বাংলাদেশ বিমানের টিকিটিং সিস্টেমে ডেটা ইন্টেগ্রেশন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে কারিগরি পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরেছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুকের এক পোস্টে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে বাংলাদেশ বিমানের পরিচালক হিসেবে আমি জয়েন করিনি। হ্যাঁ, আমার নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে জয়েনিং লেটারে স্বাক্ষর করিনি, অফিস করিনি, বোর্ডেও বসিনি কখনো।’
‘বিষয়টি আমি সাবেক উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ স্যার, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়কে জানিয়েছিলাম। তবে বাংলাদেশ বিমানের টিকিটিং সিস্টেমে জালিয়াতি রোধে, গ্রুপ ও ব্লক বুকিং-ক্যান্সেলেশন-বুকিং রিনিউ, এজেন্ট আইডি ব্যবহার ও পুনঃব্যব্যহার প্রক্রিয়াসহ GDS/NDC>PSS>RAPD/RMS ইত্যাদির সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, লগ রেকর্ডিং, অডিট এবং ডেটা অ্যানালাইটিক্স সম্পর্কে আমার টিমকে নিয়ে একটি ছোট টেকনিক্যাল রিপোর্ট করেছিলাম।’
‘এখানে বিমানের সেলস/মার্কেটিং এবং আইটি টিম দুটির মধ্যে সমন্বয়হীনতাসহ জিডিএস, পিএসএস সিস্টেমের লগ রেকর্ডহীনতা, পেমেন্ট সেটেলমেন্টের সাথে গ্রুপ/ব্লক বুকিংয়ের ফারাক ইত্যাদি ধরা পড়ে। পাশাপাশি এমাডিউস/গ্যালিলিউ/সাব্রে সিস্টেমের রেভিনিউ ম্যাপিং, সফ্টওয়্যার সাপ্লায়ার থেকে ডেটা শেয়ারিং, এক্সেস টু বুকিং/পেমেন্ট/গ্রুপ ব্লকিং/ব্লকিং রিনিউ ডেটা এবং ডেটা অ্যানালাইটিক্স অনুপস্থিতি প্রকটভাবে ফুটে উঠে। প্রায়ই দেখা যায়, সেলস টিমের কর্তারাই পরবর্তীতে বিমানের এমডি হন, গ্রুপ বুকিং/ব্লকিংয়ের এই নেক্সাস সম্পর্কেও অবহিত হয়েছি। ফেইক প্যাসেঞ্জার ইনফো ও পাস্পোর্ট ডেটা দিয়ে গ্রুপ ও ব্লক বুকিং করে পরে প্যাসেঞ্জার ইনফো এবং পাস্পোর্ট তথ্য পরিবর্তন বিমানের বড় সমস্যা বলে আমাদের মনে হয়েছে।’
‘সাথে সাথে আন্তঃমন্ত্রণালয় কন্সাল্টেশন পর্যায়েও আমরা টিকিটিংয়ের কারিগরি প্রসেস, ডেটা/লগ এক্সেস এবং ডেটা অ্যানালাইটিক্স সংক্রান্ত কিছু পলিসি ইনপুট দিয়েছিলাম। বিমানের টপ ম্যানেজমেন্ট আমাদের কাজে খুশি হয়ে আমার নাম প্রস্তাব করে থাকতে পারেন, সেজন্য মৌখিকভাবে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি।’
‘আমাদের পরামর্শ ছিল প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার রিয়েল টাইম এজেন্ট লগইন ডেটা টাইম-স্ট্যাম্পসহ দিতে হবে। এখানে যা যা থাকবে- ক। গ্রুপ ও ব্লক বুকিং এর তথ্য, ভলিউম, বুকিং ভ্যালু, বুকিং আইডি, বুকিং ও পেমেন্ট এর টাইম-স্ট্যাম্প ডেটা। খ। গ্রুপ ও ব্লক বুকিং এক্সপায়ারির ডেটা, রিনিউয়াল ডেটা, গ্রুপ ও ব্লক বুকিং এর রিএন্ট্রি ডেটা। গ। প্যাসেঞ্জার ইনফো, প্রথমবারের এন্টি এবং পরিবর্তিত এন্টি। নূন্যতম নাম, জন্ম তারিখ এবং পাস্পোর্ট। পাস্পোর্ট তথ্য পাস্পোর্ট ডেটাবেইজ থেকে রিয়েল টাইম API দিয়ে ভ্যালিডেট করা যাতে ফেইক নাম্বার এন্ট্রি দেয়া না যায়। ঘ। রিয়েল টাইম পেমেন্ট সেটেলমেন্ট এর বিপরীতে বুকিং এর ডেটা, রিয়েল টাইম পেমেন্টের বিপরীতে রি-বুকিং তথ্য। ঙ। এক বুকিং ব্লক (এলফাবেটিক ক্লাস বা টিকেটিং ক্যাটাগরি) থেকে অন্য ব্লকে বুকিং শুরুর শর্ত দিতে হবে। সব এজেন্ট মিলে সম্মিলিতভাবে কোনো ব্লকের মোট ৫০% বা তার বেশি রিয়েল টাইম পেমেন্ট ছাড়া ব্লক রাখা যাবে না।’
‘রিপোর্টের কিছু উল্লেখযোগ্য দিক এখানে শেয়ার করছি (কারগরি বিষয়, গোপনীয় আর্থিক বিবরনী নয়)- বাংলাদেশ বিমানের টিকিট বুকিং, সংরক্ষণ, ভাড়া নির্ধারণ, যাত্রী তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম ডিজিটাল অপারেশনাল কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। প্রতিটি ধাপের জন্য নির্দিষ্ট সফটওয়্যার ব্যবহৃত হয়, এবং এগুলো সম্পূর্ণভাবে সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক অর্থাৎ বিমানের নিজস্ব কোনো ইন-হাউজ সিস্টেম নেই।
বাংলাদেশ বিমানের Revenue Management System (RMS) এর মাধ্যমে Revenue Booking Designator (RBD) - A/B/C/D/E/Y ভিত্তিক ভাড়া নির্ধারণ ও কৌশলগত সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়। একই ভেন্ডরের RAPD সিস্টেম নির্দিষ্ট ব্লকের ভিত্তিতে ট্যারিফ তৈরি করে।
ট্রাভেল এজেন্সিগুলো GDS প্ল্যাটফর্ম, বিশেষ করে প্রচলিত Sabre, Amadeus এর মাধ্যমে বুকিং করে থাকে। মূলত Sabre প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ বিমানের জন্য বুকিং গেটওয়ে হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যার মাধ্যমে বাল্ক বুকিং, ব্লকিং এবং ক্যান্সেলেশন সম্পাদন করা হয়।
বিপরীতে, IATA-র উদ্ভাবিত NDC-ও একটি ওপেন প্ল্যাটফর্ম। তবে এটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সে বেশি ব্যবহৃত হলেও অভ্যন্তরীণ অপারেশনে সীমিত সংখ্যক এয়ারলাইন্সে প্রযোজ্য। বাংলাদেশ বিমান NDC এডপ্ট করেনি।
Sabre পরিচালিত Passenger Service System (PSS) এ পুরো ইকোসিস্টেমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি বুকিং নেভিগেশন, টিকিট ম্যানেজমেন্ট, ট্যারিফ ডেটা এক্সচেঞ্জসহ RAPD ও RMS-এর সাথে সমন্বয় করে। যাত্রীরা ওয়েব বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট ক্রয় ও বাতিল করতে পারলেও এর পরিমাণ এখনো মোট বিক্রয়ের ৫% অতিক্রম করে না। ট্রাভেল এজেন্সি-ভিত্তিক বুকিংয়ের রেভিনিউ ইন্টেগ্রিটি যাচাইয়ের জন্য Accelya পরিচালিত Revenue Integrity (RI) সিস্টেম বিদ্যমান।
তবে সব সিস্টেম থাকা সত্ত্বেও এগুলোর মধ্যে কার্যকর ডেটা-ইন্টেগ্রেশন নেই। একটি কেন্দ্রীয়, রিয়েল-টাইম Analytics Platform না থাকায় সিস্টেমগুলোর অডিট লগ সময়মতো পাওয়া যায় না বা অনেক ক্ষেত্রে সক্রিয়ই নয়। উদাহরণস্বরূপ, PSS থেকে ASR বা Ticketed Sales File দিনে একবার RAPD-তে পাঠানো হয়, যা রিয়েল-টাইম দৃশ্যমানতা সম্পূর্ণ ব্যাহত করে। GDS থেকে RI সিস্টেমে লগ পাঠানো হলেও সেখানে এজেন্টদের IP Address নেই। PSS অডিট লগ তৈরি করতে সক্ষম হলেও তা বিশ্লেষণের কোনো প্ল্যাটফর্ম নেই। RMS সিস্টেমেও Audit Log সক্রিয় নয়।’
‘ফলে ট্রাভেল এজেন্টদের ব্লক বুকিং, রিজারভেশন, টিকিট ক্রয়, সিট ম্যানেজমেন্ট এবং অভ্যন্তরীণ ট্যারিফ পরিকল্পনা বা RBD কনফিগারেশনের ওপর যথাযথ তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় গুরুতর প্রভাব ফেলছে।’
‘এই পরিস্থিতিতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও Good Governance নিশ্চিতকল্পে নিম্নলিখিত উপাত্তসমূহ নিয়মিতভাবে উৎস সিস্টেম থেকে সংগ্রহ ও দ্রুত বিশ্লেষণ অপরিহার্য- ১) RBD-সংক্রান্ত সব সেটিংস নির্ধারিত ক্লাসিফিকেশন অনুযায়ী Definition File (JSON/XML/CSV) আকারে EDR ফরম্যাটে নিয়মিত সংগ্রহ। ২) এজেন্টভিত্তিক Block/Reservation Log (Daily) Agent ID (IATA), Timestamp, IP Address এবং সংশ্লিষ্ট RBD-Class এর তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে প্রদান। ৩) Expiry, Cancellation, Rebooking (Weekly) Agent-wise লগ, যথাযথ Agent ID ও IP Address-সহ সরবরাহ করতে হবে। ৪) Booking এর সময় Price Change Log এজেন্ট কর্তৃক করা যেকোন মূল্য পরিবর্তনের অডিট লগ সরবরাহ; প্রয়োজনে সিস্টেমে ফিচার সক্রিয় করতে হবে। ৫) Passenger Information Consistency Check বুকিং ও টিকিট ক্রয়ের সময় প্রদত্ত যাত্রী তথ্য (PI) একই আছে কিনা তা Comparative Analytics-এর মাধ্যমে যাচাইয়ের জন্য GDS এবং PSS থেকে Passenger ID, Agent ID, IP Address, RBD ID, Ticket Price এই উপাত্তের দৈনিক লগ আবশ্যক। ৬) Transactional ID বিভিন্ন সিস্টেমের তথ্য পরস্পরের সাথে যুক্ত করতে প্রতিটি লগে ইনবাউন্ড ও আউটবাউন্ড Transactional ID অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এর মাধ্যমে API-ভিত্তিক ডেটা এক্সচেঞ্জের উৎস ও গন্তব্য স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যাবে। ৭) Real-Time Analytical Engine সংগ্রহিত উপাত্তের উপর দ্রুত ও নির্ভুল বিশ্লেষণ পরিচালনার জন্য একটি শক্তিশালী Real Time Analytical Engine প্রয়োজন। এই ইঞ্জিনের মাধ্যমে বুকিং, ক্যান্সেলেশন, ব্লকিং, এবং কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত অডিট কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে সম্পাদন করা সম্ভব হবে।’
‘উপরোক্ত উপাত্তসমূহ নিয়মিত সরবরাহ এবং সেগুলো বিশ্লেষণের জন্য একটি সমন্বিত Analytics Engine উন্নয়ন করা সম্ভব হলে বাংলাদেশ বিমানের অপারেশন, কমপ্লায়েন্স এবং রেভিনিউ ম্যানেজমেন্টকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক স্তরে উন্নীত করা যাবে। একই সাথে নাগরিক ভোগান্তি, টিকেট–সংক্রান্ত অনিয়ম এবং কালোবাজারী উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ২০ লাখ ইউরো সহায়তা দিয়েছে ফিনল্যান্ড। ক্রমবর্ধমান মানবিক চাহিদা ও তহবিল সংকটের মধ্যে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ ঢাকায় এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ অর্থায়নের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তহবিল ঘাটতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মসূচিও পরিচালিত হবে। নিপীড়ন ও সহিংসতার শিকার হয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার এক দশক পর, বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে বসবাস করছে। জীবিকার সুযোগ সীমিত থাকায়, তাদের অধিকাংশ পরিবারই মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ইউএনএইচসিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাত্র ২৩ শতাংশ রোহিঙ্গা পরিবার কাজের বিনিময়ে অর্থ কর্মসূচির মাধ্যমে আয় করতে পেরেছে। আর ৪২ শতাংশ রোহিঙ্গা পরিবার অস্থায়ী ও অনিশ্চিত আয়ের উৎসের ওপর নির্ভর করেছে এবং ৩৫ শতাংশ পরিবারের কোনো আয়ই ছিল না। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, তহবিল কমে যাওয়ায় জনগোষ্ঠীটির নারী ও কিশোরী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক মানুষ এবং ২০২৪ সালের শুরু থেকে আসা প্রায় দেড় লাখ নতুন রোহিঙ্গা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে। বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটে অর্থায়ন কমে যাওয়া, শিবিরের পরিস্থিতির অবনতি ও সুরক্ষা ঝুঁকি বাড়ার এই সময়ে ফিনল্যান্ডের বাড়তি সহায়তা উদারতার পরিচয় বহন করে।’ তিনি আরও বলেন, এই সহায়তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত দায়িত্ববোধেরই প্রতিফলন। মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর জন্য সুরক্ষা ও সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে। নয়াদিল্লিতে ফিনল্যান্ড দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মারি আহমেদ বলেন, ফিনল্যান্ড বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গা জনগণের পাশে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মৌলিক সহায়তার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থীদের সহায়তায় বিনিয়োগ করা জরুরি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ সংকটের প্রতি মনোযোগ ধরে রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। গত ২০ মে রোহিঙ্গা মানবিক সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ সালের হালনাগাদ যৌথ সাড়া পরিকল্পনা (জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান-জেআরপি) প্রকাশের পর জাতিসংঘ ও এর মানবিক অংশীদার সংস্থাগুলো নতুন করে আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য আহ্বান জানান। এরই প্রেক্ষাপটে ফিনল্যান্ড থেকে এই অর্থ সহায়তা পাঠানো হলো। সংশোধিত এ পরিকল্পনায়, রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় বাংলাদেশী জনগোষ্ঠীসহ সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে সহায়তা দিতে ৭১ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার চাওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের পরিকল্পনার তুলনায় এ অর্থের পরিমাণ ২৬ শতাংশ কম। এটি কেবল জীবনরক্ষাকারী জরুরি সহায়তা কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত। এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থের ৬০ শতাংশ সংগ্রহ করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা ও বহুপক্ষীয় উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে সহায়তা দিয়ে আসছে ফিনল্যান্ড। রোহিঙ্গা সংকটে অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি ২০২৬ সালে ইউএনএইচসিআরকে আরও ৭০ লাখ ইউরো দিচ্ছে ফিনল্যান্ড। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলমান মানবিক সংকটে জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনায় এই অর্থ ব্যয় করা হবে। ইউএনএইচসিআর বলেছে, বাংলাদেশের মানবিক সাড়া কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে ও রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধান না হওয়া পর্যন্ত, রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি সহায়তা অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা ও অর্থায়ন অপরিহার্য।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চোরাই মালামাল জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। জব্দকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে খনিজ কয়লা, গম ও স্ক্র্যাপ। একই সঙ্গে চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি কাঠের বোটও জব্দ করা হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) রাত ৯টার দিকে পতেঙ্গা থানার ১৫ নম্বর ঘাটসংলগ্ন কর্ণফুলী নদী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নদীপথে চোরাই মালামাল পরিবহনের খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় একটি সন্দেহভাজন কাঠের বোটে তল্লাশি করে প্রায় এক দশমিক পাঁচ টন খনিজ কয়লা, ৩০০ কেজি গম এবং ৩০ কেজি স্ক্র্যাপ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ কারণে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, জব্দ হওয়া মালামাল এবং চোরাচালানে ব্যবহৃত বোটের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। দেশের উপকূলীয় ও নদীপথে চোরাচালান প্রতিরোধে কোস্ট গার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ইউনিসেফ-এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে ‘গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন চাইল্ড প্রোটেকশন’ শীর্ষক একটি একাডেমিক প্রোগ্রাম চালু করা হবে। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিসেফ শিগগিরই একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবে। প্রোগ্রামটি চালু করার লক্ষ্যে রোববার উপাচার্যের সভাকক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং ইউনিসেফ-এর মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহবুবা সুলতানা, ইউনিসেফ-এর শিশু সুরক্ষা বিভাগের প্রধান ন্যাটালি ম্যাককুলি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের কয়েকজন শিক্ষক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠককালে সমাজকর্মী, মনোসামাজিক পরামর্শক এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীসহ বর্তমান সমাজসেবা কর্মীদের কারিগরি দক্ষতা ও জ্ঞান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং ইউনিসেফ এই যৌথ সহযোগিতামূলক একাডেমিক প্রোগ্রাম গ্রহণে ঐকমত্য প্রকাশ করেন। তারা প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ শিশু, নারী ও পরিবারকে কার্যকরভাবে সহায়তা করতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের পেশাজীবীদের প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু সুরক্ষা ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম চালুর ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য ইউনিসেফকে ধন্যবাদ জানান। এই প্রোগ্রাম জাতীয় ও কমিউনিটি পর্যায়ে শিশু সুরক্ষা বিষয়ক সমাজসেবা কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।