা অর্জন অসম্ভব: আরাগচি

0 Comments